কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে লেকবেষ্টিত একটি দ্বীপে অবস্থিত বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মসজিদটি দীর্ঘ ৫৮ বছরেও পূর্ণ সংস্কার করা হয়নি। ফলে মসজিদটির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে এবং পিলার না থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। সকালে মক্তবে কোরআন পড়তে আসা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশকেন্দ্র এলাকায় প্রায় ৬০০ পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের অধিকাংশ মানুষ লেকে মাছ শিকার, দিনমজুরি ও মৌসুমি ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্থানীয়দের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির পূর্ণ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় মসজিদে জায়গার সংকুলান হয় না। অনেককে বাইরে ও পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে, মসজিদের ওজুখানার অবস্থাও নাজুক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মুসল্লি জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি লেকে নৌকা ও সাম্পান চালিয়ে সংসার চালাই। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে সব সময় ভয়ে থাকি। চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওজুখানার অবস্থাও খারাপ। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও পূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নিলে আমরা নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারতাম।”
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মনসুর মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন আগে দ্বীপের মধ্যে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও অসহায়। তাদের পক্ষে মসজিদ সংস্কার করা তো দূরের কথা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি মসজিদটির পূর্ণ সংস্কারে বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মসজিদের ইমাম হাফেজ মোশাররফ হোসেন বলেন, মসজিদের চারপাশে ফাটল রয়েছে এবং পিলার না থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সময় কখন ভবনটি ভেঙে পড়ে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। ভূমিকম্প বা বড় ধরনের ঝড় হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তাই দ্রুত মসজিদটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
মসজিদের মুয়াজ্জিন মামুন হোসেন বলেন, সকালে ছোট ছোট শিশু ও কিশোরেরা মক্তবে পবিত্র কোরআন পড়তে আসে। জরাজীর্ণ ভবনে তাদের পাঠদান করাতে গিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে এলাকার শত শত পরিবারের মানুষ নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং শিশুরাও নির্বিঘ্নে মক্তবে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।









