Blog

  • রাজস্ব ফাঁকির সংবাদ প্রকাশে মামলা; জামিন পেলেন দুই সম্পাদক

    রাজস্ব ফাঁকির সংবাদ প্রকাশে মামলা; জামিন পেলেন দুই সম্পাদক

    News 52 bangla.

    ‎ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রী: ‎সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও দুই কর্মকর্তার উপর হামলার চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির খবর প্রকাশের জেরে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে দায়ের করা ২০ লাখ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল বিরুনী মীর দীর্ঘ শুনানি শেষে দুই সম্পাদকের জামিন মঞ্জুর করেন।

    ‎গাজীপুরের আলোচিত ও বিতর্কিত প্রতারক হাবিবুর রহমান ওরফে ‘পল্টি হাবিব’-এর বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন । এই সংবাদ প্রকাশের পরেই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে হাবিবের সিন্ডিকেট সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের বিরুদ্ধে এই মনগড়া ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

    এতে সাংবাদিক সমাজ মনে করছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করার জেরে এই ধরনের গায়েবি মামলা স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি নগ্ন হস্তক্ষেপ ও কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা মাত্র।
    ‎
    ‎হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শুরু থেকেই মাঠে সোচ্চার রয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আদালতে অভিযুক্ত দুই সম্পাদকের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কাওসার হোসাইন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দায়ের করতেই পারেন। তাই বলে কোনোপ্রকার তদন্ত ছাড়া সরাসরি ওয়ারেন্ট জারী করা কতটুকু আইনসিদ্ধ তা জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সত্য প্রকাশ করায় কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা হলে পুরো সাংবাদিক সমাজ তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
    ‎
    ‎জামিন পাওয়ার পর দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “সাংবাদিকদের কলম ও অনুসন্ধানী দৃষ্টি থামাতেই এই ধরনের বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং সত্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকদের একমাত্র কাজ। মিথ্যা মামলা বা হুমকি-ধমকি দিয়ে সত্যের অগ্রযাত্রা কখনো থামিয়ে রাখা যাবে না।”

    উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট গাজীপুরের হাবিবুর রহমান নামের এক হোটেল ব্যবসায়ী দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তার কাছে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালত কোনোরূপ তদন্ত ছাড়াই আসামি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারী করেন।
    ‎

  • কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    কাউখালীতে ৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    বিশেষ প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে কঁচা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

    এ সময় নদীর পাঙ্গাসিয়া প্রান্ত থেকে প্রায় ৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
    সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে কঁচা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে এসব অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়।
    পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
    অভিযানের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

  • কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ

    কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ

    বিশেষ প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
    উপজেলা পরিষদ চত্বরের ফাঁকা জায়গায় নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালী উপশাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং ব্যাংকের সার্বিক আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়া, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আবু কাওছার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহ ইমরান ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা, সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, নুরুল হুদা বাবু,উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মিলন কুমার রায়, উপসহকারী কৃষি অফিসার মাইনুল হুদা ও সৈয়দ ফাহিম। এছাড়া পূবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালী উপশাখার অফিসার সাদ্দাম হোসেন ও সাইফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
    আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়াতে উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় নারিকেল, আম, জাম, কাঁঠাল, আমলকী ও হরিতকিসহ প্রায় ৫ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হবে।
    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
    আজকের এই উদ্যোগটি সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে হলে বেশি করে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে পূবালী ব্যাংকের এই অংশগ্রহণ আমাদের কাউখালী উপজেলাকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
    কর্মসূচির সার্বিক বিষয়ে পূবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালী উপশাখার সিনিয়র অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন,
    পূবালী ব্যাংক সবসময়ই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। কাউখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে

  • দানবাক্স ও ঔষধ চুরি   কাপ্তাই শিল্প এলাকা কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরি

    দানবাক্স ও ঔষধ চুরি  কাপ্তাই শিল্প এলাকা কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরি

    নিজস্ব সংবাদদাতা-কাপ্তাই ।

    রাঙামাটি কাপ্তাই ৪নম্বর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড শিল্পএলাকা কমিউনিটি ক্লিনিকের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার(২৬অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০মিনিটে ক্লিনিক খুলতে গিয়ে তালা ভাঙ্গা দেখেন উক্ত কমিউনিটি ক্লিনিক এর সি এইচ সি পি।

    সি এইচ সি পি খোদেজা আকতার জানান,ক্লিনিক খুলতে  গিয়ে দেখি তালা  ভাঙা, ভিতরে প্রবেশ করে দেখি রোগিদের দেয়া ৫টাকা করে নেয়া দানবাক্স হতে রক্ষিত টাকা এবং কিছু সরকারি ঔষধ নিয়ে গেছে। প্রায় তিনটি তালা ভেঙে ফেলেছে। বিষয় টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিএইচও, ও এলাকার ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়েছে। এবং থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান। কাপ্তাই পুলিশ ফাঁড়ির এস আই মামুন ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে যায়।এবং তিনি দেখেন কমিউনিটি ক্লিনিক এর তালা ভেঙে দানবাক্স রক্ষিত কিছু টাকা ও সরকারি ঔষধ নিয়ে গেছে বলে জানতে পাড়ি। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল জানান, কাপ্তাই উপজেলাসহ শিল্প এলাকা, সুইডিশ এলাকা,জাকির হোসেন স্ মিল, নতুন বাজার, জেটিঘাট বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।

  • কাউখালীতে কঁচা নদীতে অভিযান, আড়াই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    কাউখালীতে কঁচা নদীতে অভিযান, আড়াই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

    বিশেষ প্রতিনিধি‌।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে উপজেলার কঁচা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা।
    জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে কঁচা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে এসব অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বর্তমান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। কিন্তু কিছু অসাধু ও অসচেতন মৎস্যজীবী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
    তিনি আরও বলেন, অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমজুড়ে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

  • ৫৮ বছরেও পূর্ণ সংস্কার হয়নি কাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ

    ৫৮ বছরেও পূর্ণ সংস্কার হয়নি কাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ

    কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে লেকবেষ্টিত একটি দ্বীপে অবস্থিত বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ।

    ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মসজিদটি দীর্ঘ ৫৮ বছরেও পূর্ণ সংস্কার করা হয়নি। ফলে মসজিদটির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে এবং পিলার না থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। সকালে মক্তবে কোরআন পড়তে আসা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশকেন্দ্র এলাকায় প্রায় ৬০০ পরিবারের বসবাস। এসব পরিবারের অধিকাংশ মানুষ লেকে মাছ শিকার, দিনমজুরি ও মৌসুমি ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্থানীয়দের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটির পূর্ণ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

    বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় মসজিদে জায়গার সংকুলান হয় না। অনেককে বাইরে ও পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে, মসজিদের ওজুখানার অবস্থাও নাজুক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মুসল্লি জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি লেকে নৌকা ও সাম্পান চালিয়ে সংসার চালাই। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে সব সময় ভয়ে থাকি। চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওজুখানার অবস্থাও খারাপ। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মসজিদটি পুনর্নির্মাণ ও পূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নিলে আমরা নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারতাম।”

    মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মনসুর মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন আগে দ্বীপের মধ্যে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও অসহায়। তাদের পক্ষে মসজিদ সংস্কার করা তো দূরের কথা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি মসজিদটির পূর্ণ সংস্কারে বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    মসজিদের ইমাম হাফেজ মোশাররফ হোসেন বলেন, মসজিদের চারপাশে ফাটল রয়েছে এবং পিলার না থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সময় কখন ভবনটি ভেঙে পড়ে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। ভূমিকম্প বা বড় ধরনের ঝড় হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তাই দ্রুত মসজিদটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

    মসজিদের মুয়াজ্জিন মামুন হোসেন বলেন, সকালে ছোট ছোট শিশু ও কিশোরেরা মক্তবে পবিত্র কোরআন পড়তে আসে। জরাজীর্ণ ভবনে তাদের পাঠদান করাতে গিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে এলাকার শত শত পরিবারের মানুষ নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং শিশুরাও নির্বিঘ্নে মক্তবে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

  • উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সরকারি দলের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে- প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর সুমন

    উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সরকারি দলের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে- প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর সুমন

    মোঃ মেহেদী হাসান, কাউখালী।
    ​
    পিরোজপুরের কাউখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপজেলার দুর্গামন্দিরসমূহ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আর্থিক অনুদান ও উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর সুমন তার বক্তব্যে একথা বলেন।
    ​তিনি আরও বলেন,এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না,এই দেশ আপনাদের,আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া কামনা করে বলেন,আমরা বিভাজনের নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়নের রাজনীতি করি।
    তাই আগামীতে সুন্দর ও উন্নত কাউখালী গড়তে উপজেলার যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড,মাদক নির্মূল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। একইসাথে যেসব মন্দিরে সংস্কার কাজ প্রয়োজন,তা অনতিবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে(ইউএনও) অবহিত করার জন্য নির্দেশনাও প্রদান করেন।
    এ সময় উপজেলার ২৫টি দূর্গা মন্দিরে, মন্দির কমিটির দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ১৭৫ জন নারীকে শাড়ি ও ৭৫ জন পুরুষকে লুঙ্গি প্রদান করা হয়।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে,১৯শে অক্টোবর(সোমবার) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় উপজেলা হলরুমে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
    ​উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক(বিআরডিবি)​ সুপ্রিয় কুমার কুন্ডু,কাউখালী থনার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, সাধারন সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ প্রমুখ।
    অন্যান্যের মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফিউল আজম দুলাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত হোসেন তালুকদার সহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা,উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলার ২৫টি পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীল সদস্যবৃন্দ।
    পরিশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সার্বিক তদারকির পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম।

  • সিআইডি পুলিশের স্ত্রীর মামলায় ৩ সাংবাদিকের জামিন করালো বিএমএসএফের আইনজীবীরা

    সিআইডি পুলিশের স্ত্রীর মামলায় ৩ সাংবাদিকের জামিন করালো বিএমএসএফের আইনজীবীরা

    News 52 Bangla.

    ফরিদপুরে মাদক কারবারি এবং বালু দস্যুদের হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা ও বিচারিক আদালত কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগে এক সিআইডি পুলিশের স্ত্রী আয়েশা আক্তার দায়ের করেছিলেন।

    রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্ত তিন সাংবাদিকের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের নির্যাতিত সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলায় আহত হয়ে শারীরিক অসুস্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অপর আসামিরা হলেন রাজধানী টেলিভিশনের ফরিদপুর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম ও এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন কমিটির পক্ষে শুনানি করেন এ্যাড. আছিবুর রহমান আসিফ, এ্যাড. খায়ের উদ্দিন সিকদার, এ্যাড. নাজমা সুলতানা নীলা ও এ্যাড. মশিউর রহমান। এছাড়াও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি জাকির হোসেন সহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    মামলার ১ নং আসামি সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সংবাদ প্রকাশের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মাদক কারবারি ও বালু উত্তোলনকারীদের হামলায় তাঁর হাত-পা ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কোনরূপ তদন্ত ছাড়া সম্প্রতি ঢাকার আদালতে দায়ের করা এ মামলাটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর সাংবাদিকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সংগঠনটি হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ান এবং আইনি লড়াইয়ের উদ্যোগ নেন।

    মামলার বাদী একজন সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলাটিতে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এ ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হব বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হতে হবে। মামলার কোনরূপ তদন্ত ছাড়া সরাসরি ওয়ারেন্ট জারী আইনসিদ্ধ কি-না তা নিয়ে আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই।
    একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ মামলাটিতে হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের পক্ষে আইনী পরামর্শ এবং সহযোগিতা করা হবে।

    নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনসহ অপরাপর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিরও দাবি জানান।

  • Untitled post 4676

    পিরোজপুরের কাউখালীতে পূর্বশত্রুতার জেরে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি কাউখালী সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি গ্রামের অলিউর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে কাউখালী সদর ইউনিয়নের নৈকাঠি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত সরোয়ারকে উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সরোয়ারের অভিযোগ, তিনি তাঁর বোনের জন্য খুলনার গাড়িতে কিছু পারিবারিক মালামাল পাঠানোর উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে নৈকাঠির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৈকাঠি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এনায়েত হোসেনের ছেলেরা তাঁর ওপর হামলা করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নৈকাঠিতে নিয়ে যান। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরে এনায়েত হোসেনের তিন ছেলে, তাঁদের এক কর্মচারীসহ আরও কয়েকজন সেখানে এসে তাঁর ওপর আবারও হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    সরোয়ার বলেন, হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারীরা নৈকাঠি ব্রিজের ঢালে অবৈধ ভাবে বালুর ব্যবসা করে মানুষকে দেখায় কিন্তু তারা বালুর ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেন সরোয়ার।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে কাউখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা একজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। অভিযোগের বিষয়টি আইনগত কার্যক্রমের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যাকাণ্ডে দৃশ্যমান অগ্রগতি না পেলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী

    সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যাকাণ্ডে দৃশ্যমান অগ্রগতি না পেলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী

    News 52 Bangla.

    ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রী: সাংবাদিককে দিনের আলোয় কুপিয়ে জখম, ১১ মাস পর গুলি করে হত্যা এ কেমন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা? এ প্রশ্ন গোটা সাংবাদিক সমাজের। মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অবস্থান ও ফেসবুকে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে সোচ্চার গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজ।

    এদিকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের মরদেহ
    ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার আছর নামাজবাদ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানাগেছে।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যাকাণ্ডে দৃশ্যমান অগ্রগতি না পেলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করা হবে। একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকান্ড এবং বিচারহীনতা গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। সাংবাদিকদের এখন আর বসে থাকার সুযোগ নেই। সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে হত্যা শুধু একজন সাংবাদিকের প্রাণহানি নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর এক ভয়াবহ আঘাত। সাংবাদিকদের বাঁচাতে সরকারকে অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ দেখছি না। তবে হত্যাকান্ডের বিষয়টি আমরা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছি; যে কোন সময় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে।

    সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মাদকবিরোধী ফেসবুক পোস্টকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাটে চাপাতি দিয়ে সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ রাতে তাঁকে গুলি করে হত্যার খবর সামনে এসেছে। আগের হামলার পর কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, হামলার পেছনের ব্যক্তিরা শনাক্ত হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি কী এসব প্রশ্নের জবাব এখন জরুরি।

    একই সাংবাদিকের ওপর বারবার হামলা, শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি এ ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্টদের এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি সাংবাদিক হত্যার পর তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হবে, অথচ অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তের নামে কালক্ষেপণ নয়, আমরা চাই দৃশ্যমান ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ।

    দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরের হামলার ঘটনা পুনঃপর্যালোচনা করে ওই হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন। নিহত সাংবাদিকের পরিবার, সহকর্মী ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর অগ্রগতি না দেখা গেলে বিচার দাবিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কলম বিরতি, মানববন্ধন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, লংমার্চ সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।