Category: রাজশাহী বিভাগ

  • সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস হত্যা; মূল আসামীকে খালাস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মা

    সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস হত্যা; মূল আসামীকে খালাস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ মা

    রংপুর প্রতিনিধি।

    রংপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় ১১ বছর পর পলাতক একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে এ রায়ে খুশি হতে পারেননি সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎসের মা নুর জাহান বেগম। তিনি মামলার সকল আসামীদের মৃত্যুদন্ড কামনা করে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ রায়ের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, বহুল আলোচিত রংপুরের সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস হত্যাকান্ডে চার্জশীটভুক্ত সকল আসামীর মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত ছিল। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তৎকালীন সময়ে ঢাকা, রংপুর সহ সারাদেশে সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছিলেন। কিন্তু এ রায়ে মুল আসামী জহিরন আক্তার জুঁইকে খালাস দেওয়ায় আমরা খুশি হতে পারিনি। মাদককারবারি জুঁইয়ের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে ভাড়াটে খুনিদের দ্বারা সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎসকে হত্যা করা হয়। উচ্চ আদালতে মামলাটি পরিচালিত হলে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।

    এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রুবেল হেমরম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন এলিন ও শুভ কুমার। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন। একই মামলায় মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিসহ অন্য আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে যান পত্রিকাটির স্টাফ রিপোর্টার মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। ওই রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
    এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

    দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
    রায় ঘোষণার পর আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, ‘ন্যায় বিচার পাইলাম না। আমি এতদিন আদালতে ঘুরি, কিন্তু ন্যায়বিচার হইল না।’

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘মামলার অভিযোগ অনুযায়ী জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেছিলেন। অথচ আদালত মামলার মূল অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছেন।’

    তারা বলেন, ‘এই রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।’

    এদিকে একমাত্র পুত্র উৎসকে হারিয়ে এবং পুত্রের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বিপাকে মা নুর জাহান বেগম। তিনি চেয়েছিলেন পুত্র হত্যাকারীদের বিচার নিজ চোখে দেখে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। কিন্তু এখন তা হবে কি-না সন্দেহ মা নুর জাহানের। তিনি প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাটির সঠিক বিচার দাবি করেন।

  • সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবি

    সাংবাদিক নেতা জিয়া উদ্দিন তৌহিদ গ্রেপ্তার, মুক্তির দাবি

    স্টাফ রিপোর্টার।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা, টকশো ব্যক্তিত্ব এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জিয়াউদ্দিন তৌহিদকে গ্রেফতার করেছে স্বরূপকাঠি থানা পুলিশ।

    আজ শনিবার সকালে একদল মব সৃষ্টিকারী তার গ্রামের বাড়িতে তাকে অবরুদ্ধ করে। এ সময় তিনি মবের শিকার থেকে মুক্তি পেতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ এসে তাকে নিরাপত্তার কথা বলে থানায় নিয়ে যান।

    জানা গেছে, জিয়া উদ্দিন তৌহিদের নামে একদল দুর্বৃত্ত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু পোস্টার ছেপে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় শাটিয়ে দেন। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে তার বাড়িতে মবের সৃষ্টি হয়।  সম্প্রতি জিয়া উদ্দিন তৌহিদের স্ত্রী সন্তানের দেখাশোনার জন্য আমেরিকা গেলে কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় পৈতৃক বাড়ি স্বরুপকাঠিতে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমসাময়িক, ঐতিহাসিক, আন্তর্জাতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে লেখালেখি করেন। সাংবাদিক জিয়া উদ্দিন তৌহিদকে অযথা হয়রানি না করে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। 

    তিনি বলেন, মব সৃষ্টি করে এভাবে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে হয়রানি করা আইনের শাসনের মধ্যে পড়েনা। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি অবিলম্বে তাকে মুক্তির দাবি তুলে সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

  • শাহজাদপুরে চরের কৃষি বদলের সাক্ষী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

    শাহজাদপুরে চরের কৃষি বদলের সাক্ষী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

    স্টাফ রিপোর্টার,মো: সবুজ হোসেন রাজা।

    কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী চরে সফর করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। তাঁর এ সফর চরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের প্রত্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    সফরকালে তিনি “চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প” এর আওতায় আয়োজিত পাট ফসলের মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের ফসলের চাষাবাদ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    পরে মহাপরিচালক প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত পলিনেট হাউজ পরিদর্শন করেন। সেখানে উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের চারা ঘুরে দেখেন এবং কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে উন্নতমানের চারা বিতরণ করেন।

    সফরের অংশ হিসেবে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মো. জিয়াউর রহমান, প্রকল্প পরিচালক, “বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”; মো. এ. কে. এম. মনজুরে মওলা, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ; মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি অফিসার, শাহজাদপুর; কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদুল ইসলাম ও ফারজানা ইয়াছমিন। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    খুকনীর ব্রাহ্মণগ্রামের কৃষক লালচান মুন্সি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমাদের এলাকায় এসেছেন, এতে আমরা খুবই আনন্দিত। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আমাদের কৃষিকাজে অনেক সহায়ক হবে।

    উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহাপরিচালক স্যার উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর এ সফরে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিস অত্যন্ত আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত।

    প্রকল্প পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চরাঞ্চলে কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন ও সবুজায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, চরাঞ্চলের কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।

    মহাপরিচালকের এ সফর ও দিকনির্দেশনা চরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে বলে উপস্থিত কৃষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • সিরাজগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস পালিত

    সিরাজগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস পালিত

    মো: সবুজ হোসেন রাজা,শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

    নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস পালিত হয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। পরে অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহুরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

    আলোচনা সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রোভার স্কাউটসের সদস্য, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ডিটিসি-এর নির্বাহী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান শাহীন, জেলার বিভিন্ন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • রায়গঞ্জে ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

    রায়গঞ্জে ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

    মো: সবুজ হোসেন রাজা,স্টাফ রিপোর্টার,সিরাজগঞ্জ

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেলসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে সলঙ্গা থানা পুলিশ।

    সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা এলাকায় বগুড়াগামী মহাসড়কের পাশে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

    আটক ব্যক্তি মো. টিপু সুলতান (৫৫)। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চরুয়াপাড়া গ্রামের মৃত গোলাম আম্বিয়ার ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে টিপু সুলতানের কাছ থেকে ৮৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

    সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম আলী জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

    তিনি আরও বলেন, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপরাধ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উদযাপন শুরু

    রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উদযাপন শুরু

    মো: সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

    বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ (২২ জুন) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী উৎসব।

    সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা এমন এক মঞ্চে সমবেত হয়েছি, যা বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত। কবিগুরুর ১৬৫তম এবং জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী একসঙ্গে উদযাপনের এ আয়োজন আমাদের জন্য বিশেষ গৌরবের। এ উৎসবে উপস্থিত সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১ এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা। এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

    প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।

    বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক সেমিনার। এতে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি।

    সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

    সেমিনার শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সৃষ্টির নানা দিক তুলে ধরেন।

    উল্লেখ্য, আগামীকাল ২৩ জুন সকাল ১০টা থেকে পুনরায় শুরু হবে রবীন্দ্র মেলা। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনার। এতে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বিশিষ্ট নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার।

    এদিন বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার।

    সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

  • শাহজাদপুরে আ.লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ জালাল গ্রেফতার

    শাহজাদপুরে আ.লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ জালাল গ্রেফতার

    স্টাফ রিপোর্টার, সবুজ হোসেন রাজা। 

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ জালাল মিয়াকে পাবনা থেকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশের একটি দল।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাকে গ্রেফতার করে রাতেই শাহজাদপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।

    শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে শাহজাদপুর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় শাহ জালাল মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া শাহজাদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি আসামি। ওই মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহ জালাল মিয়া সাতবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন উপাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার কাছে আর্থিক হিসাব চাইলে তিনি অসদাচরণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. লুৎফুর রহমান লাল মিয়ার হাতের একটি আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

    এদিকে, গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ নেতার ভাগিনা জামিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শাহ জালাল মিয়া তার নানা-নানীর সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজের নামে লিখে নেন এবং তাদেরকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করতেন। তিনি দাবি করেন, তার মা ও খালাদের নানা-নানীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করে মৃত্যুবরণ করেন।

    জামিল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, শাহ জালাল মিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেও অতীতে দলের রাজনীতির সঙ্গে তার তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। অর্থের বিনিময়ে পদ লাভ করে তিনি সেই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি দলের প্রভাব ব্যবহার করে তাদের পরিবারের ওপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালানো হয় এবং বাড়িছাড়া করারও চেষ্টা করা হয়। এছাড়া ভূমিহীনদের সরকারি জমি লিজ দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

    শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা জেলার শালগারিয়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহ জালাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দিন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • শাহজাদপুরে উৎসবমুখর আয়োজনে “Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing” অনুষ্ঠিত

    শাহজাদপুরে উৎসবমুখর আয়োজনে “Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing” অনুষ্ঠিত

    মো: সবুজ হোসেন রাজা,স্টাফ রিপোর্টার। 

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে “মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য “Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing” প্রোগ্রাম।

    শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এবং এসইডিপি (SEDC)।

    তরুণ প্রজন্মের মেধা, বিজ্ঞানমনস্কতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং শিক্ষকদের সুশিক্ষাদানের অবদানকে সম্মানিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা, নবপ্রবর্তিত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি এবং নতুন কিছু সৃষ্টির অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাবরিনা শারমিন।

    এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ।
    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার মিলন হোসেন।
    আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন।

    সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাবরিনা শারমিন বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সাইদুল ইসলাম শেখ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ শিখতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের প্রতিভা বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    দিনব্যাপী এ আয়োজনে উপজেলার মোট ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্টল নিয়ে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প, স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও গবেষণামুখী চিন্তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। প্রদর্শিত প্রকল্পগুলো উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

    প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এসময় প্রথম স্থান অর্জন করে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে তালগাছি আবু ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়।

    “মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে আগামীর বাংলাদেশ।

  • রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন

    রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন

    রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন।

    জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৫-এ রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক মনোনীত হয়েছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় তাকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাছাই কমিটি রাজশাহী বিভাগের সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ ও সদস্য সচিব প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
    আসমা শাহীন শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার সহকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। এই অর্জন তিনি নাটোর জেলার জনসাধারণের জন্য উৎসর্গ করেছেন।
    জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ‘জেলার সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতার জন্য এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
    বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য আসমা শাহীন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে নাটোরে যোগদান করে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নে অবদান রাখেন।

    জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন নাটোরের সর্বস্তরের প্রশাসন কর্মকতা থেকে শুরু করে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

  • এলএলপি পাম্পে বদলে যাচ্ছে শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের কৃষকের জীবন

    এলএলপি পাম্পে বদলে যাচ্ছে শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের কৃষকের জীবন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)।

    যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে একসময় সেচের পানির অভাবে বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকত বহু জমি। পানির সংকটের কারণে কৃষকদের সীমিত পরিসরে চাষাবাদ করতে হতো, ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনও অর্জন করা সম্ভব ছিল না। তবে আধুনিক সেচ প্রযুক্তি লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) ব্যবহারের ফলে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নদী থেকে সহজে পানি উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা সারা বছর বিভিন্ন ফসল আবাদ করতে পারছেন। এতে কৃষি উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি কৃষকদের জীবন-জীবিকায়ও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ১১টি এলএলপি পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত ও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
    কৃষি বিভাগ জানায়, এর আগে বোরো ধান, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে সেচের জন্য কৃষকদের নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। পর্যাপ্ত পানির অভাবে অনেক জমি বছরের দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। বর্তমানে এলএলপি পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে স্বল্প খরচে দ্রুত পানি উত্তোলন করে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফসলের ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের আরকান্দি চরের কৃষক বোরহান উদ্দিন বলেন, “আগে সেচের অভাবে বছরে একটি ফসলের বেশি আবাদ করা সম্ভব হতো না। এখন কৃষি অফিস থেকে পাওয়া এলএলপি পাম্পের মাধ্যমে সহজেই জমিতে সেচ দিতে পারছি। এ বছর চীনাবাদাম ক্ষেতে নিয়মিত সেচ দেওয়ার ফলে ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে প্রতি হেক্টরে যেখানে এক টনের মতো উৎপাদন হতো, এবার সেখানে প্রায় দুই টন চীনাবাদাম পেয়েছি। এতে আয় বেড়েছে, সংসারের অবস্থাও আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।”
    কৃষকদের এমন অভিজ্ঞতা চরাঞ্চলে আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাবের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। সেচ সুবিধা বাড়ার ফলে এখন অনেক কৃষক একাধিক মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছেন, যা কৃষি উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “শাহজাদপুর একটি চরবেষ্টিত উপজেলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেচ সংকট এখানকার কৃষির অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল। বর্তমানে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা বিভিন্ন আধুনিক কৃষি সেবা পাচ্ছেন। এলএলপি পাম্প তার মধ্যে অন্যতম। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন এবং চরাঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
    তিনি আরও বলেন, “আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা গেলে চরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে। উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।”
    স্থানীয়দের মতে, এলএলপি পাম্প শুধু সেচ সুবিধা নিশ্চিত করেনি, বরং চরাঞ্চলের কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথও তৈরি করেছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। একসময় যে কৃষকরা সেচ সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন, আজ তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আশার হাসি।
    কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির এ সফল উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে শাহজাদপুরের চরাঞ্চল অদূর ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম উৎপাদনশীল কৃষি অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার