Category: বরিশাল বিভাগ

  • নেছারাবাদে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত নতুন কাঠামোয় প্রাণ ফিরে পেয়েছে

    নেছারাবাদে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত নতুন কাঠামোয় প্রাণ ফিরে পেয়েছে

    জসীম উদ্দীন, নেছারাবাদ থেকে।

    পিরোজপুর নেছারাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে জনপ্রতিনিধি বা সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই বদলে যাচ্ছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র। অবহেলিত জনপদের ভাঙাচোরা সড়ক ও অকেজো সেতু এখন স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত নতুন কাঠামোয় প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

    বলদিয়া ইউনিয়নের ৩০ জন তরুণের উদ্যোগে ‘সবার আগে বলদিয়া’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৩০টি সেতু সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে তারা এখন পরিচিত ‘অদম্য যুবসমাজ’ নামে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলদিয়া ইউনিয়নের চামী ৩নং ওয়ার্ডের একতা বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এলজিইডির অধীনে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে তিনটি পুল দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ছিল। ওই রাস্তা দিয়ে কোনো রোগী পরিবহন বা পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারত না। রাস্তার ওই পুলসহ পুরো রাস্তার টেন্ডার হয়েছিল একবার। সরকার পরিবর্তনের পর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়রা গাছ ও বাঁশের সাহায্যে পুল জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করত। শনিবার ‘সবার আগে বলদিয়া’ সংগঠনের সদস্যরা সারাদিন স্বেচ্ছাশ্রমে তিনটি পুল সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করেন। এতে ওই রাস্তা পুনরায় সচল হয়, হাঁসি ফোটে এলাকাবাসীর মুখে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় এতদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই তরুণরা প্রমাণ করেছে, উন্নয়নের জন্য শুধু বরাদ্দ নয়, দরকার ইচ্ছা আর আগ্রহ।’

    একই ইউনিয়নের বলদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে ৬০ ফুট লম্বা একটি সেতুও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পার হতো। সংগঠনের উদ্যোগে সেটি সংস্কার করা হলে এখন শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে চলাচল করছে। বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘আগে সেতু পার হতে ভয় লাগত, এখন মনে হয় নতুন রাস্তা পেয়েছি।’

    উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের সাগরকান্দা বাজার থেকে জিনুহার গ্রাম পর্যন্ত সড়কেও একই চিত্র। নাথপাড়া এলাকায় স্কুল, মসজিদ ও মন্দিরসংলগ্ন তিনটি পুল ১৫ বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশের পর সংগঠনের নেতা মো. মাসুদ পারভেজ ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে নতুন করে তিনটি সেতু নির্মিত হয়।

    সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন সাহেব তিনটি সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ দিয়েছেন। আমরা সেই অর্থে পাঁচটি সেতু করেছি। এ ছাড়া আমরা আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পূর্বে ২৭টি সেতু সংস্কার করেছি।’

  • পিরোজপুরের  জাকারিয়া মুন্সীর বিরুদ্ধে পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

    পিরোজপুরের জাকারিয়া মুন্সীর বিরুদ্ধে পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

    পিরোজপুর প্রতিনিধি:

    পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ২নং পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদারের কাছে চাঁদা দাবী ,তার উপর হামলা ও অপহরণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজেকে নির্দোষ সাজানোর নাটক করে পরবর্তীতে চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে পিরোজপুরের  জাকারিয়া মুন্সী।

    শনিবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহীন বলেন, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাওলাদার মোয়াজ্জেম হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এলাকার শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

    ছাত্রজীবনে তিনি জিয়ানগর উপজেলা ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে শ্রমিক দলের জিয়ানগর উপজেলা সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে উড়োজাহাজ প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০২১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

    চেয়ারম্যান শাহীনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খুলনা যাওয়ার পথে পিরোজপুর শহরের বড় পুল এলাকায় বালিপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মুন্সির ছেলে জাকারিয়া হোসেন মুন্সি ও তার সহযোগীরা পিরোজপুর পুরান স্ট্যান্ড বড় পোলের উপর তার গাড়ির পথরোধ করে। তাকে টেনে হিঁচড়ে তার নিজ গাড়ি থেকে
    নামিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে এবং তার কাছে থাকা দুইটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়। তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    এর কিছুক্ষণ পর পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী সহ জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারী, সহকারী সেক্রেটারীসহ জামাযাত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন। সংবাদ পেয়ে পত্তাশী ইউনিয়ন সহ শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চেয়ারম্যান শাহীনের ৩০০ শতাধিক শুভানুধ্যায়ী সদর থানার সামনে জড়ো হন। থানায় উপস্থিত সকলের সামনে মাসুদ সাঈদী বলেন ” আমি শাহীন হাওলাদারকে চেয়ারম্যান বানিয়েছি।” এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং ভবিষ্যতে জাকারিয়া মুন্সী তার সাথে এই ধরনের আর কোনো আচরণ করবে না কিংবা চাঁদা দাবি করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্হিত সকলে বলেন ” এই চাঁদাবাজ, অপহরনের চেষ্টাকারী জাকারিয়া মুন্সী ঢাকা থাকা অবস্হায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলো।

    বিষয়টি সমাধান হওয়ার পরও বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে জাকারিয়া মুন্সী তাকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহীন হাওলাদার।

    এছাড়া শুক্রবার জাকারিয়া মুন্সী একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উল্টো ও মিথ্যা অভিযোগ এনে নিজের অপরাধ আড়াল করতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আত্মরক্ষার্থে জাকারিয়া মুন্সী গল্প সাজিয়েছেন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার।

    একজন চেয়ারম্যান যদি এভাবে নতুন বাংলাদেশে চাঁদাদাবী, অপহরণচেষ্টা ও অপপ্রচারের শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ এমন প্রশ্ন‌ও তোলেন তিনি।

    তাই জাকারিয়া মুন্সী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার নিজের এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।

    এছাড়া তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা তদন্ত করে সত্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মশিউর রহমান (মঞ্জু), ইন্দুরকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ করীম (ইমন), মেম্বার জুবায়ের হোসেন তালুকদার, মেম্বার কাওসার আহমেদ হাওলাদার, মেম্বার আসমা আক্তার লিমা, মেম্বার ডা. মো. ইউনুস, মেম্বার রুহুল আমিন শেখ, আলহাজ্ব সোহরাব হোসেন, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মো. রফিক আহমেদসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • পিরোজপুরের কাউখালীতে পাঁচ দিনব্যাপী রাস উৎসব শুরু

    পিরোজপুরের কাউখালীতে পাঁচ দিনব্যাপী রাস উৎসব শুরু

    কাউখালী প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে  শ্রীগুরু সংঘ বাংলাদেশ- কেন্দ্রীয় আশ্রম পাঁচ দিন ব্যাপী রাস উৎসব শুরু হয়েছে।

    শ্রীগুরু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রীমদ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবের ১৩৪তম আবির্ভাব তিথী রাস পূর্ণিমায় প্রতিবছর এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
    পাঁচ দিনের এ উৎসব ঘিরে দেশ ও বিদেশের কয়েক লক্ষাধিক ভক্ত ও পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে। এ উপলক্ষে কাউখালী জনপদ এখন মুখরিত।
    শ্রীগুরু সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বামী জগন্নাথনন্দ স্বরস্বতী আশ্রম অঙ্গনে সংঘের পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
    পরে ‘সত্য, সেবা, নীতি, ধর্ম-জীবনের
    চারি কর্ম’ এ বাণীকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশের ১২৫টি শাখা সংঘের হাজার-হাজার ভক্তবৃন্দরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন।
    এ শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস,এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ,এম দ্বীন মোহাম্মদ, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ সোলায়মানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।
    পাঁচ দিনের এ উৎসবে প্রতিবছরের মতো আশ্রম প্রাঙ্গণের বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে রাস মেলা। নাগরদোলা, রকমারি জিনিসের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। পাহাড়ি কাঠের নকশায় গড়া আকর্ষণীয় ফার্নিচারসহ দূর দূরান্ত থেকে দোকানিরা এসেছেন মেলায়।
    কেন্দ্রীয় আশ্রমের নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ পরিমল চন্দ্র কর্মকার বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে ও বিশ্ব শান্তি কামনায় পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবে ২৪ প্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মঙ্গল আরতি, শ্রীমদভাগবদ গীতা ও গুরুগীতা পাঠ, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বস্ত্র বিতরণ, জাঁতি ধর্ম নির্বিশেষে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, হাসপাতালে দুঃস্থ রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণ, সান্ধ্যকালীন প্রার্থনা ও ধর্ম সভাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
    আগামী ১০নভেম্বর সোমবার সমাপনী দিনের উৎসবে কুঞ্জভঙ্গ, নগরকীর্তন ও পরিক্রমা এবং গুরুপূজা শেষে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উৎসবে দেশের ভক্তসহ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
    উল্লেখ্য ইতিমধ্যে ভারত, নেপাল , শ্রীলংকা , আমেরিকা রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ বিদেশ  থেকেও ভক্তরা অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছেন।
    পাঁচদিনের এই উৎসবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রীগুরু এর ভক্তবৃন্দ ছাড়াও মুসলিম ভাইয়েরা এই অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য আমাদের কর্মীর পাশাপাশি তারাও আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে থাকেন।
    কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ সোলায়মান জানান, পুরো অনুষ্ঠানের এলাকা সিসি ক্যামেরার আয়ত্তে রয়েছে এবং উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প।
  • বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী মনজুর সুমনের কাউখালী মহিলা দলের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

    বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী মনজুর সুমনের কাউখালী মহিলা দলের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

    কাউখালী প্রতিনিধি। 
    পিরোজপুরের কাউখালীতে রবিবার  (২ নভেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কাউখালী উপজেলা কার্যালয়ে পিরোজপুর ২ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজসেবক আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন কাউখালী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
    কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবিরের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম দ্বীন মোহাম্মদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিঞা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নুরুন্নাহার মনু, সাধারণ সম্পাদক শামীমা আক্তার, বিএনপি নেত্রী সুলতানা নীলা, জাকিয়া বেগম রানু, শামীম আরা নুপুর প্রমুখ।
    এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মঞ্জুর সুমন বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মা-বোনদের বুঝাতে হবে। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই মিলে তার সাথে থেকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয় করব ইনশাআল্লাহ।
  • কাউখালীতে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

    কাউখালীতে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

    মোঃ মেহেদী হাসান, কাউখালী।

    “সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালীতে ৫৪ তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
    দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে উপজেলা সমবায় বিভাগের আয়োজনে, ১লা নভেম্বর(শনিবার) সকাল ১০ ঘটিকার সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন সহ এক বর্নাঢ্য র‍্যালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
    পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমবায় অফিসার মোঃ অহিদুজ্জামান খান এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা, বিশেষ অতিথি কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, কাউখালী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মোঃ মনিরুল ইসলাম শাহিন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমবায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
    এ সময় অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি স্বজল মোল্লা বলেন, সমবায় সংগঠনগুলো একটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি।আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়তে,দারিদ্র্য দূরীকরণে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, সমবায় সংগঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।
    অনুষ্ঠানটির সভাপতি মোঃ অহিদুজ্জামান খান বলেন, কাউখালীতে ১০০(একশত) নিবন্ধনকৃত সমবায় সংগঠনের মধ্যে ৫০ টি সংগঠন সন্তোষজনক এবং ১০ টি সংগঠন পরিপূর্ণ সক্রিয়ভাবে তাদের সমবায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তিনি আরও বলেন, সমবায় সংগঠনের মাধ্যমেই আর্থ সামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব।
    অন্যান্যোর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমতির সদস্য, সদস্যা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

  • আওয়ামী লীগের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার প্রশ্ন অবান্তর : হাসনাত

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার প্রশ্ন অবান্তর : হাসনাত

    পিরোজপুর প্রতিনিধি।

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতার প্রশ্ন অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন দলটির দক্ষিণের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

    বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার সাংগঠনিক মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পিরোজপুর জেলা শাখার সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহামুদা আলম মিতু, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম তুহিন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও পিরোজপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মশিউর রহমান।

    এসময় পিরোজপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহাবুবুল আলম নাঈম, মো. আল আমিন খানসহ জাতীয় যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই পিরোজপুর জেলা কমিটি গঠন করা হবে। নতুন পরিবর্তনের রাজনীতি, বৈষম্যহীন রাজনীতি ও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে এনসিপির পতাকাতলে যোগ দিতে আমরা পিরোজপুরের মানুষকে আহ্বান জানাই।‘

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ থাকাকালীন পুরো সময়টা বাংলাদেশ একটি গণতন্ত্রহীন সময় অতিক্রম করেছে। এখন গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আমরা একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি ভূমিকা রাখতে পারবে ।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলোতে এখনো কোনো নীতিমালার স্বচ্ছতা নেই। শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। আমরা নীতিমালা দেখতে চাই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে, এনসিপি তাদের সঙ্গেই থাকবে। আর সংস্কারের বিপক্ষে যারা থাকবে, তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই এখন দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে।

  • বিএনপি আপোষ করে না, গুপ্ত রাজনীতি করে না : সাঈদ খান

    বিএনপি আপোষ করে না, গুপ্ত রাজনীতি করে না : সাঈদ খান

    পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

    বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মণের ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে প্রচারের অংশ হিসেবে পিরোজপুরের জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের পারেরহাট আবাসে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    পিরোজপুর-১ আসনের ধানের শীষ মনোনয়ন প্রত্যাশী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা হিসেবে সময়োপযোগী। বিএনপি জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার ও জনগণমুখী রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মণের এই কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির পথনির্দেশনা দেবে। উঠান বৈঠকে সাঈদ খান আরও বলেন, “বিএনপির প্রতিটি কর্মী ১৭ বছর ধরে বলে এসেছে-আমরা বিএনপি করি, আমরা কাউকের সঙ্গে আপোষ করি না। বিএনপি কোনো গুপ্ত রাজনীতি করে না; জনগণের রাজনীতি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসহ বিভিন্ন অনিয়ম-অনাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, কেউ কী করে হঠাৎ করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে-জনগণের সামনে তা ব্যাখ্যা করা উচিত। সাঈদ খান তারেক রহমানকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তিনি জনগণের পাশে থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন সংগ্রহশালীভাবে পরিচালনা করেছেন। বিএনপি আপোষ করে না, বিএনপি গুপ্ত রাজনীতি করে না-এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
    অনুষ্ঠন সভাপতিত্ব করেন পারেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন হাওলাদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত। তিনি বলেন, বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দল; এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকারের বাইরে রয়েছেন; জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। অনুষ্ঠানে জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলমগীর কবির মান্নু, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ সরদার, ফিরোজ শেখ, ক্রীড়াসংগঠক মোহাম্মদ নাজমুল হাওলাদার মারুফ, জেলা যুবদলের সাবেক সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এস. এম. আল ইমরান, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মুনতাসির, উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মো: বেল্লাল শিকদার, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন শেখ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিক রেজা, ছাত্রনেতা আতিক ও ব্যবসায়ী নেতা শেখ লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের হাতে ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং প্রজেক্টরের মাধ্যমে কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

  • আমড়া উৎপাদনে শীর্ষে পিরোজপুর, মৌসুমে শতকোটি টাকার বিক্রি

    আমড়া উৎপাদনে শীর্ষে পিরোজপুর, মৌসুমে শতকোটি টাকার বিক্রি

    পিরোজপুর প্রতিনিধি।

    দক্ষিণের জেলা পিরোজপুরের খ্যাতি রয়েছে পেয়ারা উৎপাদনে। পেয়ারার মৌসুমজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন এই জনপদে। তবে পেয়ারার মৌসুম শেষ হতে না হতেই আমড়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষক, ব্যাপারী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কেননা আমড়া উৎপাদনেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পিরোজপুরে।

    জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও নেছারাবাদে আমড়া উৎপাদন বেড়েছে। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় নেছারাবাদ উপজেলায়। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় পিরোজপুরের আমড়ার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের আলো-বাতাসে পাকা আমড়া সবুজ খোসা ছাড়িয়ে যখন তামাটে রং ধারণ করে, তখনই খালজুড়ে শুরু হয় আমড়া তোলা, বাছাই, বোঝাই ও পাইকারি বাজারে শ্রমিকদের ব্যস্ততা। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত খালে নৌকাভর্তি আমড়া নিয়ে ভিড় জমে পাইকারি হাটে। দরদাম, পরিবহন আর লেনদেনের ব্যস্ততায় এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানার পাইকারি মোকামগুলো।

    উপজেলার ভরতকাঠী,কারণে কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছে আমড়া উৎপাদনে। আগামীতে জেলায় এর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরে ৫৭৭ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ১২৪ টন আমড়া উৎপাদিত হয়েছে, যা বরিশাল বিভাগের ভেতরে উৎপাদনে সর্বোচ্চ। ভিমরুলি বাজারের আমড়ার আড়তদার লিটু ব্যাপারী বলেন, ‘পিরোজপুরের আমড়ার সারাদেশে সুনাম রয়েছে। আকারে বড়, সুস্বাদু এবং ফরমালিন মুক্ত হওয়ায় মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এই আমড়া। আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বাজারের সন্ধান পাচ্ছি। চাহিদা বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুমে ২০ জন শ্রমিক আমার অধীনে কাজ করে। এখন মৌসুম প্রায় শেষের দিকে তাই শ্রমিক কম। তারপরও প্রতিদিন ৪০০-৫০০ বস্তা আমড়া আমি নিজেই সাপ্লাই দিই।’ আটঘর বাজারের আমড়ার আড়তদার জসিম হাওলাদার বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ২০০-২৫০ কোটি টাকার আমড়া বেচাকেনা হয়েছে। আগামীতে যদি ফলন ভালো হয়, তাহলে এর পরিমাণ ৩০০-৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’ আমড়াচাষি মিঠুন মন্ডল বলেন,

    আটঘর, কুড়িয়ানা, গুয়ারেখা, জলাবাড়ী, দৈহারী, বলদিয়া, সমুদয়কাঠী, সারেংকাঠী, সোহাগদলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকায় করে সকাল সকাল নিয়ে আসা হয় সুমিষ্ট আমড়া। জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকেও এখানে আমড়া নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ২-৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে আমড়া। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন চাষি ও খুচরা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমড়া কিনে সড়ক পথে চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেন। কৃষকরা বলছেন, পেয়ারায় আগের মতো লাভ হয় না। এজন্য গত এক দশকে তারা ব্যাপকভাবে আমড়া চাষে ঝুঁকেছেন। অনেকে পেয়ারা বিক্রি করে লোকসান শুনলেও এ মৌসুমে আমড়া বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছেন। ফলে এ ফল এখন কৃষকদের নতুন আশার কারণ হয়ে উঠেছে। বরিশালের আমড়া জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা আরও বেড়েছে। স্বাদ, গন্ধ ও মানের কারণে বরিশাল বিভাগের আমড়া নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছে। চলতি মৌসুমে ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলন কিছুটা কম হলেও দাম ভালো থাকায় কৃষকরা সন্তুষ্ট। গতবছর মানভেদে প্রতি মণ আমড়া ১০০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষের দিকে দাম বেড়ে ২-৩ হাজার টাকায় ঠেকেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমে ২০০-২৫০ কোটি টাকার আমড়া বেচাকেনা হয়। জিআই পণ্য হওয়ার

    ‘বরিশালের আমরা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা আরও বাড়বে। এতে আমরা অনেক খুশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আনুপাতিক হারে ফলন কম ছিল। বৃষ্টি, বন্যাসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে ফলন কম হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, আগামী বছর ফলন বেশি হবে। তখন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।’ কুয়াকাটা থেকে আমড়া কিনতে এসেছেন জসিম ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘এখানকার আমড়ার মান খুব ভালো। আকারে বড়, স্বাদেও মিষ্টি। প্রতিবছর ১০-১৫ লাখ টাকার আমড়া কিনে নিয়ে খুচরা বিক্রি করি।’ আমড়া পাইকারি দোকানের শ্রমিক সুমন মণ্ডল বলেন, ‘জিআই পণ্য হওয়ার কারণে দেশের বাইরেও আমড়া পাঠানো সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকায় আমড়া উৎপাদনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এ বছর প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি আমড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে।’ পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ৫৭৭ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ১০ হাজার ১২৪ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য প্রায় শতকোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘এখানকার আমড়া জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় সুনাম বাড়ছে। উৎপাদনও বেড়েছে। নতুন করে যারা এ ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন, তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

  • কাউখালীতে গণপিটুনিতে হত্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে হয়রানী করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    কাউখালীতে গণপিটুনিতে হত্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে হয়রানী করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

    কাউখালী প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা নামক স্থানে বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৫ টায় এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সুরাইয়া বেগম, শিরিন আক্তার, আঃ রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন মিয়া, চৌরাস্তা জামে মসজিদের ইমাম আবু হানিফ, ব্যবসায়ী মিজান সহ আরও অনেকে। এ সময় বক্তারা বলেন, গত ১৯ অক্টোবর রাতে শিয়ালকাঠী গ্রামের আব্দুল হাকিম হাওলাদার এর ছেলে মোঃ আলী হোসেন ওরফে হৃদয় শিয়ালকাঠীতে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে জনগণের হাতে ধৃত হয়ে গণপিটুনিতে গুরুত্বর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

    এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কাউখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ সময় বক্তারা আরও বলেন, আলী হোসেন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট, ধর্ষক, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অকর্মের সহিত জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে কাউখালী থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    মানবন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন এ মামলায় শিক্ষক,পল্লী চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ নিরীহ মানুষকে আসামী করে হয়রানী করার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    অনেকে পুলিশের ভয়ে এলাকা ছাড়া। তারা প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান অহেতুক যেন কাউকে হয়রানী না করা হয়।

    মানব বন্ধনে এলাকার নারী পুরুষসহ ভিবিন্ন শ্রেনী পেশার শত শত লোক অংশ গ্রহণ করে।

    এ ব্যাপারে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোলায়মান জানান, পুলিশ কোন নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতার কিংবা হয়রানী করবে না। ভিডিও ফুটেজ দেখে ও তদন্ত সাপেক্ষে মূল আসামীদেরকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।

    উল্লেখ্য এ মামলায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • কাউখালীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    কাউখালীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    কাউখালী প্রতিনিধি।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কাউখালী উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১ঘটিকার সময়, উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি উত্তর বাজার উপজেলা বিএনপি’ কার্যালয়ে গিয়ে সমাপ্তি করা হয়।

    উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান মামুন তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আজম সোহেল।

    এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান নিক্সন,সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুদ্দোজা মিয়া,গিয়াস উদ্দিন অলি,সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত তালুকদার,মোঃরফিকুল ইসলাম রফিক, শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তাহের, স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ,সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমন, সদস্য সচিব শোইয়াব সিদ্দিক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
    উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন,আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রতীক ধানের শীষ কে সামনে রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিগত ১৬ বছর হাজারো নেতৃবৃন্দ হামলা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও তাজা রক্তের বিনিময়ে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে। নতুন করে আবারো দেশকে অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা গোপনে মাঠে নেমেছে। আমরা তারেক জিয়ার নেতৃত্বে,সকল নাগরিকের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে নির্বাচন ও ভোট অধিকারের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আনবো। র‍্যালিতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের যুবদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।