কাউখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার, কাউখালী (পিরোজপুর)।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস গণহত্যা চালায়। এর প্রতিবাদে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, লক্ষাধিক শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। পরে ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৬ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালেই উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের অনন্য প্রদর্শন করে।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়াকুব হোসাইন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস.এম. আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম. দ্বীন মোহাম্মদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মোঃ হুমায়ুন কবির, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সভাপতি মোঃ আলী হোসেনসহ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান শেষে কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *