Category: প্রচ্ছদ

  • কাপ্তাইয়ের দুর্গম ভাল্লুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন 

    কাপ্তাইয়ের দুর্গম ভাল্লুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব নির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এর দুর্গম  ভাল্লুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে  বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিনয় বিকাশ তালুকদার এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন।

    এ সময় তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় এত সুন্দর স্কুল নির্মাণ এটা সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, আমাদের সকল শিশুদেরকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার আওতায় আসতে হবে।

    রাইখালী ইউনিয়নের ভাল্লুকিয়া এলাকাবাসীর আয়োজনে এবং রবিন তনচংগ্যা এর সঞ্চালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি  ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী।

    এসময় আরো বক্তব্য রাখেন  ভাল্লুকিয়া উচ্চবিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ওসমান গনি কুতুবী, ইউসিপি সভাপতি স্বপন বড়ুয়া,সহকারী শিক্ষক জনি তনচংগ্যা। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জয় মোহন তনচংগ্যা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মৈত্রী বন্ধন মানবিক ব্লাড ব্যাংকের সদস্য বসন্ত তালুকদার, সুফল তনচংগ্যা,সমাজসেবক রনি তনচংগ্যা,বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সন্তোষ বড়ুয়া প্রমূখ।

  • কাউখালীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত

    কাউখালীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত

    মোঃ মেহেদী হাসান, কাউখালী।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হলো,আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস।
    “মানবাধিকার আমাদের প্রতিদিনের অপরিহার্য বিষয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, উপজেলার এনজিও সংস্থা নাগরিক উদ্যোগের আয়োজনে গত ১০ই ডিসেম্বর(বুধবার) সকাল ১০ ঘটিকার সময়, তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে এবং কার্যালয়ের সন্মুখে আলোচনা সভা ও মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    আরজে মেডিয়েশন এর সভাপতি ও ৩নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ইউপি সদস্য মোঃ সাঈদ, মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নয়ন,সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন গাজী, নুরুজ্জামান খোকন,সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক ও সাংবাদিক সবুজ।
    এসময় বক্তরা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৪৮ সাল থেকে ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘে ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় দিনটি পালিত হচ্ছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রতিবছর এসময় এই দিনটির গুরুত্ব পায়। তাই এই দিনটি শুধু ১০ই ডিসেম্বর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে,আমাদের প্রতিনিয়তই মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সেই সাথে প্রতি ইউনিয়নে ব্যানার ফেস্টুন এবং লিফলেট বিতরণ করাও জরুরী বলে মন্তব্য করেন।
    অন্যান্যোর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, কমিউনিটি প্যারা লিগ্যাল সুমা আক্তার, হোসনেয়ারা বেগম,জীবন কৃষ্ণ দাস ও কর্মসূচি সহকারী শংকর কর্মকার সহ আর.জে.এম.এফ এর সদস্যবৃন্দ।
    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন,সংস্থাটির প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ মহসিন মিয়া।

  • কাপ্তাই বিজিবি বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট আটক করে

    কাপ্তাই বিজিবি বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট আটক করে

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটি কাপ্তাই ওয়াগ্গা ইউনিয়ন এলাকায়  পাচারকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট আটক করেছে বিজিব।

    বৃহস্পতিবার রাতে  কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন(৪১বিজিবি) অধিনায়ক  লেঃ কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস এর নেতৃত্বে টহল দল কাপ্তাই উপজেলার অন্তর্গত বটতলীপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে ভারতীয় ৩৫০০ প্যাকেট ওরিস, ১৫২৩০ প্যাকেট ইজি লাইট এবং ১৭৫০০ প্যাকেট প্যাট্রনসহ সর্বমোট ৩৬২৩০ প্যাকেট সিগারেট আটক করা হয়। আটককৃত বিদেশী  সিগারেটের  মূল্য ৮৭ লাখ,৫২হাজার ৯শ’টাকা।

    কাপ্তাই বিজিবি সুত্রে জানাযায়  আটককৃত ভারতীয় সিগারেট কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) কর্তৃক কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বিজিবি জানান,  ভবিষ্যতেও এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে। সম্প্রতি কাপ্তাই হতে চট্টগ্রাম কারযোগে একটি পাচার সিন্ডিকেট বিদেশী সিগারেট পাচার করার সময় কাপ্তাই ওয়াগ্গা বিজিবি কারসহ পাচারকারীকে আটক করা হয় বলে জানান।

    সুত্রে জানাযায় একটি সিন্ডিকেট দল পাহাড়িপথে , নদী ও সড়ক যোগে নিরাপদ মনে করে বিভিন্ন কায়দায় পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে।

  • সীমান্তে আর একটি মানুষও হত্যা করা যাবে না -মোঃ মোস্তফা আল ইহযায”

    সীমান্তে আর একটি মানুষও হত্যা করা যাবে না -মোঃ মোস্তফা আল ইহযায”

    স্টাফ রিপোর্টার।

    আজকের পর আর একজন মানুষও সীমান্তে হত্যা করা যাবেনা ও সীমান্ত হত্যার আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের লক্ষ্যে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে মৌলভীবাজার ও লালমনিরহাট সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলে লেঃ কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর এর সভাপতিত্বে ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয় মোঃ মোস্তফা আল ইহযায এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়া আইনজীবী ফোরাম এর সহ-সভাপতি এডভোকেট এ এম এন আবেদ রাজা, প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জঙ্জু নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় চিন এর ভিজিটিং প্রফেসর ড আবু মূসা মোঃ আরিফ বিল্লাহ, ইসলামি বুদ্ধিজীবী ফ্রন্ট এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আব্দুল হান্নান আল হাদী, জাতীয়তাবাদী তাতীদলের যুগ্ম সম্পাদক ড. মনিরুজ্জামান, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, মিলন মল্লিকা, আব্দুল আলীম, মিজানুর রহমান, জালাল আহম্মেদ সহ লালমনিরহাট ও মৌলভীবাজার থেকে আগত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    এসময় এসময় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন,
    ভারত রাজনৈতিক ভাবে, অর্থনীতিক ভাবে, ব্যবসা-বানিজ্য, তাদের সাহিত্যে, গানে, নাটকে, চলচ্চিত্রে বাংলাদেশকে শোষণ করছে, তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদেরকে উস্কি দিয়ে পার্বত্য অঞ্চল কে অশান্ত করতে চায়, সকল অপরাধের মূলে রয়েছে ভারত।

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত। সীমান্তে ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) প্রায়ই বাংলাদেশীদের হত্যা করে। বাংলাদেশ বহুবার সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানালেও তা বন্ধ হয়নি। ভারত বিভিন্ন সময়ে হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর করেনি। ফলে নিয়মিতভাবেই সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা চলছে। সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু বিএসএফের হাতে বাংলাদেশীদের হত্যার ঘটনা বন্ধে তারা বরাবরই ব্যর্থ।

    বিএসএফ বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবেই সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৫-২৪ পর্যন্ত ১০ বছরে বিএসএফ ৩০৫ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। ২০১৫ সালে ৪৩ জন, ২০১৬ সালে ২৮ জন, ২০১৭ সালে ৩০ জন, ২০১৮ সালে ১৫ জন, ২০১৯ সালে ৪২ জন, ২০২০ সালে ৫১ জন, ২০২১ সালে ১৭ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন, ২০২৩ সালে ৩০ জন এবং ২০২৪ সালে ২৬ জন গত কয়েক দিন আগে দুজন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। তারা ২০২৫ সালে ৩১নজন বাংলাদেশী নাগরিক কে হত্যা করেছে। এসব হত্যার কোনো বিচার হয়নি। বিএসএফ জওয়ানদের গুলিতেই এসব নিরীহ বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছে।
    ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত রেডক্লিফ লাইন নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার সময় এই বর্ডার লাইন নির্ধারিত হয়। ভারত-পাকিস্তান বর্ডার কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রিটিশ আইনবিদ স্যার সিরিল রেডক্লিফ ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট এটি নির্ধারণ করেন। আজকের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সাথে ভারতের নির্ধারিত সীমানাই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের সীমান্ত। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা রয়েছে এবং এটি পৃথিবীর পঞ্চম দীর্ঘ সীমান্ত লাইন। ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। আসামের সাথে ২৬২ কিলোমিটার, ত্রিপুরার সাথে ৮৫৬ কিলোমিটার, মিজোরামের সাথে ৩১৮ কিলোমিটার, মেঘালয়ের সাথে ৪৪৩ কিলোমিটার ও পশ্চিমবঙ্গের সাথে দুই হাজার ২১৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যেই প্রায় তিন হাজার ১৮০ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণ স¤পন্ন করেছে। বাকি ৯১৬ কিলোমিটার সীমান্তে ঘন বনভূমি, উঁচু পর্বতমালা, নদীপথ এবং জলাভূমি থাকায় বেড়া নির্মাণ করতে পারেনি। সীমান্তে হত্যা এবং বেড়া নির্মাণ নিশ্চয়ই বন্ধুত্বের নিদর্শন নয়।

    এছাড়া তাদের হামলায় বিভিন্ন সময়ে বহু বাংলাদেশী আহত হয়েছে এবং এদের কেউ কেউ পঙ্গু হয়েছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী খাতুন নামে ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী মেয়েকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে। পরদিনই তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তার লাশ দীর্ঘ সময় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছিল। এই ছবি সারা দুনিয়ার মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু ফেলানী হত্যায় জড়িত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষসহ অন্যদের ভারতের আদালত খালাস দেয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও এখনো সেই বিচার সম্পন্ন হয়নি।

    বিএসএফ ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী স্বর্ণা দাস এবং ৯ সেপ্টেম্বর ১৫ বছরের জয়ন্ত কুমার সিংহকে হত্যা করে। স্বর্ণা দাস তার মায়ের সাথে ভারতের ত্রিপুরায় বসবাসরত ভাইয়ের কাছে বেড়াতে যাচ্ছিল। এভাবে ভারত সীমান্তে নিরাপত্তার নামে নিরপরাধ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করে চলেছে।

    সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা রয়েছে। তাছাড়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সপাদিত এরকম দু’টি চুক্তি হচ্ছে জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইন্স ফর বর্ডার অথরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ, ১৯৭৫ এবং দ্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ২০১১। জয়েন্ট ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গাইডলাইন্স ফর বর্ডার অথরিটিজ অব দ্য টু কান্ট্রিজ, ১৯৭৫ অনুসারেÑ এক দেশের নাগরিক যদি বেআইনিভাবে অন্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে বা কোনো অপরাধে জড়ায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী আত্মরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে, তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করাটাই বাঞ্ছনীয়। অথচ ভারত এসব চুক্তি মানছে না। সীমান্তে কোনো বাংলাদেশী আইন ভঙ্গ করে অপরাধ করলে তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা ও বিচার করে শাস্তি দেয়া যায়। কিন্তু বিএসএফ সেই পথ অনুসরণ করে না। তারা সবসময় এবং কিছু হলেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে এবং বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করছে। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে অনেক বৈঠক হয়েছে এবং সীমান্ত হত্যার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এসব বৈঠকের প্রত্যেকটিতেই বিএসএফ, সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বিএসএফ কখনোই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

    আমরা সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা চিরতরে বন্ধের দাবি জানাই। প্রয়োজনে এই ইস্যু জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।

    বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এই বাস্তবতা ভারতকে মানতে হবে। বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে সুস¤পর্ক চায়। প্রতি বছর বিরাট সংখ্যক বাংলাদেশী চিকিৎসা, ব্যবসায় ও পর্যটনসহ বিভিন্ন কাজে ভারতে যায়। প্রচুর ভারতীয়ও বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকার বহু মানুষ নিজেদের মধ্যে বিয়ে শাদির মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন গড়ে তুলেছে। দেশ দু’টির মধ্যে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় রয়েছে। সীমান্তে ব্যবসায়-বাণিজ্য স¤পাদনে একাধিক নদীবন্দর, স্থলবন্দর এবং কাস্টম হাউজ রয়েছে। অনেকগুলো সীমান্ত হাট রয়েছে। দেশ দু’টির মধ্যে বাস ও ট্রেন চলাচল বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন সীমান্ত এবং অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময় সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা এবং বাংলাদেশকে অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানি থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। কিছু হলেই ভারত বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসা প্রদান এবং বাংলাদেশে আলু, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য রফতানি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের ভারত নিরাপদ আশ্রয় দেয়। ফলে বাংলাদেশ সব দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এসবের অবসান চাই। তার জন্য ভারতকে সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করতে হবে, আমরা সীমান্ত হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক আদালতে সীমান্ত হত্যার বিচার দাবী করছি।

    প্রতিবাদ সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে কদম ফোয়ারা ঘুরে আবার প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।

  • জন্মস্থান সূত্রে নাগরিকত্ব মামলার যুক্তি শুনতে রাজি সর্বোচ্চ মার্কিন আদালত

    জন্মস্থান সূত্রে নাগরিকত্ব মামলার যুক্তি শুনতে রাজি সর্বোচ্চ মার্কিন আদালত

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বহিরাগত বা অননুমোদিত অভিবাসী দম্পতির শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার নিয়ে দায়ের করা আলোচিত মামলার যুক্তি শুনতে সম্মত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত—সুপ্রিম কোর্ট।

    চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা দেন—অবৈধ ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বা অস্থায়ী ভিসাধারী বাবা–মায়ের সন্তানদের “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব” (Birthright Citizenship) আর দেওয়া হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিম্ন আদালত আদেশটিকে স্থগিত করে দেয়।

    সুপ্রিম কোর্টে শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। মামলার রায় পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

    ১৬০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী বলছে—কূটনীতিবিদ ও বিদেশি সেনা সদস্যদের সন্তান বাদে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকান নাগরিক।

    কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সংশোধনী কেবলমাত্র সে সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের বাবা–মা আইনগত ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সুতরাং অবৈধভাবে থাকা বা অস্থায়ী ভিসায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত নয়।

    আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) জাতীয় আইনি পরিচালক সিসিলিয়া ওয়াং বলেন—
    “কোনও প্রেসিডেন্টই ১৪তম সংশোধনীর জন্মগত নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পরিবর্তন করতে পারেন না। এটি মার্কিন আইনের ১৫০ বছরের ঐতিহ্য। আমরা সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছি।”

    ট্রাম্পের আদেশ ঘোষণার পর একাধিক ফেডারেল আদালত একে “সংবিধানবিরোধী” ঘোষণা করে। দুইটি ফেডারেল সার্কিট কোর্টেও আদেশটির বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।

    পরে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে আদালত জানায়—নিম্ন আদালত গুলোর নিষেধাজ্ঞা তাদের এখতিয়ার ছাড়িয়ে গেছে। তবে জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা সম্পর্কে তখন কোনও মন্তব্য করেনি।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী—

    ২০১৬ সালে অননুমোদিত অভিবাসী বাবা–মায়ের প্রায় ২.৫ লাখ সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়।

    ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখে।

    মে মাসে মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট ও পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়—জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিল হলে:

    ২০৪৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ২৭ লাখ,

    এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫৪ লাখে।

    বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ, যার বেশিরভাগই আমেরিকা মহাদেশে, জন্মস্থানসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে।

    এই মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থা ও অভিবাসন নীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি এটি ট্রাম্পের অভিবাসন সংস্কারের বৃহত্তর নীতিকাঠামোর দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন বিতর্ক

    যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন বিতর্ক

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বন্দরে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সম্প্রতি যাত্রীদের ভ্রমণের সময় “সম্মানজনক ও ভালো” পোশাক পরার পরামর্শ দিলে তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রতিবাদ হিসেবে পায়জামা পরে বিমান বন্দরে হাজির হচ্ছেন এবং ভিডিও পোস্ট করছেন।

    যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, গত নভেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন “The Golden Age of Travel Starts With You” শীর্ষক একটি প্রচারণা শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য—বিমান ভ্রমণে শালীনতা, সৌজন্যতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

    এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহনমন্ত্রী ডাফি বলেন, জিন্স ও পরিষ্কার শার্টই যথেষ্ট, তবে অন্তত স্লিপার ও পায়জামা পরে বিমান বন্দরে না যাওয়াই ভালো। তাঁর মতে, ভালো পোশাক ভ্রমণকারীর আচরণেও প্রভাব ফেলে।

    তবে ডাফির এই মন্তব্যকে অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে টিকটক ও এক্স প্ল্যাটফর্মে, বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডেমোক্রেটিক কর্মী জনি পালমাদেসা পায়জামা পরে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। তাঁর মতে, ট্রাম্প ও ডাফির উচিত বিমান ভাড়া ও ভ্রমণ ব্যয় কমানো, যাতে সাধারণ মানুষ ভালো পোশাক কিনতে পারে।

    আরেকজন টিকটক ব্যবহারকারী পায়জামা পরে বিমান বন্দরে যাওয়ার ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, নিষেধ করা হয়েছে বলেই পায়জামা পরে যাব।

    বিতর্ক বাড়তে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন দপ্তর এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

    তবে বিভাগটি নতুন প্রচারণার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে যাত্রী অসদাচরণের পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে গত চার বছরে যাত্রীদের প্রায় ১৪ হাজার বিশৃঙ্খলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি।

    বিষয়টি নিয়ে জনমতের চাপ বাড়ছে। ভ্রমণ শিষ্টাচার বজায় রাখা নাকি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা— কোনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা এখন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

  • মামদানির ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমডাব্লিউবিই কমিটিতে শাহরিয়ার রহমান

    মামদানির ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমডাব্লিউবিই কমিটিতে শাহরিয়ার রহমান

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    নিউইয়র্ক সিটির নতুন নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে মেয়র-ইলেক্ট জোহরান মামদানি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমডাব্লিউবিই (Minority and Women-Owned Business Enterprises) খাতের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন কমিউনিটি সংগঠন ‘ভালো’-এর প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান।

    মেয়র-ইলেক্টের ট্রানজিশন টিমের অধীনে গঠিত বিভিন্ন কমিটি শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন, ন্যায়সংগত সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং কমিউনিটি ক্ষমতায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে। এসব কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো—ক্ষুদ্র ব্যবসা, অভিবাসী এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে নীতি প্রণয়নের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।

    শাহরিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ, এমডাব্লিউবিই উদ্যোক্তাদের সুযোগ বাড়ানো এবং অভিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কমিউনিটি সংগঠক এবং নানাপক্ষের সহযোগীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বে বিশেষভাবে উপযুক্ত করে তুলেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিটিতে তার অংশগ্রহণ নিউইয়র্ক সিটির ব্যবসা করিডর শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় নতুন দিশা দেখাবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও অভিবাসী ব্যবসায়ীদের চাহিদা, সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    ‘ভালো’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগ শুধু নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক ধারায় নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন করাই তাদের কাজের মূল দর্শন; আর এই নিয়োগ সেই অঙ্গীকারকে আরও সুসংহত করবে।

  • আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের বিমানযাত্রা পরিহারের পরামর্শ

    আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের বিমানযাত্রা পরিহারের পরামর্শ

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল আইডি ছাড়াই বিমান ভ্রমণ করতে যাত্রীদের ৪৫ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আসছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ,বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের মধ্যে।

    বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নিরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈধ ভিসাহীন পাসপোর্ট ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; তাই তারা আনডকুমেন্টেডদের এই মুহূর্তে বিমানযাত্রা পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র না থাকা যাত্রীদের ‘টিএসএ কনফার্মেশন আইডি’ নিতে হবে, যার ফি ৪৫ ডলার। টিএসএ যেসব পরিচয়পত্র গ্রহণ করবে তার মধ্যে রয়েছে—রিয়েল আইডিসমৃদ্ধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডি, এনহ্যান্সড ড্রাইভার্স লাইসেন্স (ইডিএল) বা এনহ্যান্সড আইডি (ইআইডি), যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড, গ্রিনকার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, ট্রাস্টেড ট্রাভেলার কার্ড, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের আইডি, বর্ডার ক্রসিং কার্ড, স্বীকৃত ট্রাইবাল নেশনের ইস্যুকৃত ফটো আইডি, বিদেশি পাসপোর্ট, কানাডিয়ান প্রাদেশিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিনার ক্রেডেনশিয়াল এবং ভেটেরান হেলথ আইডেন্টিফিকেশন কার্ড। তবে অস্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণযোগ্য নয়।

    আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের অনেকের কাছেই নিজ দেশের পাসপোর্ট থাকলেও সেখানে বৈধ মার্কিন ভিসা না থাকলে তা ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি যাদের ওয়ার্ক পারমিট আছে কিন্তু অন্য কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে, তাদের প্রতিও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বাপসনিউজকে বলেন, “নিজ দেশের পাসপোর্ট বৈধ হলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা থাকা জরুরি। না থাকলে বিমানবন্দরের তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যাদের ওয়ার্ক পারমিট আছে কিন্তু নথিতে ঘাটতি রয়েছে, তাদের এই মুহূর্তে বিমানযাত্রা না করার পরামর্শ দিচ্ছি।”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নিয়ম ইমিগ্রেশন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সতর্কতা এবং নীতি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করবে।

  • মাদারীপুর মুক্ত দিবস আজ

    মাদারীপুর মুক্ত দিবস আজ

    গোলাম আজম ইরাদ, মাদারীপুর:

    ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দুএক দিনব্যাপী তুমুল সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে শত্রুমুক্ত হয় মাদারীপুর জেলা। মুহূর্তেই হাজারো মানুষ জয় বাংলার স্লোগানে রাস্তায় নেমে উল্লাসে ফেটে পড়ে।

    ডিসেম্বরের শুরুতেই জেলার সব থানা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শহরের এ আর হাওলাদার জুট মিল ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলেন।

    ৯ ডিসেম্বর ভোরে ফরিদপুরের দিকে পালানোর সময় ঘটকচর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে হানাদাররা বিপুল পরিমাণ অস্ত্রগোলা ফেলে পালাতে থাকে। সমাদ্দার ব্রিজ এলাকায় ৯ ও ১০ ডিসেম্বর সারাদিন-সারারাত সম্মুখযুদ্ধ চলে। গোলা-বারুদ ফুরিয়ে এলে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় মুক্তিযোদ্ধারা।

    ১০ ডিসেম্বর বিকেলে মেজর আবদুল হামিদ খটকের নেতৃত্বে ৩৭ পাকিস্তানি সৈন্য ও ১৪ মুজাহিদ—মোট ৫৩ জন খলিল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ সম্পন্ন হয়।

    যুদ্ধে শহীদ হন সর্বকনিষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু এবং ২০ জন হানাদার সেনা নিহত হয়।

    ১১ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণকারীদের কলাগাছিয়া ক্যাম্পে এবং ১২ ডিসেম্বর মাদারীপুর সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
    মাদারীপুর স্মরণ করছে তার গৌরবোজ্জ্বল শত্রুমুক্তির দিন।

  • কাউখালী থানায় ওসির যোগদান

    কাউখালী থানায় ওসির যোগদান

    কাউখালী প্রতিনিধি।

    কাউখালী থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ ইয়াকুব হোসাইন। তিনি সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে কাউখালী থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নবাগত ওসি এর আগে বরগুনা জেলার সদর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
    জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার সন্তান মোঃ ইয়াকুব হোসাইন ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
    কাউখালী থানায় দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নবাগত ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন তার প্রতিক্রিয়া বলেন, এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, বাল্যবিবাহ, অনলাইন জুয়া সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সুষ্ঠু নির্বাচন, এলাকার নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।