Category: আন্তর্জাতিক

  • আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের বিমানযাত্রা পরিহারের পরামর্শ

    আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের বিমানযাত্রা পরিহারের পরামর্শ

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজঃ

    যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল আইডি ছাড়াই বিমান ভ্রমণ করতে যাত্রীদের ৪৫ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আসছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ,বিশেষ করে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের মধ্যে।

    বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নিরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈধ ভিসাহীন পাসপোর্ট ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; তাই তারা আনডকুমেন্টেডদের এই মুহূর্তে বিমানযাত্রা পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র না থাকা যাত্রীদের ‘টিএসএ কনফার্মেশন আইডি’ নিতে হবে, যার ফি ৪৫ ডলার। টিএসএ যেসব পরিচয়পত্র গ্রহণ করবে তার মধ্যে রয়েছে—রিয়েল আইডিসমৃদ্ধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডি, এনহ্যান্সড ড্রাইভার্স লাইসেন্স (ইডিএল) বা এনহ্যান্সড আইডি (ইআইডি), যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড, গ্রিনকার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, ট্রাস্টেড ট্রাভেলার কার্ড, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের আইডি, বর্ডার ক্রসিং কার্ড, স্বীকৃত ট্রাইবাল নেশনের ইস্যুকৃত ফটো আইডি, বিদেশি পাসপোর্ট, কানাডিয়ান প্রাদেশিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিনার ক্রেডেনশিয়াল এবং ভেটেরান হেলথ আইডেন্টিফিকেশন কার্ড। তবে অস্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণযোগ্য নয়।

    আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের অনেকের কাছেই নিজ দেশের পাসপোর্ট থাকলেও সেখানে বৈধ মার্কিন ভিসা না থাকলে তা ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি যাদের ওয়ার্ক পারমিট আছে কিন্তু অন্য কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে, তাদের প্রতিও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বাপসনিউজকে বলেন, “নিজ দেশের পাসপোর্ট বৈধ হলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা থাকা জরুরি। না থাকলে বিমানবন্দরের তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যাদের ওয়ার্ক পারমিট আছে কিন্তু নথিতে ঘাটতি রয়েছে, তাদের এই মুহূর্তে বিমানযাত্রা না করার পরামর্শ দিচ্ছি।”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নিয়ম ইমিগ্রেশন ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সতর্কতা এবং নীতি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করবে।

  • নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সভাপতি মনোয়ারুল ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল

    নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সভাপতি মনোয়ারুল ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুল

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজ।

    নিউইয়র্ক:
    যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোয়ারুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম মজুমদার পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।

    স্থানীয় সময় শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ১০৫ জন সদস্যের মধ্যে ৯৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর আগে দুপুরে জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্তোরাঁয় ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন মঈন উদ্দীন নাসের, এবং কমিশনের অপর দুই সদস্য ছিলেন এবিএম সালেহ উদ্দীন ও চৌধুরী এম আলী কাজল।

    কমিশনের ঘোষণায় জানা যায়, সভাপতি পদে মনোয়ারুল ইসলাম ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ পান ৪৩ ভোট।

    সাধারণ সম্পাদক পদে মমিনুল ইসলাম মজুমদার ৬৮ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদ চৌধুরী দীপু পান ২৫ ভোট।

    নির্বাচন কমিশন বাপসনিউজকে জানায়, সহ-সভাপতি পদে আবিদুর রহিম, কোষাধ্যক্ষ পদে রশীদ আহমদ,
    এবং প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

    অন্যান্য নির্বাচিতরা হলেন—
    মাহাথীর খান ফারুকী (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক),
    সৈয়দ ইলিয়াস খসরু (সাংগঠনিক সম্পাদক),
    এবং নির্বাহী সদস্য পদে শেখ সিরাজুল ইসলাম, রওশন হক, ফারুক হোসেন ও শাহ আহমদ।

    বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ছয়টি প্রেস ক্লাব রয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব চার ভাগে বিভক্ত হলেও নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এখনো একটি ঐক্যবদ্ধ সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
    এছাড়াও “আমেরিকান প্রেস ক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন” নামে আরও একটি সংগঠন রয়েছে, যেখানে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

    নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সাপ্তাহিক আজকাল ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নিউইয়র্ক কাগজ–এর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    নির্বাচন পরবর্তী সভায় ক্লাবের সদস্যরা নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
    সবশেষে নির্বাচন কমিশন ও উপস্থিত সাংবাদিকদের অংশ গ্রহণে নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

  • নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক বাঙালীর বিশেষ সম্পাদকীয় একজন অরিজিনাল ও সাহসী নেতা

    নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক বাঙালীর বিশেষ সম্পাদকীয় একজন অরিজিনাল ও সাহসী নেতা

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান,
    বাপসনিউজ।

    এক তরুণের উত্থান, এক জাতির আশার প্রতীক জোহরান মামদানি — এক নাম, এক সাহসের প্রতীক। তার মুখের হাসি যেমন মোহনীয়, তেমনি তার কথার গভীরতায় মিশে আছে সত্য, মেধা ও দৃঢ়তা। তিনি জানেন, জনগণের সেবক হতে হলে কথার স্পষ্টতা ও কর্মের সততা অপরিহার্য। মঙ্গলবার রাতের নির্বাচনী বিজয় এবং বিজয়োত্তর বক্তৃতায় তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

    ২০০৮ সালে বারাক ওবামার ঐতিহাসিক জয়ের পর শিকাগোতে দেওয়া বক্তৃতা যেমন আশার আলো ছড়িয়েছিল, তেমনি জোহরান মামদানির বক্তৃতায় ফুটে উঠেছে এক বিশাল শক্তি—অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি।

    সংকটের আমেরিকায় নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব:

    আজকের আমেরিকা ভুগছে বহুমাত্রিক সংকটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, আর্থিক খাতে অরাজকতা—সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ট। এমন সময়ে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী মাইকি শেরিলের প্রচারণায় বারাক ওবামার মন্তব্য ছিল বাস্তবতার প্রতিধ্বনি—

    “একজন মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে চলে গেছেন, অথচ তাঁর দলের কেউই কথা বলছে না, এমনকি সুপ্রিম কোর্টও নয়।”

    এই বাস্তব প্রেক্ষাপটে জোহরান মামদানির আবির্ভাব যেন এক আলোর শিখা। তিনি ন্যায়, সত্য ও মানবতার পক্ষে কথা বলেন নির্ভয়ে।

    ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে একজন মানুষ:

    ইমিগ্রান্ট কমিউনিটি ও কূটরাজনীতির ফাঁদে তাঁকে “মুসলমান” ও “সমাজতন্ত্রী” আখ্যায়িত করে ক্ষুদ্র করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু জোহরান কখনোই এসব বিভাজনের ফাঁদে পড়েননি।
    তিনি বলেছেন—

    “আমি সবার নেতা হতে চাই—ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণি নির্বিশেষে।”

    এটাই তাঁকে আলাদা করেছে। তিনি সকলের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলেন, কারও প্রতি বৈষম্য নয়।

    ‘সোশালিস্ট’ মানে মানবিক রাজনীতি:

    অনেকে তাঁকে সমাজতন্ত্রী বলে সমালোচনা করেন, কিন্তু তাঁরা বোঝেন না—বার্নি স্যান্ডার্সের ‘প্রগ্রেসিভ সোশালিস্ট’ ধারণা চীন বা সোভিয়েতের কমিউনিজম নয়।
    এটি ইউরোপীয় ধাঁচের ‘সোশাল ডেমোক্রেসি’, যেখানে লক্ষ্য একটাই — দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।
    আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ যেমন কর্পোরেট সহায়তা ছাড়াই গ্রাসরুট সমর্থনে সফল হয়েছেন, জোহরান মামদানিও সেই ধারার উত্তরসূরি।

    সংস্কৃতিবান ও মানবিক পরিবার

    জোহরান মামদানি জন্মেছেন এক সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে। তাঁর মা অস্কার-মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার (“সালাম বোম্বে”), আর বাবা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
    তিনি হার্ভার্ডে শিক্ষালাভ করেছেন, বিবাহ করেছেন একজন শিল্পীকে। শৈশব থেকেই তিনি শিখেছেন দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
    এসেম্বলি সদস্য হওয়ার আগেই তিনি স্বল্প আয়ের মানুষদের বাড়ি ফোরক্লোজার থেকে রক্ষা করার কাজে যুক্ত ছিলেন।

    এক তরুণের সাহস, এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

    নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের এই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকেনি শহরের সীমানায়।
    এর প্রতিধ্বনি পৌঁছে গেছে এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপ পর্যন্ত।
    বিশ্ব দেখেছে এক ইমিগ্রান্ট তরুণের সাহস, এক নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান।

    ভবিষ্যতের বার্তা:

    জোহরান মামদানি হয়তো আজ একা, কিন্তু তিনি যে ন্যায়ের শপথ নিয়েছেন, তা একদিন পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে।
    নতুন প্রজন্ম তার মধ্যেই খুঁজে পাবে ন্যায়, সাহস ও মানবতার অনুপ্রেরণা।

    রবীন্দ্রনাথের ভাষায় —
    “ওরে ভীরু, তোর হাতে নাই ভূবনের ভার।”

  • আমেরিকার বিভিন্ন শহরে মেয়র হয়েছেন যেসব মুসলমান

    আমেরিকার বিভিন্ন শহরে মেয়র হয়েছেন যেসব মুসলমান

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজ।

    নিউইয়র্ক, নভেম্বর ২০২৫ —
    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হওয়া আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করছে। বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এই ধারাটি প্রমাণ করছে— মুসলিম আমেরিকানরা এখন দেশের মূলধারার নেতৃত্বে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।

    প্রথম মুসলিম মেয়র: চার্লস বিলাল,

    ১৯৯১ সালে চার্লস বিলাল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কাউন্টজ শহরের মেয়র নির্বাচিত হন।
    তিনি ছিলেন আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম মেয়র, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।

    মিশিগানের দৃষ্টান্ত: ডিয়ারবর্ন ও হ্যামট্রাম্যাক,

    মুসলিম অধ্যুষিত শহর ডিয়ারবর্ন ও হ্যামট্রাম্যাক-এ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক মুসলিম নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছেন।

    আব্দুল্লাহ হামুদ, ডিয়ারবর্নের বর্তমান মেয়র।
    তিনি ২০২২ সালে শহরটির ইতিহাসে প্রথম আরব-আমেরিকান ও প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।
    লেবানিজ শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া হামুদের বাবা ছিলেন ট্রাকচালক, মা ছোট ব্যবসার উদ্যোক্তা।

    আমের গালিব, হ্যামট্রাম্যাকের মেয়র, ২০২১ সালে নির্বাচিত হন।
    ইয়েমেনে জন্ম নেওয়া গালিব ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পড়ালেখার পাশাপাশি গাড়ির যন্ত্রাংশ কারখানায় কাজ করতেন।
    তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র।

    প্রথম মুসলিম নারী মেয়র: সাদাফ জাফর,

    ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিউজার্সির মন্টগোমারি টাউনশিপের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাদাফ জাফর।
    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারী মেয়র।
    পাকিস্তানি মা ও ইয়েমেনি-বংশোদ্ভূত ভারতীয় পিতার কন্যা জাফর শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন।

    টিনেক শহরের মুসলিম নেতৃত্ব,

    মোহাম্মদ হামিদউদ্দিন, নিউজার্সির টিনেক শহরের সাবেক মেয়র।
    তিনি ২০১০ সালে প্রথমবার এবং ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন।
    হায়দরাবাদ থেকে আগত এক ভারতীয় মুসলিম পরিবারে ব্রংক্সে জন্ম নেওয়া হামিদউদ্দিন ১৯৮১ সালে টিনেকে বসবাস শুরু করেন।

    নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহাসিক নির্বাচন: জোহরান মামদানি,

    সর্বশেষ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর।
    এই নির্বাচনে জোহরান মামদানি নির্বাচিত হন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে — যা শহরটির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।

    প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত উগান্ডান শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান জোহরান ১৯৯১ সালে উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন।
    তিনি এখন নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
    তার এই বিজয়কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংখ্যা ও প্রবণতা,

    যুক্তরাষ্ট্র সরকার ধর্মীয় তথ্য সংরক্ষণ না করায় মোট মুসলিম মেয়রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায় না।
    তবে কাউন্সিল অন আমেরিকান–ইসলামিক রিলেশনস (CAIR) ও জেইটিপিএসি (Jetpac)–এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
    ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৩৫ জন নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন,
    যাদের মধ্যে ১২ জন মেয়র, কাউন্সিল চেয়ার বা প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন।

    ভবিষ্যতের দিগন্ত,

    প্রতিটি নির্বাচনী বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
    এই প্রবণতা প্রমাণ করে, স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত মুসলিম আমেরিকানদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব
    দেশটির বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

  • বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে — বুধবার নিউইয়র্কে স্পেশালাইজড হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা

    বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে — বুধবার নিউইয়র্কে স্পেশালাইজড হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজ।

    আগামী বুধবার, ১২ নভেম্বর, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্পেশালাইজড হাইস্কুল অ্যাডমিশন টেস্ট (SHSAT) বা ভর্তি পরীক্ষা।
    এ পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

    নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন (DOE)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নাম নিবন্ধন প্রক্রিয়া ২১ অক্টোবর সম্পন্ন হয়েছে।

    পরীক্ষার সময় সূচি:

    অষ্টম শ্রেণির পাবলিক স্কুল শিক্ষার্থীরা: বুধবার, ১২ নভেম্বর ।

    চার্টার স্কুল ও হোমস্কুল শিক্ষার্থীরা: শনিবার ও রবিবার, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর।

    নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা: শনিবার বা রবিবার, ২২ ও ২৩ নভেম্বর।

    পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও প্রস্তুতি:

    নিউইয়র্ক সিটি DOE-এর সরকারি ওয়েবসাইটে (<PRIVATE_URL>) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরন ও প্রক্রিয়ায় কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
    রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের স্কুলের গাইডেন্স কাউন্সেলররা পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য সরাসরি অবহিত করেছেন।

    এছাড়া, বাংলাদেশি টিউটোরিয়াল সেন্টারসমূহ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্পেশালাইজড হাইস্কুল টেস্ট প্রস্তুতি কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।

    বাংলাদেশি টিউটোরিয়াল সেন্টারগুলোর পরামর্শ:

    বাংলাদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো অভিভাবকদের উদ্দেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেছে —

    হাতে থাকা শেষ কয়েকটি দিন পুরোপুরি প্রস্তুতিতে ব্যয় করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা যেন বাড়িতে মনোযোগসহকারে পড়াশোনা করতে পারে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সহায়তা প্রয়োজন।

    পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি।

    সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশি অভিভাবক মহলে পরীক্ষাটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, এ বছরও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা স্পেশালাইজড হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করবে এবং কমিউনিটির সুনাম আরও বৃদ্ধি করবে।

  • আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর নতুন কমিটি গঠিত

    আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর নতুন কমিটি গঠিত

    হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান, বাপসনিউজ।

    নিউইয়র্ক, ৯ নভেম্বর ২০২৫ (রবিবার) — যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য গঠিত হয়েছে।  নতুন কমিটির সভাপতি হাকিকুল ইসলাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক হেলাল মাহমুদ
    নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার বার্গার কিং-এ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ।

    সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে নির্বাচিত অন্যান্য পদাধিকারীরা হলেন—

    সিনিয়র সহ-সভাপতি: কবি ও কলামিস্ট এবিএম সালেহ উদ্দিন,

    সহ-সভাপতি: মোঃ নাসির, আলমগীর ভূঁইয়া, বিশ্বজিৎ সাহা, সুহাস বড়ুয়া, দেলওয়ার মানিক, জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল IBNNews24.com সম্পাদক আয়েশা আক্তার রুবি, মীর ডিনার হোসেন, একেএম ফায়জুললাহ বাদল, সরদার আল মামুন ও পংকজ রায়

    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আরিফুর রহমান আরিফ, ফিরোজ আহমেদ কল্লোল, আবু ঈসা মনজিল, সারোয়ার হোসেন খান লিটন ও নজরুল ইসলাম স্বপন।

    সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: মোঃ পাপপু চৌধুরী,

    অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

    সভায় আরও কয়েকজন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন—
    কলামিস্ট এম.এ. সালাম, মানবাধিকার কর্মী ও কলামিস্ট শেহলী পারভীন, কলামিস্ট ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, এবং এবিএম ওসমান গনি প্রমুখ।

    সভায় বাংলাদেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাংবাদিক, লেখক ও কলামিস্টদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হয়।

    সভা শেষে দুপুরের খাবারের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • ফ্রান্সভিত্তিক সাংবাদিক সংস্থা  সাংবাদিক শফিকুলকে সহায়তা দিল

    ফ্রান্সভিত্তিক সাংবাদিক সংস্থা সাংবাদিক শফিকুলকে সহায়তা দিল

    শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তিনি এমন হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

    ঘটনার পর ফ্রান্সভিত্তিক সাংবাদিক অধিকার সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (RSF) এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। পরে সংস্থাটি শফিকুল ইসলামকে সহায়তা হিসেবে ৭০০ ইউরো (প্রায় এক লাখ টাকা) প্রদান করেছে।

    গত ২০ জুলাই অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা অ্যাফেয়ার্স–এ “রায়পুরায় নদীতে অস্ত্রবাজি, বালু দস্যুদের তাণ্ডব” শিরোনামে ও গত ২৫ জুলাই জাতীয় দৈনিক “প্রতিদিনের সংবাদ” এ “মেঘনায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বালু উত্তোলন,আতঙ্কে এলাকাবাসী” শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সাংবাদিক শফিকুল ইসলামকে হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় তিনি রায়পুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    বিষয়টি জাতীয় ও স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, “মেঘনা নদীতে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালুখেকোরা অবৈধভাবে বালু তুলছে। আমাদের সহকর্মী শফিকুল ইসলাম সাহসিকতার সঙ্গে এই অনিয়ম তুলে ধরেছেন। তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম, তবে আরএসএফের আর্থিক সহায়তা তাঁর জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।”

    প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও শফিকুল ইসলামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

    রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

    হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

    এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

    তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

    গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

  • জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ‘২৬ এ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, গণভোট আয়োজনসহ কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মিছিল সহকারে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের কাছে স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারন করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমূক্ত গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের অন্যতম দাবী। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোট কেন্দ্র দখল, পেশি শক্তি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্রে নানাবিধ অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ এবং দক্ষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বর্তমানে গণ দাবীতে পরিনত হয়েছে। বিগত সরকার বিভিন্ন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে ধ্বংস করেছে। বিরোধী মতে মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, হামলা, গ্রেফতার, জেল-জরিমানা, গুম, খুন করে দেশপ্রেমিক মানুষ ও মূক্ত গণমাধ্যমের কন্ঠকে স্তম্ভিত করেছে। দিনের ভোট রাতে নির্বাচনের নামে জাতির সাথে প্রহসন করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

    অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের স্বার্থে ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সহ নিম্নোক্ত ৫দফা দাবি পেশ করেন-
    ১. আগামী ফেব্রুয়রীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজন করা
    ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
    ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
    ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

    স্মারকলিপি প্রদানের আগে জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা শামীম সাঈদী, জেলা সেক্রেটারী মো. জহিরুল হক, জেলা সহকারী সেক্রটারী শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবি সংগঠনের সেক্রেটারী ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদ, শিবিরের জেলা সভাপতি মো. এমরান হোসেন প্রমুখ।

    এ সময় জেলা নায়েবে আমীর আব্দুর রব সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সমাবেশ শেষে জেলা নেতৃবৃন্দ পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টিনাকে বিশাল অঙ্কের ঋণ: আসল রহস্য ফাঁস!

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টিনাকে বিশাল অঙ্কের ঋণ: আসল রহস্য ফাঁস!

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি আর্জেন্টিনার পাশে দাঁড়াচ্ছে? অর্থনীতির জটিল আবর্তে, এমন প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আর্জেন্টিনার জন্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। এই সহায়তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক, যা শুধু আমেরিকাতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    জানা গেছে, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা মূলত একটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তির মাধ্যমে দেওয়া হবে, যেখানে আর্জেন্টিনা তাদের স্থানীয় মুদ্রা ডলারের সঙ্গে বিনিময় করতে পারবে।

    এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল আর্জেন্টিনার আর্থিক বাজারকে স্থিতিশীল করা।

    কিন্তু কেন এই সহায়তা? আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট, হাভিয়ের মিলেই, যিনি এক সময় “চেইনসো হাতে” উদারনীতিবাদের পক্ষে কথা বলেছিলেন, তার সরকার দেশটির অর্থনীতি সংস্কারের চেষ্টা করছে।

    মিলেইয়ের দল গত মাসে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়, যার ফলস্বরূপ দেশটির মুদ্রার দরপতন হয়। এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, আর্জেন্টিনার এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে তা অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আর্জেন্টিনা যদি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

    তবে এই সহায়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সহায়তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্রকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছেন।

    এমনকি, এই সহায়তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরাও। কারণ, আর্জেন্টিনার বাজার থেকে মার্কিন সয়াবিনের আমদানি কমে যেতে পারে, যা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ফলস্বরূপ।

    আর্থিক সহায়তার এই সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বহু সরকারি কর্মচারী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে, বিদেশের একটি দেশকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সহায়তা আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাদের মতে, এর মাধ্যমে তারা পশ্চিমা গোলার্ধে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে।

    তবে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

    তথ্য সূত্র: সিএনএন