Category: খুলনা বিভাগ

  • বাগেরভিটা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    বাগেরভিটা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    শেরপুর প্রতিনিধি।

    শেরপুরের বাগেরভিটা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসার কমন রুমে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো কক্ষটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। আগুনের তীব্রতায় কমন রুমের ভেতরে থাকা সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর তারা দ্রুত পানি ও অন্যান্য উপায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় চারদিকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    সংবাদ লেখা পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত কী কারণে হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

    অগ্নিকাণ্ডে মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী, আসবাবপত্র ও নথিপত্রসহ কমন রুম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • শার্শায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    শার্শায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :

    যশোরের শার্শায় ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
    আটককৃতরা হলো, যশোর জেলার কোতয়ালী থানার ভেকুটিয়া ইউনিয়নের মন্ডলগাতী গ্রামের জাফর আলীর ছেলে ইয়াহিয়া (২৮) ও আরবপুর ইউনিয়নের পতেঙ্গালী গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২৩)।
    বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিঃ) হুসাইন মুহম্মদ ইমদাদুল হক ও এএসআই (নিঃ) ফরহাদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাড়ীপুকুর গ্রামস্থ বাগআঁচড়া-কায়বা সড়কের পাশে দিলরুবা প্যালেসের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাদের গ্রেফতার করেন। এসময় ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি ডায়াং রানার ৮৫ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
    এ ঘটনায় শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা (নং-২০, তাং-১৭/১০/২০২৫) রুজু করা হয়েছে।

    শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীম  জানান,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • গলদা চাষে অভিজ্ঞতা অর্জনে সাতক্ষীরা সদর

    গলদা চাষে অভিজ্ঞতা অর্জনে সাতক্ষীরা সদর

    ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
    মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট (SCMFP)-এর আওতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ২৫ জন চিংড়ি ক্লাস্টারভুক্ত চাষি সম্প্রতি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় এক অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরে অংশগ্রহণ করেছেন।

    এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ,আধানিবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) গলদা চাষ পদ্ধতি, ঘের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিষয়ে সফল চাষিদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।

    সফরকারী চাষিদের ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগ্যান। এসময় দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম সফরের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারি মৎস্য অফিসার মোঃ লুৎফর রহমান, প্রকল্পের মেরিন ফিশারিজ অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম, সদর মৎস্য দপ্তরের মাঠকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    সফরকালে চাষিরা প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলার বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষি ক্লাস্টার-১ ও আধানিবিড় গলদা প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন। এটি আধানিবিড় গলদা চাষে একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। পরিদর্শনকালে উভয় ক্লাস্টারের চাষিদের মধ্যে এক প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা পর্বে বড়ডাঙ্গা ক্লাস্টারের সফল গলদা চাষি শুভেন্দু বিশ্বাস, জয়প্রকাশ বিশ্বাস, সুজিত মন্ডল, সাব্বির হোসেন রাজু এবং ক্লাস্টার লিডার শেখ মাহতাব হোসেন তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চাষ পদ্ধতি, আয়-ব্যয় হিসাব, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    প্রযুক্তিগত দিক ও বাস্তব চিত্র চাষিরা সরেজমিনে বড়ডাঙ্গা ক্লাস্টারের ঘের পরিদর্শন করেন। ঘের মালিকরা জাল টেনে মাছ ও চিংড়ি দেখান। উপস্থিত সবাই উৎপাদনের মান ও গলদার বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনে দেখা যায়, এই ক্লাস্টারে সেমি ইনটেনসিভ (All male) গলদা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফিশটেক সরবরাহকৃত পুরুষ গলদা পিএল ব্যবহার করে বায়োসিকিউরিটি, পানির গভীরতা বৃদ্ধি, নিয়মিত জলমান নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ, সঠিক মজুদ ঘনত্ব, মোলাসেস ও প্রোবায়োটিক ব্যবহারসহ পূর্ণাঙ্গ প্রটোকল মেনে চাষ পরিচালনা করা হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র ৮৩ দিনে গলদার গড় ওজন হয়েছে ২৫–৩০ গ্রাম, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে একই ঘেরে কম সময়ে ও তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম, খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান, এবং মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোঃ মনজুরুল ইসলাম।

    বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বড়ডাঙ্গা ক্লাস্টারের এই মডেলটি দেশের অন্যান্য চিংড়ি চাষ এলাকা, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলায় অনুসরণ করলে উৎপাদন ২–৩ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। এর মাধ্যমে চাষিদের আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের চিংড়ি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অংশগ্রহণকারী চাষিরা জানান, এই সফরের মাধ্যমে তারা আধুনিক গলদা চাষ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রত্যক্ষ ধারণা পেয়েছেন। তাঁরা ভবিষ্যতে নিজের ঘেরে পুরুষ গলদা পিএল মজুদ, উন্নত নার্সারি ব্যবস্থাপনা, বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা এবং ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি করে আধানিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    তাঁরা মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও প্রশিক্ষণ, বিনিময় সফর ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

    এই সফরের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চাষিরা কেবল একটি সফল চাষ পদ্ধতির সাথে পরিচিত হননি, বরং আধুনিক ও ব্যবসায়িকভাবে টেকসই গলদা চাষের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। অভিজ্ঞতা বিনিময়ভিত্তিক এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে দেশের চিংড়ি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত কর্মকর্তা ও চাষিরা।

  • কুষ্টিয়ায় বিআরপি’র কর্মী সমাবেশে

    কুষ্টিয়ায় বিআরপি’র কর্মী সমাবেশে

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের পরও আশানুরূপ সংস্কারের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। আর প্রত্যাশিত সংস্কার না হলে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয় এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি) এর নেতৃবৃন্দ।

    বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়ার রিফাইতপুরে আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও মহাসচিব তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সংস্কার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হলেও জনগণ এখনো প্রত্যক্ষ সুফল পায়নি।

    মহাসচিব তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন,
    স্বৈরাচার পতনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, নইলে বাংলাদেশে রাজনীতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

    এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন,
    “সংস্কার বাস্তবায়ন ব্যতীত নির্বাচন হলে গণঅভ্যূত্থানের চেতনা ব্যর্থ হবে। দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি, নইলে যেকোনো সময় স্বৈরাচার আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”

    তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি এক উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদির কাজল, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক সোহাগ মো. সজিব খান, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহবুবুর রহমান শিপন ও সাইফুজ্জামান টুলুল।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিআরপি’র সদস্য সচিব মো. হাসিম হোসেন, এবং সঞ্চালনা করেন খুলনা জেলা আহ্বায়ক সৈয়দ ওয়াসিম রেজা।