Category: সম্পাদকীয়

  • ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে বড় ঋণ চাপে পতন: কেন ব্যবসায়ীরা একই ফাঁদে পড়ছেন

    ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে বড় ঋণ চাপে পতন: কেন ব্যবসায়ীরা একই ফাঁদে পড়ছেন

    মো: আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতে ঋণনির্ভর ব্যবসার বিস্তার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ঋণঝুঁকি ও খেলাপির সংখ্যা। শুরুতে স্বাভাবিক ভাবে চলা অনেক ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় ঋণচাপে পড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা সম্পদ নিলামে ওঠার মতো পরিস্থিতিতে গড়াচ্ছে।

    ব্যাংকিং খাত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই ধরনের পতন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে অনেক ব্যবসা একই পথে এগোচ্ছে।

    ব্যবসায়ীরা সাধারণত Black Plate Sheet (BP Sheet) বা অনুরূপ শিল্পপণ্য দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এই পণ্য বাস ট্রাক বডি, শিপ ফ্যাব্রিকেশন, কন্টেইনার ও রুফিং শিল্পে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে নির্মাণ খাতে পাথর, বিটুমিনসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যও ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসার মূল অংশ হিসেবে থাকে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসার চিত্র থাকে স্বাভাবিক। পণ্য বৈধ, গ্রাহক নিয়মিত, বাজারে চাহিদা থাকে এবং ব্যাংক লেনদেনও স্বাভাবিক থাকে।

    তবে মূল সংকট দেখা দেয় working capital ঘাটতিতে।

    সরবরাহকারীদের অগ্রিম পরিশোধ করতে হলেও অনেক ক্রেতার কাছ থেকে বাকি পাওয়ার কারণে নগদ প্রবাহে ঘাটতি তৈরি হয়।
    এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে working capital লিমিট নেওয়া হয়। শুরুতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার সীমা থেকে তা ধীরে ধীরে কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

    উল্লেখ্য, ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক ভাবে এটি স্বাভাবিক ব্যবসা সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
    লিমিট বাড়ার পর কিছু ব্যবসায়ী ব্যাংক ফাইন্যান্স ব্যবহার করে কেবল নিজের ব্যবসা নয়, বরং তৃতীয় পক্ষের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও যুক্ত হন।

    একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, LC খুলে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও প্রকৃত ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ থাকে অন্য পক্ষের হাতে।
    ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা কমিশন বা অতিরিক্ত আয়ের আশায় নিজের লিমিট ব্যবহার করে অন্যের ব্যবসা পরিচালনায় অংশ নেন। এতে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ গ্রাহকের হাত থেকে সরে যায়।

    প্রথমদিকে লেনদেন স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ব্যবসার এক্সপোজার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় ঋণের পরিমাণ বাড়ছে কিন্তু নগদ প্রবাহ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। স্টক ও বিক্রির মধ্যে অমিল তৈরি হয় এবং পাওনা আদায় অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

    একই সময়ে অনেক ব্যবসায়ীর জীবন যাত্রায় পরিবর্তন দেখা যায়। নতুন গাড়ি, বাড়ি নির্মাণ এবং অতিরিক্ত ব্যয় ব্যবসার নগদ প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। ব্যবসার আয় না বাড়লেও ব্যক্তি গত ব্যয় বাড়লে ঋণনির্ভরতা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

    ব্যাংক যখন নগদ প্রবাহ, স্টক এবং লেনদেনে অসঙ্গতি শনাক্ত করে তখন সীমিতকরণ বা সতর্কতা জারি করে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এটিকে সহযোগিতা হিসেবে না দেখে বাধা হিসেবে বিবেচনা করেন।

    এরপর অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায়। এক ব্যাংক ঝুঁকি সংকেত দিলে ব্যবসায়ী অন্য ব্যাংকে যান, যেখানে তুলনা মূলক ভাবে বেশি লিমিট অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ঋণ এক্সপোজার আরও বেড়ে যায়।

    এক পর্যায়ে ব্যবসা বড় আকার ধারণ করলেও ভেতরে ভেতরে সংকট ঘনীভূত হতে থাকে। পাওনা আটকে যায়, চেক ডিজঅনার হয়, LC দায় পরিশোধে ব্যর্থতা তৈরি হয় এবং ব্যাংক ঋণ অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

    ব্যাংক তখন আইনগত পদক্ষেপ নেয় এবং মর্টগেজ সম্পত্তি নিলামে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে পুরো দায় সমন্বয় সম্ভব হয় না।
    ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, SME খাতে খেলাপি হওয়ার পেছনে কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে।
    প্রথমত, ঋণকে ব্যবসার বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। দ্বিতীয়ত, নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণে দুর্বলতা থাকে। তৃতীয়ত, তৃতীয় পক্ষের প্রভাব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করে। চতুর্থত, সহজ লাভের প্রত্যাশা কাজ করে। পঞ্চমত, ব্যক্তিগত ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ষষ্ঠত, পাওনা ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা দেখা দেয়।

    একজন সিনিয়র ব্যাংকার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা ঋণ দেওয়া নয়, বরং সেই ঋণের ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব।
    বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের SME খাতে অনেক ব্যবসার পতন হঠাৎ ঘটে না। এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া, যেখানে শুরুতে থাকে প্রবৃদ্ধি, এরপর অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ, পরে নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং শেষ পর্যন্ত নগদ প্রবাহ ভেঙে পড়া।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকসই ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো ঋণ নয়, বরং নগদ প্রবাহ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা।
    মতামত ও নীতিগত দাবি
    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য LC সুবিধা নিয়ে বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেক উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের মতে, বিদ্যমান কাঠামোয় তুলনা মূলক ভাবে বড় ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা বেশি সুবিধা পেলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনেক ক্ষেত্রে একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    বিশেষ করে নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ব্যবহৃত পাথর, বিটুমিন সহ গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও ন্যায্য LC সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। অনেক ব্যবসায়ী মনে করেন, ভোমরা ও বেনাপোল সহ সীমান্ত বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র আমদানিকারকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে LC সুবিধা দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তারা টিকে থাকার সুযোগ পাবেন।
    ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে LC সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য থাকায় নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীরা বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছেন। এতে করে একটি সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যেই আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।

    অনেকেই মনে করেন, ব্যাংকিং নীতিমালায় এমন পরিবর্তন আনা প্রয়োজন যাতে সকল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর জন্য সমানভাবে LC সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও সময়োপযোগী সুবিধা দেওয়া গেলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতিগত ভাবে ব্যাংকিং খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তন আনা গেলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভর খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে, অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ীরাও বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

  • কাপ্তাইয়ে কোরবানির পশু’র  হাটে পাহাড়ি গরুর কদর বেশি

    কাপ্তাইয়ে কোরবানির পশু’র  হাটে পাহাড়ি গরুর কদর বেশি

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলার ৪নম্বর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের আনন্দ মেলা মাঠে শুরু হয়েছে কোরবানি পশু ক্রয়বিক্রয়ের হাট। পবিত্র ঈদুল আজহার বাকিমাত্র কয়েক দিন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে পশু ক্রয়/বিক্রয় এর নানা প্রস্তুতি।

    পাহাড়ি গরুর কদর বেশি। সকলের  নজর পাহাড়ি পশুর দিকে। রবিবার কাপ্তাই নতুন বাজার আনন্দ মেলা মাঠে পশু হাটে গিয়ে দেখা যায় নানা রঙের গরু নিয়ে পসরা বসেছে। বেশির ভাগ গরু রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি, জুড়াছড়ি, বরকল ও লংগদুসহ পাহাড়ি এলাকার আশপাশ হতে বেপারীরা বিক্রয়ের জন্য নতুন বাজার হাটে নিয়ে আসছে। গরু ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, কাপ্তাই লেকের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে পাহাড় থেকে গরু আনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গরুর দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি জানান এবার  একটু বেশি। কারন জানতে চাইলে তিনি জানান,বিভিন্ন জিনিস পত্র  ও দ্রব্যমূল্যর দাম বৃদ্ধি পাশাপাশি গরুর দামও একটু বেশি বলে উল্লেখ করেন।

    চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে গরু ক্রয় করতে আসা  আব্দুল মান্নান ও ইলিয়াস জানান, আমরা পাহাড়ি গরু কিনতে আসছি। কারন পাহাড়ি গরু ন্যাচারাল খাবার খায়। চর্বি কম এবং মোটাতাজা। পাহাড়ি গরুর তেমন একটা অসুস্থ হয়না। বা এসকল গরুকে ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা হয়না। যার ফলে পাহাড়ি গরুর কদর  সকলের কাছে বেশি। গরু বিক্রয় করতে আসা মামুন, নফর আলী, বাবু ও করিম জানান,আমরা কয়েকজন মিলে গরুর খামার করেছি এবং এবার খামারের গরু হাটে বিক্রয়ের জন্য আনছি।তাদের  এক একটা গরু দেড় লাখ হতে দু’লাখ টাকা হাকা হচ্ছে। সামান্য কিছু লাভ হলে ছেড়ে  দিবে বলে জানান। ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, পাহাড় থেকে বেশির ভাগ পশু পাশ্ববর্তী উপজেলা, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও চট্টগ্রামে ছোট, বড় গাড়িতে নেয়া হচ্ছে।

    কাপ্তাই উপজেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডক্টর এনামুল হক হাজারী জানান, কাপ্তাই উপজেলায় এবার ২০২৬ সালে  কোরবানির ঈদের মোট পশুর  চাহিদা ৬হাজার ২শ’,উদ্বৃত্ত আছে এক হাজার ১৭৭টিরমত। তিনি আরও জানান,উপজেলা প্রাণী সম্পাদের পক্ষ হতে পশু পরীক্ষা -নিরিক্ষার জন্য কাপ্তাই নতুন বাজার আনন্দ মেলা গরুর হাটে ঈদের ৪/৫দিন আগে মেডিকেল টিম থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জাল টাকার বিষয়ে সচেতনামূলক কাজ করবে বলে জানান।

  • সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি ন্যায়, সাহস ও মানবতার পক্ষে এক অবিরাম কলম যুদ্ধ

    সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি ন্যায়, সাহস ও মানবতার পক্ষে এক অবিরাম কলম যুদ্ধ

    সাংবাদিক সাফায়েত হোসেন।

    সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি ন্যায়, সাহস ও মানবতার পক্ষে এক অবিরাম কলমযুদ্ধ। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা জাতির বিবেক সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি ও অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশে নিরলসভাবে কাজ করে চলেন।
    সাংবাদিকের কলম যেন রক্তের মতোই পবিত্র, কারণ সেই কলমের শক্তিতেই উঠে আসে মানুষের অধিকার, সমাজের বাস্তবতা এবং ন্যায়বিচারের দাবি। দেশের সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা রাখে, কারণ তারাই সত্য উদঘাটনে নির্ভীক ভূমিকা পালন করেন।
    প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অন্যায় কিংবা জনদুর্ভোগের পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকরা নিরলস পরিশ্রম করেন। সত্য প্রকাশের এই পথ কখনো সহজ নয়, তবুও সাহসী সাংবাদিকরা দেশের স্বার্থে, মানুষের অধিকারের পক্ষে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
    সত্য, ন্যায় ও মানবতার পক্ষে সাংবাদিকতার এই কলমযুদ্ধ চলবে কারণ সত্যের শক্তিই একটি সুন্দর, সচেতন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান ।

  • কে রাখে খবর — মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    কে রাখে খবর
    – মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

    হিরোশিমা-নাগাসাকি কেন পোড়া মাটি, কে দেবে জবাব
    ধ্বংস-বিভিষিকা লিটলবয়-ফ্যাটম্যান, তবু পেয়েছে সম্মান
    বিদ্বেষ বিভাজন শোষকের হাতিয়ার সভ্যতা গুমরে কাঁদে
    হিংস্র নিপীড়ক নেতানিয়াহু-হিটলার রক্তের হোলি খেলে।

    ড্রোন-মিসাইল-লেজার-কামান, যুদ্ধে মরে জওয়ান
    ধ্বংসস্তুপে বারুদের গন্ধ, জ্বলেপুড়ে খাক জনপদ,
    কি দোষ করেছে অবুঝ শিশু, প্রকৃতি-পশুপাখি-গুল্মলতা
    তবু কেন তারা অকালে মরে, বারেবারে হারায় আবাসন।

    ধূসর কালো আঁধার নীল- শোনায় বিষণ্ণতার গল্প
    কৃষ্ণচূড়া সোনালু জারুল দেখায় এগিয়ে চলার স্বপ্ন।
    সাগর বোঝে না মৃগতৃষ্ণিকা, ঝর্ণা দেখে না পাহাড়ের কান্না
    সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা অনুভূত হয় দারিদ্রতায়।

    ঋতুরানী শরৎ তবু সাজে রঙে, শীত-বসন্ত ফিরে ফিরে আসে
    মুছে যায় যত ধ্বংসের চিহ্ন, জলে ধুয়ে যায় বারুদের গন্ধ
    ফুলে-ফলে ভরে মৃত জনপদ, বাতাসে দোলে ফসলের মাঠ
    মায়াবী রাতের জ্যোৎস্না আলোয় জোয়ার-ভাটা নাচে।

    হয়তো কারো হারায়েছে স্বজন, নেশায় ডুবেছে মরদ জোয়ান
    শিকল পায়ের বাধ্য দাসী কুলি-কামিন কাঁদে
    জঠর জ্বালায় নবযৌবনা কেন ঘুঙুর পায়ে নাচে
    কে রাখে বলো খবর, ক’জন রাখে তার খবর।

  • কাপ্তাইয়ে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

    কাপ্তাইয়ে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    আলোর নিচে অন্ধকার। যেখানে স্বল্প মূল্যে পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হয় সেখানে বিদ্যুৎ নেই।

    রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা গড়ে  ১২/১৪ঘন্টা  বিদ্যুৎতের লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। চলতি এপ্রিল মাস হতে সারা দেশের ন্যায় কাপ্তাইয়ে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষা চলাকালীন সময়  প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ যাওয়া আসার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

    এসএসসি পরীক্ষার্থী পাভেল হোসেন,শারমিন জাহান এরা জানান, রাতে কিংবা দিনে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। যার ফলে  প্রচন্ড গরমে পড়া হয়না। আমরা জানিনা পরীক্ষায় ফলাফল কি হয়।

    প্রতিনিয়ত  লোডশেডিং জন্য অভিভাবক  ফিরোজ মিয়া,সলেমান হোসেন গভীর উদ্বেগ ও হতাশ প্রকাশ করে।তারা  জানান, প্রতিনিয়ত লোডশেডিং হওয়ার দরুণ শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড গরমে পড়া লেখায় মনোনিবেশ করতে পারছে না। আমরা চাই পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎতের যেন লোডশেডিং না দেয়। লোডশেডিং এর ফলে সরকারি /বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা, শিল্প কলকারখানা, ব্যাংক,বীমা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান  ও হাসপাতালে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

    কয়েক’টি কারখানা মালিক জানান, সঠিক সময় কাজ ডেলিভারি দিতে না পাড়ায় অর্ডার বাতিল হচ্ছে। ফলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়ছি।

    এদিকে কাপ্তাই  কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে ২৩০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হয়। সেখান এখন  পানি স্বল্পতার ফলে মাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৩০থেকে ৪০মেগাওয়াট। যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় আর সেখানেই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হয়। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার।

    কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ  ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান,লোডশেডিং এর কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের দুটি লাইন একটা বন্ধ করে আবার একটা চালু করা হয়। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলাকালীন কোন সমস্যা হবেনা বলে জানান। এবং সমস্যা বেশি দিন থাকবেনা বলেও মন্তব্য করেন।

  • কাউখালীতে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস না থাকায় ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

    কাউখালীতে পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস না থাকায় ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

    কাউখালী প্রতিনিধি।
    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের কোনো জোনাল অফিস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা লাইন সমস্যার সমাধানের জন্য গ্রাহকদের দূরবর্তী অফিসে যেতে হচ্ছে, ফলে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পেলেও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো জোনাল অফিস না থাকায় তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে পিরোজপুর জেলার হুলারহাট জোনাল অফিসের ওপর। এতে করে ছোটখাটো সমস্যার সমাধান করতেও দিন পার হয়ে যাচ্ছে।
    ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিল সংশোধন, নতুন সংযোগ বা মিটার সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় অফিসে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে আসতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাউখালী উপজেলায় একটি পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস স্থাপন করা হোক, যাতে তারা সহজেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারে এবং ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায়।
  • ঘুষ, নির্যাতন ও মোবাইল কোর্ট; ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র–আহমেদ আবু জাফর

    ঘুষ, নির্যাতন ও মোবাইল কোর্ট; ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র–আহমেদ আবু জাফর

    বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এসব অধিকার রক্ষার জন্যই প্রতিষ্ঠিত।

    কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা এই মৌলিক আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একটি সাম্প্রতিক ঘটনা তেমনই এক বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যা শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগ নয়; বরং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী ও প্রশাসনিক কাঠামোর মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের চর্চা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

    ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন জুবাইদা জন্নাত নামের এক তরুণী। তার জীবনকাহিনি বাংলাদেশের বহু অসহায় নারীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জন্মের কয়েক মাস পরই তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, যৌতুকের দাবিতে তার মাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন তার বাবা। এই নির্যাতনের কারণেই ১৯৯৯ সালে জুবাইদার মা রেহেনা জন্নাত রানু আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে মামলার আপোষ হলেও মা-মেয়ের জীবন আর স্বাভাবিক পথে ফিরে যায়নি। জুবাইদা বড় হয়েছেন মায়ের কাছেই, চকরিয়ায়। আর্থিক কষ্ট, সামাজিক চাপ এবং পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।

    জুবাইদার মা কঠোর পরিশ্রম করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি কলেজে অনার্সে অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাকে এমন একটি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তার অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
    জুবাইদার পিতা মৃত্যুবরণ করার পর সামনে আসে পৈতৃক সম্পত্তির বিষয়টি। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন সন্তান হিসেবে তিনি তার পিতার সম্পত্তিতে আইনগতভাবে অংশীদার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

    অভিযোগ রয়েছে, তার চাচা, জেঠা এবং চাচাতো ভাইরা তাকে সেই অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়। প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে। পরে তিনি বিষয়টি তহসিলদারের কাছে তদন্তের জন্য দেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত-আট মাস কেটে গেলেও কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং এই দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পক্ষকে আরও অসহায় করে তোলে।

    একই সময় জুবাইদা ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখান থেকেও তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পিতৃপরিচয় ও ওয়ারিশ সনদের মতো একটি মৌলিক বিষয়ে একজন নাগরিক যদি প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ান, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে আনে।

    অবশেষে নিরুপায় হয়ে জুবাইদা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে এবং নতুন করে পেকুয়া থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এই পর্যায়ে তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব।
    এখানেই শুরু হয় ঘটনাটির সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন ভুক্তভোগী পক্ষের অনুকূলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই পল্লব জুবাইদা ও তার মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বলা হয়, টাকা না দিলে প্রতিবেদন বিপক্ষে যাবে। দরিদ্র মা-মেয়ে বহু কষ্টে সেই টাকা জোগাড় করে দেন। কিন্তু পরে যখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় তা আসামিদের পক্ষে গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং কোনো সাক্ষীও পাওয়া যায়নি। অথচ আদালতে জমা দেওয়া জন্মসনদসহ বিভিন্ন নথিতে জুবাইদার পিতার নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে জুবাইদা ও তার মা নিজেদের প্রতারিত মনে করেন। তারা পেকুয়া থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসআই পল্লবের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চান। এরপর যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা আরও উদ্বেগজনক।

    জানা যায়, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারা থানায় গিয়ে সেই টাকা ফেরত চাইলে উল্টো পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আদালতে হাজির করা হয় এবং এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    “যদিও আমি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে কোন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করিনা। তবে পেকুয়ার ঘটনাটি গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম বিতর্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে গেছে। কেননা, একক কারো জন্য একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং খোদ একটি জনপ্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না”।

    এখানেই মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসে। প্রথম প্রশ্ন হলো যদি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অনৈতিকতার ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে আঘাত করে। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত। সেখানে যদি ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে বিচার চাইবে?

    দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো মোবাইল কোর্টের ব্যবহার নিয়ে। মোবাইল কোর্ট সাধারণত তাৎক্ষণিক অপরাধ দমন বা প্রশাসনিক আইন প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন ভেজালবিরোধী অভিযান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো বিরোধ বা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাসরি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হলে তা কতটা ন্যায়সংগত এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

    তৃতীয় প্রশ্নটি আরও মানবিক। একজন এতিম কন্যা যদি তার পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেন, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান, ঘুষের অভিযোগ তোলেন আর শেষ পর্যন্ত উল্টো কারাগারে যেতে হয়। তাহলে সেটি সমাজের জন্য কী বার্তা বহন করে?

    বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। একই সঙ্গে সংবিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু বাস্তবে যদি একজন নাগরিক নিজের পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে তা অবশ্যই গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

    এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে আনে, জবাবদিহিতা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। কারণ ক্ষমতা যখন জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায়, তখনই অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে নারীরা, বিশেষ করে একক মায়ের সন্তানরা, প্রায়ই উত্তরাধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েন। আইনের চোখে তারা সমান অধিকারী হলেও সামাজিক বাস্তবতায় তাদের সেই অধিকার আদায় করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।

    পেকুয়ার এই ঘটনাটি তাই কেবল একটি পারিবারিক বিরোধ নয়; এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং মানবিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
    এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ভুক্তভোগী মা-মেয়ের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আইনি ও নৈতিক দিকগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ন্যায়বিচার শুধু আদালতের রায় নয়; এটি মানুষের বিশ্বাসের বিষয়ও। মানুষ যখন মনে করে রাষ্ট্র তার পাশে আছে, তখনই আইনের শাসন শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন তারা মনে করে তাদের অভিযোগ শোনার কেউ নেই, তখন সেই বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে।

    বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় বারবার। সেই নীতির বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    পেকুয়ার এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচার শুধু শক্তিশালীদের জন্য নয়; এটি দুর্বল ও অসহায় মানুষের জন্যও সমানভাবে নিশ্চিত হতে হবে। একজন নাগরিক তার পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করলে তাকে দোষী নয়, বরং সহানুভূতির চোখে দেখা উচিত।
    আজ প্রয়োজন সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। কারণ আইনের শাসনের মূল দর্শন একটাই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং কোনো নাগরিকই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না।

    লেখক: আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, ০১৭১২৩০৬৫০১, ৬ মার্চ ২০২৬ খ্রী:

  • রমজানে সাংবাদিক পরিবারের কান্না: মানবিক দৃষ্টিতে মুক্তির সিদ্ধান্ত হোক

    রমজানে সাংবাদিক পরিবারের কান্না: মানবিক দৃষ্টিতে মুক্তির সিদ্ধান্ত হোক

    স্টাফ রিপোর্টার।

    পবিত্র মাহে রমজান সংযম, সহমর্মিতা, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার মাস। এ মাসে সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম মানুষ অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, রাষ্ট্রও নেয় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ। অথচ বেদনাদায়ক হলেও সত্য এই পবিত্র মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কারাবন্দী ও পলাতক সাংবাদিকদের পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অনেক পরিবারে সেহরি ও ইফতারের ন্যূনতম সামগ্রীও জুটছে না। শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে মায়েদের কান্না, বৃদ্ধ পিতামাতার দীর্ঘশ্বাস এসবই আমাদের সামাজিক বাস্তবতার এক কঠিন প্রতিচ্ছবি।

    এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি এবং পলাতক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে শাস্তি বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। আয়-উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারগুলো মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

    সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। একজন সাংবাদিক যখন সত্য তুলে ধরেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেন, তখন তিনি মূলত জনগণের পক্ষেই কথা বলেন। কিন্তু যদি সেই দায়িত্ব পালনের ফল হয় কারাবাস, মামলা-হামলা কিংবা আত্মগোপন, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। অবাধ তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হলে গণতান্ত্রিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    রমজান আমাদের শেখায় সংযমের পাশাপাশি ক্ষমা ও মানবিকতার অনুশীলন। এই সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক ও মানবিক সিদ্ধান্ত যেমন কারাবন্দী সাংবাদিকদের জামিন বা মুক্তির উদ্যোগ, কিংবা পেশাগত কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর পুনর্বিবেচনা সমাজে আস্থার সঞ্চার করতে পারে। এতে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব হবে না, গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার অনুভূতি জোরদার হবে।

    একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা প্রদান এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকরা শত্রু নন; তারা রাষ্ট্র ও সমাজের অংশীদার। মতভেদ থাকতে পারে, সমালোচনা থাকতে পারে কিন্তু তা যেন কখনো দমন বা প্রতিহিংসার রূপ না নেয়।

    রমজানের পবিত্র মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় ক্ষমা মহত্ত্বের পরিচায়ক, সহমর্মিতা শক্তির বহিঃপ্রকাশ। তাই এই সময়ে কারাবন্দী ও পলাতক সাংবাদিকদের পরিবারের কান্না থামাতে সংশ্লিষ্ট মহলের মানবিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবিকতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণতন্ত্র।

    আহমেদ আবু জাফর
    সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি

    চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড
    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম
    ০১৭১২৩০৬৫০১
    ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

  • দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ–আহমেদ আবু জাফর

    দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ–আহমেদ আবু জাফর

    দিনের ভোট দিনে ঝুঁকি নয়, খুঁজুন আস্থার পথ-আহমেদ আবু জাফর, সভাপতি, নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম।

    জাতীয় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তি ও পরিপক্বতার প্রতিফলন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যত স্বচ্ছ ও প্রশ্নমুক্ত হবে, ততই জনগণের আস্থা দৃঢ় হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর প্রচলন দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অবিশ্বাসের মুখে ফেলেছে।
    এই প্রেক্ষাপটে “দিনের ভোট রাতে নয়” বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরের আহ্বানটি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে ভোটের আগের রাতে ভোট কেন্দ্র গুলো চরম ঝুকিপূর্ণাবস্থা। যেখানে প্রিজাইডিং-পুলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন কেন্দ্রের ব্যালট-বাক্স পাহারা দিতে গিয়ে চরম খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গোলাগুলি, হতাহত, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা অধিকাংশ ব্যালটে রাতেই সিল মারার মত চরম নষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। ফলে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট খুঁজে পায়নি, এমনকি মৃত্যু ব্যক্তির ভোটও সেরে ফেলেছিলো।

    কেনো দেশের জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারা ঐ রাষ্ট্রের পরবর্তী মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার প্রথম সফল উদাহরণ। তবে ভোটাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশে তা দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে অনুপস্থিত।

    অনেকেই যুক্তি দেন, ভোটের দিন সকালে ব্যালট পাঠালে ভোটের আগের রাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যালট পেপার ও বাক্স যদি ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে না রেখে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রিত হেফাজতেই থাকে, তবে সেই রাত আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকে না, বরং ঝুঁকিমুক্ত হয়। এতে অনিয়মের আশঙ্কা, গুজবের সুযোগ এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ অনেকাংশে কমে যায়।

    ভোটের দিন সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ব্যালট সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছানো হলে দায়িত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে ভোট শুরুর আগেই তাদের ভোট নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।

    আমরা আশা করছি দীর্ঘদিনের এই পুরানো রুট পরিবর্তন করে নতুন রুটে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে দিনের ভোট রাতের প্রথাটি বিলুপ্ত হতে বাধ্য। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল ভোট গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ভোটের আগের প্রস্তুতিই নির্ধারণ করে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রশ্নবিদ্ধ প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফলই জন্ম দেয়, যার খেসারত দিতে হয় জনগন, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রকে।

    অতএব দিনের ভোট দিনের আলোতেই হওয়া উচিত। ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠানো কোনো ঝুঁকির সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নির্বাচনকে ঝুঁকিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনআস্থাভিত্তিক করার একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বাস্তবতা অনুধাবন করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা প্রশ্ন নয়, আস্থা তৈরি করে।

  • প্রেস টেবিল: দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন

    প্রেস টেবিল: দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন

    প্রেস টেবিল: দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের
    নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন

    রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ, আলোচনা অনুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন কিংবা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আয়োজনে সংবাদ কাভারেজের জন্য আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দের রীতি একসময় প্রচলিত ছিল। এই আলাদা টেবিল বা নির্ধারিত জায়গাটিই পরিচিত ছিল ‘প্রেস টেবিল’ নামে। এটি কেবল বসার স্থান নয়, বরং সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় ও নিরাপত্তার একটি স্বীকৃত কাঠামো ছিল। তা এখন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাটি অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আজকের বাস্তবতায় প্রেস টেবিলের অনুপস্থিতি সাংবাদিকতার জন্য একটি নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে। অথচ এই প্রেস টেবিল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক।

    বর্তমানে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আয়োজনে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সংবাদকর্মীরা বাধ্য হচ্ছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভিড়ে, কখনো মঞ্চের একেবারে পাশে, কখনো বা কর্মীদের ঘাড়ে ঘাড় মিলিয়ে দাঁড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে। এমন পরিস্থিতিতে একজন পেশাদার সাংবাদিকের নিরপেক্ষতা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তেমনি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও পড়ে চরম ঝুঁকিতে। একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের জন্য এ ধরনের পরিবেশ শুধু বিব্রতকরই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা অবমাননাকর এবং অসহনীয়ও বটে।

    ঝুঁকির মুখে সাংবাদিকতা: ইতিপূর্বে বহু রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে সংবাদ কাভারেজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিদ্বেষমূলক আচরণ, হেনস্তা এমনকি শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন, এমন নজির নতুন নয়। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে একই সারিতে অবস্থানের কারণে অনেক সময় সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও এমনভাবে ধারণ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি স্থিরচিত্র বা কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও একজন সাংবাদিককে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করতে যথেষ্ট। বাস্তবে নিরপেক্ষ থাকলেও এসব বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার দায় শেষ পর্যন্ত সাংবাদিককেই বহন করতে হয়।

    বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী না হয়েও শুধুমাত্র কোনো একটি ফ্রেমে বা ভিডিওতে উপস্থিত থাকার কারণে বহু সাংবাদিক হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়া একজন সাংবাদিকের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্যও অশনিসংকেত।

    প্রেস টেবিল থাকলে এ বিপর্যয় এড়ানো যেত:রাজনৈতিক দলগুলোর আয়োজনে যদি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ‘প্রেস টেবিল’ বা আলাদা মিডিয়া জোন রাখা হতো, তবে সাংবাদিকদের এমন করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হতো না। এতে একদিকে যেমন সংবাদ সংগ্রহ হতো সহজ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার পরিবেশে, অন্যদিকে সাংবাদিকদের দলীয় পরিচয়ের অপবাদ থেকেও মুক্ত রাখা যেত।

    প্রেস টেবিল সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর পেশাদার দূরত্ব তৈরি করে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত জরুরি। এই দূরত্ব সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার সাহস জোগায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোকেও গণমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

    দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এখনো বেঁচে আছে:এখনো দেশে বহু দল নিরপেক্ষ সাংবাদিক রয়েছেন, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বা সহযোগী শক্তি না হয়েও সততা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের কাছে রাজনৈতিক দলের আয়োজনে এই অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও অসচেতনতা চরম হতাশাজনক এবং অসহনীয়।

    রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ; গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ কিংবা সুবিধাভোগী হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করুন। সাংবাদিকরা কোনো দলের মুখপাত্র নন, আবার শত্রুও নন। তারা সমাজের দর্পণ—যেখানে ভালো-মন্দ উভয় চিত্রই প্রতিফলিত হয়।

    রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ: আমরা আশা করবো, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ বিষয়টি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবেন এবং ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক আয়োজনে গণমাধ্যমের জন্য আলাদা প্রেস টেবিল বা নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করবেন। এটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি একটি সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।

    সবশেষ কথা, প্রেস টেবিল কোনো বিলাসিতা নয়—এটি সাংবাদিকতার ন্যূনতম অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা মানেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা।

    লেখক: আহমেদ আবু জাফর সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম , ০১৭১২৩০৬৫০১ , জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিঃ