Category: জাতীয়

  • কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির  দাবি বিএমএসএফের

    কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তির  দাবি বিএমএসএফের

    স্টাফ রিপোর্টার।
    পবিত্র মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ক্ষমার মহিমাকে সামনে রেখে কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, রমজান মাস মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার বার্তা বহন করে। এ মাসে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে উদারতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার চর্চা আরও জোরদার হওয়া উচিত।
    বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিএমএসএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা নানা হয়রানি, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দী থেকে তাদের পরিবার মানবিক সংকটে পড়েছে। সংগঠনটির মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি।
    সংগঠনের মনিটরিং তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে অগণন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক একই ধরনের হয়রানি, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
    সাংবাদিকদের প্রতি অযৌক্তিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাহে রমজান আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নিয়ে কারাবন্দী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করা উচিত। যেসব সাংবাদিক শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কারাবন্দী রয়েছেন, তাদের মুক্তি প্রদান সময়ের দাবি।
    বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা ও মানবিক আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোর দাবি কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
    নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, ন্যায় ও মানবিকতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
  • নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আজিবুর সভাপতি রাজু সম্পাদক

    নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আজিবুর সভাপতি রাজু সম্পাদক

    নড়াইল প্রতিনিধি।

    নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে আজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইস্রাফিল খবির রাজু নির্বাচিত হয়েছেন।
    জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের তৃতীয় তলায় সোমবার সকাল ১০টায় থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
    জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সিনিয়র আইনজীবী শেখ নূর মোহাম্মদ বলেন, শান্তিপূর্নভাবে ভোট গ্রহণ সস্পন্ন হয়েছে। ১৬১ জন ভোটারের মধ্যে ১৪৯জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১১টি পদের মধ্য ৪টি পদে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।
    সভাপতি পদে আজিবুর রহমান ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তারিকুজ্জামান লিটু পেয়েছেন ৬৯ ভোট।
    সহ-সভাপতি পদে শরিফুল ইসলাম টিটু ৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী বদরুল আলম পেয়েছেন ৭০ভোট।
    সাধারণ সম্পাদক পদে ইসরাফিল খবির রাজু ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটত প্রতিদ্বন্দ্বী নেওয়াজ মাহমুদ তুহিন পেয়েছেন ৪৮ভোট।
    সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়াহিদুজ্জামান জুলু ৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী
    মিশকাতুর রহমান সজিব ৬৮ ভোট।
    ৭টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, গণগ্রন্থাগার সম্পাদক পদে ইমরুল হাসান সনেট এবং আইন ও সমাজ বিষয়ক সম্পাদক পদে লাভলী আক্তার।এছাড়া ৫টি সদস্য পদে কাজী জিয়াউর রহমান, এস এম ইকবাল হোসেন, শিমুল ফকির, শাহাজিয়া শারমিন মুন্নী ও মিলিমা খানম(মিলি সিদ্দিকী)।

  • পিরোজপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সোহেল মনজুর সুমন নির্বাচিত

    পিরোজপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সোহেল মনজুর সুমন নির্বাচিত

    মোঃ মেহেদী হাসান,স্টাফ রিপোর্টার।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক মাস ধরে নানা উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎকন্ঠা বিরাজমান ছিল সাধারণ জনগণ সহ বিভিন্ন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। সবার কৌতুহুল ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করবে।
    অবশেষে ১২ই ফেব্রুয়ারী(বৃহস্পতিবার) সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সমাপ্তি হল জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট কেন্দ্র গুলোতে দেখা গিয়েছে ভোটারদের সরব উপস্থিতি। দীর্ঘদিন পরে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করায়, ভোটারদের অনেককে অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাতেও দেখা গিয়েছে।

    পিরোজপুর-২(ভান্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসনে সর্বমোট ভোটার ছিলো ৪ লাখ ৯ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৩১২ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৯৭২ জন এবং ৪ জন ভোটার হিজরা সম্প্রদায়ের।
    প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আহাম্মদ সোহেল মনজুর সুমন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
    তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী, শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট।
    এ সময় নির্বাচিত সংসদ সদস্য সোহেল মনজুর বলেন,আমি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী পিরোজপুর-২ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছিলাম। আপনারা আমাকে আপনাদের একজন করে গ্রহণ করে যে ভালোবাসা ও আস্থা দিয়েছেন, তার ফলেই আজ এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। আমার এই বিজয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখা সকল নেতাকর্মী, সমর্থক এবং প্রিয় পিরোজপুর-২ বাসীকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।
    তিনি আরও বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কোনো বিজয় মিছিল করিব না। আমরা বিশ্বাস করি, সংযম, শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণেই প্রকৃত বিজয়ের আনন্দ পাওয়া যায়।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনের ৫টিতে বিএনপির জয়

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনের ৫টিতে বিএনপির জয়

    লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপি দলটির জোটসঙ্গীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর একটিতে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

    রুজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ভোট গণনা শেষে, এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    ব্রাহ্মাণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নান। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৮ হাজার ৯২ টি। তার নিকটতম প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান পান ৩৫ হাজার ২২০ ভোট।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিজয়ের হাঁসি হাসেন বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র) হাসঁ প্রতীক নিয়ে ভোট পান ১ লাখ ১৮ হাজর ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট পান ৮০ হাজার ৪৩৪ টি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে মো. খালেদ হোসেন মাহবুব ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পান ২০৯৬৩৬ টি। তার নিকটতম প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ শাপলা কলি প্রতীকে ভোট পান ৬২,৫৪৭ টি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে মুশফিকুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পান ১,৩৯,৮৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী মো. আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট পান ৯১,৭৯৬ টি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে এম এ মান্নান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৮৫,৭৬৯ ভোট। তার নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস(স্বতন্ত্র) প্রতীক ফুটবল পান ৮৪,৭০৮ ভোট।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মাথাল প্রতীক নিয়ে পান ৯৪,২৩১ ভোট। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মো. মহসীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৩৭,৯৬৫ ভোট।

    বিজয়ের পর প্রার্থীরা এলাকায় আনন্দ মিছিল করেন এবং ভোটারদের শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হন।

  • পুরুষের চেয়ে মহিলাদের উপস্থিতি বেশি   কাপ্তাইয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন 

    পুরুষের চেয়ে মহিলাদের উপস্থিতি বেশি  কাপ্তাইয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    রাঙামাটির  কাপ্তাই উপজেলায় সকাল সাড়ে ৭ টা হতে বিকাল সাড়ে ড়ে ৪টা  পর্যন্ত  ২২ টি কেন্দ্রে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

    ২২টি কেন্দ্রে কোন ধরনের হট্টগোল  ছাড়াই ছাড়াই শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। কাপ্তাই প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ ১৭বছর পর ভোটাররা উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে প্রশাশনকে ধন্যবাদ জানান।

    এবারের কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচনে পুরুষের চেয়ে মহিলাদের উপস্থিত ছিল বেশি। মহিলারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দেয়।

    কাপ্তাই বিএফআইডিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ৮৫বয়সের অসুস্থ বৃদ্ধ আম্বিয়া খাতুন,অন্ধ শহিদুল্লা ও প্রতিবন্ধী মনোয়ারা বেগম জীবনের শেষ ভোট দিতে আসছে আত্মীয়-স্বাজনের সাথে।

    কাপ্তাই স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ হোসেন ও ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার তীর্থ জিৎ রায় জানান,কোন ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়া আনন্দ মুখর পরিবেশে শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।  কাপ্তাই উপজেলার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ ও সদস্য সচিব মো.দিলদার হোসেন  বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন হচ্ছে,  আমরা প্রশাসন সহ সকল জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছি, ইনশাল্লাহ কাপ্তাইয়ে দিনশেষে ধানের শীষের বিজয় হবে।

    কাপ্তাই  উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো রুহুল আমিন এবং উপজেলা  নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পারিয়াল জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  কাপ্তাই উপজেলার  ২২ টি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টা হতে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে। এবং শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে উৎসব মুখর পরিবেশে সকলে শ্রেণী পেশার লোকজন ভোট দেন। উল্লেখ্য ২৯৯নং আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ব্যতিত শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন হয়েছে সাধামাটা।

    ৫ টি ইউনিয়নে মোট  ভোটার ৫০ হাজার ৯ শত ৫৯ জন, তৎমধ্যে পুরুষ ভোট ২৬ হাজার ৪ শত ৪১ জন এবং মহিলা ভোটার ২৪ হাজার ৫ শত ১৮ জন।

    ২২ টি ভোট কেন্দ্রে ১০০ টি পুলিং বুথে ২২ জন  প্রিসাইডিং অফিসার  ৯৯ জন   সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ শত  ৯৮ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

  • সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বয়কট করলে হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী

    সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বয়কট করলে হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী

    স্টাফ রিপোর্টার।

    সুষ্ঠু পরিবেশ নেই দাবি করে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বয়কট করলেন হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী।

    নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের অন্ধ সমর্থন, নগ্ন হস্তক্ষেপ, নির্বাচনি কাজে উদাসীনতা ও ‘প্রার্থীর নিরাপত্তা সংকটের কথা জানিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারী রাত ৯: ৩০ ঘটিকায় নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মোস্তফা।

    এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। গত ০৮ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ্য করে জেলা প্রশাসক/জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর একজন গানম্যানের আবেদন করেন।

    আবেদন গ্রহণ হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা/ জেলা প্রশাসক কোনোরূপ পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। এতে প্রশাসনের উদাসীনতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

    এসময় তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকে খাগড়াছড়িতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচার – প্রচারণা করে আসছে ক্ষমতাধর কিছু প্রার্থী। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের দিয়ে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করিয়ে ক্ষমতাধর প্রার্থীগণ প্রচার প্রচারণা করা করিয়ে আসছিলো। আমি সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আচরণ বিধি লঙ্ঘন এর বিচার চেয়ে গত ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ খাগড়াছড়ি ( দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক) নির্বাচনি অপরাধ এবং নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত “নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি” বরাবর লিখিত আবেদন করি।

    আবেদনের ৪৮ ঘন্টা পার হয়ে গেলে উক্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি বা কোনোরূপ বিচার হয়নি। অথচ আমার আবেদনের একদিন পরে হওয়া অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। অনুসন্ধান কমিটি ইচ্ছাকৃতভাবে কালক্ষেপন করছে এবং আমার অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিগন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্মকর্তা কর্মচারি হওয়ায় এবং জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় বিচারিক আদালত পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধি লংঘনের ভিডিও এবং ছবি থাকার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারক আদালত কালক্ষেপণের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করিয়ে অবৈধভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়লাভে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

    খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ অত্র অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জেলা পরিষদের হস্তক্ষেপে অত্র জেলার সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের মনগড়া মোতাবেক চালাতে পারে। আমার অভিযোগে জেলা পরিষদ সদস্য ও কর্মকর্তাগণ রয়েছেন তাই এই নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হওয়ার কোনোরূপ সম্ভাবনা নাই।কারন যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছে, তাদেরকে নির্বাচনের দিনের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সরকারি কর্মচারী দ্বারা নিরপেক্ষ ভোট আশা করা যায় না। আদালত কালক্ষেপণ মূলক আচরণ করে জেলাপরিষদ সদস্য ও কর্মকর্তা কর্মচারিদের রক্ষা করছেন।

    আমি ৮ ই ফেব্রুয়ারি তারিখের পূর্বেও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা / জেলা প্রশাসক মহোদয়কে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছি তিনি কোনোরূপ কর্ণপাত করেন নাই। আমি একজন প্রার্থী হিসাবে প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েও পাইনি।

    আমার অভিযোগের বিচার করে দোষীদের শাস্তি প্রদান পূর্বক ও প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা নিশ্চিতকরণ পূর্বক নির্বাচন স্থগিত রাখার আহবান জানিয়ে উচ্চ আদালতের দারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন তিনি।

    হারিকেন মার্কা প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়িতে এই প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। খাগড়াছড়ি জেলার ১৮৯টি কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ সবগুলো কেন্দ্র ক্ষমতাধর প্রার্থী দখল করে দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    খাগড়াছড়িতে নির্বাচনি রেজাল্ট পরিবর্তনেরও তথ্য রয়েছে তাই আমি পূনরায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবো, উচ্চ আদালতে রায় নিয়ে পক্ষপাতমূলক নির্বাচন ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবায়ন করতে যাওয়া প্রশাসনের অপসারণের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকলকে শান্ত থাকার আহবান জানান।

  • কাপ্তাইয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে  নির্বাচনী সরঞ্জাম 

    কাপ্তাইয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে  নির্বাচনী সরঞ্জাম 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের ২২ টি ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে   নির্বাচনী সরঞ্জাম।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টা হতে কাপ্তাই উপজেলা বিআরডিবি  অফিস হতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পারিয়াল হতে স্ব-স্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত ব্যালেট পেপার, সিল, স্বচ্ছ ব্যালেট বাক্স, অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্প প্যাড সহ অন্যান্য সরঞ্জাম বুঝে নেন। এসময় কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, কাপ্তাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র,  কাপ্তাই  থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল সহ পুলিশ,  আনসার সদস্য এবং  ভোট গ্রহনে সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পারিয়াল জানান, কাপ্তাই উপজেলার  ৫ টি ইউনিয়নে মোট  ভোটার ৫০ হাজার ৯ শত ৫৯ জন, তৎমধ্যে পুরুষ ভোট ২৬ হাজার ৪ শত ৪১ জন এবং মহিলা ভোটার ২৪ হাজার ৫ শত ১৮ জন।

    ২২ টি ভোট কেন্দ্রে ১০০ টি পুলিং বুথে ২২ জন  প্রিসাইডিং অফিসার  ৯৯ জন   সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ শত  ৯৮ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

  • কাপ্তাই আনসার ভিডিপি নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ

    কাপ্তাই আনসার ভিডিপি নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    সততা ও দক্ষতার সাথে নির্বাচনে  আনসার ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর  সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।  মনে রাখতে হবে এবার একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন করা হবে, তাই প্রতিটি ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই জন্য অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আনসার সদস্যদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে বলে জানান  কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাপ্তাই উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো রুহুল আমিন।

    তিনি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় কাপ্তাই উপজেলা রেস্ট হাউজ চত্বরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কাপ্তাই উপজেলার ২২ টি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার  সদস্যদের

    নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে একথা বলেন। এসময় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জহুরা খাতুন বক্তব্য রাখেন। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পারিয়াল জানান,ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সুন্দর ও শান্তি শৃঙ্খলাভাবে কাপ্তাইয়ের সকল ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

    কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জহুরা খাতুন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলার ২২ টি কেন্দ্রে সর্বমোট ২শত ৮৬ আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, তৎমধ্যে পুরুষ আনসার সদস্য  ১শত ৯৮ জন এবং  মহিলা আনসার সদস্য  ৮৮ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

  • আপনাদের কাছে ভোট চাইনা,দোয়া চাইঃ মাহামুদ হোসেন

    আপনাদের কাছে ভোট চাইনা,দোয়া চাইঃ মাহামুদ হোসেন

    মোঃ মেহেদী হাসান,স্টাফ রিপোর্টার।

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায়,শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে পিরোজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহামুদ হোসেন বলেন,আপনাদের কাছে ভোট চাইনা, আপনাদের দোয়া চাই।
    তিনি আরও বলেন, আমার পরিবার একটি রাজনৈতিক পরিবার হওয়া সত্ত্বেও আমরা কখনও ক্ষমতার দাপট কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতির সাথে পরিচিত নই। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে। আর এই শিক্ষা আমরা আমাদের পরিবার থেকে পেয়েছি। তাই আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
    গত ৯ই ফেব্রুয়ারী(সোমবার) ভান্ডারিয়া শহীদ জিয়া ময়দানে ঘোড়া মার্কার সমর্থনে সর্বজনীনভাবে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
    উল্লেখ্য মাহামুদ হোসেন ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার ভাতিজা।
    অন্যান্যদের মধ্যে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন,বিশিষ্ট শিল্পপতি জাকির হোসেন নিজাম, ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন সরদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রুস্তম আলী খাঁন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা শরীফ, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মামুনুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মাহফুজুর ইসলাম উজ্জ্বল, উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাহাদুর সরদার, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপির সভাপতি রেজা আহমেদ দুলাল প্রমুখ।
    এ সময় ঘোড়া মার্কার সমর্থনে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জনসভাস্থল,একইসাথে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী মাহামুদ হোসেনের মার্কাকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে।

  • দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ–আহমেদ আবু জাফর

    দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ–আহমেদ আবু জাফর

    দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ-আহমেদ আবু জাফর, সভাপতি, নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।

    জাতীয় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তি ও পরিপক্বতার প্রতিফলন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যত স্বচ্ছ ও প্রশ্নমুক্ত হবে, ততই জনগণের আস্থা দৃঢ় হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর প্রচলন দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অবিশ্বাসের মুখে ফেলেছে।
    এই প্রেক্ষাপটে “দিনের ভোট রাতে নয়” বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের আহ্বানটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে ভোটের আগের রাতে ভোট কেন্দ্র গুলো চরম ঝুকিপূর্ণাবস্থা। যেখানে প্রিজাইডিং-পুলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন কেন্দ্রের ব্যালট-বাক্স পাহারা দিতে গিয়ে চরম খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গোলাগুলি, হতাহত, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা অধিকাংশ ব্যালটে রাতেই সিল মারার মত চরম নষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। ফলে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট খুঁজে পায়নি, এমনকি মৃত্যু ব্যক্তির ভোটও সেরে ফেলেছিলো।

    কেনো দেশের জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারা ঐ রাষ্ট্রের পরবর্তী মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার প্রথম সফল উদাহরণ। তবে ভোটাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশে তা দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে অনুপস্থিত।

    অনেকেই যুক্তি দেন, ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠালে ভোটের আগের রাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যালট পেপার ও বাক্স যদি ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে না রেখে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রিত হেফাজতেই থাকে, তবে সেই রাত আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকে না, বরং ঝুঁকিমুক্ত হয়। এতে অনিয়মের আশঙ্কা, গুজবের সুযোগ এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ অনেকাংশে কমে যায়।

    ভোটের দিন সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ব্যালট সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছানো হলে দায়িত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে ভোট শুরুর আগেই তাদের ভোট নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।

    আমরা আশা করছি দীর্ঘদিনের এই পুরানো রুট পরিবর্তন করে নতুন রুটে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে দিনের ভোট রাতের প্রথাটি বিলুপ্ত হতে বাধ্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল ভোট গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ভোটের আগের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রশ্নবিদ্ধ প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফলই জন্ম দেয়, যার খেসারত দিতে হয় জনগন, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রকে।

    অতএব দিনের ভোট দিনের আলোতেই হওয়া উচিত। ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠানো কোনো ঝুঁকির সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নির্বাচনকে ঝুঁকিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনআস্থাভিত্তিক করার একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বাস্তবতা অনুধাবন করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা প্রশ্ন নয়, আস্থা তৈরি করে।