Category: জাতীয়

  • খুকনী ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ সম্পন্ন

    খুকনী ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ সম্পন্ন

    মো: সবুজ হোসেন রাজা,স্টাফ রিপোর্টার।

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অসহায়, দুঃস্থ, হতদরিদ্র ও দুর্যোগ আক্রান্ত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

    খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ৩৬১টি পরিবারের মাঝে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

    এ চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন খুকনী ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রিপন মিয়া, ইউনিয়ন সচিব আবু শাহীন মোল্লা, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রামকৃষ্ণ মজুমদার, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও সদস্যবৃন্দ, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাজী গোলাপসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারের এই সহায়তা পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময়

    ইউনিয়ন প্রশাসক রিপন মিয়া জানান, সরকারের ভিজিএফ এর আওতায় এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

  • কাপ্তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন হতে দশজন অসহায় ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা যাকাত প্রদান 

    কাপ্তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন হতে দশজন অসহায় ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা যাকাত প্রদান 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    রাঙামাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক কাপ্তাই উপজেলার দশজন অসহায় ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা যাকাত প্রদান করা হয়েছে।

    শনিবার বিকাল ৩টায় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিস  কার্যালয়ে এ যাকাত প্রদান করা হয়।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক জানা যায় ২০২৫-২৬অর্থ বছরে সরকারি যাকাত ফান্ড হতে সাহায্যে জন্য আবেদন করার ফলে দশজন অসহায় ব্যক্তিকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে যাকাত ফান্ড হতে সাহায্যে করা হয়।

    কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রায়হানুল ইসলাম উপস্থিত থেকে দশজনকে পাঁচ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেন।

    এসময় কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহামুদ হাসান ও কাপ্তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফিল্ড সুপার ভাইজার মোঃ নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,উক্ত অর্থ সংসারের আয় বৃদ্ধি করে এমন কিছু করার জন্য সকলকে আহবান জানান।

  • বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ 

    বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ 

    কাপ্তাই প্রতিনিধি। 

    পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ স্পেশাল টিম মানিকছড়ি হতে বিরল প্রজাতির একটি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে।

    শনিবার বেলা সাড়ে বারোটায় রাঙামাটি সদর রেঞ্জ গোপন সুত্রে খবর পেয়ে এটি উদ্ধার করে।

    রাঙ্গামাটি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মাহামুদুল হক মুরাদ জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি এ বিরল প্রজাতির কচ্ছপটি বাজারে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসে। এসময়  সদর  বন  বিভাগের স্পেশাল টিম মোঃ ফজলুল হক , মোঃ শফিকুল ইসলাম,মনির ও শাহীন কবির এফজি  ঘটনাস্থল হতে কচ্ছপটি উদ্ধার করে।

    এসময় বন বিভাগের  লোকজনকে আছ করতে পেরে বিক্রেতা গোপনে ব্যাগ রেখে  শটকে পরে বলে জানান।

    এটির  ওজন ৩.৫০০ কেজি । দৈঘ্য ১৪ ইঞ্চি প্রস্ত ১২ ইঞ্চি । পরে বিভাগীয় কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন এর দিক নির্দেশনায় এটি কাপ্তাই রেঞ্জের লোকজন  কর্ণফুলী নদীতে  অবমুক্ত করে বলে জানান।

  • মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনায়   কাপ্তাইয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনায়  কাপ্তাইয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

    শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ এলাকার আশপাশ, নালা, নর্দমা, ড্রেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়।

    এসময় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এরশাদ বিন শহীদ, উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ ঘোষ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো: শাহ আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: হোসেন, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিমল জ্যোতি চাকমা সহ  উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের  প্রধানগণ,  জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলাম জানান , পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত উপজেলা গড়ে তোলা সম্ভব। আসুন আমরা সকলে নিজ,নিজ এলাকা এবং অফিস পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখি এবং সুস্থ থাকি।

  • কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালন

    কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালন

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    রাঙামাটি কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন আয়োজনে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালন করা হয়েছে।

    শুক্রবার সকাল ১০টায় কাপ্তাই উপজেলা দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ,শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বৃক্ষ রোপন করা হয়।

    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সংরক্ষণ  প্রকল্পের বাস্তবায়নে কানাডা গ্লোবাল এফেয়ারস এর অর্থায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতায় আরডি-সিএইচটি প্রকল্পের আওতায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।

    কাপ্তাই উপজেলা বায়োডাইভারসিটি এন্ড এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর বকুল কুমার তঞ্চ্যার সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করে চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওশ্লেলিমং চৌধুরী।

    প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন  কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রায়হানুল ইসলাম, তিনি বলেন,পরিবেশ ভারসাম্যর ফলে দেশে বিভিন্ন ধরনের মহামারী দেখা দেয়। এসকল ভারসাম্য মানবজাতির সৃষ্টি। তিনি পাহাড়, বন,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সকলকে  সচেতন থাকতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

    অনুষ্ঠানে  উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা কামনা শীর্ষ খিসা।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহামুদ হাসান ও জেলা ইউএনডিপি প্রতিনিধি উমেচিং মারমা।

    পরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য দিবসটি কাপ্তাই দশটি উপজেলায় পালন করা হয়।

  • কাপ্তাই ভ্রাম্যমাণ অভিযানে জরিমানা এবং মাদক আইনে ১৫দিনের জেল

    কাপ্তাই ভ্রাম্যমাণ অভিযানে জরিমানা এবং মাদক আইনে ১৫দিনের জেল

    কাপ্তাই (রাঙামাটি)প্রতিনিধি। 

    রাঙ্গামাটি কাপ্তাই নতুন বাজার ভ্রাম্যমাণ অভিযানে  দুটি প্রতিষ্ঠানকে পৃথক মামলায় ৬ হাজার টাকা ও মাদক আইনে ১৫ দিনের কারাদন্ডসহ ৫শ’টাকা জরিমানা করেছে আদালত।

    বুধবার বিকাল ২টায় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হানুল ইসলাম নতুন বাজার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ আইনে পলিথিন ব্যাগ রাখায় দায়ে ২ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ  আইনে  অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

    এছাড়া চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নুর নবী(৩০)নামের যুবক  মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে মাদকদ্রব্য আইনে ৫শ’টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৫দিনের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    এসময় কাপ্তাই থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • হাতি মানুষ দ্বন্দ্ব নিরোসন  ইআরটি সদস্যদের নিয়ে বন বিভাগের বৈঠক অনুষ্ঠিত

    হাতি মানুষ দ্বন্দ্ব নিরোসন  ইআরটি সদস্যদের নিয়ে বন বিভাগের বৈঠক অনুষ্ঠিত

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ কর্তক ইআরটি (এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম) সদস্যদের  নিয়ে কাপ্তাই কর্ণফুলী রেঞ্জে জরুরি এক আলোচনা সভা বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়।

    বুধবার কর্ণফুলী রেঞ্জের আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

    সভায় হাতির অবাধ বিচরণ, হাতি সূরক্ষা,হাতি মানুষ দ্বন্দ্ব নিরোসন, হাতির করিডর সচল রাখা, ইআরটি সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিত ও ডিউটি পালন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ এর  মো: জামাল হোসেন তালুকদার, সহকারী বন সংরক্ষক, কাপ্তাই, মো: আবু কাউসার, সহকারী বন সংরক্ষক, কর্ণফুলী রেঞ্জ, আবু নাঈম মো: শহিদুল আলম,রেঞ্জ কর্মকর্তা, কর্ণফুলী রেঞ্জ,  মোস্তাফিজুর রহমান বিট কর্মকর্তা, কর্ণফুলী সদর বিট,সহ কর্ণফুলী রেঞ্জের স্টাফ এবং ইআরটি টিম- ১,২ এর মোট ২০ জন সদস্য।

  • খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়ে ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মোঃ আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার মানসম্মত না হওয়ায় ও অভক্তিতে মুখে দিয়ে কুলি করে ফেলে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    খুলনা সফররত স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেনারেল হাসপাতালের রান্না ঘরে রোগীদের জন্য তৈরি করা কুমড়োর সবজি গালে দিয়ে ফেলে দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের তরকারি আপনাদের বাসায় রান্না হলে কি খেতেন, জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে ভালো মানের তরকারি সরবরাহের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী।

    আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে আকস্মিক খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হন।
    এ সময় তার সাথে ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত।

    জেনারেল হাসপাতালের বিট ভ্যাকসিন কর্নার পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন।
    হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনে দিতে হচ্ছে রোগীদের।
    রোগীদের র‍্যাবিস ভ্যাকসিন টাকা দিয়ে কেনার ঘটনা সরেজমিন দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ধমকালেন জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজীকে।

    পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

  • কেএমপি কমিশনারের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    কেএমপি কমিশনারের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    মো: আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার কার্যালয়ে ২০ মে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কেএমপি কমিশনার এবং ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এর সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার পবন কুমার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সাক্ষাৎকালে উভয়েই পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একে অপরকে ফুলের তোড়া ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।

    আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এ সময় কেএমপি কমিশনার তার পেশাদার নেতৃত্বে খুলনার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেএমপির অব্যাহত কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং কূটনৈতিক মিশন গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার কেএমপি’র সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে আইসিইউ রোগীর মৃত্যু, আহত ৫

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে আইসিইউ রোগীর মৃত্যু, আহত ৫

    মো: আল মাসুম খান,বার্তা সম্পাদক।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) বুধবার (২০ মে ২০২৬) ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাসরিন নাহার নামে এক আইসিইউ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগুনের আতঙ্কে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সময় অক্সিজেনের ঘাটতিতে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। নিহত রোগী খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলির কন্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জন্মগত ডায়াবেটিস জনিত জটিলতায় গত রবিবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সময় তাড়াহুড়া করে নামানোর সময় মাস্ক খুলে গেলে অক্সিজেন সংকটে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. দিলীপ কুমার কুন্ডু গণমাধ্যমকে জানান, আইসিইউতে মোট ১৫ জন রোগী ছিল। আমরা সবাইকে নিরাপদে সরাতে সক্ষম হই। তবে ওই রোগীর স্বজনরা তাকে নিজে থেকেই দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। নামানোর পথেই তার মৃত্যু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার, পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ ও স্টোর রুম এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
    ধোঁয়ার কারণে ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না বলে জানান কর্মীরা। দ্রুত মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে এবং আইসিইউর রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    ওয়ার্ড বয় রেজাউল গণমাধ্যমকে জানান, স্টো ররুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সবাই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন।

    অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন—
    হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ধোঁয়ার মধ্যে থাই গ্লাসের গ্রিল কেটে আটকে পড়া নার্সদের উদ্ধার করা হয়। ফায়ার ব্রিগেডের স্টিলের সিঁড়ি ব্যবহার করে তাদের নামানোর সময় তীব্র আতঙ্কে একজন নার্স ও একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য ভারসাম্য হারিয়ে তিনতলা থেকে নিচে কংক্রিটের ওপর পড়ে যান। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

    একই ঘটনায় আরও দুইজন নার্স ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

    এছাড়া তিন তলার থাই গ্লাসের গ্রিল কেটে কর্তব্যরত নার্সদের ফায়ার সার্ভিসের স্টিলের সিঁড়ি ব্যবহার করে নিচে নামানোর সময় ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ নিচে পড়ে আহত হন।

    ফায়ার সার্ভিসের ১০ থেকে ১১টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী পরিচালক জানান, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে গেট গুলো তালা বদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশে কিছুটা সময় লাগে। পরবর্তীতে ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে।

    পরবর্তীতে বেলকনি ও বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ৪–৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আর কোনো নতুন হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

    রোগী ও স্বজনরা এই প্রতিবেদককে জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। স্টোর রুম থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ওটির ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেকেই আতঙ্কে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যোগে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে অন্য বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যান।

    তারা অভিযোগ করেন, ওটিতে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চললেও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রহস্যজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাময়িক ভাবে সব অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

    এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

    সর্বশেষ পরিস্থিতি,

    অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এলেও হাসপাতাল জুড়ে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ খবর নেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।