Author: rajubdnews@gmail.com

  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

    রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

    হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

    এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

    তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

    গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

  • পোশাকশিল্পে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড: নাশকতার গন্ধে শঙ্কিত দেশ

    পোশাকশিল্পে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড: নাশকতার গন্ধে শঙ্কিত দেশ

    দেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিত নাশকতার আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সর্বত্র একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কি এবার টার্গেট করা হয়েছে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পকে? গত এক সপ্তাহে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ধরন ও প্রেক্ষাপট সেই সন্দেহকে আরও দৃঢ় করেছে। শিল্পমালিকদের ধারণা, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গার্মেন্টস শিল্পে আগুন লাগানো হচ্ছে—যা এই খাতকে ধ্বংসের জন্য ভয়াবহ অপচেষ্টা হতে পারে। ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি উঠেছে সব মহল থেকেই।

    পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে তৎপরতা জোরদার করেছে।

    একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী শক্তিগুলো সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তারা বিভিন্ন পন্থায় একের পর এক আঘাতের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সেই সময় সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে বহু কারখানা ভাঙচুর করা হয়, যা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিহত হয়। তবে দেশবিরোধী চক্রটি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি অগ্নিকাণ্ড—যেগুলো সবই গার্মেন্টস ও শিল্পসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ঘটেছে—সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। বিদেশে বসে সরকারবিরোধী হুমকি দেওয়া কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে এসব ঘটনার যোগসূত্র থাকার যুক্তিও খণ্ডন করা যাচ্ছে না।

    গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের শিকার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নানামুখী সংযোগ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশবিরোধী কিছু মহল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি নষ্টে তৎপর। শ্রমিক নিরাপত্তা, মজুরি, কর্মপরিবেশ ও ট্রেড ইউনিয়ন ইস্যুতে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতা হতে পারে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলোও।

    এমনকি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিছু গার্মেন্ট মালিকও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন—যারা অতীতে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ শ্রমিক আন্দোলন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা যায়।

    ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা বিবেচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—এসব নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? ১৪ অক্টোবর মিরপুরের শিয়ালবাড়ির আগুনে ১৬ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানায় আগুন, এবং সর্বশেষ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড—সবগুলোই সন্দেহজনক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।

    বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কার্গো ভিলেজের অগ্নিকাণ্ডকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এমন সংবেদনশীল স্থানে আগুন লাগা নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তোলে। তিনি সরকারের দ্রুত তদন্ত দাবি করে বলেন, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড উদ্যোক্তাদের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে, যা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

    বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল আরও স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে ধ্বংসে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।” তাঁর মতে, বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় আগুন লাগা নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে গতি আনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিল্পাঞ্চলে দ্রুত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।

    বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন না হলে এই খাতের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প শুধু অর্থনীতির মেরুদণ্ড নয়, লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। তাই এই শিল্পকে লক্ষ্য করে যেকোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্র জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই চক্রকে চিহ্নিত ও দমন করতে। নইলে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত এবং এর সঙ্গে জড়িত কোটি মানুষের জীবিকা গভীর সংকটে পড়বে—যার দায়ভার গোটা জাতিকেই বহন করতে হবে।

  • কিছু উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে: তাহের

    কিছু উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে: তাহের

    অনলাইন ডেস্ক:   অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনে একটি বিশেষ দলের অনুগতদের বসিয়ে ‘নীলনকশার নির্বাচন’ করার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। জামায়াতের নায়েবে আমির দাবি করেছেন, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ওই সব উপদেষ্টার নাম, এমনকি ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের কণ্ঠ রেকর্ডও তাদের কাছে রয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে এই ষড়যন্ত্র বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন।

    জামায়াত নেতা অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘প্রশাসনের যে অবস্থা এবং যে ষড়যন্ত্র চলছে, এটাকে বন্ধ করুন। নিরপেক্ষ সৎ লোকদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করুন।’

    সৈয়দ তাহের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি সময়মতো সাবধান না হন, তাহলে কোন কোন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, আমরা জনগণের কাছে তাদের নাম প্রকাশ করব। তাদের কণ্ঠ রেকর্ড আছে। মিটিংয়ে তারা কী বক্তব্য দেন, এর খবর আছে। আমরা আপনাদের সংশোধনের জন্য সময় দিতে চাই।’

    সম্প্রতি জনপ্রশাসনে একজন সচিব নিয়োগের বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, ‘সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে আমরা এখানে কোনো দলীয় লোক দেব না, অসৎ লোক দেব না। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, আমাদের সঙ্গে কথা বলার এক দিন পরেই এমন এক ব্যক্তিকে সেখানে নিয়োগ করা হয়েছে, যার অতীতের দুর্নীতির ইতিহাস অনেক লম্বা। সে একটি দলের প্রতি পরিপূর্ণভাবে অনুগত।’

    এই জামায়াত নেতা যোগ করেন, ‘আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম, সেখানে একই রকমের কথা—প্রচণ্ড চাপ কোনো একটি দলের লোকদেরকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। আমরা বলতে চাই, কোনো একটি দলের লোককে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিভিল এবং পুলিশ প্রশাসনে বসিয়ে যে নীল নকশার নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র চলছে, এতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখি না। এরকম একটি নির্বাচনে—২০২৪-এর মতো, ২০১৮-এর মতো পাতানো নির্বাচনে—জনগণ অংশগ্রহণ করবে না।’

    জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, এহসানুল মাহবুব জোবাবয়ের, আবদুল হালিম প্রমুখ।

  • গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও ফল রপ্তানিতে সহায়তার আশ্বাস এফএওর

    গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও ফল রপ্তানিতে সহায়তার আশ্বাস এফএওর

    অনলাইন ডেস্ক:    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক ড. কু দোংইউ বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ শিল্পের উন্নয়ন ও কৃষিজাত পণ্য—বিশেষ করে ফল রপ্তানি বাড়াতে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

    রোমে এফএও সদর দপ্তরে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম এবং সংস্থাটির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (রোম সময়) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।বৈঠকের শুরুতে ড. কু অধ্যাপক ইউনূসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে তার ব্যাপক অবদানের প্রশংসা করেন।

    বাংলাদেশকে ‘উচ্চ সাফল্য অর্জনকারী দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এফএও মহাপরিচালক বলেন, সংস্থাটি প্রযুক্তিগত সহায়তা, উদ্ভাবন এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব।’

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এফএও’র দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনটি নতুন ক্ষেত্রে সহায়তা চান—গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফল রপ্তানি সম্প্রসারণে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ উন্নয়ন এবং ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, যার মধ্যে সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের পুরো সমুদ্র রয়েছে, কিন্তু আমরা মাছ ধরি অগভীর জলে। আমরা কখনোই সামুদ্রিক সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। বিদেশি ট্রলারগুলো আমাদের জলসীমায় মাছ ধরে, অথচ আমরা পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নই।’এর জবাবে ড. কু পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ যেন চীনের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়ে গভীর সমুদ্রের মাছের মজুদ নিরূপণ ও টেকসই আহরণ কৌশল প্রণয়নে সহায়তা নেয়।

    বাংলাদেশের ফল রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি ছোট কৃষকদের ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাতে মোবাইল কোল্ড স্টোরেজ নকশার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।ড. কু বলেন, উচ্চমূল্যের নগদ ফল উৎপাদন কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে জাপানে ফল রপ্তানির মাধ্যমে চীন কৃষি উন্নয়নে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল।

    আগামী দিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর পূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা তা উদযাপন করব,’—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে এ কথা বলেন তিনি।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

  • ধর্ষণকাণ্ড  মুজিবের পা ধরে রক্ষা পেয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল

    ধর্ষণকাণ্ড মুজিবের পা ধরে রক্ষা পেয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল

    অনলাইন ডেস্ক:   বিখ্যাত নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘দেয়াল’ উপন্যাসের অংশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    সেখানে বলা হয়েছে, ‘এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিল। টঙ্গীর তৎকালীন (দেশ স্বাধীনের পরই) আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল দলবলসহ গাড়িটি আটক করে। ড্রাইভার আর নববধূর স্বামীকে হত্যা করে, মেয়েটিকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে। অতঃপর তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায় টঙ্গি ব্রিজের নিচে। পৈশাচিক এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। বিশেষ অভিযানে দায়িত্বরত মেজর নাসেরের হাতে মোজাম্মেল ধরা পড়ে। মোজাম্মেল মেজরকে বলে- ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন, আপনাকে তিন লাখ টাকা দেব। বিষয়টা সরকারি পর্যায়ে নেবেন না। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাব। আপনি পড়বেন বিপদে। আমি তুচ্ছ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে জড়াতে চাই না।’

    মেজর নাসের বললেন, ‘এটা তুচ্ছ বিষয়? মোজাম্মেল জবাব দিল না, উদাস চোখে তাকাল। মেজর নাসের বললেন, আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাবার ব্যবস্থা করব। তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো! মোজাম্মেল বলল, দেখা যাক। মোজাম্মেলের বাবা, দুই ভাই গেল বঙ্গবন্ধুর কাছে। ঘরে ঢোকা মাত্র মোজাম্মেলের বাবা ও দুই ভাই কেঁদে বঙ্গবন্ধুর পায়ে পড়ল। টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতিও পায়ে ধরার চেষ্টা করলেন কিন্তু পা খুঁজে পেলেন না। পা মোজাম্মেলের আত্মীয়স্বজনের দখলে! বঙ্গবন্ধু বললেন, ঘটনা কী বল? টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতি বললেন, আমাদের মোজাম্মেলকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। মেজর নাসের তাকে ধরেছে। নাসের বলেছে, তিন লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দিবে। মিথ্যা মামলাটা কি? মোজাম্মেলের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, খুনের মামলা লাগায়া দিছে।

    টঙ্গী আ.লীগের সভাপতি বললেন, এই মেজর আ.লীগের নাম শুনলেই তারাবাতির মতো জ্বলে ওঠে। সে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, টঙ্গীতে আমি কোনো আ.লীগের শূয়োর রাখব না। বঙ্গবন্ধু, আমি নিজেও এখন ভয়ে অস্থির! টঙ্গীতে থাকি না। ঢাকায় চলে আসছি। বঙ্গবন্ধু বললেন, কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বাইচ্যা আছি তো, মইরা যাই নাই। এখনি ব্যবস্থা নিতাছি। তিনি মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গী থেকে সরিয়ে দেবার জরুরি আদেশ দেয়া হলো। মোজাম্মেল ছাড়া পেয়ে মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল।

  • অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রতিক্রিয়ার নয়, প্রয়োজন স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

    অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রতিক্রিয়ার নয়, প্রয়োজন স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

    দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আবারও অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ২৭ জন রোগী, আর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় চলতি বছরের নয় মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭৫। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহে নতুন সংক্রমণের খবর কমেছে, তবু আতঙ্ক এখনো রয়ে গেছে গ্রামাঞ্চলে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ঘটনা যেন এক শিক্ষণীয় উদাহরণ। একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করার পর ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। এই এক ঘটনাই প্রমাণ করে যে সচেতনতার ঘাটতিই সংক্রমণ বিস্তারের প্রধান কারণ।

    অ্যানথ্রাক্স কোনো নতুন রোগ নয়—এটি ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, যা মূলত আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। অথচ অনেক এলাকাতেই আজও সংক্রমিত পশু জবাই ও বিক্রির প্রচলন চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

    স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আইইডিসিআর মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, নমুনা সংগ্রহ ও সচেতনতামূলক প্রচারও চলছে। কিন্তু মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রংপুরের অভিজ্ঞতা বলছে, এসব পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট নয়। গবাদি পশুর টিকাদান কাভারেজ সীমিত, প্রাণিসম্পদ বিভাগে জনবল ঘাটতি রয়েছে, এবং গ্রামীণ পর্যায়ে নিরাপদ মাংস ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত কম।

    অ্যানথ্রাক্সে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যর্থ হলে তা বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে প্রতিরোধই হতে হবে মূল কৌশল। আক্রান্ত এলাকায় অবিলম্বে গবাদি পশুর শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা, সন্দেহজনক পশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। একইসঙ্গে তথ্যপ্রবাহ ও গণসচেতনতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য যেমন আতঙ্ক বাড়ায়, তেমনি সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্যদানের অভাবও ভীতি ছড়ায়। এ কারণেই সুন্দরগঞ্জে এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে গুজব ছড়িয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ শুধু চিকিৎসা বা পশুচিকিৎসার বিষয় নয়—এটি একযোগে স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও তথ্যপ্রবাহ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। তাই এখন সময় হলো এই রোগটিকে মৌসুমি সমস্যা হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্থায়ী অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার। জনসচেতনতা ও ভ্যাকসিনেশন—এই দুই অস্ত্রই হতে পারে অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়।

  • কৃষির উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান ইউনূসের

    কৃষির উন্নয়নে সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান ইউনূসের

    অনলাইন ডেস্ক: ইতালির রোমে স্থানীয় সময় রোববার বিশ্ব খাদ্য ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের তরুণ কৃষি-উদ্যোক্তা, নারী, কৃষক এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সহায়তার লক্ষ্যে একটি ‘সামাজিক ব্যবসা তহবিল’ গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    ড. ইউনূস বলেন, “আমি আপনাদের একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। এই তহবিল দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, তরুণ উদ্যোক্তা, কৃষক, নারী ও মৎস্য খাতের কর্মীদের জন্য নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারবে।”বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ শিল্প শুরু করা, আম ও কাঁঠালের রপ্তানি বাড়ানো, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি-উদ্যোক্তা তৈরি এবং মহিষের দুধ থেকে মোজারেলা চিজের মতো দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে খামারিদের সহায়তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা ইফাদ প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং কৃষি, সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খতিয়ে দেখতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে অনুরোধ করেন।প্রেসিডেন্ট লারিও বলেন, আইএফএডি বাংলাদেশের সঙ্গে সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগে অংশীদার হতে আগ্রহী এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায়। তিনি জানান, বর্তমানে আইএফএডি বাংলাদেশে অর্ধডজনের বেশি কৃষি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে।

    প্রধান উপদেষ্টা ফল প্রক্রিয়াকরণ, হিমাগার, গুদামজাতকরণ এবং আম ও কাঁঠালের মতো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফলের বৃহৎ আকারে রপ্তানিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

    তিনি বলেন, “আমরা আম রপ্তানি শুরু করেছি, তবে পরিমাণ এখনও কম। চীন বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আম ও কাঁঠাল উভয় আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।”

    বৈঠকে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, কীভাবে বাংলাদেশি নারী দুগ্ধ খামারিরা মহিষের দুধ থেকে মোজারেলা চিজ তৈরি করছেন। তিনি দেশে পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ইফাদের সহায়তা কামনা করেন।

    বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের অব্যবহৃত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে বেশিরভাগ বাংলাদেশি জেলে কেবল অগভীর পানিতেই মাছ ধরেন।

    তিনি বলেন, “আমরা এখনো গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণে যেতে সাহস পাই না। আইএফএডি অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে এই খাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

  • মুখে সাবান ব্যবহার করা কি ঠিক? জেনে নিন কী কী ক্ষতি হতে পারে

    মুখে সাবান ব্যবহার করা কি ঠিক? জেনে নিন কী কী ক্ষতি হতে পারে

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: মুখ ধোয়া বা পরিষ্কার করা ত্বকের যত্নের অপরিহার্য অংশ। ত্বক পরিষ্কার করতে সাবান ব্যবহার করেন। কিন্তু এই অভ্যাসটি ত্বকের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। মুখের ত্বক আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ত্বককে রক্ষা করতে ও সঠিক পরিচর্যা করতে তাই সাবান দিয়ে মুখ ধোয়া উচিত নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের কী কী ক্ষতি হতে পারে-

    ১. ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট করে

    ত্বকের আর্দ্রতা এবং ত্বকের সুরক্ষা বজায় রাখতে ত্বকে পিএইচ (পটেনশিয়াল অব হাইড্রোজেন) এর মাত্রা ঠিক রাখা জরুরি। ত্বকের পিএইচ নির্দেশ করে যে ত্বক কতটা ভালো আছে। সাবান ব্যবহারে ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সাবানে অধিক পরিমাণে রাসায়নিক দ্রব্যাদি রয়েছে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। এছাড়া নিয়মিত মুখে সাবান ব্যবহারে ত্বক নিস্তেজ হয়ে গিয়ে উজ্জ্বলতা হারায়।

    ২. ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে

    সাবানে প্যারাবেন এবং ফরমালডিহাইড রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে সাবান ব্যবহারে করলে সমস্যাগুলো আরও মারাত্মক হতে পারে।

    ৩. দ্রুত বার্ধক্য নিয়ে আসে

    নিয়মিত সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে, সাবানের ক্ষারীয় উপাদান ত্বককে রুক্ষ করে তোলে। ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়া ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টি করতে পারে, ফলে ত্বক দেখতে বয়সের চেয়ে বেশি বয়স্ক মনে হয়।

    ৪. অস্বাস্থ্যকর

    সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা বেশ অস্বাস্থ্যকর। কারণ পরিবারের সব সদস্য হাত দিয়ে সাবান স্পর্শ করে। বাইরে থেকে এসে অপরিষ্কার হাতে সাবান ঘষে হাত পরিষ্কার করে। সেই সাবান মুখে ব্যবহার করলে মুখ তো পরিষ্কার হবেই না, বরং ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটাবে ত্বকে। ফলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডসের মতো ত্বকের সমস্যা তৈরি হবে।

    মুখ পরিষ্কার করার জন্য সাবান ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। তার পরিবর্তে ভালো ব্র্যান্ডের ফেস ওয়াশ ও প্রাকৃতিক ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করবে। এছাড়া শরীর পরিষ্কারের জন্যও সাবানের পরিবর্তে ভালো ব্র্যান্ডের বডি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। যা ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

  • মিরাজকে আরো সময় দিতে চান ফারুক

    মিরাজকে আরো সময় দিতে চান ফারুক

    খেলাধুলা ডেস্ক: আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে। পরে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। তবে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ভালো না। টানা দুটি সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ দল। মিরাজের অধীনে ৯ ম্যাচে খেলে বাংলাদেশ মাত্র একটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। বাকি ৮টিতেই হেরেছে টাইগাররা। তবে এমন পারফরম্যান্সের পরও বোর্ডকে পাশে পাচ্ছেন এই অধিনায়ক। বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ প্রশংসা করেছেন মিরাজের মেধার। তাই মিরাজকে নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে অন্তত ১-২ বছর সময় দেয়ার পক্ষে তিনি। গণমাধ্যেমের সঙ্গে আলাপকালে ফারুক বলেন, ‘মিরাজের ক্রিকেটীয় মেধা খুব ভালো। এটা প্রথমে বলতে হবে। সে একজন ক্যাপ্টেন ম্যাটেরিয়াল। দল যখন ভালো খেলে না তখন অধিনায়কত্বেরও অনেক ভুল বের হয়। আবার অনেক সময় দল যখন পারফর্ম করতে থাকে তখন কিন্তু অনেক ভুল করলেও পার পেয়ে যায়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন অধিনায়ককে দায়িত্ব দিয়েই আপনি আশা করবেন মিরাকেল করবে, না। আমি মনে করি একজন অধিনায়ককে অন্তত এক থেকে দুই বছর সময় দেয়া দরকার। তাহলে সেও একটা সময়সীমা সেট করতে পারবে আমার কোন টুর্নামেন্ট আছে, আমি কী চাই, ও সহায়তা করবে নির্বাচকদের। আমার মনে হয় মিরাজ অধিনায়কত্বে খারাপ করবে না বা করছে না। দল যখন আরেকটু ভালো খেলবে অধিনায়কত্ব আরও ভালো লাগবে।’ ফারুক মনে করেন মিডল অর্ডার ব্যাটাররা ছন্দ হারিয়েছেন, ‘আমি মনে করি সাবেক অধিনায়ক হিসেবে মিডল অর্ডার ব্যাটিংটা…এটা আসলে সমালোচনা নয়। কিন্তু মিডল অর্ডারটা নিয়ে আসলে টিম ম্যানেজমেন্টও ঠিক বুঝতে পারছে না কার কী পজিশন, কোথায় কাকে চেষ্টা করব বা কার ভেতর কী আছে। একই সঙ্গে আমাদের কিছু খেলোয়াড় ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। আপনি জাকের খুব ভালো..ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকেই রান করছিল কিন্তু এখন বাজে সময় যাচ্ছে।’

  • জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ‘২৬ এ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, গণভোট আয়োজনসহ কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মিছিল সহকারে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের কাছে স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারন করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমূক্ত গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের অন্যতম দাবী। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোট কেন্দ্র দখল, পেশি শক্তি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্রে নানাবিধ অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ এবং দক্ষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বর্তমানে গণ দাবীতে পরিনত হয়েছে। বিগত সরকার বিভিন্ন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে ধ্বংস করেছে। বিরোধী মতে মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, হামলা, গ্রেফতার, জেল-জরিমানা, গুম, খুন করে দেশপ্রেমিক মানুষ ও মূক্ত গণমাধ্যমের কন্ঠকে স্তম্ভিত করেছে। দিনের ভোট রাতে নির্বাচনের নামে জাতির সাথে প্রহসন করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

    অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের স্বার্থে ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সহ নিম্নোক্ত ৫দফা দাবি পেশ করেন-
    ১. আগামী ফেব্রুয়রীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজন করা
    ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
    ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
    ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

    স্মারকলিপি প্রদানের আগে জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা শামীম সাঈদী, জেলা সেক্রেটারী মো. জহিরুল হক, জেলা সহকারী সেক্রটারী শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবি সংগঠনের সেক্রেটারী ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদ, শিবিরের জেলা সভাপতি মো. এমরান হোসেন প্রমুখ।

    এ সময় জেলা নায়েবে আমীর আব্দুর রব সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সমাবেশ শেষে জেলা নেতৃবৃন্দ পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।