Category: আন্তর্জাতিক

  • কেএমপি কমিশনারের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    কেএমপি কমিশনারের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মো: আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার কার্যালয়ে ২০ মে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কেএমপি কমিশনার এবং ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এর সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার পবন কুমার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সাক্ষাৎকালে উভয়েই পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একে অপরকে ফুলের তোড়া ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।

    আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এ সময় কেএমপি কমিশনার তার পেশাদার নেতৃত্বে খুলনার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেএমপির অব্যাহত কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং কূটনৈতিক মিশন গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার কেএমপি’র সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • কাশ্মীরে শোরগোল ( ৪র্থ পর্ব) —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল ( ৪র্থ পর্ব) —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল ( ৪র্থ পর্ব)
    —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যদ্বয় ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধারা অনুযায়ী অন্যান্য রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতো। কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকা, সংবিধান, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং অনেক বিষয়ে নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে ভারত সরকার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনর্গঠন করে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করে। এছাড়া সরকারীভাবে এখানে স্থায়ী বাসিন্দা সনদ দেওয়া শুরু হয় যা “ডোমিসাইল” নামে পরিচিত ।
    কাশ্মীরের জনগণের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে ভারত সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয় ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার ফলে রাজ্যে শান্তি বিরাজ করছে। জম্মু ও কাশ্মীরে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে এবং রাজ্যে শান্তি ফিরবে। এছাড়া ডোমিসাইল সুবিধার ফলে কাশ্মীরে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ আসবে এবং জীবনযাত্রার মানে গুণগত পরিবর্তন হবে।
    কিন্তু সাধারণ মানুষের ধারণার সাথে সরকারের দাবী সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁদের ধারণা কাশ্মীরের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দিতেই সরকার এ পরিকল্পনা করেছে। সাধারণ জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার বদলে বড় বড় শিল্প গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং হোটেল ও আবাসনখাতে তাঁদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহিরাগতদের ডোমিসাইল সুবিধা দিয়ে স্থানীয়দের কোনঠাসা করে রাখার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।
    স্থানীয় মুসলিম জনসাধারণের ধারণা সরকারের তরফ থেকে আগ্রহী হিন্দুধর্মাবলম্বীদের আভ্যন্তরীণ অভিপ্রয়াণ প্রক্রিয়ায় জমির মালিকানাসহ বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দিতে ডোমিসাইল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সরকার হিন্দু-মুসলিম সংখ্যানুপাতের ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে। কাশ্মীরে মুসলিম গরিষ্ঠতা হ্রাস করার জন্য আন্তঃআঞ্চলিক এ স্থানান্তর হিন্দুত্ববাদী ডোসিমাইল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সফল হলেও স্থানীয় জনগণের এতে তেমন কোনো উপকারে আসবে না।
    কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে রাজ্যটি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে আসলেও প্রকৃত অর্থে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি। সামরিকীকরণ বৃদ্ধি হয়েছে এবং সমাজে সন্দেহ প্রবণতার বীজ থেকে ইতোমধ্যে চারা গজিয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত এবং চৌকিগুলোতে স্থানীয় মানুষের হয়রানি আগের থেকে অনেক বেশি বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরস্পরের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস এতটাই প্রকট হয়েছে যে, সাধারণ লোকজন একজন আরেকজনের সাথে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে না। এক কথায় বলা চলে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার ফলে কাশ্মীরে শান্তি ফেরেনি বরং জনসাধারণের দূর্ভোগ অনেকক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    পাহলগাম সন্ত্রাসী ঘটনার পর কাশ্মীর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। দু’দেশের সেনারা নিয়মিত গোলা বিতরণ করে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে। উভয় দেশ ফলাও করে নিজেদের সফলতার ফিরিস্তি প্রকাশ করে। অন্যদিকে অশান্ত কাশ্মীরের সাধারণ অধিবাসীরা পড়েছে চরম ভোগান্তির মধ্যে। তাঁদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে, রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছে। ভয়ে তটস্থ কাশ্মীরের স্থানীয় মানুষ গ্রেপ্তার আতঙ্কে সরকারের সমালোচনা করতেও শঙ্কাবোধ করে।
    সাধারণ মানুষ সর্বদাই কাশ্মীরে স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা করে। কিন্ত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও রাষ্ট্রীয় চিন্তু-চেতনার বিস্তর ফারাক রয়েছে। সরকার এবং জনগণ সবার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে রাজ্যের উন্নয়ন। কিন্তু কাশ্মীরে শান্তির পথ মোটেও মসৃণ নয়, এখানে জনগণের মতামত ছাড়াও রাষ্ট্রীয় মেরুকরণের বিষয় জড়িত।
    কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য কুটনৈতিক পন্থায় স্থায়ীভাবে সমাধান খুঁজে পাওয়া জরুরী। তবে সেটা কেবলমাত্র ভারত কিংবা পাকিস্তানের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের মতামতকে আস্থায় আনা এবং কুটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের উচিত বিশ্বাসযোগ্য পথ খুঁজে নিয়ে পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরী করা দরকার। এছাড়া অমিমাংসীত সমস্যার সমাধানসহ সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস করতে করণীয় পথগুলো খুঁতে পেতে উভয়পক্ষ পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্য পথ অনুসরণ করতে পারে। তবে ভারত কাশ্মীর সমস্যাকে বরাবরই নিজেদের আভ্যন্তরীন ও নিজস্ব বিষয় বলে মনে করে এবং কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো মোটেও পছন্দ করে না। অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মীর সমস্যার দ্বি-পাক্ষীক বা আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যার সমাধান আশা করে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের কাছে কাশ্মীরের শান্তি আগে, না-কি কৌশলগত ভূ-খন্ডের দখল বজায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটার গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে।
    কাশ্মীরের জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠিত হলে বা তাঁরা স্বাধীনতা লাভ করলে ভারত বা পাকিস্তান করো তেমন লাভ হবে না বরং উভয় দেশ কাশ্মীরের উপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ হারাবে। কাশ্মীরের গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত বা পাকিস্তান কেউ সেটা মেনে নেবে না। দীর্ঘ দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এটা অনুমান করা যায়- ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের কাছেই কাশ্মীর এক কৌশলগত ভূ-খন্ড। যেখানে আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখাটা উভয়ের কাছেই অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    অন্যদিকে বেল্ট এন্ড রোড ইনেশিয়েটিভ, সিপিইসি করিডোর সুরক্ষা করা ছাড়াও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যকার বৈরীতাকে কাজে লাগিয়ে চীন উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। অর্থনৈতিক, ভূ-কৌশলগত এবং নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধিসহ নানা কারনে এ অঞ্চল নিয়ে চীন অনেক বেশি তৎপর। সম্প্রতিকালে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীর প্রশ্নে নিজেদের অন্তর্ভূক্তিমূলকভাবে সম্পৃক্ত করতে কৃটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। যদিও ভারত কাশ্মীর প্রশ্নে বরবরই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
    বৃটিশরা চলে যাওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কাশ্মীরের জনগণের অর্জন তেমন কিছুই হয়নি বরং এখানকার জনগণের ভাগ্যে দুঃখ-দুর্দশা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। তাঁরা স্বার্বভৌমত্ব হারিয়েছে, পতাকা খুইয়েছে, নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও গেছে। এসেছে ডোমিসাইল যা কাশ্মীরে জনসংখ্যাগত কাঠামো পরিবর্তনের পথ সুগম করে কাশ্মীর সমস্যা আরো জটিল করে তুলেছে। যদিও ভূ-রাজনৈতিক দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য ধর্মীয় বিভাজনকে জিইয়ে রেখে কাশ্মীরকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে অশান্ত রাখা মোটেও সমীচীন নয়।
    কাশ্মীরের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের উচিত স্থানীয় জনগণের চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরে সামরিকীকরণের বদলে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথ সুগম করা সবচেয়ে জরুরী। সকলের কাছে বিশ্বসযোগ্য প্রক্রিয়ায় স্থানীয় রাজনীতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করা রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারত সরকারের দায়িত্ব। জনগণের অংশগ্রহনমূলক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ধারা প্রাণ ফিরে পেলে ভারত বিরোধীতা অনেকাংশে কমবে এবং ভূ-স্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরে শান্তির পথ উম্মুক্ত হবে।
    চিরসুন্দর কাশ্মীরের অপরূপ সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করার জন্য পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক। পর্যটন খাতকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণ এবং রাজনীতিবীদদেরকে বাস্তবতা উপলদ্ধি করতে হবে। উপজাতীয়, জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে কিভাবে একটি শান্তি প্রিয় ভূখণ্ড গড়ে তোলা যায় সেটা নিয়ে সকল কাশ্মীরবাসীকে সহাবস্থান বজায় রেখে ঐক্যের পথে হাঁটা যৌক্তিক। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ভ্রমণ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটা মোকাবেলা করা গেলে কাশ্মীর হয়ে উঠবে সত্যিকারের এক আদর্শ ভূ-স্বর্গ।
    সবুজ পাহাড়ে ঘেরা স্বচ্ছ লেক, পারিযায়ী পাখির কলরব, বরফে ঢাকা হ্রদ, গাছের দৃশ্য এবং উঁচু-নিচু পাহাড় এ এক অন্যরকম সৌন্দর্য। এ যেন বিধাতার এক অপরূপ দান। কাশ্মীরে সারা বছরই কোনো না কোনো ফল-ফুল মেলে। বাদাম, আখরোট, চেরি, নাশপাতি, এপ্রিকোট, পীচ, বরই, খুবানিসহ নানা জাতের সুস্বাদু ফলের সম্ভার কাশ্মীর। ঋতুভেদে দেখা মেলে টিউলিপ, ড্যাফোডিল, ডেইজি, লিলি, সূর্যমুখী, মাদাগাস্কার পেরিউইঙ্কল, পয়েইনসেটিয়া, সান স্পার্জ, বাদাম ফুলসহ নানা জাতের ফুল। বছরজুড়ে বৈচিত্রময় ফল-ফুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করে প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের নৈসর্গিক এ লীলাভূমি। এখানে রয়েছে পাহাড়, ঝর্ণা, বয়ে চলা হিম শীতল ঠাণ্ডা জলের নদী, লেক, সবুজে ঘেরা উদ্যান। প্রকৃতি এখানে তাঁর সৌন্দর্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কাশ্মীর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এক অন্যরকম শিহরণ জাগায়। মনোমুগ্ধকর এসব দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যাবলী পর্যাটকের মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। কাশ্মীরের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলী ভ্রমণপিপাসুদের স্মৃতির পাতায় থাকে চির অম্লান।

  • কাশ্মীরে শোরগোল (৩য় পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল (৩য় পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল
    —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    তৃতীয় পর্ব
    আগে জম্মু, কাশাীর উপত্যকা এবং লাদাখ তিনটি আলাদা আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল। হরি সিং ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্তির উপকরণে স্বাক্ষর করার পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী এ অঞ্চল নিয়ে ভারত, পাকিস্তানের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে ভারত, পাকিস্তান, চীন সকলেই এ অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করে এবং এ অঞ্চলে এখন সার্বক্ষণিক যুদ্ধাবস্থা বজায় রয়েছে।
    ১৯৪৯ সালের যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে “জম্মু”, “কাশ্মীর উপত্যকা” এবং “লাদাখ” ভারতের নিয়ন্ত্রনে থাকে অন্যদিকে “আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর” এবং “গিলগিট-বালতিস্তান” পাকিস্তানের আওতাধীন। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখা আজও বজায় আছে। তবে উভয় দেশ মাঝেমধ্যে অখণ্ড কাশ্মীর নিজেদের কব্জায় নেওয়ার উচ্চাকাঙ্খা পোষণ করে। ভূ-রাজনৈতিক কারনে ভারত-পাকিস্তান এ দু’দেশই কাশ্মীরের জনগণের দুঃখ-দুর্দশাকে উপেক্ষা করে এখানে নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মহড়াস্থল বানিয়ে রেখেছে।
    বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরের জনগণের আশা-আকাঙ্খা তাঁদের নিজেদের ইচ্ছের উপর নির্ভর করে না। কাশ্মীরে রাজনৈতিক সমাধানের চেয়ে ভারত ও পাকিস্তান সামরিক উপায়ে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যে কারনে কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ভারত ও পাকিস্তান দু’দেশের কাছেই বরবারই উপেক্ষিত। প্রত্যেকেই ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে কাশ্মীরে যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান।
    সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনগোষ্ঠির আকাঙ্খা ছিল পাকিস্তানের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর জনগণের ইচ্ছের প্রতিফল ঘটে এবং এ এলাকা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। কিস্তু ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে ভারতের সাথে জবরদোস্তি অন্তর্ভূক্তির ফলে কাশ্মীর নিয়ে নানামুখী বিতর্ক চলমান আছে এবং সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
    স্থানীয় কাশ্মীর মুসলিম নেতাদের দাবী অনুযায়ী হরি সিং রজ্যের মানুষের কথা সে একটি বারের জন্যও ভাবেননি। মহারাজা হরি সিং এর উচিত ছিল রাজা হিসাবে রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের মূল্যায়ন করা তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু কাশ্মীরের জনগণের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করে সেনাবাহিনী দিয়ে দমন-পীড়ন শুরু করেন। ফলে রাজ্যের মানুষের হরি সিং এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা ছাড়া আর তাঁদের সামনে আর কোনো উপায় ছিল না। রাজার ভূমিকা পালনা না করে তিনি একজন কট্টর হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে ভারতের কাছে সোপার্দ করেছেন এবং ভারতের সাথে বিতর্কিত অন্তর্ভূক্তির উপকরণে স্বাক্ষর করেন। ফলস্বরূপ ভারত সেনা অভিযান পরিচালনা করে জোরজবরদস্তি কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে । হরি সিং প্রকৃত অর্থে কাশ্মীরের জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন।
    যদিও হরি সিং এর পুত্র ডঃ করণ সিং মনে করেন পাকিস্তানের মদদে কাশ্মীরের জনগন বিদ্রোহ করে, যে কারনে তাঁর পিতা ভারতের সাথে অন্তর্ভূক্তির উপকরণে স্বাক্ষর করে এবং কাশ্মীর ভারতের সাথে সম্পৃক্ত হতে বাধ্য হয়েছিল।
    অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবী হরি সিং যখন সংযুক্তি চুক্তি করেছে তখন তাঁর চুক্তি করার কোন অধিকারই ছিল না। সে কারনে পাকিস্তান স্থানীয় কাশ্মীরীদের রক্ষার্থে সমর্থন ও সহায়তা দিতে বাধ্য হয়েছে। পাকিস্তান ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন বন্ধ করার জন্য কাশ্মীরের জনগণকে সহায়তা করেছে। সুতরাং এ নিয়ে পাকিস্তানকে মোটেও সমালোচনা করা যায় না।
    ১৯৪৭ সাল থেকে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের কাছে জম্মু ও কাশ্মীর গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জম্মু ও কাশ্মীর বিতর্কের অবসান ঘাটানোর উদ্যোগ হিসাবে জাতিসংঘ গণভোটের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে ভাগ্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। তবে জাতিসংঘ পূর্বশর্ত হিসাবে প্রথমে পাকিস্তানকে জম্মু ও কাশ্মীর হতে সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার এবং ভারতকে আংশিক সৈন্য প্রত্যাহার করতে বলে। ভারতের অনড় দাবী পাকিস্তানকে আগে সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে তারপর ভারত তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করবে। পাকিস্তানের প্রশ্ন তোলে ভারত কাশ্মীর থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করবে এর নিশ্চয়তা কোথায়। পাকিস্তানের কাছে ভারতের অবস্থান বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় পাকিস্তান তাদের সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহরে রাজি হয়নি।
    অন্যদিকে জাতিসংঘের তৎকালীন নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জেনারেল ম্যাকনটেন কাশ্মীর সমস্যার স্থানী সমাধানের জন্য ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশকে একই সাথে সকল সৈন্য প্রত্যাহার করার প্রস্তাবনা দেন। কিন্তু ভারত সরাসরি ম্যাকনটন প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করে । এরপর স্যার ওয়েন ডিক্সন এর প্রস্তাবও ভারত মেনে নিতে অস্বীকার করে।
    ডিক্সন মিশনের ব্যর্থতার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত লয় হেন্ডারসনের নিজে কাশ্মীর উপত্যকা ভ্রমণ করেন। সে সময় তিনি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন কাশ্মীরের জনগণকে ভারত বা পাকিস্তানের মধ্যে একটিকে দেশকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে কাশ্মীর উপত্যকার বেশিরভাগ মানুষই পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হবার আকাঙ্খা প্রকাশ করেন। তবে তাঁদের তৃতীয় একটা পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে সেটা অবশ্যই কাশ্মীরের জনগণের উত্তর “স্বাধীনতা”।
    অন্যদিকে লাদাখ সংলগ্ন আকসাই চিন বৃহত্তর কাশ্মীরের একটি অংশ যা ১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধের ফলে চীন দখল করে নেয় এবং ১৯৬৩ সাল হতে চীন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারপর থেকেই আসকাই চিন সংলগ্ন লাদাখ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চীনের সামরিক উপস্থিতি অনেক বেড়েছে এবং এ অঞ্চলেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
    —-চলবে

  • আবারও ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি–আমেরিকান সোমা এস সাঈদ

    আবারও ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি–আমেরিকান সোমা এস সাঈদ

    নিউইয়র্ক | হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজ।

    আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি–আমেরিকান বিচারপতি সোমা এস সাঈদ। গত বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বহুজাতিক সমাজে প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ইতিহাস রচনা করলেন।
    শপথ গ্রহণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্যে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু, সিনেটর টোবি এন. স্ট্যাভিস্কি, অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভান রিচার্ডস এবং কোর্ট অব আপিলের প্রধান বিচারপতি রোয়ান উইলসন বলেন—নিজের মেধা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারপতি সোমা এস সাঈদ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করেননি, একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন।
    (খবর: আইবিএন নিউজ)
    প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাবউদ্দিন সাঈদ এবং টাঙ্গাইলের একটি গার্লস হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা আমিনা বেগম সাঈদ–এর কন্যা সোমা এস সাঈদ মাত্র ১২ বছর বয়সে মা–বাবার সঙ্গে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এরপর থেকে তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে বসবাস করছেন। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলে শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং পরে ইউনিয়ন ইউনিভার্সিটির আলবেনি ল’ স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে জুরিস ডক্টর (JD) ডিগ্রি অর্জন করেন।
    দেড় যুগেরও বেশি সময় আইনজীবী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তিনি নিজেকে বিশেষ এক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নে কুইন্স কাউন্টিতে নিউইয়র্ক সিটি সিভিল কোর্টের বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হন, যা ছিল তাঁর প্রথম ঐতিহাসিক সাফল্য।
    পরবর্তী বছর তাকে ম্যানহাটানে অবস্থিত নিউইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টে বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি তা দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পালন করেন। এরপর ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি পুনরায় কুইন্স কাউন্টি সিভিল কোর্টে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ৪ নভেম্বর ২০২৫ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নির্বাচিত হন।
    শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারী।
    বিচারপতি সোমা এস সাঈদের স্বামী মিজানুর চৌধুরী এবং ভাই সাঈদ বলেন, লক্ষ্য ও আদর্শে অবিচল থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে বহুজাতিক সমাজেও প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্ভব—সোমা এস সাঈদ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত থাকায় সোমা এস সাঈদকে প্রাইমারিতে অংশ নিতে হয়নি এবং তিনি সরাসরি মূল নির্বাচনে আড়াই লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হন। তিনি বলেন, “এই বিজয় কেবল সোমা এস সাঈদের নয়, পুরো বাংলাদেশি–আমেরিকান কমিউনিটির বিজয়।”
    ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ এবং অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার বলেন, বিচারপতি সোমা এস সাঈদের এই উত্থান কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং তারা নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতায় আরও বড় অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।
    পেশাগত সততার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইক্যুয়াল রাইটস এনফোর্সমেন্ট কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট, রাইট অব জাস্টিস কাউন্সিলের বোর্ড মেম্বার, এশিয়ান আমেরিকান জাজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্য এবং কুইন্স কাউন্টি উইমেন’স বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
    ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাটর্নি রোন্ডা বিন্ডা ও আয়েশা দেওয়ানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের বাণী উচ্চারণ করে ছোট্ট জাহিন সাঈদ।
    অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিসহ প্রায় তিন শতাধিক বাংলাদেশি ও বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠান শেষে সকল অতিথিকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

  • কাশ্মীরে শোরগোল (২য় পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল (২য় পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল
    —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    দ্বিতীয় পর্ব
    বৃটিশরা ভারত উপমহাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছোট-বড় ৫৬৫ টি রাজ্যগুলোকে তাঁদের পছন্দ মাফিক পাকিস্তান অথবা ভারতের সাথে একত্রিত হতে নির্দেশনা দেন। বেশিরভাগ রাজ্যই বৃটিশদের নির্দেশনা মেনে নিয়ে রাজ্যগুলো সুবিধা অনুযায়ী কেউ ভারত আবার কেউ পাকিস্তানের সাথে সম্পৃক্ত হয়। তবে কয়েকটি রাজ্য যুক্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। যে রাজ্যগুলো দ্বিধান্বিত তাদের মধ্যে কাশ্মীর ছিল অন্যতম। কশ্মীর ভারত বা পাকিস্তান কারো সাথেই যুক্ত হয়নি ।
    তৎসময়ে কাশ্মীরের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্থাৎ তিন-চতুর্থাংশ মতান্তরে পঁচাশি ভাগই ছিল মুসলিম জনগোষ্ঠী । তবে সেখানে রাজ্যের শাসক ছিলেন একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যার নাম মহারাজা হরি সিং। এ সময় কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণ চাইছিলো পাকিস্থানের সাথে যোগ দিতে। অন্যদিকে মহারাজা হরি সিং’র পছন্দ ভারত। এমন পরিস্থিতিতে বৃটিশরা কাশ্মীরের রাজপুত্রদের স্বাধীন থাকার বিষয়ে তাঁদের পছন্দ মাফিক পাকিস্তান বা ভারত বা নির্দিষ্ট সংরক্ষণের সাথে স্বাধীন থাকার অধিকার ভোগ করবে মর্মে কাশ্মীর মহারাজা হরি সিংকে নির্দেশনা দিয়ে ভারতবর্ষ থেকে তাঁদের শাসন গুটিয়ে চলে যান।
    মহারাজা হরি সিং রাজ্যের স্থিতি বজায় রাখতে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সাথেই চুক্তি করতে মনস্থ করেন। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। এছাড়া উপজাতীয় মুসলিম বিপ্লব থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তিনি তেমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামর্থ্য হন নি। এ কারনেই হরি সিং ১৯৪৭ সালে অক্টোবরে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্তির জন্য এক উপকরণে স্বাক্ষর করেন। যদিও সেটা কোনো চুক্তি ছিল না, অতপরও কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা না করে তিনি কেবলমাত্র নিজেকে রক্ষার জন্য ভারতের কাছে সামরিক সহযোগিতা চান । সাধারণ জনগনের পক্ষে পাকিস্তান মমদপুষ্ট উপজাতি গোষ্ঠির আক্রমন প্রতিহত করতে হরিসিং এর আমন্ত্রণে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনী দমন অভিযান পরিচালনা করে এবং নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান পাকাপোক্ত করে। ইতোমধ্যে মহারাজা হরি সিং পালিয়ে জম্মু শহরে চলে যান।
    ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে কাশ্মীরে শান্তি ফিরে আসেনি বরং এ অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয় এবং যুদ্ধ বিরতি লাইনকে নিয়ন্ত্রন রেখা হিসাবে মেনে নিয়ে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত ও পাকিস্তান উভয়পক্ষ অঙ্গীকার করে।
    রাজা হরি সিংস এর অদূরদর্শিতা এবং ইচ্ছের মূল্য চোকাতে গিয়ে অখণ্ড কাশ্মীর বিভক্ত হয়ে পড়ে, একদিকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান অন্যদিকে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর। কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আশা আকাঙ্খা অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। স্বাধীনতার বদলে কাশ্মীর নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক রশি টানাটানি চলমান এবং এটা বিশ্বের অন্যতম বিপদজনক এক সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে । স্বাধীন জীবন ব্যবস্থার বিপরীতে কাশ্মীরের নিরীহ জনগণ আজ পরাধীনতার শিকলে বন্দী। একজন অবিবেচক হীন স্বার্থান্বেষী রাজার ইচ্ছে জনদূর্ভোগ কতটা নির্মম হতে পারে সেটা কাশ্মীরে পরিস্থিতি দেখে উপলদ্ধি করা যায়।
    ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের ইতিহাস কখনই মসৃণ ছিল না। ১৯৬২ সালে লাখাদ নিয়ে ভারত- চীন এবং ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান পরস্পরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৬ সালে তাসখন্দ (উজবেকস্তান) এবং ১৯৭২ সালে সিমলা চুক্তি অনুসারে পারস্পারিক সু-সম্পর্ক বজায় রেখে সহাবস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। তবে ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আবারো খারাপ আকার ধারণ করে। অবশেষে ২০০৪ সালে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু কাশ্মীরে শান্তি আসেনি, ২০০৮ সালে অমরনাথ গুহার মাজারে তীর্থযাত্রীদের আগমন নিয়ে আবারো সহিংসতা শুরু হয়। তীর্থযাত্রীদের জন্য সরকার বনভূমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে কাশ্মীর উপত্যকায় ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দেয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা এবং স্থানীয়রা মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে জনসংখ্যা পরিবর্তনের আশঙ্কা প্রকাশ করে সরকারী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। পরবর্তীতে সরকার বিক্ষোভের গুরুত্ব আমলে নিয়ে বনভূমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
    ভারতের হিন্দুবাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত শাসিত অঞ্চলের স্বায়ত শাসন এবং ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে সেখানে কার্ফু জারি করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় ও ভিন্নমতের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। কাশ্মীরে মুসলিম সংগোরিষ্ঠতার স্থলে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ানোই হলো হিন্দুত্ববাদ সরকারের মূল লক্ষ্য বলে অনেকেই আশঙ্কা করেন। অন্যদিকে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের ধারণা মুসলমান জনগোষ্ঠীকে নির্যাতনের মাধ্যমে দমিয়ে রেখে উগ্রবাদী হিন্দু জনগোষ্ঠীর সুবিধা দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে নিপিড়নমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে।
    কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তান-চীন এ ত্রিদেশীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মীয় বিভাজন এবং প্রতিকূল পরিবেশ এখানকার নিত্য সঙ্গী। এখানকার মানুষের আচার আচরণ এবং সংস্কৃতিবোধ অনেকটাই আলাদা। সাধারণ মানুষের পক্ষে কশ্মীরের রীতি-নীতি এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া ও মানিয়ে চলা মোটেও সহজ নয়।
    চলবে

  • পরিবারে ফিরলো ভারতে পাচার হওয়া ৬জন নারী শিশু

    পরিবারে ফিরলো ভারতে পাচার হওয়া ৬জন নারী শিশু

    স্টাফ রিপোর্টার।

    ভারতে পাচার হওয়া ৬জন নারী শিশুদের দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
    বেঙ্গালুরু ভারত থেকে এই ৬ জন শিশু নারী পুরুষকে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রামের বাড়ির খুলনার রুপসায় পাঠানে হয়েছে।

    স্বদেশে ফেরত আনার বিষয়ে পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম, নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের এই বন্দী নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেন।

    যারা আজ পরিবারের কাছে ফিরে আসলেন তারা হলেন
    খুলনা জেলার রুপসা থাবার সোবহান আলীর মেয়ে হালিমা খাতুন, খুলনার ছরোয়ার মল্লিক এর ছেলে মোঃ রাজু মল্লিক,মোঃ মোহর আলী শেখ এর সন্তান
    মোঃ জাহিদুল ইসলাম,কালাম মাতুব্বার এর সন্তান মোঃ মাহাবুর মাতুব্বার, রাজু মল্লিক এর ছেলে তামিম মল্লিক ও ইব্রাহিম মল্লিক।
    এরা সবাই খুলনা জেলার রুপসা থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
    এই সহ ৬ জনকে খুলনা থেকে সিলেট অঞ্চলের দুর্গম এলাকা দিয়ে আসাম হয়ে বেঙ্গালুরু -ভারতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয় বলে জানান ফিরে আসা ভিকরিমরা।

    ১৬ ডিসেম্বর সকাল ০৯.০০ ইনডিগো ফ্লাইটে বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই এবং চেন্নাই থেকে ১৬.০৫ মিনিটে ঢাকার পথে রওনা হয়ে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে অবতরণ করে রাত ৭.৩০।

    উল্লেখ্য ভারতে পাচার হয়ে বেঙ্গালুরে এরা ভারতীয় পুলিশের কাছে আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেলখানা ও শেল্টার হোমে বন্দি ছিল এতদিন। বাংলাদেশ ও ভারতের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদেরকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও পাচারের শিকার মানব উদ্ধার শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম এ বিষয়ে সকল সহযোগিতা করে তদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভুমিকা রেখেছেন।

    এ বিষয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জানান মহান বিজয়ের মাসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করে এই মানবিক কাজটি উৎসর্গ করেছেন।
    খায়রুল আলম জানান ,নিউ আর্ক মিশন অপ ইন্ডিয়া হোমের প্রতিষ্ঠাতা অটো রাজা এবং ম্যানেজার শ্রীবাস কুমার এ বিষয়ে আমার সাথে সর্বকালীন যোগাযোগ করে ভিকটিমদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা করে থাকেন। অটো রাজার প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন অতি শীঘ্রই আরো যেসকল নারী শিশু ঐ প্রতিষ্ঠানে আছে তাদেরকে ও দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো।
    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমদ আবু জাফর বলেন ,এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা করা দরকার। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দিত এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি, এরা যেন ঘুরে দাড়াতে পারে। স্হানীয় প্রশাসন তাদেরকে পুর্নবাসনে সহযোগিতা করা দরকার বলেও তিনি জানান।

  • কাশ্মীরে শোরগোল (১ম পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল (১ম পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কাশ্মীরে শোরগোল
    —– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান।

    প্রথম পর্ব

    জনশ্রুতি আছে কাশ্যপ নামক একজন তপস্বী বিশাল এক হ্রদ থেকে এ ভূখণ্ডটি পুনরুদ্ধার করেন। যেটা কাশ্যপামার এবং পরবর্তীকালে কাশ্মীর নামে পরিচিতি লাভ করে। ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরকে “কাশ্মীর উপত্যকা” নামেই অবিহিত করা হয়। বর্তমানে কাশ্মীর বলতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা এবং লাখাদের সমন্বয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান এবং চীন নিয়ন্ত্রিত আকসাই চীন ও ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট অঞ্চলকে বোঝানো হয়। এটি উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের ৮৬,০০০ (ছিয়াশি হাজার বর্গমাইল) এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি একটি ভূ-স্বর্গ যা জম্মু ও কাশ্মীর নামে পরিচিত।
    সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে এখানে বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা করেন। এরপর ৯ম থেকে ১২শ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিন্দু সংস্কৃতির পূণ্যভূমিতে পরিণত হয় এবং হিন্দু রাজার উত্তরসূরীরা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করে। ১৩৩৯ সালে শাহ মীর প্রথম মুসলিম শাসক হিসাবে মীর রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন। এরপর মুসলমান শাসকেরা প্রায় পাঁচশত বছর রাজত্ব করেন। যার মধ্যে মুঘল সম্রারাটগণ ১৫৮৬ সাল থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত, আফগান দূররানী সম্রারাটগণ ১৭৪৭ সাল থেকে ১৮১৯ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলটি শাসন করেন। মুসলিম সভ্যতার উত্থানে পূর্ববর্তী হিন্দু এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিলোপ না হয়ে বরং এখানে ইসলামী রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতি বহুলাংশে মিশে যায়। এসময় এখানে নতুন ভাবধারা কাশ্মীরি সুফিবাদের জন্ম হয় । তবে জম্মু ডোগ্রারাজ্য অধিভূক্ত হওয়ার পর এখানে মুসলিম শাসনের ইতি ঘটে।
    মুসলিম শাসনের অবসান হলে রঞ্জিত সিংহের নেতৃত্বে ১৮১৯ সালে কাশ্মীর পাঞ্জাবের শিখরাজ্যের সূচনা হয়। ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে শিখরা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হলে এখানে বৃটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। লাহোর-অমৃতসর চুক্তি অনুসারে জম্মুর ডোগ্রা শাসক রাজা গোলাব সিংহ ব্রিটিশদের নিকট থেকে এ ভূ-খন্ডটি ক্রয় করে কাম্মীরের নতুন শাসক হন। গোলাব সিংহ ও তাঁর বংশধরগণ ব্রিটিশ রাজমুকুটের অনুগত শাসক হিসাবে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কাশ্মীর শাসন করেন।
    সিন্ধু নদীর পূর্বদিকে এবং রাভি নদীর পশ্চিম দিকে বিস্তৃত অংশ হিমালয় রাজ্য এবং এ অঞ্চলটিকে আক্ষরিক অর্থে স্পষ্টভাবে সজ্ঞায়িত করা হয়নি। অনুগত রাজপরিবারের সহায়তায় ব্রিটিশরা এ রাজ্যের উত্তরদিক সিন্ধুর অগ্রভাগ এবং পরের অংশে’র সুরক্ষিত করেছিল। উনিশ শতকে অঞ্চলটির সীমানা নির্ধারণের জন্য ইংরেজ শাসন আমলে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মহারাজাদের আধিপত্য সুদূর উত্তরে কারাকরাম পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও দেশের ভৌগলিক প্রকৃতি এবং স্থায়ী জনবসতির অভাবে সে উদ্যোগ তেমনভাবে সফল হয় নি। এছাড়া মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্তান এবং জিনজিয়াং সীমান্তে বিতর্কীত অঞ্চল থাকায় এ সমস্যার বিষয়ে সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয় নি।
    সীমান্ত প্রস্তুতিকরণ সম্পর্কে উত্তরের অঞ্চলটি- পূর্বদিকে আকসাই-চীন যা তিব্বতের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা সম্পৃক্ত লাখাদ অঞ্চল নামে পরিচিত। অন্যদিকে ব্রিটিশরা পশ্চিমদিকে আফগানস্থান এবং রাশিয়ার সাথে আলোচনার সময় পারিমিস অঞ্চলে সীমাবদ্ধ করে দেয় যদিও গিলগিত কাশ্মীরের অংশ হিসাবে বোঝানো হতো যা এখন মূলত পাকিস্তান ও চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
    র্রিটিশরা রাজ্যটিকে ভারতীয় সাম্রাজ্য, রাশিয়া এবং চিনের মধ্যে এক জটিল রাজনৈতিক বাফার জোনের সৃষ্টি করেছিল, যদিও চীন এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ব্রিটিশরা যতদিন এখানে শাসন করে তখন কাশ্মীর সমস্যার তীব্রতা তেমন একটা ছিল না। এমনকি পরবর্তী সময়ে বিষয়টা এতটা জটিল হয়ে উঠবে তখন সেটা উপলদ্ধি করা যায়নি। তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসানের পর থেকেই এ অঞ্চলটি ভারত, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে সাংঘার্ষিক এক রক্তক্ষয়ী জটিল সমীকরণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বৃটিশরা ভারতবর্ষ ত্যাগের পর এ অঞ্চলে দখলদারিত্বের জন্য সবাই শক্তির প্রসার ঘটিয়েছে । এখানকার ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ ও বিবাদমান সমস্যার সমাধান কুটনীতির সমাধানের বদলে বন্দুকের উপর নির্ভরতা পেয়েছে। পরাশক্তিধর দেশগুলোর মধ্যকার কৌশলগত দখলদারিত্বের কারনে ১৯৪৭ এর পর থেকে কাশ্মীরের সাধারণ জনগোষ্ঠী যুদ্ধাবস্থা ছাড়া কখনও এ ভূ-স্বর্গের শান্ত রূপ দেখেনি।

  • জন্মস্থান সূত্রে নাগরিকত্ব মামলার যুক্তি শুনতে রাজি সর্বোচ্চ মার্কিন আদালত

    জন্মস্থান সূত্রে নাগরিকত্ব মামলার যুক্তি শুনতে রাজি সর্বোচ্চ মার্কিন আদালত

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বহিরাগত বা অননুমোদিত অভিবাসী দম্পতির শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার নিয়ে দায়ের করা আলোচিত মামলার যুক্তি শুনতে সম্মত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত—সুপ্রিম কোর্ট।

    চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা দেন—অবৈধ ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বা অস্থায়ী ভিসাধারী বাবা–মায়ের সন্তানদের “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব” (Birthright Citizenship) আর দেওয়া হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিম্ন আদালত আদেশটিকে স্থগিত করে দেয়।

    সুপ্রিম কোর্টে শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। মামলার রায় পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

    ১৬০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী বলছে—কূটনীতিবিদ ও বিদেশি সেনা সদস্যদের সন্তান বাদে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকান নাগরিক।

    কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সংশোধনী কেবলমাত্র সে সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের বাবা–মা আইনগত ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সুতরাং অবৈধভাবে থাকা বা অস্থায়ী ভিসায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত নয়।

    আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) জাতীয় আইনি পরিচালক সিসিলিয়া ওয়াং বলেন—
    “কোনও প্রেসিডেন্টই ১৪তম সংশোধনীর জন্মগত নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা পরিবর্তন করতে পারেন না। এটি মার্কিন আইনের ১৫০ বছরের ঐতিহ্য। আমরা সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছি।”

    ট্রাম্পের আদেশ ঘোষণার পর একাধিক ফেডারেল আদালত একে “সংবিধানবিরোধী” ঘোষণা করে। দুইটি ফেডারেল সার্কিট কোর্টেও আদেশটির বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।

    পরে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে আদালত জানায়—নিম্ন আদালত গুলোর নিষেধাজ্ঞা তাদের এখতিয়ার ছাড়িয়ে গেছে। তবে জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা সম্পর্কে তখন কোনও মন্তব্য করেনি।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী—

    ২০১৬ সালে অননুমোদিত অভিবাসী বাবা–মায়ের প্রায় ২.৫ লাখ সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়।

    ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখে।

    মে মাসে মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট ও পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়—জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিল হলে:

    ২০৪৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ২৭ লাখ,

    এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫৪ লাখে।

    বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ, যার বেশিরভাগই আমেরিকা মহাদেশে, জন্মস্থানসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে।

    এই মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থা ও অভিবাসন নীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি এটি ট্রাম্পের অভিবাসন সংস্কারের বৃহত্তর নীতিকাঠামোর দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন বিতর্ক

    যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন বিতর্ক

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বন্দরে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সম্প্রতি যাত্রীদের ভ্রমণের সময় “সম্মানজনক ও ভালো” পোশাক পরার পরামর্শ দিলে তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রতিবাদ হিসেবে পায়জামা পরে বিমান বন্দরে হাজির হচ্ছেন এবং ভিডিও পোস্ট করছেন।

    যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, গত নভেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন “The Golden Age of Travel Starts With You” শীর্ষক একটি প্রচারণা শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য—বিমান ভ্রমণে শালীনতা, সৌজন্যতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

    এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহনমন্ত্রী ডাফি বলেন, জিন্স ও পরিষ্কার শার্টই যথেষ্ট, তবে অন্তত স্লিপার ও পায়জামা পরে বিমান বন্দরে না যাওয়াই ভালো। তাঁর মতে, ভালো পোশাক ভ্রমণকারীর আচরণেও প্রভাব ফেলে।

    তবে ডাফির এই মন্তব্যকে অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে টিকটক ও এক্স প্ল্যাটফর্মে, বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডেমোক্রেটিক কর্মী জনি পালমাদেসা পায়জামা পরে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। তাঁর মতে, ট্রাম্প ও ডাফির উচিত বিমান ভাড়া ও ভ্রমণ ব্যয় কমানো, যাতে সাধারণ মানুষ ভালো পোশাক কিনতে পারে।

    আরেকজন টিকটক ব্যবহারকারী পায়জামা পরে বিমান বন্দরে যাওয়ার ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, নিষেধ করা হয়েছে বলেই পায়জামা পরে যাব।

    বিতর্ক বাড়তে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন দপ্তর এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

    তবে বিভাগটি নতুন প্রচারণার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে যাত্রী অসদাচরণের পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে গত চার বছরে যাত্রীদের প্রায় ১৪ হাজার বিশৃঙ্খলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেশি।

    বিষয়টি নিয়ে জনমতের চাপ বাড়ছে। ভ্রমণ শিষ্টাচার বজায় রাখা নাকি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা— কোনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা এখন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

  • মামদানির ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমডাব্লিউবিই কমিটিতে শাহরিয়ার রহমান

    মামদানির ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমডাব্লিউবিই কমিটিতে শাহরিয়ার রহমান

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    নিউইয়র্ক সিটির নতুন নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে মেয়র-ইলেক্ট জোহরান মামদানি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও এমডাব্লিউবিই (Minority and Women-Owned Business Enterprises) খাতের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন কমিউনিটি সংগঠন ‘ভালো’-এর প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান।

    মেয়র-ইলেক্টের ট্রানজিশন টিমের অধীনে গঠিত বিভিন্ন কমিটি শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন, ন্যায়সংগত সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং কমিউনিটি ক্ষমতায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে। এসব কমিটির মূল উদ্দেশ্য হলো—ক্ষুদ্র ব্যবসা, অভিবাসী এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে নীতি প্রণয়নের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।

    শাহরিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ, এমডাব্লিউবিই উদ্যোক্তাদের সুযোগ বাড়ানো এবং অভিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কমিউনিটি সংগঠক এবং নানাপক্ষের সহযোগীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বে বিশেষভাবে উপযুক্ত করে তুলেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিটিতে তার অংশগ্রহণ নিউইয়র্ক সিটির ব্যবসা করিডর শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় নতুন দিশা দেখাবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও অভিবাসী ব্যবসায়ীদের চাহিদা, সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    ‘ভালো’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগ শুধু নিউইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক ধারায় নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন করাই তাদের কাজের মূল দর্শন; আর এই নিয়োগ সেই অঙ্গীকারকে আরও সুসংহত করবে।