Blog

  • কাপ্তাই ঈদ বাজারে ধ্বস,অলস সময় কাটছে ব্যবসয়াীদের

    কাপ্তাই ঈদ বাজারে ধ্বস,অলস সময় কাটছে ব্যবসয়াীদের

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার সব চেয়ে বড় বাজার হল কাপ্তাই নতুন বাজার। বেচাকিনা না থাকায় ব্যবসায়ীদের অলস সময় কাটছে।

    ঈদ উপলক্ষে দোকান ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পোশাক,জুতাসহ বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে রাখলেও ক্রেতা নেই।

    তবে কাপ্তাই উপজেলার পাশ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে চলছে ঈদ উৎসব।এবং হরেক রকম কেনা কাটার ধুম।

    কাপ্তাইয়ে ব্যবসা বানিজ্য না থাকায় তেমত ঈদ উপলক্ষে বেচা বিক্রয় নেই বললেই চলে।

    কাপ্তাই নতুন বাজার ফারজানা ফ্যাশন মালিক মো. হানিফ জানান ,লাখ লাখ টাকার পোশাকসহ বিভিন্ন রঙিন পোশাক দোকানে পসরা সাজিয়ে রেখিছি কিন্তু একেবারে বেঁচা বিক্রয় নেই। দোকানে বসে অলস সময় কাটছে। এক কথায় ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে বলে জানান।

    রাইট চয়েস দোকান ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম ও ইত্যাদি স্টোর মালিক আব্দুর রউফ জানাল,ধার দেনা করে ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রকমের প্রসাধনী দোকানে পসরা সাজিয়ে রেখেছি। কিন্তু বেঁচা কিনা একদম নেই।গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রয় সাধামেটা বলে উল্লেখ করেন।

    বিউটি সু ব্যবসায়ী আসিফ  কাপ্তাই সু ষ্টোর মহি উদ্দিন জানান, যে আশা নিয়ে লাখ লাখ টাকার ঈদ জুতা নিয়ে এসেছি কিন্তু দুঃখের বিষয় সে রকম ব্যবসা নেই।

    আবার কাপড় ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের জানান, এখানকার সরকারি লোকজন বেতন পাওয়ার সাথে সাথে  চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মার্কেটে কেনা কাটা করে থাকে। যার ফলে কাপ্তাই নতুন বাজার কেনা কাটা তেমন একটা করেনা।

    তবে সকল ব্যবসায়ীরা অভিজ্ঞতা থেকে বলছে,স্বল্প ও নিম্ন আয়ের লোকজন ঈদের ৩/৪দিন আগে কেনাকাটা করার ধূম পড়বে এবং  বেঁচা বিক্রয় ভালো হবে বলে জানান। কাপ্তাই নতুন বাজার ব্যবসয়ারী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, আমাদের বাজারে ঈদ কেনাকাটা সামান্য কম,তবে তবে ঈদের ৩/৪দিন আগে বিক্রয় ভালো হবে বলে উল্লেখ করেন।

  • কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কক্ষ সংকট

    কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কক্ষ সংকট

    কাউখালী প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র কক্ষ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ চিকিৎসাসেবা। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় বহির্বিভাগে একই কক্ষে বসে গাদাগাদি করে রোগী দেখছেন দুইজন চিকিৎসক।এতে গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি মানসম্মত সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

    শনিবার (৭ মার্চ) বেলা এগারোটায় সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ছোট একটি কক্ষে দুইজন চিকিৎসক পাশাপাশি বসে রোগী দেখছেন। কক্ষে তিল ধারণের জায়গা নেই। একই সময়ে দুইজন রোগীর সমস্যা শোনার কারণে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। বিশেষ করে নারী রোগীরা তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা চিকিৎসকের কাছে খোলামেলা বলতে দ্বিধাবোধ করছেন ।
    চিকিৎসা নিতে আসা রোগী পারুল বেগম জানান, “একই রুমে দুইজন ডাক্তার আর অনেক মানুষ থাকায় নিজের সমস্যার কথা ঠিকমতো বলা যায় না। চারপাশ থেকে সবাই কথা শুনছে মনে হয়।
    এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুব্রত কর্মকার জানান, চিকিৎসক আগের তুলনায় বাড়লেও অবকাঠামো না থাকায় চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অস্থায়ী পুরনো ভবনে কোনমতে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চলছে। অনেক কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এই সমস্যা প্রকট হয়েছে।
    আমাদের চিকিৎসকের সদিচ্ছা থাকলেও জায়গার অভাবে আমরা রোগীদের পর্যাপ্ত প্রাইভেসি দিতে পারছি না।একটি কক্ষে দুইজন চিকিৎসক বসাটা আদর্শ পরিস্থিতি নয়,কিন্তু রোগীদের সেবা চালু রাখতে আমাদের কোনো বিকল্প নেই। কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৮ জন মেডিকেল অফিসার রয়েছে। ভবন সংকটের কারণে বিভিন্ন প্রকার জরুরী পরীক্ষা হচ্ছে না। অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের কাজ ১৮ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর। ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও নানা অনিয়মের কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।
    কাউখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, অবিলম্বে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন করে কক্ষ সংখ্যা বাড়ানো হোক। সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সেবার মান বজায় রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

  • কাপ্তাই ইসলামিক সেন্টারের  আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

    কাপ্তাই ইসলামিক সেন্টারের  আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙ্গামাটি কাপ্তাই আফসারের টিলা জামে মসজিদের ইসলামিক সেন্টারের  আয়োজনে ইফতার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকাল ৫টায় মাওলানা আমির হোসেন সোহেল এর সঞ্চালনায় রমজানের তাৎপর্য  শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই ইসলামিক সেন্টার চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ। প্রধান অতিথি বলেন,পবিত্র রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি ও কুরআনের তাৎপর্য শিক্ষা দেয়। আমরা সকলে কুরআন অর্থসহ তেলওয়াত করব।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম,মাওলানা আমির হোসাইন কাপ্তাই মসজিদ মিশন সাধারণ সম্পাদক। এসময় মসজিদ কমিটি,এলাকাবাসীগণ উপস্থিত ছিলেন।

    পরে দোয়া ও মুনাজাত করেন আফসারের টিলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।

  • গিনেজ ওয়ার্ল্ড খেলোয়ার জোবেরা রহমান লিনু পাচ্ছেন ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদক

    গিনেজ ওয়ার্ল্ড খেলোয়ার জোবেরা রহমান লিনু পাচ্ছেন ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদক

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ( পিডিবি) এলাকায়  জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু পাচ্ছেন ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদক।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এ বছর লিনু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কার।

    কাপ্তাই শহীদ সামসুদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং জোবেরা রহমান লিনুর পরিবারের ঘনিষ্ঠজন  মো: সালাহ উদ্দিন ( মিনু) জানান,  স্বাধীনতা পুরস্কার পদকের জন্য মনোনিত হওয়া জোবেরা রহমান লিনুর পরিবার  আমাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন এবং   আমার খালা । তিনি ১৯৬৫ সালর ৯ জুন কাপ্তাইয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আবাসিক এলাকার সেকেন্ড হিলে জন্ম নেন।   তাঁর বাবা  শেখ আবদুর রহমান সেই সময়   কাপ্তাই পিডিবির  সহকারী  প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন , পরবর্তী তিনি পিডিবির সদস্য( উৎপাদন)   হিসাবে অবসর গ্রহন করেন । তাঁর মায়ের নাম আঁখি রহমান। লিনু কাপ্তাই পিডিবি  স্কুলে  পড়ালেখা করেছেন। পরবর্তীতে তাঁর বাবা সিলেটে বদলি হন।

    বাবার অনুপ্রেরণায় সিলেটের শাহাজীবাজার অফিসার্স ক্লাবে মাত্র আট বছর বয়সে টেবিল টেনিস খেলা শুরু করেন নিলু। ১৯৭৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথমবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট ১৬ বার জাতীয় মহিলা এককে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের টেবিল টেনিসে অনন্য এক রেকর্ড গড়েন।

    এ অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি বিমান বাংলাদেশ  স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। টেবিল টেনিসে অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কার লাভ করেন।

  • রাইখালী জামায়াতে ইসলামীর রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    রাইখালী জামায়াতে ইসলামীর রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২নম্বর  রাইখালী ইউনিয়ন কর্তৃক  রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহাফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শক্রবার বাদ আছর রাইখালী ইউনিয়ন  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ এর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মোঃ লোকমান।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার  আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম।

    রাঙামাটি জেলা আমির বলেন,রমজান হল রহমত,মাগফিরাত ও নাজাতের মাস।এবং পবিত্র কুরআনের মাস।এমাসে আমরা বেশি বেশি কুরআন, হাসিদ অর্থসহ তেলওয়াত করব।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রাঙামাটি জেলা জামায়াতে ইসলামীর  অফিস সম্পাদক কানজুল ইসলাম, কাপ্তাই উপজেলা আমীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো: হারুনুর রশিদ, চন্দ্রঘোনা ইসলাম প্রচার সমিতির সভাপতি ইমাম ফখর উদ্দিন রাজী,  বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবির চন্দ্রঘোনা থানা শাখার সভাপতি মোঃ ইমতিয়াজ মাহামুদ,   রাইখালী ইউনিয়ন বি এন পি সভাপতি মোঃ হাসেম মেম্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকাস্থ কাউখালী সমিতির আত্মপ্রকাশ

    ঢাকাস্থ কাউখালী সমিতির আত্মপ্রকাশ

     নুরুল হুদা বাবু। 

    ৬ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার নয়া পল্টনের স্কাউট মার্কেটের তৃতীয় তলায় ইফতার ,দোয়া ও নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরুর অনুষ্ঠানে কাউখালী যুব কল্যাণ সমিতি নাম বাদ দিয়ে কাউখালী সমিতি ঢাকার আত্মপ্রকাশ করা হয়েছে।

    সমিতির উপদেষ্টা এইচ এম দীন মোহাম্মদ জানালেন পিরোজপুর জেলার কাউখালী  উপজেলার ঢাকায় বসবাস কারি সকল জনগণ দলমত নির্বিশেষে সদস্য হতে পারবেন  ।

    সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম আলম তার বক্তৃতায় বলেন, ২০০৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিলো। আজ থেকে কাউখালী  উপজেলার সকল মানুষ এই সমিতির সদস্য হতে পারবেন।

    এই সমিতির সাবেক সাধারণত সম্পাদক চঞ্চল  বলেন, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ এই মধুর সময়ে আমরা উপনিত হয়েছি,শুকরিয়া। আজ কাউখালীর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো নতুন সদস্য ফর্ম সকলের সন্মাতি ক্রমে, আলহামদুলিল্লাহ।

    উল্লেখ্য ২০০৯ সালে জিয়া উদ্যানে এক বিকেলে এইচ এম দীন মোহাম্মদ,  সাইফুল ইসলাম আলম,ভিপি দুলাল,নিক্সন, মনির হোসেন, চঞ্চল, উজ্জল,লাইজু,স্বপন সহ আরো কয়েকজন একত্রিত হয়ে কাউখালী যুব কল্যাণ সমিতি নামে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।

    পরবর্তীতে রমনা পার্কে বসা থেকে শুরু করে আজ ইফতারে আগে পর্যন্ত চলমান ছিল এই নামে।

    আজ কাউখালী যুব কল্যাণ সমিতির পূর্বের ১০০ জন সদস্য বহাল রেখে  ০৬/০৩/২০২৬ ইং তাং থেকে কাউখালী সমিতি ঢাকার ,আত্মপ্রকাশ ও নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু করা হলো।

    নয়া পল্টনের স্কাউট মার্কেটের তৃতীয় তলায় এ ইফতার দোয়া ও নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমিতির উপদেষ্টা এইচ এম দীন মোহাম্মদ।

    এ সময়  অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম আলম, সহ -সভাপতি মুন্না , সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল , মনির হোসেন,মানিক,পলাশ,লাইজু,বাশার,শাহজাদা বাপ্পি,দীপ কল্যাণ সমিতির মিলন,সাংবাদিক নূরুল হুদা বাবু ,মোস্তাফিজ,দেলোয়ার , সাইদ, মিরাজ ,মহিলা দলের নেত্রী সেপু সহ প্রায় ২ শতাধিক পুরাতন ও নতুন সদস্য।

  • পিরোজপুরে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন

    পিরোজপুরে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন

    পিরোজপুর প্রতিনিধি।

    যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে শিক্ষিত বেকার যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পিরোজপুরসহ দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় পিরোজপুর জেলা কেন্দ্রে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়ে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। প্রাথমিক বাছাই শেষে সারাদেশে প্রায় ৬০ হাজার বৈধ প্রার্থী আজকের এই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

    পিরোজপুর জেলা পর্যায়ে এই পরীক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিনিধি মহোদয়।

    প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড-এর ডিভিশন হেড, সংশ্লিষ্ট জেলার কো-অর্ডিনেটর, সহকারী কো-অর্ডিনেটর এবং প্রশিক্ষকসহ অন্যান্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ (৬,৭৩২ জন) সফলভাবে দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করছেন। তাদের মোট অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকার সমপরিমাণ।

    খাত সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, ধারাবাহিক এই উদ্যোগের ফলে পিরোজপুরের শিক্ষিত তরুণ সমাজ বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

    পরীক্ষা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পিরোজপুরে সরকারি এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এই ধরনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • আশুগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক গাঁজা,ইয়াবা ট্যাবলেট প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল সহ গ্রেফতার ৪

    আশুগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক গাঁজা,ইয়াবা ট্যাবলেট প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল সহ গ্রেফতার ৪

    লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ, স্টাফ রিপোর্টার।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ০৬/০৩/২০২৬ ইং তারিখ সকাল ০৬.৩০ ঘটিকার সময় আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অত্র থানাধীন ঢাকা সিলেট হাইওয়ে মহাসড়কে উজান ভাটি হোটেলের সামনে হতে ০১টি প্রাইভেটকার আটক করে। এ সময় প্রাইভেটকারটি তল্লাশী করে ১০ কেজি গাঁজাসহ ০২ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করে।

    অপর এক অভিযানে ০৬/৩/২০২৬ ইং তারিখ সকাল ০৬.৫৫ ঘটিকায় আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকা হতে ০১টি মোটরসাইকেল আটক করে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহীদ্বয়কে তল্লাশী করে তাদের হেফাজত হতে ২৬১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ও ঠিকানা:
    ১। মোঃ সম্রাট মিয়া ওরুফে সজিব (২৫)পিতা- তাজুল ইসলাম, মাতা- কল্পনা বেগম সাং- দজনগর থানা- কসবা।
    ২। বাপ্পি মিয়া (৩০)পিতা- মীর কাশেম, মাতা- সুমনা বেগম
    সাং— সুলতানপুর) থানা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর
    উভয় জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

    ৩। মো: রিপন (৪২)পিতা- আব্দুল মান্নান, মাতা- হাফেজা বেগম , সাং- মিজমিজি উত্তর পাড়া। ৪। মোঃ রাকিবুল হক ওরুফে শুভ (৩০) পিতা- মৃত জহিরুল হক, মাতা-তাছলিমা বেগম সাং- মিজমিজি পশ্চিম পাড়া, উভয় থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

    এমাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় পৃথক ২টি মাদক মামলা রুজু করে আসামিদের কে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • ঘুষ, নির্যাতন ও মোবাইল কোর্ট; ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র–আহমেদ আবু জাফর

    ঘুষ, নির্যাতন ও মোবাইল কোর্ট; ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র–আহমেদ আবু জাফর

    বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এসব অধিকার রক্ষার জন্যই প্রতিষ্ঠিত।

    কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা এই মৌলিক আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একটি সাম্প্রতিক ঘটনা তেমনই এক বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যা শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগ নয়; বরং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী ও প্রশাসনিক কাঠামোর মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের চর্চা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

    ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন জুবাইদা জন্নাত নামের এক তরুণী। তার জীবনকাহিনি বাংলাদেশের বহু অসহায় নারীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জন্মের কয়েক মাস পরই তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, যৌতুকের দাবিতে তার মাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন তার বাবা। এই নির্যাতনের কারণেই ১৯৯৯ সালে জুবাইদার মা রেহেনা জন্নাত রানু আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে মামলার আপোষ হলেও মা-মেয়ের জীবন আর স্বাভাবিক পথে ফিরে যায়নি। জুবাইদা বড় হয়েছেন মায়ের কাছেই, চকরিয়ায়। আর্থিক কষ্ট, সামাজিক চাপ এবং পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।

    জুবাইদার মা কঠোর পরিশ্রম করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি কলেজে অনার্সে অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাকে এমন একটি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তার অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
    জুবাইদার পিতা মৃত্যুবরণ করার পর সামনে আসে পৈতৃক সম্পত্তির বিষয়টি। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন সন্তান হিসেবে তিনি তার পিতার সম্পত্তিতে আইনগতভাবে অংশীদার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

    অভিযোগ রয়েছে, তার চাচা, জেঠা এবং চাচাতো ভাইরা তাকে সেই অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়। প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে। পরে তিনি বিষয়টি তহসিলদারের কাছে তদন্তের জন্য দেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত-আট মাস কেটে গেলেও কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং এই দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পক্ষকে আরও অসহায় করে তোলে।

    একই সময় জুবাইদা ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখান থেকেও তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পিতৃপরিচয় ও ওয়ারিশ সনদের মতো একটি মৌলিক বিষয়ে একজন নাগরিক যদি প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ান, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে আনে।

    অবশেষে নিরুপায় হয়ে জুবাইদা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে এবং নতুন করে পেকুয়া থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এই পর্যায়ে তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব।
    এখানেই শুরু হয় ঘটনাটির সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন ভুক্তভোগী পক্ষের অনুকূলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই পল্লব জুবাইদা ও তার মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বলা হয়, টাকা না দিলে প্রতিবেদন বিপক্ষে যাবে। দরিদ্র মা-মেয়ে বহু কষ্টে সেই টাকা জোগাড় করে দেন। কিন্তু পরে যখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় তা আসামিদের পক্ষে গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং কোনো সাক্ষীও পাওয়া যায়নি। অথচ আদালতে জমা দেওয়া জন্মসনদসহ বিভিন্ন নথিতে জুবাইদার পিতার নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে জুবাইদা ও তার মা নিজেদের প্রতারিত মনে করেন। তারা পেকুয়া থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসআই পল্লবের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চান। এরপর যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা আরও উদ্বেগজনক।

    জানা যায়, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারা থানায় গিয়ে সেই টাকা ফেরত চাইলে উল্টো পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আদালতে হাজির করা হয় এবং এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    “যদিও আমি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে কোন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করিনা। তবে পেকুয়ার ঘটনাটি গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম বিতর্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে গেছে। কেননা, একক কারো জন্য একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং খোদ একটি জনপ্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না”।

    এখানেই মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসে। প্রথম প্রশ্ন হলো যদি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অনৈতিকতার ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে আঘাত করে। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত। সেখানে যদি ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে বিচার চাইবে?

    দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো মোবাইল কোর্টের ব্যবহার নিয়ে। মোবাইল কোর্ট সাধারণত তাৎক্ষণিক অপরাধ দমন বা প্রশাসনিক আইন প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন ভেজালবিরোধী অভিযান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো বিরোধ বা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাসরি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হলে তা কতটা ন্যায়সংগত এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

    তৃতীয় প্রশ্নটি আরও মানবিক। একজন এতিম কন্যা যদি তার পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেন, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান, ঘুষের অভিযোগ তোলেন আর শেষ পর্যন্ত উল্টো কারাগারে যেতে হয়। তাহলে সেটি সমাজের জন্য কী বার্তা বহন করে?

    বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। একই সঙ্গে সংবিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু বাস্তবে যদি একজন নাগরিক নিজের পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে তা অবশ্যই গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

    এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে আনে, জবাবদিহিতা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। কারণ ক্ষমতা যখন জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায়, তখনই অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে নারীরা, বিশেষ করে একক মায়ের সন্তানরা, প্রায়ই উত্তরাধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েন। আইনের চোখে তারা সমান অধিকারী হলেও সামাজিক বাস্তবতায় তাদের সেই অধিকার আদায় করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।

    পেকুয়ার এই ঘটনাটি তাই কেবল একটি পারিবারিক বিরোধ নয়; এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং মানবিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
    এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ভুক্তভোগী মা-মেয়ের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আইনি ও নৈতিক দিকগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ন্যায়বিচার শুধু আদালতের রায় নয়; এটি মানুষের বিশ্বাসের বিষয়ও। মানুষ যখন মনে করে রাষ্ট্র তার পাশে আছে, তখনই আইনের শাসন শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন তারা মনে করে তাদের অভিযোগ শোনার কেউ নেই, তখন সেই বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে।

    বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় বারবার। সেই নীতির বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    পেকুয়ার এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচার শুধু শক্তিশালীদের জন্য নয়; এটি দুর্বল ও অসহায় মানুষের জন্যও সমানভাবে নিশ্চিত হতে হবে। একজন নাগরিক তার পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করলে তাকে দোষী নয়, বরং সহানুভূতির চোখে দেখা উচিত।
    আজ প্রয়োজন সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। কারণ আইনের শাসনের মূল দর্শন একটাই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং কোনো নাগরিকই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না।

    লেখক: আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, ০১৭১২৩০৬৫০১, ৬ মার্চ ২০২৬ খ্রী:

  • কাউখালীতে সরিষার বাম্পার ফলন

    কাউখালীতে সরিষার বাম্পার ফলন

     কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটে উঠলো কৃষকদের। অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। আবহাওয়া অনুকূল ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে-ঘাটে দিগন্ত জোড়া হলুদ ফুলে মাঠ যেন হলুদের চাদরে ঢেকে গেছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬৮ হেক্টর জমি। কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ জাতের আবাদ বেশি হয়েছে।

    উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ মামুন জানান, ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা ১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হওয়ার আশা করছি।

    হোগলা গ্রামের কৃষক লাকি হাওলাদার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সরিষা গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছি।

    উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান, এ বছর কাউখালী উপজেলায় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ আবাদ হয়েছে। যার ফলন হয়েছে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন। যা থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হবে।