Category: প্রচ্ছদ

  • আশুগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও প্রাইভেটকার সহ গ্রেফতার ২

    আশুগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও প্রাইভেটকার সহ গ্রেফতার ২

    লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ (স্টাফ রিপোর্টার)।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ ১২/০১/২০২৬ ইং তারিখ আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকা হতে ০১ টি প্রাইভেটকার আটক করে। এ সময় প্রাইভেটকার তল্লাশী করে ৮৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১। মিজানুর রহমান (৩৩) পিতা-নিয়ামত আলী
    মাতা-ফরিদা বেগম ২. মোঃ আরজু আলম (৩৪)
    পিতা-মৃত মনির উদ্দিন মাতা-নূর জাহান বেগম
    উভয় সাং-আলীপুর (পোষ্ট- সাচনা) থানা-জামালগঞ্জ
    জেলা-সুনামগঞ্জ। এদেরকে হাতে নাতে গ্রেফতার করেন পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদক মালামাল বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।

    আসামিদের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় মাদক মামলা রুজু করে,আসামিদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • কাপ্তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ ভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ 

    কাপ্তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ ভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত মসজিদ ভিত্তি শিশু গণশিক্ষা তালপট্টি কেন্দ্রে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে ।

    সোমবার সকাল ১০টায় শিল্প এলাকা তালপট্টি গণশিক্ষা কেন্দ্র শিক্ষক এর আয়োজনে মো. কবির হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

    নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এর ২০২৫ সনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মাঝে  পুরস্কার বিতরণ করা  হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএফআইডিসি এলপিসি কাপ্তাই শাখার সহ-ব্যবস্থাপক বিলাস কুমার বিশ্বাস।

    প্রধান অতিথি বলেন,ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক মসজিদ ভিত্তি গণশিক্ষা কেন্দ্রটি প্রশংসার দাবিদার। এ কেন্দ্রে আদব,স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিষ্কার পরিচর্যা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে থাকে তিনি অত্র কেন্দ্রের  শিক্ষকের মানউন্নয়নের  প্রশংসা করে।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই ৫নং ইউপি সদস্য মো. ইমান আলী,ইফা কেয়ারটেকার হাফেজ জালাল উদ্দিন, শিল্প এলাকা ভিভি এস পরিচালক আবু বক্কর ছিদ্দিক, কাপ্তাই নতুন বাজার টেলিকম এন্ড লাইব্রেরি পরিচালক আব্দুর রহিম মহরম,শহিদ তিতুমীর একাডেমি সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম খোকন ও ব্যবসায়ী মো. রাশের।

    এসময় ২০২৫-২৬ সনের পুরাতন ও নতুন  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • কাউখালীতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী এম. মতিউর রহমানের স্মরণে দোয়া

    কাউখালীতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী এম. মতিউর রহমানের স্মরণে দোয়া

    মোঃ মেহেদী হাসান, কাউখালী প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে রবিবার(১১ ই জানুয়ারী) সকাল ১১ ঘটিকার সময়, এম. মতিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের(সাবেক জয়কুল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী এম. মতিউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি এস.এম. আহসান কবির,বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম দ্বীন মোহাম্মদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল আহসান নিক্সন, ৩নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাহামুদুর রহমান, মোঃ মেহেদী হাসান, প্রভাষক মোঃ রিয়াজ হোসেন,তাজেদুল ইসলাম প্রমুখ।
    এ সময় বক্তারা বলেন, মরহুম এম. মতিউর রহমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও বানিজ্য সচিব ছিলেন।কাউখালী সহ দক্ষিণ বাংলার মানুষ তার অবদানের কথা চিরকাল মনে রাখবে। তিনি কাউখালীর রাস্তাঘাট,ষ্টীমারঘাট সহ ব্যাপক উন্নয়ন করে গেছেন। এই জনপদের অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকদের দল মত নির্বিশেষে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দিয়েছেন মুক্তি। ১৯২৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর কাউখালীর জয়কুল গ্রামে এই গুণী মানুষটির জন্ম হয় এবং ২০১৮ সালের ৯ই জানুয়ারী তিনি মৃত্যু বরন করেন।
    একইসাথে বক্তারা প্রয়াত সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি চারন করে বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় থাকাকালীন, খালেদা জিয়ার সরকার বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য একটি শিক্ষা “উপবৃত্তি” এবং শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য খাদ্য প্রবর্তন করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছিল। তার সরকার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করে এবং শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে। শিক্ষকদের ১০০% সরকারি বেতন ভাতার ব্যবস্থা সহ ২৫% উৎসব ভাতা এবং চাকুরী শেষে গ্রাচুয়েটি দিয়ে শিক্ষক সমাজকে করেছেন অনুপ্রানিত। ১৯৪৬ সালের ১৫ই আগষ্ট দিনাজপুর জেলায়, গনতন্ত্রের আপোষহীন এই নেত্রী জন্মগ্রহণ করেন এবং গত ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
    অন্যান্যোর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র দল নেতা শারিফুল আজম সোহেল, ইউপি সদস্য আজম আলী খান, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি নার্গিজ রহমান, জয়কুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ আবুয়াল হোসেন, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তব্য শেষে প্রয়াত এই দুই গুনী মহান ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন প্রভাষক মোঃ নুরুজ্জামান খান পলাশ ও শহিদুল ইসলাম বাদল।

  • নিদিষ্ট সময়ের পূর্বে  কেপিএম হতে  ১১ কোটি টাকার উপরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ব্যালট সরবরাহ করা হয়

    নিদিষ্ট সময়ের পূর্বে  কেপিএম হতে  ১১ কোটি টাকার উপরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ব্যালট সরবরাহ করা হয়

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    নিদিষ্ট সময়ের পূর্বে  কেপিএম হতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান মিল কর্তৃপক্ষ।

    রোববার (১১ জানুয়ারী ২৬) সকাল ১১টায় কেপিএম ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ জানান  রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত কর্ণফুলি পেপার মিলস লিমিটেড( কেপিএম)   হতে  চলতি অর্থ বছরে ৯১৪মেট্রিকটন কাগজের চাহিদাপত্র দিয়েছিলেন বাংলাদেশ স্টেশনারী অফিস ( বিএসও)। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১১ কোটি ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭ শত ৮১  টাকা। আবার বিএসও হতে  নির্বাচন কমিশন  এই  কাগজ সরবরাহ করে  নির্বাচনের জন্য   ব্যালট পেপার ছাপানো সহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করে থাকবেন।  চাহিদা পত্রের বিপরীতে নিদিষ্ট সময়ের আগেই কেপিএম কর্তৃপক্ষ এই কাগজ সরবরাহ করেন।

    তিনি আরোও বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিকটন কাগজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। তৎমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য নির্বাচন কমিশন বিএসও এর মাধ্যমে কেপিএম মিল হতে ব্রাউন, সবুজ  ও গোলাপি  কালার কাগজের চাহিদাপত্র দিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারীর ২০২৬ এর মধ্যে এই কাগজ সরবরাহ এর জন্য বলা হয়েছিল। আমরা ১১ জানুয়ারীর মধ্যে  পর্যায়ক্রমে  এই কাগজ বিএসও এর কাছে সরবরাহ করেছি। তিনি আরোও বলেন, নির্বাচন কমিশন ছাড়াও বিএসও এর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে আরোও ১২শত মেট্রিকটন কাগজ পর্যায়ক্রমে  সরবরাহ করা হবে বলে জানান।

    এসময় কেপিএম এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • কাপ্তাই তিনদিন ব্যাপী স্কাউটস ব্যাজ কোর্স উদ্বোধন

    কাপ্তাই তিনদিন ব্যাপী স্কাউটস ব্যাজ কোর্স উদ্বোধন

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা স্কাউটস তিনদিন ব্যাপী ব্যাজ কোর্স উদ্বোধন করা হয়েছে।

    রোববার সকাল ১১টায় কাপ্তাই উচচ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ স্কাউটস ব্যাজ কোর্স উদ্বোধন করেন কাপ্তাই উচচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কোর্স লিডার মাহাবুব হাসান।

    ২০২৫-২৬অর্থ বছরে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় তিন দিন ব্যাপী এ ব্যাজ কোর্স অনুষ্ঠিত শুরু হয়েছে । কোর্সে ব্যাংক ব্যাজ বিতরণ,তাঁবু ইনসিগনিয়া বিতরণ, পতাকা উত্তোলন,আইস ব্রেকিং, কোর্সের মূল উদ্দেশ্য, তাঁবু পরিচিত,স্কাউট আন্দোলনের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ করা হবে।

    ২য় দিনে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহামুদ হাসান ও জেলা স্কাউটস লিডারগণ উপস্থিত থাকবেন।

    ব্যাজ কোর্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, বিজন কুমার দে,এএলটি ও প্রশিক্ষক, লিটন চন্দ্র দে, এএলটি ও প্রশিক্ষক,এবি এস সিরাজ আহমেদ চৌধুরী উডব্যাজার ও সম্পাদক কাপ্তাই স্কাউটস, আবু ইসহাক উডব্যাজার,কল্যান বিকাশ তনচংগ্যা ইউনিট লিডার ও উমাসিং মার্মা ইউনিট লিডার প্রশিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত ব্যাজ কোর্সে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেন।

  • কাশ্মীরে শোরগোল ( ৪র্থ পর্ব) —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল ( ৪র্থ পর্ব) —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল ( ৪র্থ পর্ব)
    —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যদ্বয় ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধারা অনুযায়ী অন্যান্য রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতো। কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা, সংবিধান, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং অনেক বিষয়ে নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে ভারত সরকার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনর্গঠন করে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করে। এছাড়া সরকারীভাবে এখানে স্থায়ী বাসিন্দা সনদ দেওয়া শুরু হয় যা “ডোমিসাইল” নামে পরিচিত ।
    কাশ্মীরের জনগণের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে ভারত সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয় ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার ফলে রাজ্যে শান্তি বিরাজ করছে। জম্মু ও কাশ্মীরে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে এবং রাজ্যে শান্তি ফিরবে। এছাড়া ডোমিসাইল সুবিধার ফলে কাশ্মীরে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ আসবে এবং জীবনযাত্রার মানে গুণগত পরিবর্তন হবে।
    কিন্তু সাধারণ মানুষের ধারণার সাথে সরকারের দাবী সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁদের ধারণা কাশ্মীরের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দিতেই সরকার এ পরিকল্পনা করেছে। সাধারণ জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার বদলে বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং হোটেল ও আবাসনখাতে তাঁদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহিরাগতদের ডোমিসাইল সুবিধা দিয়ে স্থানীয়দের কোনঠাসা করে রাখার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।
    স্থানীয় মুসলিম জনসাধারণের ধারণা সরকারের তরফ থেকে আগ্রহী হিন্দুধর্মাবলম্বীদের আভ্যন্তরীণ অভিপ্রয়াণ প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানাসহ বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দিতে ডোমিসাইল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সরকার হিন্দু-মুসলিম সংখ্যানুপাতের ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে। কাশ্মীরে মুসলিম গরিষ্ঠতা হ্রাস করার জন্য আন্তঃআঞ্চলিক এ স্থানান্তর হিন্দুত্ববাদী ডোসিমাইল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সফল হলেও স্থানীয় জনগণের এতে তেমন কোনো উপকারে আসবে না।
    কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে রাজ্যটি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে আসলেও প্রকৃত অর্থে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি। সামরিকীকরণ বৃদ্ধি হয়েছে এবং সমাজে সন্দেহ প্রবণতার বীজ থেকে ইতোমধ্যে চারা গজিয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত এবং চৌকিগুলোতে স্থানীয় মানুষের হয়রানি আগের থেকে অনেক বেশি বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরস্পরের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস এতটাই প্রকট হয়েছে যে, সাধারণ লোকজন একজন আরেকজনের সাথে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে না। এক কথায় বলা চলে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার ফলে কাশ্মীরে শান্তি ফেরেনি বরং জনসাধারণের দূর্ভোগ অনেকক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    পাহলগাম সন্ত্রাসী ঘটনার পর কাশ্মীর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। দু’দেশের সেনারা নিয়মিত গোলা বিতরণ করে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে। উভয় দেশ ফলাও করে নিজেদের সফলতার ফিরিস্তি প্রকাশ করে। অন্যদিকে অশান্ত কাশ্মীরের সাধারণ অধিবাসীরা পড়েছে চরম ভোগান্তির মধ্যে। তাঁদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে, রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছে। ভয়ে তটস্থ কাশ্মীরের স্থানীয় মানুষ গ্রেপ্তার আতঙ্কে সরকারের সমালোচনা করতেও শঙ্কাবোধ করে।
    সাধারণ মানুষ সর্বদাই কাশ্মীরে স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা করে। কিন্ত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও রাষ্ট্রীয় চিন্তু-চেতনার বিস্তর ফারাক রয়েছে। সরকার এবং জনগণ সবার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে রাজ্যের উন্নয়ন। কিন্তু কাশ্মীরে শান্তির পথ মোটেও মসৃণ নয়, এখানে জনগণের মতামত ছাড়াও রাষ্ট্রীয় মেরুকরণের বিষয় জড়িত।
    কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য কুটনৈতিক পন্থায় স্থায়ীভাবে সমাধান খুঁজে পাওয়া জরুরী। তবে সেটা কেবলমাত্র ভারত কিংবা পাকিস্তানের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের মতামতকে আস্থায় আনা এবং কুটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের উচিত বিশ্বাসযোগ্য পথ খুঁজে নিয়ে পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরী করা দরকার। এছাড়া অমিমাংসীত সমস্যার সমাধানসহ সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করতে করণীয় পথগুলো খুঁতে পেতে উভয়পক্ষ পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্য পথ অনুসরণ করতে পারে। তবে ভারত কাশ্মীর সমস্যাকে বরাবরই নিজেদের আভ্যন্তরীন ও নিজস্ব বিষয় বলে মনে করে এবং কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো মোটেও পছন্দ করে না। অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মীর সমস্যার দ্বি-পাক্ষীক বা আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যার সমাধান আশা করে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের কাছে কাশ্মীরের শান্তি আগে, না-কি কৌশলগত ভূ-খন্ডের দখল বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।
    কাশ্মীরের জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হলে বা তাঁরা স্বাধীনতা লাভ করলে ভারত বা পাকিস্তান করো তেমন লাভ হবে না বরং উভয় দেশ কাশ্মীরের উপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ হারাবে। কাশ্মীরের গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত বা পাকিস্তান কেউ সেটা মেনে নেবে না। দীর্ঘ দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এটা অনুমান করা যায়- ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের কাছেই কাশ্মীর এক কৌশলগত ভূ-খন্ড। যেখানে আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখাটা উভয়ের কাছেই অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    অন্যদিকে বেল্ট এন্ড রোড ইনেশিয়েটিভ, সিপিইসি করিডোর সুরক্ষা করা ছাড়াও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যকার বৈরীতাকে কাজে লাগিয়ে চীন উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। অর্থনৈতিক, ভূ-কৌশলগত এবং নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধিসহ নানা কারনে এ অঞ্চল নিয়ে চীন অনেক বেশি তৎপর। সম্প্রতিকালে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীর প্রশ্নে নিজেদের অন্তর্ভূক্তিমূলকভাবে সম্পৃক্ত করতে কৃটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। যদিও ভারত কাশ্মীর প্রশ্নে বরবরই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
    বৃটিশরা চলে যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কাশ্মীরের জনগণের অর্জন তেমন কিছুই হয়নি বরং এখানকার জনগণের ভাগ্যে দুঃখ-দুর্দশা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। তাঁরা স্বার্বভৌমত্ব হারিয়েছে, পতাকা খুইয়েছে, নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও গেছে। এসেছে ডোমিসাইল যা কাশ্মীরে জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের পথ সুগম করে কাশ্মীর সমস্যা আরো জটিল করে তুলেছে। যদিও ভূ-রাজনৈতিক দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য ধর্মীয় বিভাজনকে জিইয়ে রেখে কাশ্মীরকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে অশান্ত রাখা মোটেও সমীচীন নয়।
    কাশ্মীরের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের উচিত স্থানীয় জনগণের চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরে সামরিকীকরণের বদলে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথ সুগম করা সবচেয়ে জরুরী। সকলের কাছে বিশ্বসযোগ্য প্রক্রিয়ায় স্থানীয় রাজনীতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারত সরকারের দায়িত্ব। জনগণের অংশগ্রহনমূলক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ধারা প্রাণ ফিরে পেলে ভারত বিরোধীতা অনেকাংশে কমবে এবং ভূ-স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে শান্তির পথ উম্মুক্ত হবে।
    চিরসুন্দর কাশ্মীরের অপরূপ সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করার জন্য পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক। পর্যটন খাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণ এবং রাজনীতিবীদদেরকে বাস্তবতা উপলদ্ধি করতে হবে। উপজাতীয়, জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে কিভাবে একটি শান্তি প্রিয় ভূখণ্ড গড়ে তোলা যায় সেটা নিয়ে সকল কাশ্মীরবাসীকে সহাবস্থান বজায় রেখে ঐক্যের পথে হাঁটা যৌক্তিক। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটা মোকাবেলা করা গেলে কাশ্মীর হয়ে উঠবে সত্যিকারের এক আদর্শ ভূ-স্বর্গ।
    সবুজ পাহাড়ে ঘেরা স্বচ্ছ লেক, পারিযায়ী পাখির কলরব, বরফে ঢাকা হ্রদ, গাছের দৃশ্য এবং উঁচু-নিচু পাহাড় এ এক অন্যরকম সৌন্দর্য। এ যেন বিধাতার এক অপরূপ দান। কাশ্মীরে সারা বছরই কোনো না কোনো ফল-ফুল মেলে। বাদাম, আখরোট, চেরি, নাশপাতি, এপ্রিকোট, পীচ, বরই, খুবানিসহ নানা জাতের সুস্বাদু ফলের সম্ভার কাশ্মীর। ঋতুভেদে দেখা মেলে টিউলিপ, ড্যাফোডিল, ডেইজি, লিলি, সূর্যমুখী, মাদাগাস্কার পেরিউইঙ্কল, পয়েইনসেটিয়া, সান স্পার্জ, বাদাম ফুলসহ নানা জাতের ফুল। বছরজুড়ে বৈচিত্রময় ফল-ফুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করে প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের নৈসর্গিক এ লীলাভূমি। এখানে রয়েছে পাহাড়, ঝর্ণা, বয়ে চলা হিম শীতল ঠাণ্ডা জলের নদী, লেক, সবুজে ঘেরা উদ্যান। প্রকৃতি এখানে তাঁর সৌন্দর্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কাশ্মীর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এক অন্যরকম শিহরণ জাগায়। মনোমুগ্ধকর এসব দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যাবলী পর্যাটকের মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। কাশ্মীরের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী ভ্রমণপিপাসুদের স্মৃতির পাতায় থাকে চির অম্লান।

  • স্বরূপকাঠির সন্তান শিক্ষা উদ্যোক্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের সফলতার গল্প

    স্বরূপকাঠির সন্তান শিক্ষা উদ্যোক্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের সফলতার গল্প

    মোঃ জাকির হোসেন।

    পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রাম থেকে উঠে এসে আজ ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান ও উত্তরাতে সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম।

    ১৯৮৯ সালের এসএসসি ব্যাচের এই মেধাবী শিক্ষার্থী আজ দেশের অন্যতম সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।
    শিক্ষাজীবন ও প্রাথমিক পরিচয় :
    ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল প্রকৃতির এবং অত্যন্ত স্মার্ট ও চৌকস মোঃ রফিকুল ইসলাম তার মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পান। কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন ইংরেজি শিক্ষকতা। তবে শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা।

    মোঃ রফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত লর্ডস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আজ রাজধানীর অন্যতম পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বাংলাদেশের বাইরের শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
    গুলশানে অবস্থিত লর্ডস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা একসাথে পড়াশোনা করছে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক পরিবেশের কারণে এই শাখাটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
    উত্তরায় প্রতিষ্ঠিত লর্ডসের দ্বিতীয় শাখাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এখানে বাংলাদেশের মেধাবী ও স্কলার শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। এই শাখাটি দেশের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
    সফলতার পাশাপাশি মোঃ রফিকুল ইসলাম নিজ এলাকার প্রতিও রয়েছে দায়বদ্ধতা। স্বরূপকাঠির সোহাগদলে তিনি নির্মাণ করেছেন একটি নান্দনিক বাড়ি, যা এলাকায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    একজন গ্রামীণ পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থী কীভাবে রাজধানীর সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হয়ে উঠলেন, তা অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা। তার মেধা, পরিশ্রম, দূরদর্শিতা এবং শিক্ষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই তার এই সফলতার মূল চালিকাশক্তি।
    মোঃ রফিকুল ইসলামের এই সফলতার গল্প প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য, পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। স্বরূপকাঠির এই সন্তান আজ শুধু নিজের জন্যই নয়, দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

  • কসবা সীমান্তে টাস্কফোর্স অভিযানে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় থ্রিপিস ও শাড়ীসহ, আটক ২

    কসবা সীমান্তে টাস্কফোর্স অভিযানে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় থ্রিপিস ও শাড়ীসহ, আটক ২

    লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় টাস্কফোর্সের অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিসসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ছামিউল ইসলাম। বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের পাশাপাশি পুলিশ এ অভিযানে অংশ নেয়।

    সুলতানপুর ব্যাটালিয়ান (৬০ বিজিবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা সীমান্ত এলাকায় টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় থ্রিপিস শাড়ীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে ।

    শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ) দুপুর ১২ টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জিয়াউর রহমান।

    ৬০ বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী কসবা এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় চোরাচালান বিরোধী ট্রাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ থ্রিপিস ও শাড়ী জব্দ করা হয়। এ সময় আনোয়ার হোসেন (৩২) ও মোঃ মনির হোসেন (২৬) কে চোরাচালানের অভিযোগে আটক করা হয়। তারা কসবা উপজেলার দক্ষিণ চকবস্তা গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে। জব্দকৃত শাড়ীর ও থ্রিপিস এর মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

    সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের আগ্রাসন থেকে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী কসবা এলাকায় টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে দুজন আসামিসহ এসব অবৈধ শাড়ী ও থ্রিপিস জব্দ করা হয়েছে।

  • কাপ্তাই পশ্চিম পাড়া ঢাকাইয়া কলোনি শিঁড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ,ধ্বসে পরে হতাহতে আশঙ্কা 

    কাপ্তাই পশ্চিম পাড়া ঢাকাইয়া কলোনি শিঁড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ,ধ্বসে পরে হতাহতে আশঙ্কা 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪নং ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়া ঢাকাইয়া কলোনি শিঁড়ি’টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। যেকোন সময় এটি ধবসে পরে হতাহত হওয়ার আশঙ্কা  করছে এলাকার লোকজন।

    অত্র এলাকায় দু’হাজার লোকের বসতি। উক্ত শিঁড়ি দিয়ে দু’ই ইউনিয়নের প্রতিদিন নিম্নে দশহাজার লোক যাতায়াত করে থাকে। ১৯৯০সালে  তৎকালীন কাপ্তাই ৬৫ তম সেনা বিগ্রেড এটি ৫লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

    কাপ্তাই নতুন বাজার হতে কর্ণফুলী নদীর পার ঘেঁষে এই শিড়িটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করার পর হতে এলাকায় আরও বসতি বৃদ্ধি পায়।বসবাসরত হাজারোও লোকজন এই শিঁড়ি দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে তাদের গোসলসহ দৈনিন্দন কাজ সম্পন্ন করে থাকে। এবং কাপ্তাই ইউনিয়ন হতে চিৎমরম পাশ্ববর্তী ইউনিয়নে এই শিড়ি দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকে।  ৩৬বছর আগে করা শিঁড়িটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কর্ণফুলী নদীর  জোয়ার ভাটার ফলে এবং বর্ষা মৌসুমে  শিঁড়ির নিচের বেইচ এর মাটি এবং পলেস্তার ধসে শূন্যের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। শিঁড়িটি ব্যবহারকরিরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করছে।

    কাপ্তাই ৪নং ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক  ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান,১৯৯০সনে এই শিঁড়িটি কাপ্তাই ৬৫ তম সেনা বিগ্রেড ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে  নিজ অর্থায়নে এলাকার লোকজনের কথা বিবেচনা করে নির্মাণ করে।বর্তমানে শিড়ির অবস্থা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ যে কোন সময় এটি ধবসে হতাহতর ঘটনার আশঙ্কা  করছে।

    কাপ্তাই ৪নং ইউনিয়ন  ৫নং ওয়ার্ড বর্তমান ইউপি সদস্য মো. ইমান আলী জানান, শিঁড়িটি দিয়ে দু’ই ইউনিয়নের প্রতিদিন দশহাজার লোক যাতায়াতসহ দৈনন্দিন সকল কাজ সম্পন্ন করে থাকে। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটা সংস্কার বা নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পযন্ত আর করেনি বলে জানান। এলাকার লোকজন বর্তমানে শিঁড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে  যাতায়াত করছে। যে কোন সময় এটি ধবসে পরে হতাহত ঘটনা হওয়ার আশঙ্কা  করছে। তাই প্রশাসন বা উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত এটি সংস্কার বা পূর্ণ নির্মাণ করার আহবান জানান।

    কর্ণফুলী নদী হতে নতুন বাজার পযন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিঁড়ি,শিঁড়ির নিচের মাটি সরে বেইসের পলেস্তার ধ্বসে শূন্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

  • শাহজাদপুরে ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    শাহজাদপুরে ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    মো: সবুজ হোসেন রাজা,শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির উদ্যোগে ৫৪তম শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও হাজী মাহতাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নবী নেওয়াজের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসফিকা হোসেন।
    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাইফুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাজী অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শামীমা আক্তার, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন হোসেন।
    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর ইব্রাহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার লাকী, পোরজনা এম.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়ারেছ আলী, পোতাজিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে. এম. শামীম হোসেন, মশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহির উদ্দিন, তালগাছি আবু ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. পারভেজ আক্তারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাবা মাসফিকা হোসেন বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতে সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন আরও জোরদার করতে হবে।

    অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।