Category: খুলনা বিভাগ

  • সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবি

    সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবি

    স্টাফ রিপোর্টার।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা, টকশো ব্যক্তিত্ব এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন তৌহিদকে গ্রেফতার করেছে স্বরূপকাঠি থানা পুলিশ।

    আজ শনিবার সকালে একদল মব সৃষ্টিকারী তার গ্রামের বাড়িতে তাকে অবরুদ্ধ করে। এ সময় তিনি মবের শিকার থেকে মুক্তি পেতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ এসে তাকে নিরাপত্তার কথা বলে থানায় নিয়ে যান।

    জানা গেছে, জিয়া উদ্দিন তৌহিদের নামে একদল দুর্বৃত্ত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু পোস্টার ছেপে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় শাটিয়ে দেন। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে তার বাড়িতে মবের সৃষ্টি হয়।  সম্প্রতি জিয়া উদ্দিন তৌহিদের স্ত্রী সন্তানের দেখাশোনার জন্য আমেরিকা গেলে কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় পৈতৃক বাড়ি স্বরুপকাঠিতে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমসাময়িক, ঐতিহাসিক, আন্তর্জাতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে লেখালেখি করেন। সাংবাদিক জিয়া উদ্দিন তৌহিদকে অযথা হয়রানি না করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। 

    তিনি বলেন, মব সৃষ্টি করে এভাবে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে হয়রানি করা আইনের শাসনের মধ্যে পড়েনা। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি অবিলম্বে তাকে মুক্তির দাবি তুলে সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

  • খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মোঃ আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার মানসম্মত না হওয়ায় ও অভক্তিতে মুখে দিয়ে কুলি করে ফেলে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    খুলনা সফররত স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেনারেল হাসপাতালের রান্না ঘরে রোগীদের জন্য তৈরি করা কুমড়োর সবজি গালে দিয়ে ফেলে দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন, জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে ভালো মানের তরকারি সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী।

    আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে আকস্মিক খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হন।
    এ সময় তার সাথে ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত।

    জেনারেল হাসপাতালের বিট ভ্যাকসিন কর্নার পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন।
    হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনে দিতে হচ্ছে রোগীদের।
    রোগীদের র‍্যাবিস ভ্যাকসিন টাকা দিয়ে কেনার ঘটনা সরেজমিন দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ধমকালেন জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজীকে।

    পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

  • খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে আইসিইউ রোগীর মৃত্যু, আহত ৫

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে আইসিইউ রোগীর মৃত্যু, আহত ৫

    মো: আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) বুধবার (২০ মে ২০২৬) ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাসরিন নাহার নামে এক আইসিইউ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগুনের আতঙ্কে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সময় অক্সিজেনের ঘাটতিতে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। নিহত রোগী খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলির কন্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জন্মগত ডায়াবেটিস জনিত জটিলতায় গত রবিবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সময় তাড়াহুড়া করে নামানোর সময় মাস্ক খুলে গেলে অক্সিজেন সংকটে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. দিলীপ কুমার কুন্ডু গণমাধ্যমকে জানান, আইসিইউতে মোট ১৫ জন রোগী ছিল। আমরা সবাইকে নিরাপদে সরাতে সক্ষম হই। তবে ওই রোগীর স্বজনরা তাকে নিজে থেকেই দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। নামানোর পথেই তার মৃত্যু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ ও স্টোর রুম এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
    ধোঁয়ার কারণে ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না বলে জানান কর্মীরা। দ্রুত মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে এবং আইসিইউর রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    ওয়ার্ড বয় রেজাউল গণমাধ্যমকে জানান, স্টো ররুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সবাই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন।

    অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন—
    হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ধোঁয়ার মধ্যে থাই গ্লাসের গ্রিল কেটে আটকে পড়া নার্সদের উদ্ধার করা হয়। ফায়ার ব্রিগেডের স্টিলের সিঁড়ি ব্যবহার করে তাদের নামানোর সময় তীব্র আতঙ্কে একজন নার্স ও একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য ভারসাম্য হারিয়ে তিনতলা থেকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়ে যান। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

    একই ঘটনায় আরও দুইজন নার্স ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

    এছাড়া তিন তলার থাই গ্লাসের গ্রিল কেটে কর্তব্যরত নার্সদের ফায়ার সার্ভিসের স্টিলের সিঁড়ি ব্যবহার করে নিচে নামানোর সময় ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ নিচে পড়ে আহত হন।

    ফায়ার সার্ভিসের ১০ থেকে ১১টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী পরিচালক জানান, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে গেট গুলো তালা বদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশে কিছুটা সময় লাগে। পরবর্তীতে ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে।

    পরবর্তীতে বেলকনি ও বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ৪–৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আর কোনো নতুন হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

    রোগী ও স্বজনরা এই প্রতিবেদককে জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। স্টোর রুম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ওটির ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই আতঙ্কে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যোগে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে অন্য বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যান।

    তারা অভিযোগ করেন, ওটিতে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চললেও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাময়িক ভাবে সব অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

    এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

    সর্বশেষ পরিস্থিতি,

    অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এলেও হাসপাতাল জুড়ে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ খবর নেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

  • সুন্দরবনে বন বিভাগের ‘স্মার্ট টিম’-এর গুলিতে জেলে নিহত, উত্তাল উপকূল

    সুন্দরবনে বন বিভাগের ‘স্মার্ট টিম’-এর গুলিতে জেলে নিহত, উত্তাল উপকূল

    মো: আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    ​পশ্চিম সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরণের সময় বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের ছোড়া গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের আওতাধীন শতমুখী খাল বা বাটলো অভয়ারণ্য এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    দুপুর দেড়টার দিকে নিহতের সহকর্মীরা আমিনুরের গুলিবিদ্ধ মরদেহ নিয়ে লোকালয়ে ফিরে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
    ​নিহত আমিনুর রহমান গাজী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামের মৃত আকছেদ গাজীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন কার্ডধারী বৈধ সুন্দরবনজীবী (জেলে)।

    নিহত আমিনুরের সঙ্গে থাকা অন্য তিন সহকর্মী—আহাম্মাদ আলী, সেলিম ও রমজান জানান, তারা গত ১৩ মে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে বৈধ পাস (অনুমতিপত্র) নিয়ে কাঁকড়া আহরণের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন।
    ​সহকর্মী জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাতে তারা যখন নৌকায় ঘুমিয়ে পড়েন, তখন প্রবল বাতাসের টানে তাদের নৌকাটি নদী পার হয়ে অভয়ারণ্য (নিষিদ্ধ) এলাকার দিকে চলে যায়।

    আজ সোমবার সকাল ৭টার দিকে তারা সেখান থেকে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের একটি স্মার্ট পেট্রোলিং টিম তাদের আটক করে।

    জেলেদের দাবি, বনকর্মীরা তাদের নৌকাটি আটকে রেখে চার জেলেকে গহীন বনের মধ্যে নেমে চলে যেতে বলে। কিন্তু জেলেরা জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নৌকাটি না দিয়ে চলে আসার চেষ্টা করলে নলিয়ান স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল দল তাদের লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি ছোড়ে। এতে আমিনুর রহমান গাজী সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বনকর্মীরা তাকে কোনো উদ্ধার বা চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে লোকালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমিনুরের মৃত্যু হয়।

    নিহত জেলের মরদেহ দুপুরের দিকে গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় এসে পৌঁছালে স্থানীয় সুন্দরবনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ কয়েকশ বনজীবী ও এলাকাবাসী সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিস ঘেরাও করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

    খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম গণমাধ্যমিকে বলেন, বৈধ পাস নিয়ে বনে যাওয়া একজন জেলের ওপর এভাবে গুলি চালানো মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও), সাতক্ষীরার সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় থানাকে তাৎক্ষণিক ভাবে অবহিত করেছি। ডিএফও সাহেব আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ​শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের আইনগত পদক্ষেপ ও সুরতহাল রিপোর্টের প্রক্রিয়া চলছে।

    ঘটনার বিষয়ে সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলছে।
    ​সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের পক্ষ থেকে অফিশিয়ালি তাদের এখনও কোনো প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। তবে জেলের মৃত্যুর অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে এবং বনরক্ষীদের কারও সরাসরি সংশ্লিষ্টতা বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • খুলনায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন কেসিসি প্রশাসক

    খুলনায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন কেসিসি প্রশাসক

    মো: আল মাসুম খান,নির্বাহী সম্পাদক।

    দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাস্টম ঘাট আমিরা বানু বেগম নগর মাতৃসদনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার শিশুদের টিকার আওতায় আনতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
    তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯–এর মতো হামও একটি সংক্রামক রোগ। তাই এ রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকাদানের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষ করে মায়েদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন খুলনা উপপুলিশ কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৯৩ হাজার ৭৮৮ জন শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ভিত্তিক শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৮৮ এবং কমিউনিটির আওতাভুক্ত শিশু ৮০ হাজার ৪০৪ জন।
    এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫৬টি টিকাদান কেন্দ্রে ১৪৪ জন টিকাদান কর্মী, ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ৬২ জন সুপার ভাইজারের সমন্বয়ে ৮২টি টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের সব শিশুকে—আগে এমআর টিকা নেওয়া থাকলেও—এক ডোজ করে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। খুলনার সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলবে।

  • ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযানে-১

    ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযানে-১

    ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি।

    যশোরের ঝিকরগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে মাদকদ্রব্য সহ একজনকে আটক ও অর্থদন্ড করা হয়েছে।

    ৮ মার্চ (রবিবার) রাতে উপজেলার গদখালী বাজারে এ চলমান মাকবিরোধী অভিযান পরিচালনাকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রনী খাতুন এর ভ্রাম্যমান আদালতে একজনকে আটক ও অর্থদন্ড করা হয়।

    ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, আটককৃতরা হলেন গদখালী ইউনিয়ন এর সৈয়দপাড়া গ্রামের মফিজুর রহমান এর ছেলে মুরাদ হোসেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (৫) ধারায় ১০০ টাকা জরিমানা সহ ১২ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

    এ সময় থানা পুলিশের এস আই (নি:) মেহেদী হাসান মারুফ ২ পিচ ইয়াবা সহ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে ইয়াবা ধ্বংস করা হয়।

    উল্লেখ্য উপজেলা প্রশাসনের মাদকবিরোধী চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করছেন থানা পুলিশের চৌকস টিম।

  • নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আজিবুর সভাপতি রাজু সম্পাদক

    নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আজিবুর সভাপতি রাজু সম্পাদক

    নড়াইল প্রতিনিধি।

    নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে আজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইস্রাফিল খবির রাজু নির্বাচিত হয়েছেন।
    জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের তৃতীয় তলায় সোমবার সকাল ১০টায় থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
    জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সিনিয়র আইনজীবী শেখ নূর মোহাম্মদ বলেন, শান্তিপূর্নভাবে ভোট গ্রহণ সস্পন্ন হয়েছে। ১৬১ জন ভোটারের মধ্যে ১৪৯জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১১টি পদের মধ্য ৪টি পদে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।
    সভাপতি পদে আজিবুর রহমান ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তারিকুজ্জামান লিটু পেয়েছেন ৬৯ ভোট।
    সহ-সভাপতি পদে শরিফুল ইসলাম টিটু ৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী বদরুল আলম পেয়েছেন ৭০ভোট।
    সাধারণ সম্পাদক পদে ইসরাফিল খবির রাজু ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটত প্রতিদ্বন্দ্বী নেওয়াজ মাহমুদ তুহিন পেয়েছেন ৪৮ভোট।
    সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ওয়াহিদুজ্জামান জুলু ৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী
    মিশকাতুর রহমান সজিব ৬৮ ভোট।
    ৭টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, গণগ্রন্থাগার সম্পাদক পদে ইমরুল হাসান সনেট এবং আইন ও সমাজ বিষয়ক সম্পাদক পদে লাভলী আক্তার।এছাড়া ৫টি সদস্য পদে কাজী জিয়াউর রহমান, এস এম ইকবাল হোসেন, শিমুল ফকির, শাহাজিয়া শারমিন মুন্নী ও মিলিমা খানম(মিলি সিদ্দিকী)।

  • গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে বিএমএসএফের গভীর উদ্বেগ

    গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে বিএমএসএফের গভীর উদ্বেগ

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

    ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রী:

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) সরকার প্রস্তাবিত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছে। বিএমএসএফ মনে করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ সময়োপযোগী নয় এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় নির্বাচনকালীন সময় গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নতুন কোনো নিয়ন্ত্রক কমিশন বা অধ্যাদেশ জারি হলে সাংবাদিকদের মধ্যে আত্মভীতি ও আত্মসংযম (self-censorship) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অবাধ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

    বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন গণমাধ্যম সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া, যা কখনোই তড়িঘড়ি করে বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা উচিত নয়। বরং এ বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা, গণশুনানি এবং সকল সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক পরিষদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।

    প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে মতামত নিতে সেটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। মতামত দিতে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।

    বিশেষ করে মফস্বল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী পেশাগত সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক বৈষম্যের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো কাঠামো আরোপ করা হলে তা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর করবে।
    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম মনে করে ১. জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ স্থগিত রাখা উচিত। ২. গণমাধ্যম সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। ৩. কমিশন গঠনের আগে সকল অংশীজনের সঙ্গে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ সংলাপ অপরিহার্য।

    বিএমএসএফ স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় শক্তিশালী করাই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনো সিদ্ধান্ত যেন গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।

  • পরিবারে ফিরলো ভারতে পাচার হওয়া ৬জন নারী শিশু

    পরিবারে ফিরলো ভারতে পাচার হওয়া ৬জন নারী শিশু

    স্টাফ রিপোর্টার।

    ভারতে পাচার হওয়া ৬জন নারী শিশুদের দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
    বেঙ্গালুরু ভারত থেকে এই ৬ জন শিশু নারী পুরুষকে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রামের বাড়ির খুলনার রুপসায় পাঠানে হয়েছে।

    স্বদেশে ফেরত আনার বিষয়ে পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম, নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের এই বন্দী নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেন।

    যারা আজ পরিবারের কাছে ফিরে আসলেন তারা হলেন
    খুলনা জেলার রুপসা থাবার সোবহান আলীর মেয়ে হালিমা খাতুন, খুলনার ছরোয়ার মল্লিক এর ছেলে মোঃ রাজু মল্লিক,মোঃ মোহর আলী শেখ এর সন্তান
    মোঃ জাহিদুল ইসলাম,কালাম মাতুব্বার এর সন্তান মোঃ মাহাবুর মাতুব্বার, রাজু মল্লিক এর ছেলে তামিম মল্লিক ও ইব্রাহিম মল্লিক।
    এরা সবাই খুলনা জেলার রুপসা থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
    এই সহ ৬ জনকে খুলনা থেকে সিলেট অঞ্চলের দুর্গম এলাকা দিয়ে আসাম হয়ে বেঙ্গালুরু -ভারতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয় বলে জানান ফিরে আসা ভিকরিমরা।

    ১৬ ডিসেম্বর সকাল ০৯.০০ ইনডিগো ফ্লাইটে বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই এবং চেন্নাই থেকে ১৬.০৫ মিনিটে ঢাকার পথে রওনা হয়ে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে অবতরণ করে রাত ৭.৩০।

    উল্লেখ্য ভারতে পাচার হয়ে বেঙ্গালুরে এরা ভারতীয় পুলিশের কাছে আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেলখানা ও শেল্টার হোমে বন্দি ছিল এতদিন। বাংলাদেশ ও ভারতের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদেরকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও পাচারের শিকার মানব উদ্ধার শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম এ বিষয়ে সকল সহযোগিতা করে তদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভুমিকা রেখেছেন।

    এ বিষয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জানান মহান বিজয়ের মাসে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করে এই মানবিক কাজটি উৎসর্গ করেছেন।
    খায়রুল আলম জানান ,নিউ আর্ক মিশন অপ ইন্ডিয়া হোমের প্রতিষ্ঠাতা অটো রাজা এবং ম্যানেজার শ্রীবাস কুমার এ বিষয়ে আমার সাথে সর্বকালীন যোগাযোগ করে ভিকটিমদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা করে থাকেন। অটো রাজার প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন অতি শীঘ্রই আরো যেসকল নারী শিশু ঐ প্রতিষ্ঠানে আছে তাদেরকে ও দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো।
    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমদ আবু জাফর বলেন ,এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা করা দরকার। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দিত এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি, এরা যেন ঘুরে দাড়াতে পারে। স্হানীয় প্রশাসন তাদেরকে পুর্নবাসনে সহযোগিতা করা দরকার বলেও তিনি জানান।

  • চিতলমারী বাজার কমিটির সভাপতি হলেন সোয়েব হোসেন

    চিতলমারী বাজার কমিটির সভাপতি হলেন সোয়েব হোসেন

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত চিতলমারী বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন মো. সোয়েব হোসেন গাজী।

    শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    ৭০৭ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৬৯০ জন। এতে চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী সোয়েব হোসেন ৩৮৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের মো. শহর আলী গাজী পান ২০০ ভোট।

    দীর্ঘদিন পর বাজারের ব্যবসায়ীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে এসে অনেকে সোয়েবের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেন। ফলাফল ঘোষণার পর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

    নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য তিনি ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

    সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সোয়েব হোসেন বলেন, বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছ ও সক্রিয় কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। সবার জন্য কাজ করাই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব।