রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত : ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

আবু মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মিঠু। 

‘রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’

শুক্রবার (২৫ বৈশাখ) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান স্মরণ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, কবি এখানে (শাহজাদপুর) বসেই বহু গান, কবিতা ও গল্প রচনা করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের গুরু। তাই এই দিনে আমরা বাংলা সাহিত্য ও রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করি।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

২৫-২৭ বৈশাখ তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে কাছারিবাড়ি ও অডিটোরিয়ামে সংস্কার, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, একসময় শাহজাদপুর ছিল রানী ভবানীর জমিদারির অংশ। ১৮৪০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় এই জমিদারি ক্রয় করেন।

পরে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির জন্য রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন ও এখানে অবস্থান করতেন।

এই কাছারিবাড়িতে বসেই তিনি ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, ‘কল্পনা’র মতো কাব্যগ্রন্থ এবং ‘পোস্টমাস্টার’, ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘অতিথি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মতো বিখ্যাত ছোটগল্প রচনা করেন।

পাশাপাশি ‘ছিন্নপত্রাবলী’র বিভিন্ন অংশ ও ‘বিসর্জন’ নাটকেরও কিছু অংশ এখানে রচিত হয়।

রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অডিটোরিয়াম ও মিউজিয়ামে সংস্কার ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পাশাপাশি রবীন্দ্র মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।

দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *