ডাক বাংলা সাহিত্য একাডেমির ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫

শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি ।

ডাক বাংলা সাহিত্য একাডেমির ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়াম-এ, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণে অবস্থিত। দেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিক, গবেষক, কবি, প্রাবন্ধিকসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মহাসাহিত্যিক মিলনমেলায়।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে এ সাহিত্য একাডেমির ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ডাক্তার মোহাম্মদ আবু তাহের।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডাক বাংলা সাহিত্য একাডেমি-এর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করা হয়। বক্তারা একাডেমির গত পাঁচ বছরের পথচলা, সাহিত্যচর্চা বিস্তার এবং তরুণ লেখকদের বিকাশে এর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ডাক বাংলা সাহিত্য একাডেমির ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্বের সেরা কবি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড.জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম,
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক শাহজাহান শাজু, ডাঃ হাফিজুর রহমান লিটু,অধ্যক্ষ গাউছ- উর রহমান, সৈয়দ তৌফিক কামাল,জাহিদ হোসেন ম্যোলা,মাসুম আহমদ রানা,এসএম গোলাম সরোয়ার।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলা সাহিত্য আজ বিশ্ব দরবারে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন সেই অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিশেষ অতিথিরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে দেশ-বিদেশের সাহিত্যিকরা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন এবং সমসাময়িক সাহিত্য প্রবণতা, অনুবাদ সাহিত্য, ডিজিটাল যুগে লেখালেখির পরিবর্তনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠ, গল্পপাঠ ও সাহিত্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গুণী সাহিত্যিকদের সম্মাননা প্রদান। সাহিত্যচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং নবীন-প্রবীণদের মধ্যে এক আন্তরিক সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমুখী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল সাহিত্য প্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *