কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।
কেন্দ্রীয় আশ্রম কাউখালী বাংলাদেশ এর আশ্রমের টাকা আত্মসাৎ ও আশ্রমের কমিটি নিয়ে একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলার করার অভিযোগ রয়েছে ।
এ নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালীতে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের তহবিল তসরুপের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বিপুল বরণ ঘোষ ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে চক্রটি আসন্ন বাৎসরিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আশ্রমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের আয়োজনে আশ্রম সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কেন্দ্রীয় আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ মন্ডল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়েছে। কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আশ্রমের বহিষ্কৃত সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিপুল বরণ ঘোষ বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আশ্রমে নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে আশ্রমে তহবিল তসরুপসহ নানাবিধ অনিয়মের প্রমাণ মেলায় তাকে আইনগতভাবে আশ্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আশ্রমের ১ কোটি ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিপুল বরণ ঘোষের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে বিপুল বরণ ঘোষ সরাসরি সামনে না এসে পর্দার আড়াল থেকে কতিপয় স্বার্থান্বেষী লোককে ইন্ধন জুগিয়ে আশ্রমের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর এর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের নেতৃত্বে আশ্রমে একটি তদন্তের দিন ধার্য ছিল। এই তদন্ত কার্যক্রমে বিপুল বরণ ঘোষ আশ্রমে প্রবেশ করতে চাইলে আশ্রমের সাধারণ সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে সে ফিরে যেতে বাধ্য হয় ।
তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হলে বিপুল বরণ ঘোষের উস্কানিতে তার আপন মামা শ্বশুর শংকর লাল বসুর নেতৃত্বে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বহিরাগত দুষ্কৃতকারী আশ্রমে বিজ্ঞ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দের সামনেই বিভিন্ন অসদাচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। পটুয়াখালী থেকে আগত প্রদীপ কর্মকার, ঝালকাঠি থেকে আগত পরিমল চন্দ্র দে, বরিশাল থেকে আগত প্রশান্ত কুমার দাস ও বরিশালের বিপ্লব দেবনাথ গং এই সকল অপকর্মের অন্যতম উস্কানিদাতা।
আসন্ন বাৎসরিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আশ্রমের পবিত্র আঙিনায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আশ্রম কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ পরিমল চন্দ্র কর্মকার, নির্বাহী সভাপতি শংকর দেবনাথ, সহ-সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ দাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কমল কৃষ্ণ গড়াই, দপ্তর সম্পাদক মানিক লাল কর প্রমুখ।
এছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র সাহা, উজ্জ্বল সাহা, নেপাল চন্দ্র দে, সুজন সাহা, কালাচাঁদ কর্মকার, পলাশ কর্মকার ও ধলুশীল সহ আশ্রমের অন্যান্য সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply