কাপ্তাই প্রতিনিধি।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এসডিজি ভিলেজে ‘এসডিজি স্থানীয়করণে অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভার আয়োজন করে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, এসডিজি ভিলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকারি সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গ্রামের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ঋণ সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই সৃষ্টি করতে হবে। মিতিঙ্গাছড়িতে রাস্তাঘাটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন কাপ্তাই সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মিতিঙ্গাছড়ি এসডিজি ভিলেজের সমন্বয়ক মো. মনজুরুল হক।সভায় রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, সমাজসেবা অধিদপ্তর রাঙামাটির উপপরিচালক ও এসডিজি জেলা কমিটির সদস্যসচিব মো. ফরিদুল আলম, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য উথোয়াই মং মারমা, কাপ্তাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেলী রুদ্র, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. রহমত উল্লাহ এবং কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দারা সভায় অংশ নেন।মতবিনিময় সভায় গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, ইসরাত জাহান পারুল, শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার ও বেকার যুবক মো. ইব্রাহীম স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, মোবাইল নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা, গ্যাস-সংকট সমাধান, শিল্পকারখানা স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান।গ্রামবাসীর উত্থাপিত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প সম্পর্কে বক্তব্য দেন।সভায় বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক হাজারী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এরশাদ বিন শহীদ, উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহআলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, বিআরডিবি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকের, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার সোশেল চাকমা, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খায়রুল আলম, এসডিজি ভিলেজের তথ্য সংগ্রহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বাপ্পা মল্লিক এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকার কাপ্তাই উপজেলা সমন্বয়ক মায়া চাকমা।সভায় মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের এসডিজি সূচকগুলোর বর্তমান অবস্থা, স্থানীয় মানুষের চাহিদা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তর, এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এর আগে কাপ্তাই তথ্য অফিসের উদ্যোগে এসডিজিবিষয়ক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।উল্লেখ্য, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গত ১০ আগস্ট দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসব গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।









