Blog

  • কাউখালীতে ৬৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    কাউখালীতে ৬৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    কাউখালী পিরোজপুর প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে অভিযান চালিয়ে ৬৯ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি, দেশীয় অস্ত্র, খেলনা পিস্তল ও পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ডসহ শাওন ইসলাম অপু (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কাউখালী থানার পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর দিকনির্দেশনায় এবং কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে থানার পুলিশ ও ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে মৃত শাখাওয়াত হোসেনের দোতলা ভবনের ছাদ থেকে শাওন ইসলাম অপুকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬৯টি শটগানের কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি ছোরা, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড এবং একটি চামড়ার অস্ত্রের কভার উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তার শাওন ইসলাম অপু কাউখালী থানার শিয়ালকাঠী গ্রামের মৃত শাখাওয়াত হোসেনের ছেলে।

    এ বিষয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইবাদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শটগানের কার্তুজ, ওয়াকিটকি ও পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ডসহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতকে পিরোজপুর আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • পিরোজপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে পিরোজপুর গোয়েন্দা পুলিশ।

    পিরোজপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে পিরোজপুর গোয়েন্দা পুলিশ।

    নিউজ ৫২ বাংলা।

    পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এর দিক-নির্দেশনায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহাবুব এর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস আভিযানিক টিম ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার পিরোজপুর থানা এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকালে পিরোজপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব খানাকুনিয়ারী সাকিনস্থ জনৈক আনজিরা বেগম এর পরিত্যক্ত ঘরের সামনে হইতে ৫০০ (পাঁচশত) গ্রাম গাঁজাসহ ২জন আসামিকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা, পিরোজপুর ।

    গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন –
    ১। মোঃ আলমগীর মোল্লা(৪৬), পিতা-মোঃ মোক্তার মোল্লা, সাং-মুক্তারকাঠী, ১নং ওয়ার্ড, পিরোজপুর পৌরসভা।

    ২। মোঃসাগর হাওলাদার(৩১), পিতা-মৃত হাবিবুর রহমান, সাং-খানাকুনিয়ারী, ১নং ওয়ার্ড, পিরোজপুর পৌরসভা, থানা ও জেলা-পিরোজপুর।

    তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার রুজু প্রক্রিয়াধীন। ।

    মাদক নির্মূলে পিরোজপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

  • বাঘাবাড়ীতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

    বাঘাবাড়ীতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে প্রত্যাহার

    সবুজ হোসেন রাজা, স্টাফ রিপোর্টার। 

    বাঘাবাড়ীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

    খবর পেয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

    পরে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এতে বগুড়া–নগরবাড়ী মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসে।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: হতে পারে একটি সমন্বিত উদ্যোগ–আহমেদ আবু জাফর

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: হতে পারে একটি সমন্বিত উদ্যোগ–আহমেদ আবু জাফর

    দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম, লোডশেডিং ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা জনজীবন ও অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করছে, তা কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা এখন সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধানের অন্যতম পথ। আমাদের দেশে বছরের বড় একটি সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। অথচ সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে স্টেশনসহ অসংখ্য স্থাপনার ছাদ ও খোলা জায়গা এখনো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়নি।সরকার চাইলে একটি সময়বদ্ধ জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে।

    প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব সরকারি অফিস-আদালত ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বড় বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হলে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু নতুন সোলার প্যানেল স্থাপন করাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, গ্রিড-সংযুক্ত (on-grid) সৌরবিদ্যুৎ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষ ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এর ফলে দিনের বেলায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয়ও কমতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই সাশ্রয়ী অর্থ আবার নতুন বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।

    শুধু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ জনগণকেও এই কর্মসূচির অন্যতম অংশীদার করতে হবে। সরকার চাইলে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য সহজ শর্তে, প্রয়োজনে সুদমুক্ত বা অত্যন্ত স্বল্পসুদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারে। সেই অর্থ দিয়ে বাড়ির ছাদ, টিনের চাল বা উপযুক্ত স্থানে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। সোলার সিস্টেম স্থাপনের ব্যয় পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি এবং তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের জন্য ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অর্থাৎ, ‘সবার জন্য সৌরবিদ্যুৎ’ এমন একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অংশ জনগণের নিজেদের বাড়িতেই বিকেন্দ্রীভূতভাবে উৎপাদিত হবে।

    দেশের রেলওয়ে এবং লঞ্চ স্টেশনগুলোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের ৩০০-এর বেশি রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এবং লঞ্চ টার্মিনালের ওপর থাকা শেডগুলোতে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে। রেলওয়ে এবং লঞ্চ টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ চাইলে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি স্টেশনের ছাদ ও অন্যান্য উপযুক্ত স্থাপনা পরিদর্শন করে কতটুকু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, তার একটি হিসাব তৈরি করতে পারে। শুধু স্টেশন নয়, রেলওয়ের বিভিন্ন ভবন, কার্যালয়, ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য স্থাপনাও এই কর্মসূচির আওতায় আনা যেতে পারে। এতে রেলওয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ পূরণ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও চাপ কমবে।

    এছাড়াও দেশের হাজার হাজার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের ছাদগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।একটি বিদ্যালয় হয়তো অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কিন্তু দেশের হাজার হাজার বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তার সম্মিলিত পরিমাণ নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য হতে পারে।এর পাশাপাশি এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তব শিক্ষা ক্ষেত্রও তৈরি করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে ধারণা লাভ করতে পারবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।

    দেশের অসংখ্য মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভবনেও সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় মসজিদ, মডেল মসজিদ ও অন্যান্য বড় ধর্মীয় স্থাপনার ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী ছোট ও মাঝারি আকারের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিদ্যুতের একটি বড় অংশ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারবে। এখানেও সংশ্লিষ্ট মসজিদ বা মন্দির কমিটি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই প্রকল্পের অর্থায়ন, মালিকানা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদিত বিদ্যুতের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে হবে। শুধু সোলার প্যানেল বসালেই হবে না, তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সৌরবিদ্যুৎকে বিদ্যুৎ সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখলে চলবে না।

    এটি হতে পারে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উৎস। কারণ সৌরবিদ্যুৎ দিনের বেলায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। সন্ধ্যা ও রাতে এর উৎপাদন কমে যায়। তাই সৌরবিদ্যুতের সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ, স্মার্ট গ্রিড, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। এ ছাড়া নিম্নমানের সোলার প্যানেল বা অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই সরকারকে মান নির্ধারণ, অনুমোদিত সরবরাহকারী নির্বাচন, ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজন জাতীয় ‘রুফটপ সোলার মিশন’এখন প্রয়োজন বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি প্রকল্প নয়; বরং একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি। সরকার চাইলে ‘জাতীয় রুফটপ সোলার মিশন’ বা এ ধরনের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। এর আওতায়—সরকারি অফিস-আদালত; বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা; রেলওয়ে স্টেশন; লঞ্চ টার্মিনাল, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়; মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান; হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র; আবাসিক ভবন এবং সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদ ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে।

    প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য ছাদ ও স্থাপনার একটি ডিজিটাল তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। কোথায় কত কিলোওয়াট বা মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, কত ব্যয় হবে এবং কত বছরে বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসতে পারে তারও একটি বাস্তবসম্মত হিসাব করা প্রয়োজন।উদ্যোগের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে এ ধরনের একটি বিশাল কর্মসূচি কেবল সরকারের পক্ষে একা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির কমিটি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকার অর্থায়নের পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দিতে পারে। ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদি সহজ কিস্তির ঋণ দিতে পারে। বেসরকারি খাত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারে। আর জনগণ হতে পারে এই বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অংশীদার।

    সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিদ্যুৎ সংকট শুধু একটি খাতের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত।

    তাই সংকট দেখা দিলে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির পাশাপাশি বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে।বাংলাদেশের প্রতিটি উপযুক্ত ছাদ যদি একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত হয়, প্রতিটি রেলওয়ে স্টেশনের শেড যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, প্রতিটি বড় স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের বিদ্যুতের একটি অংশ নিজেরাই উৎপাদন করে তাহলে সম্মিলিতভাবে এর প্রভাব ছোট হবে না।

    প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ অর্থায়ন এবং কঠোর বাস্তবায়ন। আজ যে ছাদগুলো খালি পড়ে আছে, আগামী দিনের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সেই ছাদগুলোই হতে পারে আমাদের অন্যতম বড় সম্পদ। বিষয়টি নিয়ে সরকার বাহাদুর গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে পারেন।

    লেখক : আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সভাপতি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।

  • এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না–আহমেদ আবু জাফর 

    এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না–আহমেদ আবু জাফর 

    মন্তব্য কলাম: এভাবে আর কোনো পুলককে
    গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না।

    এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে আমরা হারাতে চাইনা। দেশের অরক্ষিত গণমাধ্যম, অনিশ্চিত সাংবাদিকতা এবং আমাদের গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় । একজন সাংবাদিক যখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তখন সত্যিই আর কিছু বলার থাকে না। তবে কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। যে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার আদৌ সুযোগ নেই। বরং একজন সাংবাদিকের এমন করুণ মৃত্যু আমাদের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের ভেতরে জমে থাকা অদৃশ্য সংকটগুলো নতুন করে সামনে এনে দেয়। পারবে রাষ্ট্র কি পারবে গণমাধ্যম অঙ্গনের এই অসঙ্গতি গুলো পুরোপুরি সমাধান দিতে? পুলক চ্যাটার্জী হয়তো চেয়েছিলেন বরিশালে সমকাল অফিসের মধ্যে আত্মাহুতি দিয়ে গোটা গণমাধ্যম অঙ্গনকে মুক্তি দিতে। সাংবাদিকরা কী পারবে তার সেই আত্মাহুতির অনুভূতি টের পেতে? তিনি চিরকুটে লেখে গেছেন তার সেই অনুভূতি গুলো। এখন দরকার সেই অনুভূতি গুলো নিয়ে আলোচনা করা, সমস্যার সমাধানে কাজ করা।

    বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু তেমনই এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আমাদের। পুলক চ্যাটার্জি ছিলেন দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরিশালের ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চীফ অ্যাসোসিয়েশন-এনডিবিএ’র স্থানীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ছিলেন সাহসী, স্পষ্টবাদী ও দায়িত্বশীল কলমযোদ্ধা।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো কার্যালয় থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ঘটনাস্থলের ছবি, মরদেহের অবস্থান এবং তার রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ছবি বা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কিন্তু একটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তে নির্ধারিত হবে এটি যেমন সত্য, তেমনি সেই মৃত্যু আমাদের সামনে যে বৃহত্তর প্রশ্নগুলো রেখে যায়, সেগুলো নিয়েও গণমাধ্যম অঙ্গনের সাথে জড়িতদের কথা বলা জরুরি।

    বলুনতো, একজন সাংবাদিকের চাকরি কি শুধু একটি পদ? চাকরি হারানোর পর একজন দীর্ঘদিনের পেশাজীবীর জীবনে কী ধরনের আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকট তৈরি হতে পারে তা গোটা দেশের সামনে পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নটি নির্মমভাবে সামনে এনেছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে একজন সাংবাদিকের চাকরি অনেকের কাছে হয়তো একটি পদ, একটি বেতন কিংবা একটি কর্মসংস্থান। কিন্তু একজন সাংবাদিকের কাছে চাকরিটি তার পেশাগত পরিচয়, পরিবারের জীবিকা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর হঠাৎ চাকরি হারানো একজন সাংবাদিকের জন্য শুধু কর্মহীন হয়ে পড়া নয়; এটি অনেক সময় তার সমগ্র জীবনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। গতকাল পুলক চ্যাটার্জীর মৃত্যুর পর থেকে বরিশাল সহ সারাদেশের সাংবাদিকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ এবং উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।

    তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে- কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার আগে কি একবারও ভাবেন, এই সিদ্ধান্তের পর তার পরিবার কীভাবে চলবে? তার সন্তানদের পড়াশোনা কীভাবে হবে? বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, ঋণ কিংবা নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা কী? চাকরি দেওয়া এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক এখতিয়ার হতে পারে। কিন্তু সেই এখতিয়ারের সঙ্গে কি কোনো মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকবে না? একজন হোটেল কর্মচারী মুদি দোকানের সেলসম্যানের বা গার্মেন্টসের শ্রমিকদের চাকরিটি কিন্তু তাৎক্ষণিক হারানোর সম্ভাবনা নেই। অথচ সাংবাদিকদের চাকরি হারানো সহজ যেন কচুপাতার পানি। এখানে নেই কোনও মানবতা বা দরদ। আছে শুধু স্টিমরোলার।

    আমাদের দেশের সাংবাদিকরা সবচেয়ে অরক্ষিত যোদ্ধা। যেমন মিডিয়া অঙ্গনে নিরাপত্তা নেই ; তেমনি নেই বাইরের নিরাপত্তা। যেনো উভয় সঙ্কটাপন্ন। দেশের গণমাধ্যমের বড় একটি অংশের সংবাদ সংগ্রহ হয় মফস্বল থেকে। মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি বড় অংশই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। এদের ৯০ ভাগ সাংবাদিকের নেই বেতন, ভাতা, রেশন, পেনশন শুধুই টেনশন। অথচ, ওয়েজবোর্ড নামের সোনার হরিনের সাথে দেখা মেলেনা-কারোরই।

    একজন সাংবাদিক প্রতিদিন সংবাদ সংগ্রহে বের হন নিজের খরচে। তার মোবাইল বিল আছে, ইন্টারনেট বিল আছে, যাতায়াতের খরচ আছে। কখনো ইউনিয়ন পরিষদ, কখনো উপজেলা, কখনো জেলা শহর, কখনো আদালত, হাসপাতাল কিংবা দুর্গম কোনো এলাকায় ছুটতে হয় তাকে। তার নিজের সংসার আছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ আছে। চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সাংবাদিকের আয় কোথা থেকে আসবে? অনেক ক্ষেত্রেই মফস্বল সাংবাদিকরা নিয়মিত ন্যূনতম সম্মানী পর্যন্ত পান না। অথচ প্রত্যাশার যেন শেষ নেই নিউজ দাও, বিজ্ঞাপন দাও, প্রচার বাড়াও।

    একজন সাংবাদিকের শ্রমের মূল্য কত? তার মাসিক আয় কত? তার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা কী? অসুস্থ হলে কী হবে? চাকরি চলে গেলে কী হবে? দীর্ঘদিন কাজ করার পর অব্যাহতি পেলে তার পাওনা কীভাবে পরিশোধ হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি গণমাধ্যম ব্যবস্থার কাছে আছে? পত্রিকার ব্যবসা থাকবে, সাংবাদিকের অধিকারও থাকতে হবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে, বিনিয়োগ করবে, লাভ করবে এটি স্বাভাবিক। সংবাদপত্র ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং মানবিক হওয়াও জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাংবাদিক ও কর্মীদের অধিকার কেন অনিশ্চিত থাকবে?

    কোনো কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের ব্যবসা ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বা ঋণও পেয়ে থাকে এমন অভিযোগ ও আলোচনা সমাজে রয়েছে। এসব বিষয়ে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বিপরীত চিত্রটি আরও বেদনাদায়ক। একদিকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকার আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, অন্যদিকে সেই প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের একজন সাংবাদিক তার মাসিক মোবাইল বিল কিংবা যাতায়াত খরচ মেটাতে হিমশিম খান। এই বৈপরীত্য কি আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে না? সাংবাদিকতা কি শুধু দায়িত্ব, নাকি পেশাও? সাংবাদিকের কাছে সাংবাদিকতা একটি দায়িত্ব এ কথা সত্য। কিন্তু সাংবাদিকতা একই সঙ্গে একটি পেশাও। আর কোনো পেশাজীবীকে তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য ছাড়া দীর্ঘদিন কাজ করিয়ে নেওয়া হলে সেখানে পেশাগত ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উঠবেই।

    আমাদের দেশে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু কতজনের হাতে বৈধ নিয়োগপত্র আছে? কতজন নিয়মিত বেতন পান? কতজনের চাকরির সুনির্দিষ্ট শর্ত আছে? কতজন চাকরি হারালে ন্যায্য পাওনা পান? কতজন অবসরের পর কোনো নিরাপত্তা পান? এসব প্রশ্নের একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রাহ্য কাঠামো এখনই প্রয়োজন। এজন্য দরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন। তবে তা আদৌ কি হবে? এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়োগ, পদায়ন, চাকরিচ্যুতি ও পেশাগত মূল্যায়নে স্বচ্ছতার প্রশ্ন। কখনো রাজনৈতিক বিবেচনা, কখনো মালিকানা পরিবর্তন, কখনো ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত, আবার কখনো কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সাংবাদিক চাকরি হারাতে পারেন এমন অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যম স্বাধীন হবে এটি যেমন জরুরি, তেমনি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকও যেন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন সাংবাদিক সুরক্ষার জাতীয় নীতিমালা রাষ্ট্র সাংবাদিকের হয়ে সংবাদ লিখবে না। সম্পাদকীয় নীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে না। কিন্তু রাষ্ট্র এমন একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে সাংবাদিকের শ্রমের মূল্য, চাকরির ন্যায্যতা, পাওনা পরিশোধ, বৈষম্যহীনতা এবং ন্যূনতম পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একজন সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হলে তার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। দীর্ঘদিন কাজ করা একজন সাংবাদিক হঠাৎ চাকরিচ্যুত হলে তার পাওনা, নোটিশ, ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে পারে। পুলক চ্যাটার্জিকে চাকুরীচ্যুতি করার পর সমকাল কেন তার বেতন ভাতা পরিশোধ করলেন না এটি কি একজন সাংবাদিকের সাথে অন্যায় এবং দণ্ডনীয় অপরাধ নয়? প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিও শক্তিশালী হওয়া দরকার। নিয়োগপত্র, নির্ধারিত বেতন-ভাতা, ছুটি, কর্মঘণ্টা, চাকরিচ্যুতির স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, ন্যায্য পাওনা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও বৈষম্য প্রতিরোধ এবং সংকটকালে সহায়তার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্যকে আর অবহেলার বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না।

    চাকরি হারানো, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া, আর্থিক সংকট, কর্মস্থলের চাপ কিংবা পেশাগত অপমান একজন মানুষের ওপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং ও সংকটকালীন সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা উচিত। পুলকের মৃত্যু যেন শুধু শোকের খবর হয়ে না থাকে
    পুলক চ্যাটার্জির চলে যাওয়া নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, সহকর্মীদের চোখে পানি থাকবে। কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখা হবে। তারপর হয়তো আমরা আবার আগের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ব। তবে পুলক চ্যাটার্জীর মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

    পুলক চ্যাটার্জীর শোক আর শেষকৃত্য কিন্তু এখানেই শেষ হওয়া উচিত নয়। তার মৃত্যু আমাদের গণমাধ্যমের
    জন্য একটি সতর্কবার্তা। মিডিয়ায় কাজ করা এমন হাজারো ‘পুলক’ হয়তো আজ নীরবে-নিভৃতে দগ্ধ হচ্ছেন। কেউ চাকরি হারানোর আতঙ্কে, কেউ বেতন-সম্মানীর অনিশ্চয়তায়, কেউ পারিবারিক সংকটে, কেউ পেশাগত অবমূল্যায়নে, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা তাদের কতজনের খবর রাখি বা রাখছেন? প্রতিনিয়ত আমার কাছে সারাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিকের নানা কষ্ট গাঁথা বেদনাদায়ক গল্প শোনতে হয়, শুনছি। কিন্তু কিছু করতে পারছিনা, সংকট চারিদিকে। কারো বেতন নেই, কারো চাকরি নেই কাউকে ডেক্স থেকে চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো হচ্ছে, কত কি? গণমাধ্যমের মালিক পক্ষ তৃণমূলের সাংবাদিকদের বেতন ভাতা না দিতে সেন্ট্রাল ডেস্কে অপ্রয়োজনীয় লোকজন-ক্যাডার নিয়োগ দিয়ে হয়রানি করছেন, এমন মিডিয়ার সংখ্যাও কম নেই।
    একজন সাংবাদিককে শুধু সংবাদ সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হয় না। তার প্রয়োজন হয় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য পারিশ্রমিক, সম্মান, চাকরির নিশ্চয়তা এবং বিপদের সময়ে সহায়তার হাত।

    আমরা কি এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যেখানে সাংবাদিক প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ, আর প্রয়োজন শেষ হলে পরিত্যক্ত? নাকি এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যেখানে মালিক ও সাংবাদিকের মধ্যে পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতাও থাকবে? সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এতটুকুও জানি যে, আমার এ লেখাটি অনেক মিডিয়ার কাছে খারাপ লাগবে, গাত্রদাহ হবে তাই ছাপাবেন না, তবুও না বলা কথা গুলো লিখতে বাধ্য হলাম এবং লিখবো। তবে পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তে বেরিয়ে আসুক। সত্য যা-ই হোক, তা জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হোক। কিন্তু একই সঙ্গে তার মৃত্যু যে প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে, সেগুলোও জাতীয় আলোচনার বিষয় হোক। কীভাবে আমাদের অরক্ষিত গণমাধ্যম অঙ্গনকে সুরক্ষিত করা যায়? কীভাবে সাংবাদিকতার কর্ম এবং এই পেশাটিকে রক্ষা করা যায়? এখনই সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। রাষ্ট্রকে নীতিমালা করতে হবে, গণমাধ্যম মালিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে, সম্পাদকদের মানবিক হতে হবে এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে শুধু প্রতিবাদ-বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে হবে, সাংবাদিক সংগঠনের নামে দোকানদারি করলে চলবেনা। কারণ আর কোনো সাংবাদিক যেন পেশাগত অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট, চাকরি হারানোর ভয় কিংবা একাকিত্বের অন্ধকারে হারিয়ে না যান। আর কোনো পুলক চ্যাটার্জিকে আমরা হারাতে চাই না।

    মনে রাখা উচিত, সাংবাদিক বাঁচলে সাংবাদিকতা বাঁচবে। সাংবাদিকতা বাঁচলে গণমাধ্যম বাঁচবে। আর গণমাধ্যম বাঁচলে মানুষের কথা বলার শক্তিটুকুও বেঁচে থাকবে, গণতন্ত্র রক্ষা পাবে।

    লেখক: আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সভাপতি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রী: ০১৭১২৩০৬৫০১।

  • কাউখালীতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একজন নিহত

    কাউখালীতে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একজন নিহত

    কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছে।
    জানাযায়, বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০.৩০ মিনিটের সময় উপজেলার শিয়ালকাঠি চৌরাস্তার ২নং ওয়ার্ডের মোবাইল টাওয়ারের পিছনে মৃত নুরুল হকের ছেলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাইজুল হক (৬০) নিজের পালিত ছাগলের খাবারের জন্য বাড়ির পিছনে কাঁঠাল গাছে উঠে পাতা ও ডাল কাটতে গিয়ে কাউখালী-ভান্ডারিয়া বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের তারের সাথে স্পর্শ হলে মুহূর্তেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
    খবর পেয়ে কাউখালী পল্লী বিদ্যুৎ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লোকজন এসে উক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করে।

    কাউখালী পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের লাইনের পাসের গাছ থেকে ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়েছে। কিন্তু উক্ত মৃত ব্যক্তি গাছ কাটার সময় আমাদেরকে অবহিত করেননি বিদ্যুৎ বন্ধ করার জন্য।
    কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যুৎপৃষ্টে মৃত ব্যক্তির ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য জন্য মরদেহ পিরোজপুরে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • কাউখালীতে নতুন পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ:  ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ

    বিশেষ প্রতিনিধি। 

    পিরোজপুর সড়ক বিভাগাধীন গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-ছারছীনা-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী (জেড-৮০৩৩) জেলা মহাসড়কের ৪৪তম (অংশ) কিলোমিটারে কচুয়াকাঠী বেইলী সেতুর স্থানে একটি আধুনিক পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
    নতুন সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় উক্ত সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন।
    সেতু নির্মাণের সুবিধার্থে কচুয়াকাঠী বেইলী সেতুর উত্তর পার্শ্বে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    সওজ সড়ক উপ-বিভাগ, কাউখালীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আল-আমীন স্বাক্ষরিত ৮ সেপ্টেম্বর এক নোটিশে জানানো হয়, কচুয়াকাঠী মৌজার (জে এল নং-২৪, বিএস খতিয়ান নং-৩, বিএস দাগ নং-১৬৩) সওজ-এর জমিতে গড়ে তোলা টিনশেড, আধাপাকা বাড়ি ও দোকানঘরসহ সব ধরণের অবৈধ স্থাপনা জরুরি ভিত্তিতে অপসারণ করতে হবে।
    নোটিশে  সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত তারিখ  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে স্থান খালি না করা হলে “মহাসড়ক আইন, ২০২১ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। জনস্বার্থে ও সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে বিষয়টিকে অতীব জরুরী হিসেবে গণ্য
  • কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

    কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা  মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ কিন্নরীতে  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে  সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঁখি তালুকদার।

    এসময়  উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রশংসায় সিক্ত কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন

    প্রশংসায় সিক্ত কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন

    মোঃ মেহেদী হাসান,কাউখালী ​।

    পিরোজপুর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান এবং প্রশংসনীয় সাফল্যের জন্য সম্মাননা সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন।
    ৬ই সেপ্টেম্বর(রবিবার) পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভার সভাপতি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী নিজ হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(মঠবাড়িয়া সার্কেল)পার্থ চক্রবর্তী (পিপিএম) জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
    জানা যায় চলতি জুন-জুলাই মাসে রেকর্ড পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং সফলতার সাথে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার করায় কাউখালী থানা পুলিশের এ অর্জনকে পুরো জেলার মধ্যে একটি দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
    ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেনের এই অর্জন কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়,বরং তা কাউখালী থানা পুলিশের নিরলস পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং পলাতক আসামীদের আইনের আওতায় আনতে কাউখালী থানা যে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে, এই পুরস্কার তারই স্বীকৃতি।
    ​সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমেই জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে হবে।
    ​পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান,এই সম্মাননা আগামী দিনে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি বাস্তবায়নে পুরো থানা পুলিশকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি আশাবাদী।
    কাউখালীর সচেতন জনসাধারণ অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেনের এ অর্জন, পুলিশের কর্মস্পৃহা বাড়াতে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারনা পোষণ করেন।
    ​অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার(নেছারাবাদ সার্কেল) প্রণয় রায়।

  • কাপ্তাই টু চট্টগ্রাম সড়ক ৩ বছর ধরে পাইলিং জটিলতায় থমকে আছে ব্যাঙছড়ি সেতুর নির্মাণ কাজ

    কাপ্তাই টু চট্টগ্রাম সড়ক ৩ বছর ধরে পাইলিং জটিলতায় থমকে আছে ব্যাঙছড়ি সেতুর নির্মাণ কাজ

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ব্যাঙছড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন পাকা সেতুর কাজ পাইলিং জটিলতায় প্রায় তিন বছর ধরে থমকে আছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাঙছড়ি এলাকার পুরোনো কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে নতুন পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নির্মাণকাজ শুরু হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাশে একটি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পাইলিং-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে মূল সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।কাপ্তাই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন। পাশাপাশি স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেইলি ব্রিজটি ব্যবহার করতে গিয়ে ঝুঁকি ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।স্থানীয় সিএনজি চালক আবু বক্কর ও গিয়াস উদ্দিন, মোটরসাইকেল আরোহী পাইসু মারমা এবং ট্রাকচালক জব্বার বলেন, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার পরিবর্তে নতুন পাকা সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছিলেন। দ্রুত কাজ শেষ হলে নিরাপদে যানবাহন চলাচল করবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর যাবত  কাজ বন্ধ থাকায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সংস্কার না করার ফলে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে একাধিকবার সড়ক দূর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে বলে চালকগন অভিযোগ করে।   চট্টগ্রাম জেলা বাস-মিনিবাস সমিতির সভাপতি নুর হোসেন জানান,  দীর্ঘদিনেও পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। দ্রুত কাজ শেষ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

    দক্ষিণ চট্টগ্রাম ট্রাক সমিতির সভাপতি মির্জা নাজিম উদ্দীন খোকন বলেন, পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কাজ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিও হচ্ছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইরফান উল করিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পাইলিং জটিলতার কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানোর (ওয়ার্ক এক্সটেনশন) প্রয়োজন হয়েছে।নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে তিনি বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণস্থলে রাখা রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীও পড়ে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান,আমি বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলবে বলে জানান। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান,  কারিগরি ত্রুটির কারণে কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। দ্রুতই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত পাইলিং জটিলতা নিরসন করে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।