1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News 52 Bangla : Nurul Huda News 52 Bangla
  3. [email protected] : News 52 Bangla : Nurul Huda News 52 Bangla
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
নিরব এলাকার শব্দের মাত্রা, মানমাত্রার আড়াই গুণ- পরিজা গ্যাস সিলিন্ডার হতে অগ্নিকান্ড কাপ্তাইয়ের ফকিরাঘোনা অগ্নিকান্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিষয়ক সভা কাপ্তাইয়ের রাইখালীতে বন্যহাতি হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখা হাড়গোড় উদ্ধার করেছে বন বিভাগ গণিত উৎসবের বিজয়ী মেডেল নিয়ে বাসায় ফেরা হলো না ওমরের প্রেসক্লাব দ্বন্দ্বে বরগুনার সাংবাদিক তালুকদার মাসুদের মৃত্যুতে বিএমএসএফ’র শোক নলছিটিতে উদ্বোধন হলো কওমী মাদরাসা ও এতিমখানা কাউখালীতে উত্তরায়ন খেলাঘর আসরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত শিলছড়ি ভেলাপাড়া বৌদ্ধ বিহাড় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাপ্তাই বিউবো রাইটব্যাংক এলাকায় দুটি পরিবারকে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও বাসা বরাদ্দ বাতিল জানিয়ে বিক্ষোভ

ভোলায় খেজুরের রস বিলুপ্তির পথে

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভোলা প্রতিনিধি।

ভোলার পল্লী এলাকায় শিশির ভেজা ভোরে খেজুর গাছিদের(খেজুর রস বিক্রেতা) হাক-ডাক এখন আর শোনা যায়না। ইটের ভাটায় অবাধে খেজুর গাছ পোড়ানোর ফলেই খেজুরের রস বিলুপ্ত হতে চলছে।
দ্বীপ জেলা ভোলার শীতের ঐতিহ্য ছিল মিষ্টি খেজুর রস। মাত্র এক যুগের মাথায় খেজুর রসের স্বাদ ভুলতে বসেছে ভোলার মানুষ। রসের পায়েস এখন শুধুই স্মৃতি। ১২-১৪ বছর আগে শীতের সকালে ভোলার পল্লী এলাকায় মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো খেজুর গাছিদের (রস বিক্রেতা) হাক-ডাকে। এখন আর সেই ডাক শুনতে পাওয়া যায় না। শীত আসলে গ্রাম্য হাটে খেজুর গুড়ের সেই মনমাতানো ঘ্রাণ এখন আর পাওয়া যায় না।
এক সময়ে ভোলার অধিকাংশ কৃষকই তার কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি জমির আইলে বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে শীতের মৌসুমে বাড়তি রোজগার করত। বিশেষ কৌশলে খেজুর গাছ থেকে যারা রস সংগ্রহ করতেন তাদেরকে স্থানীয় ভাষায় বলা হত সিয়ালি। রস সংগ্রহের জন্য কার্তিক মাস থেকেই শুরু হত প্রস্তুতি। অগ্রহায়নের শুরু থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা হতো।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রসের স্বাদ বেড়ে যেত। চৈত্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত রস পাওয়া যেত। শীতের রাতে চুরি করে খেজুর রস খাওয়ার শৈশব স্মৃতি এখনো মনে করেন অনেকে।
তথ্যঅনুসারে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জেলায় লক্ষাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হতো। রস দিয়ে পিঠে, পায়েশ খাওয়ার পাশাপাশি দেড়‘শ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন করা হতো।
১৯৯৪ সালে ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ করে খেজুর গাছ ও বাশের মোতা পোড়ানোর অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। বাশের মোতা না থাকায় ভোলার সকল ইট ভাটায় পোড়ানোর জন্য খেজুর গাছ নিধন শুরু হয়। কম দামে অধিকাংশ খেজুর গাছ ইট ভাটার বলি হয়। গত এক যুগে ক্রমেই খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারনে খেজুর রস কমতে থাকে। ক্রমান্বয়ে এখন তা বিলুপ্ত হওয়ার পথে।

ভোলার ইলিশার পরানগঞ্জ এলাকার খেজুর গাছি হাদিসুর রহমান জানান, আগে তিনি শীত মৌসুমে ৫৪টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন। সংগ্রহীত রস দিয়ে পিঠে, পায়েশ খাওয়ার পাশাপাশি গুড় তৈরী করে বছরে ১০-১২ হাজার টাকা আয় করতেন। কিন্তু এখন সেই খেজুর গাছ নেই। অধিকাংশ গাছ কেটে জমি অন্য কাজে ব্যবহার করেছেন। মাত্র ৪টি গাছ বেঁচে আছে তা থেকে এখন আর রস সংগ্রহ করা হয়না।

গ্রামীন সমাজ কল্যাণ পাঠাগারের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান বলেন, এক সময় ভোলার গ্রামগঞ্জে রাস্তার পাশে ও ধান ক্ষেতের আইলে প্রচুর খেজুর গাছ দেখা যেতো। আমরা রাতে গাছ থেকে রস পেরে নাস্তা খেতাম। তাওয়ায় রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হতো। সেই গরম গুড় মুড়ি দিয়ে মেখে খেতে খুবই ভালো লাগতো। বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হতো। এখন এগুলো শুধুই ইতিহাস। গ্রাম গঞ্জে আগের মতো আর সারিবদ্ধ খেজুর গাছ নেই। ইটভাটার কারণে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

পূর্ব ইলিশা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোলায় এখন আরও আগের মতো সারিবদ্ধ খেজুর গাছ চোখে পড়ে না। আগে শীত আসলেই খেজুর রসের নাস্তা খেতাম। এখন তা শুধু স্বপ্ন। ইটভাটার কারণে খেজুর গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন যদি সবাই বেশি বেশি করে খেজুর গাছ রোপন করে তাহলে এই বিলুপ্ত ঐহিয্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, পূর্ব ইলিশা যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে জংশন বেড়িবাঁধ এলাকায় তালগাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এই সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছও রোপন করা হবে।

ভোলা প্রচার অভিযানের সভাপতি এ্যাড. নজরুল হক অনু বলেন, মরহুম মোশারেফ হোসেন শাহাজাহান তৎকালিন সময়ে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ভোলায় খেজুর গাছের বিলুপ্তির আশংকা দেখে সেদিন সবাইকে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য আহ্বান করেছিলেন। তখন অনেকেই হেসেছেন। শাহাজাহান সাহেবকে নিয়ে বিদ্রুপ করেছিলেন। আজকে দুই যুগ পরে এসে প্রমাণিত হলো শাহাজাহান সাহেবের কথাই সঠিক ছিলো। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন খেজুর গাছ বিলুপ্ত হলে বাঙালীর দীর্ঘদিনের খেজুর গুড় আর রসের নাস্তা খাওয়ার ঐতিয্য বিলুপ্ত হবে। তাই শাহাজাহান সাহেবের উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে আমাদের সকলের এখনও উচিত বেশি বেশি করে গাছ লাগানো। এডভোকেট অনু মনে করেন ব্রিক্স ফিল্ডে যেভাবে খেজুর গাছ ধ্বংস করা হয় জেলা প্রশাসন একটু নজর দিলেই ব্রিক ফিল্ডের হাত থেকে অনেক গাছ বাজানো সম্ভব।

ভোলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আলহাজ্ব মু. শওকাত হোসেন বলেন, খেজুর গাছ পরিবেশ ও ভূমি রক্ষা রোধে খুব উপকারী। আমরা আমাদের সামান্য স্বার্থে উপকারী গাছটিকে নিধন করে পক্ষান্তরে আমাদেরই ক্ষতি করছি। পরিবেশ রক্ষায় এবং রসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে রাস্তার পাশে খেজুর গাছ লাগানোর দাবী জানান তিনি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
2019 All rights reserved by |Dainik Donet Bangladesh| Design and Developed by- News 52 Bangla Team.
Theme Customized BY LatestNews