অধ্যক্ষ নুর আফরোজ বেগম জ্যোতিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান বগুড়া বাসী

স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়া জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সাবেক এক সংসদকে ঘিরে। বগুড়া জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ নুর আফরোজ বেগম জ্যোতি-কে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আবারও দেখতে চান তারা।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অধ্যক্ষ নুর আফরোজ বেগম জ্যোতি এ আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী হতে পারেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয় উপস্থিতি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং শিক্ষকতা হিসেবে পেশাগত অভিজ্ঞতা তাকে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। স্থানীয় পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত রাখা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোও তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে অধ্যক্ষ নুর আফরোজ বেগম জ্যোতির সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
তিনি ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক হিসেবেও সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসনেও তিনি দলের পক্ষে ব্যাপক কাজ করেছেন।

অন্যদিকে, তিনি সমবায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও বগুড়া জেলা মহিলা দলের ৩বারের সভাপতি ছিলেন ও বর্তমানে উপদেষ্টা। আর বগুড়া জেলা মহিলা সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান তিনি।
এছাড়া তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে অনেকবার জেল খেটেছেন। এমনকি চাকুরীচ্যুতও হয়েছেন।

এদিকে, বগুড়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের ক্ষেত্রে দল সাধারণত এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী, পরীক্ষিত এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়। তাদের ভাষ্য, অধ্যক্ষ নুর আফরোজ বেগম জ্যোতি সেই যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেন। এছাড়াও সাবেক এমপি হিসেবে রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতাও তার জানা আছে। আর পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করেন, একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ নারী রাজনীতিক হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে বগুড়ার নারীদের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা এবং সামাজিক ইস্যুগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উদ্যোগে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

তবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। দলীয় হাইকমান্ড প্রার্থীর সাংগঠনিক অবদান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সার্বিক কৌশল বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, বগুড়ায় এ দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *