Category: বিনোদন

  • বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাবাসীর নতুন বিনোদন স্পট বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক

    বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাবাসীর নতুন বিনোদন স্পট বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক

    ফারজানা শারমিন।

    আজকাল ইট বালু কংক্রিটের হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের চার দেওয়ালের ঘরে বন্দী হয়ে রয়েছে লক্ষ-লক্ষ বাংলাদেশের নগরবাসীদের জীবন ।

    শিশু থেকে যুবক-যুবতী , বৃদ্ধ বয়সী সবাই পড়াশুনা , চাকরী বা ব্যবসায়িক কাজে বাইরে বের হলেও নিদিষ্ট সময়ের পরে বাসায় ফিরে বেশিরভাগ সময়ে চার দেওয়ালের ঘরে বন্দ্বী হয়ে থাকতে হয়।

    এর ফলে বেশিরভাগ সময়ে শিশুরা, তরুন বয়সী, বৃদ্ধ সবাই ওবেসিটি , হাই কোলষ্টোরল , ফ্যাটি লিভার, হার্টের সমস্যার মত বহু রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

    শিশুরাও অবসর সময়ে খেলাধুলার সুযোগ , না পেয়ে অসামাজিক হয়ে পড়ছে, অনেক শিশুর মানসিক বিকাশ , শারিরীক বিকাশ এই কারনে ঘটছেনা । অন্যান্য জায়গার মত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শিশু কিশোর কিশোরী,বৃদ্ধ বয়সীরাও এই সমস্যাগুলোর ভুক্ত ভোগী। এসব বিষয় মাথায় রেখে রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সবুজ গাছ গাছালি ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মন্ডিত পরিবেশে শারিরীক
    চর্চা , জগিং এবং অবসর সময়ে বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য চলতি বছরে ২০২৫ সালের ১৬ ই অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়েছে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক ।

    বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে, ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান (রহ.) জামে মসজিদের পাশে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ।

    বসুন্ধরা গ্রুপ অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এই পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেছেন । প্রায় ৬ একর অথবা প্রায় ০.৯৬ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক ।

    এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কের মাঝখানে অবস্থিত মনোরম পরিষ্কার পানি যুক্ত একটি নজর কাড়া লেক, যে লেকটি পার্কের শুরু থেকে শেষ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত । লেকের কল কল স্বচ্ছ পানির
    ধ্বনি শুনে শিহরিত হন পার্কে আসা মানুষজন ।

    বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে বামদিকে তাকালেই প্রথমে চোথে পড়বে পার্কে আসা বিনোদনপ্রিয় মানুষের জন্য নির্মান করা হচ্ছে
    অত্যাধুনিক ক্যাফেটেরিয়া । পার্কে আসা মানুষজন এই ক্যায়েটেরিয়ায় এসে স্ন্যাকস , চা কফি সহ মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের স্বাদ গ্রহন করতে পারবেন।এই পার্কের মাঝখানে অবস্থিত লেকের দুপাশে রয়েছে মানুষজনের , সাইক্লিং , হাটার এবং জগিং করার খোলা জায়গা । ক্লান্ত হয়ে পড়লে রয়েছে পার্কের ভেতরে জায়গায় জায়গায় বসে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য
    ইটবালু কংক্রিটের বেঞ্চ। বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে পুশ আপ সহ ব্যয়ামের জন্য রয়েছে বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী এবং আধুনিক যন্ত্র নিয়ে গঠিত শারিরীক কসরতের
    ব্যায়াম জোন ।সকাল, বিকেল অথবা রাত্রে এসে অনেক স্বাস্থ্য সচেতন নারী পুরুষ হাটাহাটি, সাইক্লিং এবং বিভিন্ন ধরনের শারিরীক ব্যায়াম করে থাকেন ।
    এছাড়া শিশু কিশোরদের বিভিন্ন শিশুকিশোরদের জন্য রয়েছে মজার রাইডার স্লিপার , দোলনা সহ আরো আকর্ষনীয় সব রাইডার এবং খেলার সামগ্রী । এসব নিয়ে
    গেমিং জোন গঠিত। স্কুল মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু কিশোররা এসব রাইডে চড়ে খুব খুশি ।

    এ প্রসঙ্গে পার্কে ঘুরতে আসা কিশোর মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী ওমর বলেন – ‘আমি এবং আমার ফ্রেন্ডরা পার্কটিতে অবসর সময়ে এসে এক্সারসাইজ করি
    গেমিং রাইডারগুলোতে চড়ি । খুব ভাল লাগে এখানে এসে অবসর সময়টা কাটাতে।’

    স্নিগ্ধ সবুজ তরুলতা, বিভিন্ন গাছগাছালি , পাখির কলকাকলিযুক্ত কিচির মিচির শব্দ , সুঘ্রানযুক্ত বিভিন্ন ফুলের সুবাসযুক্ত মায়াময় , নিরিবিলি পরিবেশ বসুন্ধরা
    কমিউনিটি পার্কের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এসব দেখে পার্কে আসা মানুষজন খুব খুশি । ইকো ফ্রেন্ডলি পরিবেশ, বিনোদনপ্রিয় মানুষকে সহজেই
    মুগ্ধ করে, আকৃষ্ট করে।।

    এ প্রসঙ্গে পার্কে ঘুরতে আসা গৃহিনী নাজমা বেগম জানান – ‘আমি চেষ্টা করি প্রতিদিন বিকেলে আমার ছেলে মেযেদের নিয়ে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে এসে কিছু সময় কাটাতে । শহরে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। শহরে থাকা শিশু কিশোরেরা তাই খেলাধুলার সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু একটি বাচ্চার শারিরীক এবং মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ঢাকার মত মেগাসিটিতে এরকম আরো পার্ক তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা আছে।
    বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শিশু কিশোরসহ সব বয়সীদের বিনোদনের জন্য , খেলাধুলা , ব্যায়াম করার জন্য আরো বেশি জায়গা নিয়ে বিনোদন পার্ক
    করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।’

    বর্তমানে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৬টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত, শুধুমাত্র বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাড়ির মালিক, ফ্ল্যাটের মালিক
    এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    সপ্তাহে প্রতিদিন এ পার্কটি জনসাধারনের ভ্রমন করার জন্য উন্মুক্ত ।ভবিষ্যতে শুধু বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অধিবাসীরাই শুধু নয়, বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত রাখা হবে বলে প্রত্যাশা করছে সাধারণ দেশবাসী।

  • শাহজাদপুরে নতুন পৌর শিশু পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    শাহজাদপুরে নতুন পৌর শিশু পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    মো: সবুজ হোসেন রাজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরে শিশুদের জন্য একটি নতুন পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

    (১৮ অক্টোবর) শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ কামরুজ্জামান এই পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন। পার্কটি পৌর সদরের দারিয়াপুর থেকে বিসিক সড়ক এলাকার মধ্যে নির্মিত হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, শাহজাদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে আজ আমরা শিশু পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। শীঘ্রই এখানে শিশুদের জন্য দোলনা, খেলার সরঞ্জাম, বেঞ্চ ও অন্যান্য উপকরণ সংযোজন করা হবে। এছাড়াও একটি দৃষ্টিনন্দন গেট এবং নিরাপদ বাউন্ডারি নির্মাণের মাধ্যমে পার্কটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিল্কভিটার সাবেক পরিচালক জাকির হোসেন, প্রকৌশলী (এলজিইডি) হারুন অর রশিদ, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় সরকার, আফিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নয়ন ইসলাম সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এছাড়াও পার্কের ভবিষ্যত ব্যবহারকারী শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয়রা জানান, আমরা বহুদিন ধরে একটি শিশু পার্কের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করবে এবং শিশুদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এলাকাবাসী, কারণ এটি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি শাহজাদপুরের নান্দনিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পার্কটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশের সুযোগ নিশ্চিত হবে।

  • জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ‘২৬ এ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, গণভোট আয়োজনসহ কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মিছিল সহকারে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের কাছে স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারন করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমূক্ত গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের অন্যতম দাবী। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোট কেন্দ্র দখল, পেশি শক্তি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্রে নানাবিধ অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ এবং দক্ষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বর্তমানে গণ দাবীতে পরিনত হয়েছে। বিগত সরকার বিভিন্ন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে ধ্বংস করেছে। বিরোধী মতে মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, হামলা, গ্রেফতার, জেল-জরিমানা, গুম, খুন করে দেশপ্রেমিক মানুষ ও মূক্ত গণমাধ্যমের কন্ঠকে স্তম্ভিত করেছে। দিনের ভোট রাতে নির্বাচনের নামে জাতির সাথে প্রহসন করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

    অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের স্বার্থে ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সহ নিম্নোক্ত ৫দফা দাবি পেশ করেন-
    ১. আগামী ফেব্রুয়রীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজন করা
    ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
    ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
    ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

    স্মারকলিপি প্রদানের আগে জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা শামীম সাঈদী, জেলা সেক্রেটারী মো. জহিরুল হক, জেলা সহকারী সেক্রটারী শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবি সংগঠনের সেক্রেটারী ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদ, শিবিরের জেলা সভাপতি মো. এমরান হোসেন প্রমুখ।

    এ সময় জেলা নায়েবে আমীর আব্দুর রব সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সমাবেশ শেষে জেলা নেতৃবৃন্দ পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।