‎ওয়াসার ‘নিয়োগ ও কোড বাণিজ্য’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ অফিসে ঢুকে সাংবাদিককে হুমকি, আজিজ ও মনির গং-এর বিরুদ্ধে থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা ওয়াসার জোন-১ এর একটি সিন্ডিকেটের কোটি টাকার নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে তাঁর নিজ কার্যালয়ে ঢুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।



‎ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিকের নাম মো. বশির আহম্মেদ সানি। তিনি ‘সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা’ পত্রিকার হেড অব মাল্টিমিডিয়া হিসেবে কর্মরত।

‎থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা যায়, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে সাংবাদিক বশির আহম্মেদ সম্প্রতি “ঢাকা ওয়াসার জোন-১-এ সিন্ডিকেটের রাজত্ব” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে মন্নান, ইকবাল ও শরিফুল নামের তিন ব্যক্তির নেতৃত্বে কোটি টাকার নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ তথ্য-প্রমাণসহ তুলে ধরা হয়।

‎জিডিতে অভিযোগ করা হয়, প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে গত ৩০ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৩ জন ব্যক্তি যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত পত্রিকাটির কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা ঢাকা ওয়াসা সিবিএ-এর স্বঘোষিত সভাপতি মো. আজিজুল আলম খান ও সেক্রেটারি মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং জোন-১ সিবিএ-এর সভাপতি ফারুক আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়ার নির্দেশে সেখানে যায় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎অফিসে প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিরা প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং অবিলম্বে সংবাদটি প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়। সংবাদ প্রত্যাহার না করলে সাংবাদিককে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে হুমকি প্রদান করে তারা। এ সময় অফিসে পত্রিকার প্রকাশক মোহাম্মদ রনি এবং নির্বাহী সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই এই ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

‎ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ঘটনার সময় অফিসের নিচে রাস্তায় আরও ২৫-৩০ জন লোক সংঘবদ্ধ হয়ে অবস্থান করছিল।

‎এই ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক বশির আহম্মেদ সানি। তিনি আশঙ্কা করছেন, ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তিরা বা তাদের সহযোগীরা যেকোনো সময় তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা বা প্রাণনাশের চেষ্টা চালাতে পারে। এ অবস্থায় তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে সার্বিক নিরাপত্তা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *