Category: জাতীয়

  • ঘুষ, নির্যাতন ও মোবাইল কোর্ট; ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র–আহমেদ আবু জাফর

    ঘুষ, নির্যাতন ও মোবাইল কোর্ট; ন্যায় বিচারের কাঠগড়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র–আহমেদ আবু জাফর

    বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এসব অধিকার রক্ষার জন্যই প্রতিষ্ঠিত।

    কিন্তু বাস্তবতার মাটিতে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে, যা এই মৌলিক আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সাধারণ মানুষের মনে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একটি সাম্প্রতিক ঘটনা তেমনই এক বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যা শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগ নয়; বরং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী ও প্রশাসনিক কাঠামোর মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের চর্চা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

    ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন জুবাইদা জন্নাত নামের এক তরুণী। তার জীবনকাহিনি বাংলাদেশের বহু অসহায় নারীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জন্মের কয়েক মাস পরই তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, যৌতুকের দাবিতে তার মাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন তার বাবা। এই নির্যাতনের কারণেই ১৯৯৯ সালে জুবাইদার মা রেহেনা জন্নাত রানু আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে মামলার আপোষ হলেও মা-মেয়ের জীবন আর স্বাভাবিক পথে ফিরে যায়নি। জুবাইদা বড় হয়েছেন মায়ের কাছেই, চকরিয়ায়। আর্থিক কষ্ট, সামাজিক চাপ এবং পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।

    জুবাইদার মা কঠোর পরিশ্রম করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি কলেজে অনার্সে অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাকে এমন একটি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তার অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
    জুবাইদার পিতা মৃত্যুবরণ করার পর সামনে আসে পৈতৃক সম্পত্তির বিষয়টি। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন সন্তান হিসেবে তিনি তার পিতার সম্পত্তিতে আইনগতভাবে অংশীদার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

    অভিযোগ রয়েছে, তার চাচা, জেঠা এবং চাচাতো ভাইরা তাকে সেই অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়। প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে। পরে তিনি বিষয়টি তহসিলদারের কাছে তদন্তের জন্য দেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত-আট মাস কেটে গেলেও কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং এই দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী পক্ষকে আরও অসহায় করে তোলে।

    একই সময় জুবাইদা ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখান থেকেও তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পিতৃপরিচয় ও ওয়ারিশ সনদের মতো একটি মৌলিক বিষয়ে একজন নাগরিক যদি প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে দীর্ঘদিন ঘুরে বেড়ান, তাহলে তা রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে আনে।

    অবশেষে নিরুপায় হয়ে জুবাইদা আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে এবং নতুন করে পেকুয়া থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এই পর্যায়ে তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব।
    এখানেই শুরু হয় ঘটনাটির সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন ভুক্তভোগী পক্ষের অনুকূলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই পল্লব জুবাইদা ও তার মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বলা হয়, টাকা না দিলে প্রতিবেদন বিপক্ষে যাবে। দরিদ্র মা-মেয়ে বহু কষ্টে সেই টাকা জোগাড় করে দেন। কিন্তু পরে যখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় তা আসামিদের পক্ষে গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং কোনো সাক্ষীও পাওয়া যায়নি। অথচ আদালতে জমা দেওয়া জন্মসনদসহ বিভিন্ন নথিতে জুবাইদার পিতার নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে জুবাইদা ও তার মা নিজেদের প্রতারিত মনে করেন। তারা পেকুয়া থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসআই পল্লবের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চান। এরপর যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা আরও উদ্বেগজনক।

    জানা যায়, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারা থানায় গিয়ে সেই টাকা ফেরত চাইলে উল্টো পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আদালতে হাজির করা হয় এবং এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    “যদিও আমি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে কোন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করিনা। তবে পেকুয়ার ঘটনাটি গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম বিতর্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে গেছে। কেননা, একক কারো জন্য একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং খোদ একটি জনপ্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না”।

    এখানেই মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসে। প্রথম প্রশ্ন হলো যদি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অনৈতিকতার ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে আঘাত করে। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত। সেখানে যদি ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে বিচার চাইবে?

    দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো মোবাইল কোর্টের ব্যবহার নিয়ে। মোবাইল কোর্ট সাধারণত তাৎক্ষণিক অপরাধ দমন বা প্রশাসনিক আইন প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন ভেজালবিরোধী অভিযান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো বিরোধ বা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরাসরি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হলে তা কতটা ন্যায়সংগত এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

    তৃতীয় প্রশ্নটি আরও মানবিক। একজন এতিম কন্যা যদি তার পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেন, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান, ঘুষের অভিযোগ তোলেন আর শেষ পর্যন্ত উল্টো কারাগারে যেতে হয়। তাহলে সেটি সমাজের জন্য কী বার্তা বহন করে?

    বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। একই সঙ্গে সংবিধান নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু বাস্তবে যদি একজন নাগরিক নিজের পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে তা অবশ্যই গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

    এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে আনে, জবাবদিহিতা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। কারণ ক্ষমতা যখন জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায়, তখনই অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে নারীরা, বিশেষ করে একক মায়ের সন্তানরা, প্রায়ই উত্তরাধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েন। আইনের চোখে তারা সমান অধিকারী হলেও সামাজিক বাস্তবতায় তাদের সেই অধিকার আদায় করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।

    পেকুয়ার এই ঘটনাটি তাই কেবল একটি পারিবারিক বিরোধ নয়; এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং মানবিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
    এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ভুক্তভোগী মা-মেয়ের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে বা ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আইনি ও নৈতিক দিকগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ন্যায়বিচার শুধু আদালতের রায় নয়; এটি মানুষের বিশ্বাসের বিষয়ও। মানুষ যখন মনে করে রাষ্ট্র তার পাশে আছে, তখনই আইনের শাসন শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন তারা মনে করে তাদের অভিযোগ শোনার কেউ নেই, তখন সেই বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে।

    বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় বারবার। সেই নীতির বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

    পেকুয়ার এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচার শুধু শক্তিশালীদের জন্য নয়; এটি দুর্বল ও অসহায় মানুষের জন্যও সমানভাবে নিশ্চিত হতে হবে। একজন নাগরিক তার পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করলে তাকে দোষী নয়, বরং সহানুভূতির চোখে দেখা উচিত।
    আজ প্রয়োজন সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। কারণ আইনের শাসনের মূল দর্শন একটাই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং কোনো নাগরিকই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না।

    লেখক: আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, ০১৭১২৩০৬৫০১, ৬ মার্চ ২০২৬ খ্রী:

  • কাউখালীতে সরিষার বাম্পার ফলন

    কাউখালীতে সরিষার বাম্পার ফলন

     কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটে উঠলো কৃষকদের। অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। আবহাওয়া অনুকূল ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে-ঘাটে দিগন্ত জোড়া হলুদ ফুলে মাঠ যেন হলুদের চাদরে ঢেকে গেছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬৮ হেক্টর জমি। কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ জাতের আবাদ বেশি হয়েছে।

    উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ মামুন জানান, ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা ১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হওয়ার আশা করছি।

    হোগলা গ্রামের কৃষক লাকি হাওলাদার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সরিষা গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছি।

    উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান, এ বছর কাউখালী উপজেলায় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা ৯ ও বিনা সরিষা ১১ আবাদ হয়েছে। যার ফলন হয়েছে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন। যা থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হবে।
  • চার ঘন্টা পর যানচলাচল স্বাভাবিক কাপ্তাইয়ে ইটবাহী পিকাপের ধাক্কায় ব্যাঙছড়ি ব্রিজ সড়কে যানচলাচল বন্ধ

    চার ঘন্টা পর যানচলাচল স্বাভাবিক কাপ্তাইয়ে ইটবাহী পিকাপের ধাক্কায় ব্যাঙছড়ি ব্রিজ সড়কে যানচলাচল বন্ধ

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটি কাপ্তাই ব্যাঙছড়ি চট্টগ্রাম – কাপ্তাই প্রধান  সড়কে রাঙ্গুনিয়া হতে কাপ্তাই গামী একটি ইটবাহী পিকআপ (চট্টমেট্রো ড ১১-২৩৩৪) স্টীলব্রীজের রেলিং এর সাথে ধাক্কা খেয়ে রেলিং এর কিছু অংশ পিকআপের বাম পাশে ঢুকে যায়। ফলে এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল মুহূর্তের মধ্যে  বন্ধ হয়ে যায়।ফলে সড়কের উভয় পাশে ভারী যানবাহন ৪ ঘন্টা বন্ধ থাকে।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল(ওসি)।

    তিনি জানান, উক্ত দূর্ঘটনার পর হোন্ডা ও সিএনজি ব্যতিত অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।

    পিকআপ এর চালক নজরুল ইসলাম  ও হেলপার আবু বক্কর জানান, ব্রিজে উঠতে হঠাৎ পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং ব্রিজের রেলিং এর সাথে ধাক্কা লাগে। তবে আমাদের কোন ক্ষতি হয় নাই, পিক-আপের সামনের অংশ নষ্ট হয়েছে।

    এদিকে ঘটনাস্থলে   কাপ্তাই সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং কাপ্তাই  থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস   সদস্যদের সহায়তা দুপুর ২ টার পর পিক-আপটি স্টীলব্রীজ হতে সরানো হলে  যান চলাচল স্বাভাবিক  হয়।

  • রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক কাপ্তাই আইডিইবির ইফতার ও আলোচনা সভা 

    রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক কাপ্তাই আইডিইবির ইফতার ও আলোচনা সভা 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল করেছে ইনন্সটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)কাপ্তাই সাংগঠনিক জেলা।

    বুধবার বিকাল ৫টায় রিভার ভিউ পার্কে আইডিইবি কাপ্তাই জেনিক শাখার  সাধারণত সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আলীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই আইডিইবির সভাপতি প্রকৌশলী মো. ইমাম ফখর উদ্দিন রাজী।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার রহমত উল্লাহ।

    প্রধান অতিথি রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন,রমজানের পবিত্রতা আমাদের রক্ষা করা ইমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি আইডিইবির আগত সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সকল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্রে একযোগে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আন্দোলন সংগ্রামে আইডিবি সারাদেশে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে গেছে। সামনে আমরাও আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একত্ববদ্ধ হয়ে দেশ উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার আহবান করে।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা আইডিইবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন, কাপ্তাই আইডিইবির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ।

    এছাড়া অন্যান্যদের  মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইডিবী সদস্য উপসহকারী মামুনুর রশিদ  মশিউর রহমান ও বিউটি চৌধুরী প্রমুখ।

    এসময় ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় আইডিইবির সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে কাপ্তাইয়ের এম.আর হোসাইন জহির 

    মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে কাপ্তাইয়ের এম.আর হোসাইন জহির 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে কাপ্তাইয়ের এম. আর. হোসাইন জহির।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন -১ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম সাক্ষরিত অফিস আদেশে – দ্যা মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব দ্যা স্টেট এন্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স রিমিউনারেইশন এন্ড প্রিভিলেজ এক্ট ১৭৭৩ (এমেন্ডমেন্ট আপ টু মে ২০১৬) এর ধারা ১৪(সি) অনুযায়ী তাকে মাননীয় মন্ত্রীর ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

    নিয়োগ প্রাপ্তির বিষয় নিশ্চিত করে  জহির বলেন- “পদ পদবি বড় কথা নয় – মাটি মানুষের জন্য এবং বিশেষ করে নিজ এলাকার জন্য কাজ করতে পারার সুযোগটাই বড় কথা। এড. দীপেন দেওয়ান তার সিনিয়র জেলা যুগ্ম জর্জের চাকুরী ছেড়ে দীর্ঘ ১৭ বছর কোন সরকারি দায়িত্ব বা পদবী না পেয়েও মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন- এবং অবশেষে যোগ্য স্থানে সম্মানিত হয়েছেন- এইটা আমাদের জন্য একটি উদাহরণ এবং অনুকরণীয় শিক্ষা। তাই আমি পদ পদবি চিন্তা না করে – মাননীয় মন্ত্রীর নীতি আদর্শ এবং আদেশ অনুসরণ করে কাজ করে যাওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। তার মতো আদর্শ এবং অধ্যবসায়ী মানুষের অধীনে কাজ করার সুযোগ নিঃসন্দেহে অনেক সম্মানের – এই সুযোগ প্রদানের জন্য আমি মাননীয় মন্ত্রী এবং তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

  • কেপিএম হরি মন্দিরে ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মালা শুরু 

    কেপিএম হরি মন্দিরে ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মালা শুরু 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি: 

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী প্রকল্প শ্রীশ্রী হরি মন্দির পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে শ্রীশ্রী হরি বিগ্রহ ২১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ৫৩ তম অষ্টপ্রহর ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ২০২৬ উপলক্ষে ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালা রবিবার ( ১ মার্চ) হতে শুরু হয়েছে।

    এদিন দুপুর ২ টা হতে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  ঝুলন দত্তের পরিচালনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক আশুতোষ মল্লিক এবং অন্যনা পালের সঞ্চালনায়  ভক্তিমুলক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলি পেপার মিল  (কেপিএম) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মোঃ শহীদ উল্যাহ। এসময় তিনি বলেন, এই মন্দির একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির, এখানে বার্ষিক মহোৎসব এ সকল ধর্মের মিলন ঘটে।

    মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কেপিএম লিমিটেডের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী স্বপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে  আলোচনা সভায় উদ্বোধন করেন কেপিএম কয়লার ডিপু হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রাক্তন সভাপতি ডা: বি কে দেওয়ানজী।

    এসময় অতিথির  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি  দয়াল দাশ, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক দিলদার হোসেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি

    ডাঃ রহমত উল্যাহ, কেপিএম লিমিটেডের উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মঈদুল ইসলাম, কেপিএম লিমিটেডের জিএম ( প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কেপিএম সিবিএ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক,  ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা পুজা উদযাপন  পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক  প্রিয়তোষ ধর পিন্টু, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের হিন্দু কল্যান ট্রাস্টের ট্রাস্টি কর্তৃক মনোনিত কাপ্তাই উপজেলা প্রতিনিধি  ঝুলন দত্ত, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলার প্রচার সম্পাদক পুলক শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কাপ্তাই উপজেলার আহবায়ক জগদীশ চন্দ্র দাশ,   কাপ্তাই উপজেলার সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ,  জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের  কাপ্তাই  উপজেলার সাধারণ সম্পাদক উৎপল ভট্টাচার্য এবং কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক আনিছুর রহমান।

    মন্দির পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক আশুতোষ মল্লিক এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্দির পরিচালনা কমিটির  কার্যকরি সভাপতি রতন কান্তি মল্লিক এবং সাধারণ সম্পাদক  রূপক মল্লিক রাতুল।

    পরে গীতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদপত্র এবং ক্রেস্ট বিতরণ করেন অতিথিরা। সবশেষে রাত ৮ টায় অধিবাস কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবাস কীর্তন পরিচালনা করেন হাটহাজারী পূর্ব  শিকারপুর শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মন্দিরের অধ্যক্ষ ১০৮ স্বরুপ দাস বাবাজী।

  • কাপ্তাই বাদশা মিয়ার টিলা মসজিদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত 

    কাপ্তাই বাদশা মিয়ার টিলা মসজিদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    কাপ্তাই বাদশা মিয়ার টিলা জামে মসজিদ মুসল্লীদের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার বিকাল ৫টায় মসজিদের ইমাম মো.সোহেল এর  সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি সেন্টার এর চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ।

    বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা আর্দশ শিক্ষক সমিতির সাধারণত সম্পাদক মো আমির হোসেন, শহীদ শামসুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.হানিফ ও মো.আব্দুল হান্নানসহ প্রমুখ।

    প্রধান অতিথি বলেন,পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, ফজিলতের মাস।এ মাসে আমাদের কুরআন হাদিস বুঝে দেলওয়াত করতে হবে।এবং কুরআন অর্থ সহকারে বুঝে পড়ার জন্য আহবান করা হয়।

    এসময় বাদশা মিয়া টিলার মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন পেতে আলোচনায় শীর্ষে যাঁরা

    সংরক্ষিত নারী আসনে বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন পেতে আলোচনায় শীর্ষে যাঁরা

    স্টাফ রিপোর্টার।


    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ যোগ্যতায় আগ্রহীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। দলীয় হাইকমান্ডের শুভদৃষ্টি আর আশীর্বাদ পেতে নিজ যোগ্যতা তুলেধরছেন পাশাপাশি যাহা মিডিয়া পাড়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগেও চলছে ব্যাপক আলোচনা এবং চুলচেড়া বিশ্লেষণ। সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে এসকল রাজনৈতিক দলের পোড়খাওয়া মাঠপর্যায়ের নেত্রীরা নিজ এলাকায় বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েও অনেকেই বৃহৎ স্বার্থে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তদের জন্য ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করেছেন।
    বরিশাল বিভাগের সংরক্ষিত নারী আসনে কতটি আসন পাবে তা ঈদের আগেই আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
    সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বরিশালের সাবেক এমপি জাতীয়তাবাদের আদর্শের অগ্নিকন্যা এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) ।
    বরিশালের আরেক মেধাবী তরুণী অধ্যাপক ডাঃ জাহানারা লাইজু। যার পিতা মোশাররফ হোসেন মংগু বরিশালের তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ডাঃ জাহানারা লাইজু বিএনপির রাজনীতিতে এক ক্লিনইমেইজের নাম। ড্যাবের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্যাসিবাদ শাসনামলে কেন্দ্র ঘোষিত সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছেন । আন্দোলনের সময় তার আয়ত্তাধীন বিএনপি দলীয় আহত নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে চিকিৎসা সহায়তা করেছেন। জুলাই ২৪ এর ঐতিহাসিক আন্দোলনে রাজপথে একজন নিবেদিত নারী কর্মী হিসেবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়াও অধ্যাপক ডাঃ জাহানারা লাইজু একজন গুনী সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং শিল্পী ।

    ঝালকাঠিতে সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ২ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ঝালকাঠির কৃতি সন্তান জিবা আমিনা আল গাজী জিবা। তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে মনোনয়ন চাইছেন। তার পিতা তৎকালীন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদ।
    ঝালকাঠি ১ (রাজাপুর কাঠালিয়া) আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মমতাজ বেগম নয়ন । দলের জন্য বৃহৎস্বার্থে তিনিও নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছেন। সাবেক ছাত্র দল নেত্রী, সমাজসেবী তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে তৎপর দেখা গেছে।
    আলোচনায় রয়েছেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিনা জামান। তিনিও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু ওপেক্ষা করে অনেক জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।

    এছাড়াও পিরোজপুরের বিএনপি নেত্রী এডভোকেট রহিমা আক্তার, রাজাপুরের সাতুরিয়ার একই পরিবারের আওয়ামী শাসনামলে চারজন সদস্য গুম হওয়ার দাবিদার বিএনপি দলীয় নেত্রী নাসিমা বেগম।
    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন — বিগত ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনকালীন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করা জাতীয়তাবাদের আদর্শের নারী সৈনিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করার সময় এখনই।

  • কাপ্তাইয়ের  শিলছড়ি মাহাজন পাড়ার ৬৯ পরিবার বিশুদ্ধ পানি  সংকট ভুগছে 

    কাপ্তাইয়ের  শিলছড়ি মাহাজন পাড়ার ৬৯ পরিবার বিশুদ্ধ পানি  সংকট ভুগছে 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫নম্বর ইউনিয়ন ৯নম্বর ওয়ার্ড  শিলছড়ি মাহাজন পাড়ায় ৬৯পরিবার বিশুদ্ধ পানি সংকটে ভুগছে। উক্ত পাড়ার উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘ বছর যাবত  বসবাস করে আসছে। উক্ত এলাকার  পানির প্রধান উৎস হল পাহাড়ি ঝরর্ণা,ছড়ার পানি শুল্ক মৌসুমে পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এলাকার লোকজন পানি সংকটে ভুগছে।

    দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় ৬৯টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। ব্যবহার ও পান করার উপযোগী নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পাড়াবাসী। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে পানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। এতে তাদের সময় ও শ্রম দুটোই ব্যয় হচ্ছে ব্যাপকভাবে। অনেক সময় প্রয়োজনের তাগিদে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করার ফলে  বাড়ছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। ফাইমং কার্বারী জানান, প্রায় ২/৩কিঃমিঃদূর হতে পানি সংগ্রহ করে হয়। গাছ না থাকার ফলে পানি  সংকট তীব্র আকারে ধারন করছে। আমরা এর একটি সমাধান চাই বলে জানান।

    শুধু পানির সংকটই নয়, পাড়াটিতে নেই চলাচলের উপযোগী কোনো পাকা রাস্তা বা কালভার্টের ব্যবস্থা। মেঠোপথ দিয়ে  বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায় পথঘাট।ফলে  শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

    সম্প্রতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জাফর আহমদ স্বপন, আনোয়ার হোসেন, ডালিম ও মফিজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পাড়াটি পরিদর্শন করেন এবং বাসিন্দাদের দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে দেখেন। তারা সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।

    এলাকাবাসী দ্রুত বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, একটি টেকসই নলকূপ স্থাপন, পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং একটি কালভার্ট নির্মাণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • শাহজাদপুরে নির্বাচন পরবর্তী তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন বিএনপি’র আমির হোসেন সবুজ

    শাহজাদপুরে নির্বাচন পরবর্তী তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন বিএনপি’র আমির হোসেন সবুজ

    মো: সবুজ হোসেন রাজা,
    শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নবগঠিত বিএনপি সরকারের তিনটি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দলকে আরও শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে শাহজাদপুর উপজেলার বিএনপি নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে ভোটার ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।

    শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং শাহজাদপুর স্বার্থরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন সবুজ নির্বাচনের পর থেকেই দিন-রাত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

    গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আমির হোসেন সবুজ কৈজুরী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়, জগতলা বাজার, জামিরতা বাজার, পূর্ব চরকৈজুরীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন। এছাড়াও এলাকার সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা শোনার মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

    শাহজাদপুরের মা, মাটি ও মানুষের জন্য প্রতিশ্রুতিশীল নেতা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিতের পাশাপাশি সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন হিরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে জনগণের আশা ও আকাঙ্খার বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

    এ সময় আমির হোসেন সবুজ সকলকে উদাত্ত আহ্বান জানান, তৃণমূলের সকল উন্নয়ন ও জনকল্যাণের স্বার্থে বিভেদ ভুলে বিএনপি’র পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থেকে একযোগে কাজ করার জন্য।

    অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৈজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম নাজমুল হক, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আফতাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ঝন্টু মিয়া, কৈজুরী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আক্কাস আলী, আরাফাত রহমান কোকো, পরিষদ কৈজুরী ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ সরদারসহ সোনাতুনি ও গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

    এর আগে আমির হোসেন সবুজ পর্যায়ক্রমে পোরজনা, গালা, হাবিবুল্লাহ নগর ও নরিনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করেন।

    অপরদিকে, তৃণমূলের নানা স্থানে নির্বাচনী বিজয় নিশ্চিত করার জন্য প্রফেসর ড. এম এ মুহিতকে ভোট দেওয়ার জন্য শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপি সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ।

    নির্বাচন পরবর্তী এই জনসংযোগ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনগণের খোঁজ খবর নেওয়ার মাধ্যমে তারা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত এবং উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।