Category: অর্থ ও বাণিজ্য

  • আমড়া উৎপাদনে শীর্ষে পিরোজপুর, মৌসুমে শতকোটি টাকার বিক্রি

    আমড়া উৎপাদনে শীর্ষে পিরোজপুর, মৌসুমে শতকোটি টাকার বিক্রি

    পিরোজপুর প্রতিনিধি।

    দক্ষিণের জেলা পিরোজপুরের খ্যাতি রয়েছে পেয়ারা উৎপাদনে। পেয়ারার মৌসুমজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন এই জনপদে। তবে পেয়ারার মৌসুম শেষ হতে না হতেই আমড়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষক, ব্যাপারী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কেননা আমড়া উৎপাদনেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পিরোজপুরে।

    জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও নেছারাবাদে আমড়া উৎপাদন বেড়েছে। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় নেছারাবাদ উপজেলায়। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় পিরোজপুরের আমড়ার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আলো-বাতাসে পাকা আমড়া সবুজ খোসা ছাড়িয়ে যখন তামাটে রং ধারণ করে, তখনই খালজুড়ে শুরু হয় আমড়া তোলা, বাছাই, বোঝাই ও পাইকারি বাজারে শ্রমিকদের ব্যস্ততা। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত খালে নৌকাভর্তি আমড়া নিয়ে ভিড় জমে পাইকারি হাটে। দরদাম, পরিবহন আর লেনদেনের ব্যস্ততায় এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানার পাইকারি মোকামগুলো।

    উপজেলার ভরতকাঠী,কারণে কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছে আমড়া উৎপাদনে। আগামীতে জেলায় এর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরে ৫৭৭ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ১২৪ টন আমড়া উৎপাদিত হয়েছে, যা বরিশাল বিভাগের ভেতরে উৎপাদনে সর্বোচ্চ। ভিমরুলি বাজারের আমড়ার আড়তদার লিটু ব্যাপারী বলেন, ‘পিরোজপুরের আমড়ার সারাদেশে সুনাম রয়েছে। আকারে বড়, সুস্বাদু এবং ফরমালিন মুক্ত হওয়ায় মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এই আমড়া। আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বাজারের সন্ধান পাচ্ছি। চাহিদা বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুমে ২০ জন শ্রমিক আমার অধীনে কাজ করে। এখন মৌসুম প্রায় শেষের দিকে তাই শ্রমিক কম। তারপরও প্রতিদিন ৪০০-৫০০ বস্তা আমড়া আমি নিজেই সাপ্লাই দিই।’ আটঘর বাজারের আমড়ার আড়তদার জসিম হাওলাদার বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ২০০-২৫০ কোটি টাকার আমড়া বেচাকেনা হয়েছে। আগামীতে যদি ফলন ভালো হয়, তাহলে এর পরিমাণ ৩০০-৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’ আমড়াচাষি মিঠুন মন্ডল বলেন,

    আটঘর, কুড়িয়ানা, গুয়ারেখা, জলাবাড়ী, দৈহারী, বলদিয়া, সমুদয়কাঠী, সারেংকাঠী, সোহাগদলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় করে সকাল সকাল নিয়ে আসা হয় সুমিষ্ট আমড়া। জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকেও এখানে আমড়া নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ২-৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে আমড়া। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন চাষি ও খুচরা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমড়া কিনে সড়ক পথে চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেন। কৃষকরা বলছেন, পেয়ারায় আগের মতো লাভ হয় না। এজন্য গত এক দশকে তারা ব্যাপকভাবে আমড়া চাষে ঝুঁকেছেন। অনেকে পেয়ারা বিক্রি করে লোকসান শুনলেও এ মৌসুমে আমড়া বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছেন। ফলে এ ফল এখন কৃষকদের নতুন আশার কারণ হয়ে উঠেছে। বরিশালের আমড়া জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা আরও বেড়েছে। স্বাদ, গন্ধ ও মানের কারণে বরিশাল বিভাগের আমড়া নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছে। চলতি মৌসুমে ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলন কিছুটা কম হলেও দাম ভালো থাকায় কৃষকরা সন্তুষ্ট। গতবছর মানভেদে প্রতি মণ আমড়া ১০০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষের দিকে দাম বেড়ে ২-৩ হাজার টাকায় ঠেকেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমে ২০০-২৫০ কোটি টাকার আমড়া বেচাকেনা হয়। জিআই পণ্য হওয়ার

    ‘বরিশালের আমরা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা আরও বাড়বে। এতে আমরা অনেক খুশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আনুপাতিক হারে ফলন কম ছিল। বৃষ্টি, বন্যাসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে ফলন কম হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, আগামী বছর ফলন বেশি হবে। তখন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।’ কুয়াকাটা থেকে আমড়া কিনতে এসেছেন জসিম ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘এখানকার আমড়ার মান খুব ভালো। আকারে বড়, স্বাদেও মিষ্টি। প্রতিবছর ১০-১৫ লাখ টাকার আমড়া কিনে নিয়ে খুচরা বিক্রি করি।’ আমড়া পাইকারি দোকানের শ্রমিক সুমন মণ্ডল বলেন, ‘জিআই পণ্য হওয়ার কারণে দেশের বাইরেও আমড়া পাঠানো সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকায় আমড়া উৎপাদনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এ বছর প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি আমড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে।’ পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ৫৭৭ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ১০ হাজার ১২৪ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য প্রায় শতকোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘এখানকার আমড়া জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় সুনাম বাড়ছে। উৎপাদনও বেড়েছে। নতুন করে যারা এ ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন, তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

  • বিমান বন্দরে আগুন ; বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি রোধ করার উদ্যোগ জরুরী–ফারজানা শারমিন

    বিমান বন্দরে আগুন ; বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি রোধ করার উদ্যোগ জরুরী–ফারজানা শারমিন

    ফারজানা শারমিন।

    গত ১৮ অক্টোবর দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের কার্গো ভিলেজে যে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে সে অগ্নিকান্ডে
    মানুষ মারা না গেলেও দেশের অর্থনীতির চরম ক্ষতি হয়ে গেছে।
    বিমান বন্দরের কার্গো ভিলেজে মোট ক্ষয় ক্ষতির পরিমান ১২ হাজার কোটি টাকা। বিমানবন্দরে এরকম অগ্নিকান্ড কোন নাশকতা কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

    কারণ অনেকদিন ধরেই দেশীয় আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রকারী, বাংলাদেশের শত্রুরা এদেশকে অস্থিতিশীল অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দেখানোর জন বহু ষড়যন্ত্র করে আসছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ন
    স্থাপনাসমুহ কেপিআইয়ের উপর , গুরুত্বপুর্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমুহ বা জাতীয় অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত বিদেশ থেকে আনা কাঁচামাল বা অন্যান্য
    আমাদানি পন্য সংশ্লিষ্ট কার্গো ভিলেজে আগুন লাগাকে অনেকেই নাশকতা বলে সন্দেহের চোখে দেখছে।

    এজন্য গোয়েন্দা নজরদারী আরো বাড়াতে হবে
    যাতে যে কোন নাশকতা রোধ করা যায়। অন্যদিকে কেউ কেউ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে গাফিলতির কারনে
    বিমানবন্দরের মত অতি গুরুত্বপুর্ন জায়গায় আগুন লেগেছে বলে মনে করছেন। তবে নাশকতা হোক বা দায়িত্বে অবহেলা যারাই দোষী বলে প্রমানিত হবেন সেসব মানুষের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। আশা করি তদন্ত কারী কর্মকর্তারা প্রকৃত অপরাধীদের খুজে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিবেন ।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্যমতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২,৮২০ মার্কিন ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একটি সাময়িক হিসাব।
    এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় $৮২ ডলার বেশি। বাংলাদেশের সামষ্টিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩.৯৭%।

    বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে।ব্যবসার জন্য ঋণের স্বল্পতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা,ফসলের সঠিক দাম না
    পাওয়া , সরকারী ঋণ গ্রহণের প্রবনতা বৃদ্ধি , দ্রব্য মুল্যর উর্ধ্বগতি , বিনিয়োগের স্বল্পতা , শেয়র বাজারে ধস, শিল্পবিমুখ অর্থনৈতিক নীতির কারনে বিগত
    ৪//৫ বছর ধরে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যাহত হয়ে আসছিল ।

    বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্রতা হ্রাসের একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল , কিন্তু শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আমদানিকৃত শিল্প কাঁচামাল পুড়ে বাংলাদেশের বহু ব্যবসায়ীদের যেমন পথে বসিয়েছে , দেউলিয়া বানিয়ে ছেড়েছে তেমনি বাংলাদেশের মত জনসংখ্যা বহুল দেশে নতুন শিল্প কল কারখানা সৃষ্টির , কর্মসংস্থান সৃষ্টির , দারিদ্রতা
    দুরীকরনের সুয়োগ বাধাগ্রস্থ হয়েছে। এতে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাধাগ্রস্থ হবে সাময়িক কারের জন্য ।

    ব্যবসা বানিজ্যের উন্নতি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নতি তরান্বিত করতে হলে বিমানবন্দরে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সামষ্টিক
    অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    যেসব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের তালিকা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনুযায়ী ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে হবে যাতে তারা আবার বিনিয়োগ করে মুনাফা করতে পারে।

    আমদানি কার্গো ভিলেজে আমদানি-রপ্তানি পন্য না রেখে কিছু দুর সরিয়ে নিরাপত্তা সহকারে পন্য গুদামজাত করতে আরো উন্নতমানের গুদাম নির্মান করতে হবে।

    বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তির যত কঠোর আইনকানুন তা সহজ করতে হবে। যেসব আমদানিকৃত পন্যের উপর ইন্স্যুরেন্স করা আছে সেসব ইন্স্যুরেন্সের অর্থ খুব শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের দ্রুত ফেরত দিতে হবে যাতে তারা তাদের আর্থিক সমস্যা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে পারে।

    ইপিজেড, শিল্প কলকারখানা এয়ারপোর্ট সহ রাষ্ট্রীয় কেপিআই রয়েছে এমন জায়গার অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা আরো আধুনিক গতিশীল করতে হবে । অগ্নি নির্বাপনের জন্য আরো উন্নত প্রযুক্তি বিদেশ থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসতে হবে যাতে ক্ষয় ক্ষতি কমিয়ে অতি দ্রুত কোথাও আগুন লাগলে আগুন নিভিয়ে ফেলা যায় ।

    সর্বোপরি দেশের বেকারত্ব এবং দারিদ্রতা দুর করতে কৃষির পাশাপাশি ব্যবসা বানিজ্য শিল্পায়নকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্বল্প মেয়াদী
    এবং দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। ঋণের সহজলভ্যতা বেসরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে । এতে উৎপাদন বাড়বে , জিডিপি
    বাড়বে কর্মসংস্থান বেড়ে দারিদ্রতা কমাবে।

  • স্ক্রিন প্রিন্ট শিখে স্বনির্ভর হোন–ফারজানা শারমিন

    স্ক্রিন প্রিন্ট শিখে স্বনির্ভর হোন–ফারজানা শারমিন

    ফারজানা শারমিন:

    যেসব মানুষ বেকারত্ব দুর করে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সাবলম্বী হতে চান বা স্বনির্ভর হতে চান তারা স্ক্রিনপ্রিন্ট শিখে সাবলম্বী হতে পারেন।

    ঘরে বসে মহিলারা ও স্ক্রিনপ্রিন্টের সামগ্রী ক্রয় করে, স্ক্রিনপ্রিন্টের ব্যবসা করে সাবলম্বী হতে পারেন। কারণ স্ক্রিনপ্রিন্ট ও ব্লকপ্রিন্ট, বাটিক টাই ডাইয়ের মত কাপড়
    ছাপানোর একটি প্রাচীন এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি । বর্তমানে ও স্ক্রিনপ্রিন্টের জনপ্রিয়তার কোন কমতি নেই । ভবিষ্যতেও এর জনপ্রিয়তা কখনই কমবেনা।শুধু
    কাপড়ে প্রিন্ট করার কাজেই নয় ,কাগজ, ব্রোশিয়ার, ব্যাজ , সিরামিকসের মগ, প্লেট, টিস্যু ব্যাগে, গ্লাস,শোপিসে কোন কিছু ছাপানোর জন্য ও স্ক্রিনপ্রিন্ট
    করা যায়।

    স্ক্রিনপ্রিন্টের জন্য যেসব সামগ্রী লাগবে :

    স্ক্রিনপ্রিন্টের জন্য লাগবে কাঠ বা এ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেম, স্ক্রিন গ্লাস, ম্যাশ কাপড়, ট্রেসিং পেপার, রাবার , নিউটেক্স, অক্সেল, ছোট সিলিন্ডার , ইন্ক
    রিডিউসার, পীড়া, কব্জা, কালি,পেরেক, ব্রাশ, বাইন্ডার, নাইলন পিকচার, সিসিএল, এনকে ফান্ডার, এম ৫০, প্লাষ্টিক ডিজাইন সেট, রেডি টেবিল,
    বিভিন্ন কালারের তরল রং, ডায়ার যন্ত্র । এক্ষেত্রে ব্রোশিয়ার, ব্যাজ , মগ,গ্লাস প্লেটে স্ক্রিনপ্রিন্টের জন্য আলাদা স্ক্রিনপ্রিন্ট ডিভাইস ও ব্যবহার করা যায় ।

    যেভাবে স্ক্রিনপ্রিন্ট করতে হবে:

    প্রিন্টিংয়ের আকার ও মাপ অনুযায়ী স্ক্রিন্ট প্রিন্টিংয়ের জন্য চারকোনা ফ্রেমে কাপড়ের মত দেখতে স্ক্রিনটিকে টানটান করে সমানভাবে লাগিয়ে রাখতে
    হবে। যে রং ব্যবহার করা হবে রংকে ইংক রিডিউসার দিয়ে পাতলা করে নিতে হবে, দীর্ঘক্ষণ নাড়া চাড়া করে । এরপর রং ফ্রেমে ঢেলে নিতে হবে।
    এরপরে ড্রায়ারের মাধ্যমে শুকিয়ে নিতে হবে। অন্ধকারে শুকাতে হবে। কাঠের বড় পিড়ির উপর স্ক্রিন প্রিন্টের মাপ অনুযায়ী ফোম রেখে নিতে হবে।
    এর উপর রং করা ম্যাশ কাপড়ের ফ্রেমটি রাখতে হবে। বিশেষ ডিজাইন করা ট্রেসিং পেপার উল্টিয়ে দিয়ে কসটেপ দিয়ে আটকিয়ে দিতে হবে। এর উপর
    গ্লাস বসিয়ে দিতে হবে। দুটো ক্লাম দয়ে আটকে দিতে হবে। স্ক্রিন উঠানোর জন্য ক্যামেরা বসানো যায় । অথবা আরো সহজতম উপায়ে স্ক্রিন উঠানোর
    জন্য লাইটার ভালভ দিয়ে ২ মিনিট হিট দিতে হবে। কাঁচটি গরম হয়ে উঠলে ক্লামগুলো খুলে ট্রেসিং পেপারগুলো তুলে রং লাগানো ফ্রেমগুলো স্বাভাবিক
    পানি দিয়ে ধুতে হবে।পরে স্প্রে গ্যালনে স্বাভাবিক পানি ভরে স্প্রে করতে হবে। এতে স্ক্রিনটি পরিস্কার ভাবে বোঝা যাবে। এরপরে শুকনো ভাল কাপড় দিয়ে
    পানি মুছতে হবে আস্তে আস্তে। এভাবে বিয়ের কার্ড , কাগজ, কাপড় , মগ , প্লেটে খুব সহজে স্ক্রিনপ্রিন্ট করা যায়। ডিজাইন ও রুচি অনুযায়ী রং ভিন্ন
    ভিন্ন হবে।

    কোথায় পাওয়া যাবে স্ক্রিনপ্রিন্টের সামগ্রী :

    পুরোনো ঢাকার নবাবপুর, কাঁটাবন, আজিজ সুপার মার্কেট ,মিরপুর, নিউমার্কেট, পুরানা পল্টন, ইসলামপুর,লোকাল হার্ডওয়্যার ও ক্যামিক্যালের দোকান
    ,স্ক্রি প্রিন্টিং প্রশিক্ষণ দেয় এমন প্রশিক্ষন কেন্দ্র , ক্রেতাদেরকে স্ক্রিন প্রিন্টিং সেবা দেয় এরকম বিভিন্ন দোকান , অনলাইনে স্ক্রিনপ্রিন্ট সামগ্রী বিক্রি করে
    এমন প্রতিষ্ঠানে অনলাইন অর্ডার দিয়ে ও স্ক্রিনপ্রিন্ট সামগ্রী ঘরে বসে ক্রয় করা যাবে।

    স্ক্রিন প্রিন্ট প্রশিক্ষণ।

    হাতে কলমে দক্ষ কারো কাছ থেকে স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ শিখে নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। স্ক্রিন প্রিন্টের উপকরন সামগ্রী সহ বিভিন্ন সামগ্রী যারা
    বিক্রি করে তাদের কাছ থেকেও হাতে কলমে (ফ্রি ভাবে অথবা কিছু টাকা দিয়ে) স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজ শিখে নিলে এই ব্যবসায় অনেক ভাল করা যাবে।
    কোন ভালো সরকারী -বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে স্ক্রিনপ্রিন্ট শিখে, স্ক্রিনপ্রিন্টের বিজনেস শুরু করলে ভাল করার সম্ভাবনা বেশি । বাংলাদেশ ক্ষুদ্রও কুটির
    শিল্প প্রতিষ্ঠান (বিসিক) , আল ইসলাম জহুরী‌‍য়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র , জয়িতা ফাউন্ডেশন, স্ক্রিন প্রিন্ট ও প্রশিক্ষণ সেবা সহ বিভিন্ন অনলাইন অফলাইন
    সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে স্ক্রিনপ্রিন্ট শিখতে পারেন । এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ফি বাবদ খরচ লাগতে পারে ১০০০-৩০০০ টাকা।

    স্ক্রিনপ্রিন্টের ব্যবসায় খরচ এবং মুনাফা।

    স্ক্রিনপ্রিন্টের জন্য পাইকারী রেটে এক কালারের প্রতিটি গ্যাঞ্জি,টি শার্টের দাম ১০০ -১৩০ টাকা , টিস্যু ব্যাগের পাইকারী দাম ৩ টাকা – ৮ টাকায় ,
    শিশুদের ফ্রক,
    গ্যাঞ্জি সেট সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, শাড়ির জন্য এক কালারের কাপড় কিনতে পারেন যার দাম প্রতি গজ ৮০- ১২০ টাকা হতে পারে।ব্যানারের জন্য পাইকারী দরে
    প্রতি গজ কাপড় ১৮-২৫ টাকায় কিনতে পারেন।বিভিন্ন কালারের মগ পাইকারী হারে কিনতে ৪৫-৬০ টাকা খরচ হবে একটি মগের জন্য । পাইকারি হারে সিরামিকস বাটি
    কিনতে ৫০-১৫০ টাকা লাগতে পারে ।

    এক্ষেত্রে প্রতি মাসে বিভিন্ন কালারের গ্যাঞ্জি,টি শার্ট বিক্রি করে ৩০০-৫০০ টাকা ইনকাম করতে পারবে । শাড়ি , সালোয়ার কামিজ বিক্রি করে ২৫০ -১৫০০ টাকা মুনাফা
    করতে পারবে । পাঞ্জাবি বিক্রি করে ২৫০- ১০০০ টাকা মুনাফা করতে পারবে । স্ক্রিনপ্রিন্টকৃত ব্যানার বিক্রি করে ৪০০-৬০০ টাকা মুনাফা করতে
    পরেবে। স্ক্রিনপ্রিন্টকৃত মগ , প্লেট বিক্রি করে ৯০-৫০০ টাকা মুনাফা করতে পারে।

    স্ক্রিনপ্রিন্টের পরে বাজারে নতুন বিক্রেতা হিসেবে বাজার ধরে রাখতে জামা কাপড়, মগ, বাটি সহ সব পন্যের দাম অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত অনলাইন বিক্রেতাদের সমপর্যায়ে
    অথবা কম রাখতে হবে। অস্বাভাবিক মুনাফা করার জন্য অনলাইন ক্রেতাদের কাছ হতে বেশি দাম চাওয়া যাবেনা। বরং ক্রেতা ধরে রাখতে বিক্রিত অনলাইন পন্যের সাথে কিছু গিফট রাখা যেতে পারে যেমন -চাবির রিং, কলম ইত্যাদি । তবে স্ক্রিনপ্রিন্ট কৃত পণ্যের মান খুব ভাল করার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নইলে অনলাইন স্ক্রিনট্রিন্ট ব্যবসায় খুব উন্নতি করা যাবেনা।

    নবাবপুরে অবস্থিত এম এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী নজরুল ঘরে বসে স্ক্রিনপ্রিন্ট ব্যবসা প্রসঙ্গে বলেন- আপনারা স্ক্রিনপ্রিন্ট শিখে অনলাইনে
    স্ক্রিনপ্রিন্টের পন্য বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় স্ক্রিনপ্রিন্টের পন্য যেসব দোকানে বিক্রি হয় সেসব দোকানে কথা বলে পাইকারী দরে বিক্রি করে আয় করতে
    পারেন। ক্রেতারা যখন স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজের অর্ডার দেয় তখন একটা দুটো কাজের অর্ডার কম দেয় ,বেশির ভাগ সময় পাইকারী রেটে বেশি পন্যের
    অর্ডার দেয় । এক্ষেত্রে পন্য ক্রয় করে দিয়ে যদি আপনাকে শুধু স্ক্রিনপ্রিন্ট করার জন্য অর্ডার দেয় পণ্যের আকার অনুযায়ী প্রতি পন্যের জন্য ৩০
    টাকা করে রাখবেন।

    কিরকম মাসিক মুনাফা হতে পারে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন – স্ক্রিনপ্রিন্ট ব্যবসায় মাসে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার
    টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ২০ হাজার হতে ৪০ হাজার মুনাফা হতে পারে।

  • গলদা চাষে অভিজ্ঞতা অর্জনে সাতক্ষীরা সদর

    গলদা চাষে অভিজ্ঞতা অর্জনে সাতক্ষীরা সদর

    ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
    মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট (SCMFP)-এর আওতায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ২৫ জন চিংড়ি ক্লাস্টারভুক্ত চাষি সম্প্রতি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় এক অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরে অংশগ্রহণ করেছেন।

    এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ,আধানিবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) গলদা চাষ পদ্ধতি, ঘের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিষয়ে সফল চাষিদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।

    সফরকারী চাষিদের ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগ্যান। এসময় দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম সফরের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারি মৎস্য অফিসার মোঃ লুৎফর রহমান, প্রকল্পের মেরিন ফিশারিজ অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম, সদর মৎস্য দপ্তরের মাঠকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    সফরকালে চাষিরা প্রথমে ডুমুরিয়া উপজেলার বড়ডাঙ্গা চিংড়ি চাষি ক্লাস্টার-১ ও আধানিবিড় গলদা প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন। এটি আধানিবিড় গলদা চাষে একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। পরিদর্শনকালে উভয় ক্লাস্টারের চাষিদের মধ্যে এক প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা পর্বে বড়ডাঙ্গা ক্লাস্টারের সফল গলদা চাষি শুভেন্দু বিশ্বাস, জয়প্রকাশ বিশ্বাস, সুজিত মন্ডল, সাব্বির হোসেন রাজু এবং ক্লাস্টার লিডার শেখ মাহতাব হোসেন তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চাষ পদ্ধতি, আয়-ব্যয় হিসাব, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    প্রযুক্তিগত দিক ও বাস্তব চিত্র চাষিরা সরেজমিনে বড়ডাঙ্গা ক্লাস্টারের ঘের পরিদর্শন করেন। ঘের মালিকরা জাল টেনে মাছ ও চিংড়ি দেখান। উপস্থিত সবাই উৎপাদনের মান ও গলদার বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পরিদর্শনে দেখা যায়, এই ক্লাস্টারে সেমি ইনটেনসিভ (All male) গলদা চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফিশটেক সরবরাহকৃত পুরুষ গলদা পিএল ব্যবহার করে বায়োসিকিউরিটি, পানির গভীরতা বৃদ্ধি, নিয়মিত জলমান নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ, সঠিক মজুদ ঘনত্ব, মোলাসেস ও প্রোবায়োটিক ব্যবহারসহ পূর্ণাঙ্গ প্রটোকল মেনে চাষ পরিচালনা করা হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র ৮৩ দিনে গলদার গড় ওজন হয়েছে ২৫–৩০ গ্রাম, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে একই ঘেরে কম সময়ে ও তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম, খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান, এবং মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোঃ মনজুরুল ইসলাম।

    বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বড়ডাঙ্গা ক্লাস্টারের এই মডেলটি দেশের অন্যান্য চিংড়ি চাষ এলাকা, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলায় অনুসরণ করলে উৎপাদন ২–৩ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি সম্ভব। এর মাধ্যমে চাষিদের আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের চিংড়ি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অংশগ্রহণকারী চাষিরা জানান, এই সফরের মাধ্যমে তারা আধুনিক গলদা চাষ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রত্যক্ষ ধারণা পেয়েছেন। তাঁরা ভবিষ্যতে নিজের ঘেরে পুরুষ গলদা পিএল মজুদ, উন্নত নার্সারি ব্যবস্থাপনা, বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখা এবং ঘেরের গভীরতা বৃদ্ধি করে আধানিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    তাঁরা মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও প্রশিক্ষণ, বিনিময় সফর ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

    এই সফরের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চাষিরা কেবল একটি সফল চাষ পদ্ধতির সাথে পরিচিত হননি, বরং আধুনিক ও ব্যবসায়িকভাবে টেকসই গলদা চাষের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। অভিজ্ঞতা বিনিময়ভিত্তিক এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে দেশের চিংড়ি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত কর্মকর্তা ও চাষিরা।

  • অনলাইনে গয়নার ব্যবসা করে সাবলম্বী হোন

    অনলাইনে গয়নার ব্যবসা করে সাবলম্বী হোন

    ফারজানা শারমিন।

    আজকাল অনলইনে খাবার ব্যবসা, কাপড়ের ব্যবসাসহ বহু পন্য অথবা সেবার অনলাইন ব্যবসা খুব জমজমাট হয়ে উঠেছে।

    এরকম আরেকটি জনপ্রিয় অনলাইন বিজনেস হচ্ছে অনলাইনে গয়নার বিজনেস। নারীরা ঘরে বসে অনলাইনে স্বল্প পুঁজি নিয়ে গয়নার বিজনেস করে সাবলম্বী হতে পারেন ।

    অতীতেও সৌন্দর্য সচেতন নারীদের কাছে পুঁথি, রুপা ,গামছা , কাঠ অক্সাইড, কাপড়, কুন্দন সহ অন্যান্য পাথরের গহনার কদর ছিল অসীম । বর্তমানে যখন
    স্বর্ণের দাম আকাশ চুম্বী হয়েছে বলে এই সময় এসব গহনার কদর নারীদের কাছে আরো বেড়েছে।

    গয়না তৈরিতে যেসব উপকরণ লাগবে কানের দুল, গলার মালা, হাতের চুড়ি , আংটি তৈরির জন্য আইপিন, হেডপিন, জাম্প রিং, কানের হুক,কানের পুশ, রক সুতা, স্পেস বিট, গিয়ার ওয়্যার টার্সেল, সেপারেটর, চুড়ি এবং কানের দুল তৈরির জন্য কাপড় , ফ্রেম বিট, ঝুমকার টপ বেস, জেম গ্লু, রিং বেস, নথ বেস, নোস প্লায়ার, কাটিং প্লায়ার, প্লাস প্লায়ার , প্লাষ্টিকের ও কাঠের চুড়ি
    পুথির গহনা হলে ছোট বড় বিভিন্ন রংয়ের পুঁথি, বিভিন্ন রংয়ের গাজরা ,গ্লু ষ্টিক, গ্লু গাম , আলপিন , মাদুলী,এন্ড বিট, ঝুমকা বেস, কাঠের গহনার
    বেস, রং , তুলি, লকেট ।

    কেমন খরচ হবে :

    অনলাইনে গয়না তৈরি করে বিক্রি করার ব্যবসার প্রথমদিকে বেশি টাকা বিনিয়োগ করার দরকার নেই ।বেশি গয়নার উপকরন ক্রয় না করে
    নিয়ে অল্প কিছু গয়না তৈরি করুন । এরপরে যখন গয়না বিক্রি করে ভাল আয় হয় তথন বিনিয়োগ বাড়িয়ে আরো গয়না তৈরি করে বিক্রি করুন।

    আস্তে আস্তে যখন অনলাইনে অথবা অফলাইনে গয়নার বিক্রি বেড়ে যাবে, মুনাফা বাড়বে ঐ সময়ে বেশি বেশি টাকা বিনিয়োগ করা যেতে পারে। অনলাইনে গহনার বিজনেসের প্রথমদিকে ৩০০০ -৫০০০ টাকা গহনার কাঁচামালের জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন ।

    কোথায় পাবেন:

    গহনার বিভিন্ন উপকরণ পুরান ঢাকার চকবাজার, চাদনীচক,নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়। এসব জায়গায় গয়নার বিভিন্ন উপকরনের পাইকারী মার্কেট
    রয়েছে। স্বল্পমুল্যে এসব উপকরণ অফলাইন অথবা অনলাইনে পছন্দের দোকান হতে কিনতে পারবেন ।

    এ প্রসঙ্গে চকবাজারে গয়নার উপকরনের পাইকারী মার্কেটে অবস্থিত ইমরান ম্যাটেরিয়ালস নামের পাইকারী গয়নার উপকরনের দোকানের স্বত্ত্বাধীকারী
    ইমরান জানান , অনলাইনে ঘরে বসে অনেক আপুরা গহনার বিজনেস করে তারা আমাদের কাছ থেকে সবসময় গহনার বিভিন্ন উপকরণ কিনতে আসে ।
    অথবা ফোন বা হোয়াটঅ্যাপে তাদের পছন্দমত গয়নার উপকরনের অর্ডার করে থাকে ভিডিও কলে প্রডাক্ট দেখে । আমরা কুরিয়ার অথবা পাঠাওয়ের মাধ্যমে
    তাদের বাসায় সেসব মাল পাঠিয়ে দেই। তারা মাল হাতে পেয়ে অর্ডারকৃত মালের টাকা দিয়ে দেয়।আমাদের অনেক গয়নার উপকরন চীন, থাইল্যান্ড থেকে আসে।”

    গয়নার বিজনেসে বিনিয়োগ এবং মুনাফা প্রসঙ্গে ইমরান আরো বলেন – ”গয়নার বিজনেসে যারা নতুন আসতে চাচ্ছেন তারা গয়না বিজনেসের
    প্রথমদিকে প্রতিমাসে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৩০,০০০ টাকা ইনকাম করতে পারেন । পরে আরো বড় করে বিজনেস করে ইনকাম বাড়াতে চাইলে বিনিয়োগ ও বাড়াতে হবে ।”

    গয়না তৈরির প্রশিক্ষণ কোথায় নিবেন:

    গয়না তৈরি এবং অনলাইনে বিক্রির আগে গহনা তৈরি শিখে নিতে হবে। এজন্য অনলাইনে এবং অফলাইনে সেট প্রোগ্রাম ফর ইউমেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র
    ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), রুপান্তর সহ আরো বহু সরকারী সেবরকারি প্রতিষ্ঠানে শিখে নিতে পারেন কিভাবে পুঁথি, রুপা ,কাঠ অক্সাইড,
    কাপড়, কুন্দন সহ অন্যান্য পাথরের গহনা তৈরি করবেন । সরকারী -বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে গহনা তৈরির প্রশিক্ষণ নিতে ১,০০০-৩,০০০ টাকা
    লাগতে পারে।

    ফেসবুক পেজ , নিজস্ব ই কমার্স ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য সোশ্যাল সাইটে প্রচারণা:

    অনলাইনে গহনার বিজনেস করতে হলে ফেসবুকে পেজ তৈরি করে নিতে হবে। এই ফেসবুক পেজে গহনার সঠিক ক্রেতা পেতে বুষ্টিং করতে হবে নিয়মিত।এছাড়া নিজস্ব ডোমেইন হোষ্টিং নিয়ে ই – কমাস সাইট তৈরির মাধ্যমে তৈরিকৃত গহনার মার্কেটিং বা প্রচারণা করতে হবে। এতে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য বাৎসরিক খরচ হতে পারে ৩০০০-৫০০০ টাকা । এভাবে ফেসবুক পেজ, ই কমার্স ওয়েবসাইট , টুইটার, লিংকড ইন, ইনষ্টাগ্রামে গহনার
    বিজনেসের মার্কেটিং চালিয়ে যেতে হবে। এভাবে অনলাইনে গহনার বহু ইউনিক এবং সঠিক ক্রেতা পাওয়া যেতে পারে।

    প্যাকেজিং এবং প্রিন্টিং :

    অনলাইনে যখন গহনা কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতারা তাদের পছন্দের পুঁথি, রুপা ,কাঠ অক্সাইড, কাপড়, কুন্দন সহ অন্যান্য পাথরের গহনার জন্য অর্ডার
    করে , তথন তাদের পছন্দকৃত গয়নাগুলোর স্বল্পমুল্যের জুয়েলারী বক্সে সুন্দর করে ভরে, সাইজ অনুসারে টিস্যু ব্যাগে ভরে ক্রেতাদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন ।

    এক্ষেত্রে আপনার গহনার ব্র্যান্ডের বা ওয়েবসাইটের নাম দিয়ে প্রিন্টিং করে নিতে হবে ।

    প্যাকেজিং এবং প্রিন্টিং খরচ:

    গয়নার পাইকারী প্যাকেজিং এবং প্রিন্টিং এর যাবতীয় উপকরন চকবাজার, নিউমার্কেট চাদনি চক এলাকায় পেয়ে যাবেন ।
    গয়নার কোয়ালিটি, আকার ও পরিমান অনুযায়ী গয়নার বাক্সের দাম প্রতি পিস (২০-৫০০) টাকা । পাশাপাশি নিজ পছন্দ , কোয়ালিটি এবং আকার অনুযায়ী টিস্যু ব্যাগ পাইকারী মার্কেট হতে প্রতি পিস ৩ টাকা হতে ১৪ টাকায় কিনতে পারেন।

    অনলাইনে গয়নার বিজনেস করে মুনাফা বৃদ্ধির কিছু টিপস:

    প্রথমদিকে গয়নার উপকরন দিয়ে অল্প কিছু গয়না তৈরি করুন । এরপরে যখন গয়না বিক্রি করে ভাল আয় হয় তথন বিনিয়োগ বাড়িয়ে আরো গয়না তৈরি করে বিক্রি
    করুন।ক্রেতাদেরকে আকৃষ্ট করতে তাদের অর্ডারকৃত পন্যের সাথে ছোটখাট গিফটের ব্যবস্থা রাখা যায়। হতে পারে আই ভ্রু পেন্সিল, লিপ লাইনারের মত গিফট।

    অন্যান্য প্রডাক্টের মত ফ্যাশন সচেতন, গহনা প্রিয় নারীরা ইউনিক ভাল মানের গহনার প্রতি সব সময় আকৃষ্ট থাকে। আপনার গহনাগুলো যদি ক্রেতাদের একবার পছন্দ হয়ে যায় সেসব ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া ভাল রিভিউ
    আপনাকে যেমন আরো ভাল মানের গহনা প্রস্তুত করে বাজারে আনতে উৎসাহিত করবে , তেমনি আপনার প্রস্তুতকৃত গহনার ক্রেতাসংখ্যাও বেড়ে যাবে।
    এজন্য ফেসবুক, টুইটার, ইনষ্ট্রাগ্রাম সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বুষ্টিং , ফ্যান ফলোয়ার বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।বিভিন্ন ভার্চুয়্যাল ইভেন্টের আয়োজন করে
    প্রত্যক্ষভাবে ফ্যান ফলোয়ারদের সাথে , পরোক্ষভাবে ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে।

    ক্রেতাদের অর্ডারকৃত প্রডাক্টস যেভাবে পাঠাবেন:

    ক্রেতারা তাদের অর্ডারকৃত প্রডাক্টসের দাম বিকাশ , নগদ বা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার পরে ঐসব অর্ডারকৃত প্রডাক্টস বা গয়নার উপকরন কুরিয়ার বা পাঠাওয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের নিদিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে হবে।

  • জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের স্মারক লিপি প্রদান

    সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী ‘২৬ এ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, গণভোট আয়োজনসহ কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৫ দফা দাবিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মিছিল সহকারে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের কাছে স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন।

    স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নির্ধারন করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমূক্ত গ্রহনযোগ্য নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের অন্যতম দাবী। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোট কেন্দ্র দখল, পেশি শক্তি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্রে নানাবিধ অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ এবং দক্ষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বর্তমানে গণ দাবীতে পরিনত হয়েছে। বিগত সরকার বিভিন্ন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে ধ্বংস করেছে। বিরোধী মতে মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, হামলা, গ্রেফতার, জেল-জরিমানা, গুম, খুন করে দেশপ্রেমিক মানুষ ও মূক্ত গণমাধ্যমের কন্ঠকে স্তম্ভিত করেছে। দিনের ভোট রাতে নির্বাচনের নামে জাতির সাথে প্রহসন করেছে। বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

    অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের স্বার্থে ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সহ নিম্নোক্ত ৫দফা দাবি পেশ করেন-
    ১. আগামী ফেব্রুয়রীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজন করা
    ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।
    ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
    ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

    স্মারকলিপি প্রদানের আগে জেলাপ্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা শামীম সাঈদী, জেলা সেক্রেটারী মো. জহিরুল হক, জেলা সহকারী সেক্রটারী শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পেশাজীবি সংগঠনের সেক্রেটারী ড. আব্দুল্লাহিল মাহমুদ, শিবিরের জেলা সভাপতি মো. এমরান হোসেন প্রমুখ।

    এ সময় জেলা নায়েবে আমীর আব্দুর রব সহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সমাবেশ শেষে জেলা নেতৃবৃন্দ পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

  • মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টিনাকে বিশাল অঙ্কের ঋণ: আসল রহস্য ফাঁস!

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টিনাকে বিশাল অঙ্কের ঋণ: আসল রহস্য ফাঁস!

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি আর্জেন্টিনার পাশে দাঁড়াচ্ছে? অর্থনীতির জটিল আবর্তে, এমন প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আর্জেন্টিনার জন্য বিশাল অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। এই সহায়তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক, যা শুধু আমেরিকাতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    জানা গেছে, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তা মূলত একটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তির মাধ্যমে দেওয়া হবে, যেখানে আর্জেন্টিনা তাদের স্থানীয় মুদ্রা ডলারের সঙ্গে বিনিময় করতে পারবে।

    এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল আর্জেন্টিনার আর্থিক বাজারকে স্থিতিশীল করা।

    কিন্তু কেন এই সহায়তা? আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট, হাভিয়ের মিলেই, যিনি এক সময় “চেইনসো হাতে” উদারনীতিবাদের পক্ষে কথা বলেছিলেন, তার সরকার দেশটির অর্থনীতি সংস্কারের চেষ্টা করছে।

    মিলেইয়ের দল গত মাসে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়, যার ফলস্বরূপ দেশটির মুদ্রার দরপতন হয়। এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, আর্জেন্টিনার এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে তা অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আর্জেন্টিনা যদি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

    তবে এই সহায়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সহায়তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্রকে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছেন।

    এমনকি, এই সহায়তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরাও। কারণ, আর্জেন্টিনার বাজার থেকে মার্কিন সয়াবিনের আমদানি কমে যেতে পারে, যা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ফলস্বরূপ।

    আর্থিক সহায়তার এই সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে, যার ফলে বহু সরকারি কর্মচারী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে, বিদেশের একটি দেশকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সহায়তা আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাদের মতে, এর মাধ্যমে তারা পশ্চিমা গোলার্ধে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে।

    তবে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

    তথ্য সূত্র: সিএনএন