Category: বরিশাল বিভাগ

  • কাউখালীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    কাউখালীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    মোঃ মেহেদী হাসান,কাউখালী।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৭শে আগস্ট
    (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১ ঘটিকার সময় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন,কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    তিনি বলেন, বর্তমানে কাউখালীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ সন্তোষজনক ও স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে মাদক,সন্ত্রাস,ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশি অভিযান ও কঠোর নজরদারিও অব্যাহত আছে।
    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. আহসান কবির। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মঞ্জুর সুমনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছি। যে কোনো অপরাধ দমনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতাও করে আসছি। এ সময় তিনি কাউখালীর দুটি সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত বিদ্যালয়গুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান বলে জানা যায়।
    পরিশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষাঙ্গনে যে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
    তিনি আরও জানান, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও সরকারি নির্দেশনায় তাঁকে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে,ফলে এই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে এটিই তাঁর শেষ আইনশৃঙ্খলা সভা। এ সময় তিনি আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন কাউখালীবাসীর সেবা ও দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও প্রবাস যাত্রার জন্য উপস্থিত সকলের কাছে দোয়াও কামনা করেন।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিদায়ী সংলাপে এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
    ​সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার,কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস,প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোমা সরকার,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন,দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

  • কাপ্তাইয়ে শিশুদের মাঝে  শিশু-খাদ্য বিতরণ

    কাপ্তাইয়ে শিশুদের মাঝে  শিশু-খাদ্য বিতরণ

    কাপ্তাই প্রতিনিধি।

    সাম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫০ জন পরিবারের শিশুদের মাঝে শিশু  খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

    সোমবার  (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে  শিশুদের অভিভাবকদের হাতে  এসব শিশু-খাদ্য তুলে দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:  রায়হানুল ইসলাম।

    এসময় প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে সুজি, ডাইজেস্টিব বিস্কুট,  মিক্সড ফুড বিস্কুট , খিচুঁড়ি মিক্স এবং চিনি তুলে  দেওয়া হয়েছে।

    এসময় কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা রুইহ্লা অং মারমা,   কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান, কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ এর উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম, কাপ্তাই সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইব্রাহীম হাবিব মিলু, কাপ্তাই প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

  • কাউখালীতে ফ্রি অক্সিজেন সেবা চালু করলো ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি 

    কাউখালীতে ফ্রি অক্সিজেন সেবা চালু করলো ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি 

    কাউখালী প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে সামাজিক সংগঠন ” ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি ” নামের সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ফ্রি হিউম্যান সার্ভিস অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
    রোববার (২২ আগস্ট) বিকেলে ফ্রি অক্সিজেন সেবার উদ্বোধন করা‌ হয়।ন
    এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার, ক্যাপ্টেন এস.কে শহীদ (অব:), আইরন জয়কুল এম. এম. মোদাচ্ছের মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নান্না মিয়া, কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি ইনচার্জ মো: মাসুম হাওলাদার প্রমুখ।
    এ অক্সিজেন সিলিন্ডার গুলো নিতে হলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখাতে হবে। আপাতত কয়েকটি সিলিন্ডার দিয়ে শুরু হয়েছে ফ্রি সার্ভিস। প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সিলিন্ডারের সংখ্যা বাড়ানো হবে।বিনামূল্যে অক্সিজেন পেতে হটলাইন নম্বরে০১৩৪১-৮৪৭২০৩ যোগাযোগ করলেই বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা বাড়ি বাড়ি পৌছে যাবে।
    এ বিষয়ে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, নদীমাতৃক পাচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কাউখালী উপজেলা। একটি মাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপর নির্ভরশীল এখানকার প্রায় লক্ষাধিক জনগন। নদীমাতৃক হওয়াতে যাতায়াত ব্যাবস্থা না থাকায় সঠিক সময়ে জরুরী ক্ষেত্রে অক্সিজেন সেবাটি পাওয়া দুস্কর হয়ে যায় এবং মানুষ সহজে অক্সিজেন পান না। তাই আমরা এলাকায় বিনামূল্যে এ সেবাটি চালু করলাম। বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবার সাথে আগামীতে জরুরী রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দ্রুত পৌছানোর জন্য যাতায়াতের ব্যাবস্থা করা হবে। যে কোনো সময় আমাদেরকে অবগত করবেন। আমরা আপনাদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেব। ইউনিটি ফর হিউম্যানিটি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা আপনাদের সেবায় সবসময় নিয়োজিত থাকবেন।
    উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, প্রায় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির বসবাস এই উপজেলায়। নদীমাতৃক এবং সহজ যাতায়াত ব্যাবস্থা না থাকায় ,জরুরী ক্ষেত্রে অনেক রোগী সঠিক সময়ে অক্সিজেন সেবা থেকে বঞ্চিত হন। সময় মতো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন না পেয়ে মৃত্যুবরণ যা খুবই দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক সংগঠন ইউনিটি ফর হিউম্যানিটির এ উদ্যোগ মানবতার সেবায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
  • বরিশালের সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বিএমএসএফের শোক প্রকাশ

    বরিশালের সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বিএমএসএফের শোক প্রকাশ

    স্টাফ রিপোর্টার।

    ঢাকা, শনিবার, ২২আগস্ট, ২০২৬ খ্রী: বরিশাল প্রেস ক্লাবের সদস্য এম মিরাজের মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। তিনি শনিবার ২২ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নন হজকিং লিম্ফোমা রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

    তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলের নিকট দোয়া চাওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের বরিশাল ব্যুরোসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে বরিশালে সাংবাদিকদের মাঝে শোকের ছায়া পড়েছে।

  • বরগুনায় নারী নির্যাতন মামলার তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাদীর আবেদন

    বরগুনায় নারী নির্যাতন মামলার তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাদীর আবেদন

    বরগুনা প্রতিনিধি:

    বরগুনার পাথরঘাটায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে গড়িমসি, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মামলার বাদী মোসাঃ তানজিলা আক্তার।

    এ বিষয়ে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন তানজিলা আক্তার। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, বরগুনার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আবেদনে মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে (১) মোঃ আল আমিন (৩০), পিতা—মোঃ ফারুক হোসেন; (২) মোঃ ফারুক হোসেন (৫৮), পিতা—মৃত আহম্মেদ খন্দকার; এবং (৩) মোসাঃ হাজেরা বেগম (৪৮), স্বামী—মোঃ ফারুক হোসেন-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা, ৩ নম্বর রামনা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আবেদনে তানজিলা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ৮ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বিবাদীরা তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে ওই দিন তিনি বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ১০ মে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    এরপর ১৩ মে নিজের জীবনের নিরাপত্তা, কাবিননামা উদ্ধার, যৌতুক নির্যাতনের প্রতিকার, ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্ত ১ নম্বর ব্যক্তির বিদেশ গমন স্থগিতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন বলে জানান তিনি।

    তানজিলার অভিযোগ, এর পরদিন ১৬ মে ১ নম্বর বিবাদী ছাড়া অন্যান্য বিবাদীরা তাদের বাড়িতে এসে যৌতুকের বিষয় নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাকে পুনরায় মারধর করেন। এ ঘটনায় ওই দিনও তিনি বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরবর্তীতে ১৭ মে ২০২৬ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরগুনায় পিটিশন মামলা নং-১৪২/২০২৬ দায়ের করেন তানজিলা আক্তার। আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাদীর অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাথরঘাটা থানার এসআই মোঃ হুমায়ুন আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করছেন। তদন্তের বিষয়ে তাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    আবেদনে তানজিলা আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন—‘কোন কোন বিবাদীকে ধরব?’ তদন্তকারী কর্মকর্তার এমন আচরণে তিনি উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।

    বাদীর দাবি, তদন্তে এ ধরনের বিলম্ব ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আচরণের কারণে মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত নাও হতে পারে এবং তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ বা প্রভাবের কারণে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন কি না, সে বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাথরঘাটা থানার এসআই মোঃ হুমায়ুন বলেন, মামলার এজাহারে ১ নম্বর আসামি মোঃ আল আমিন বিদেশে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত ওই আসামিকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হবে, সে বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামিরা সত্যিই বাদীকে মারধর করেছেন কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

    তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে বাদীর দাবি, মামলার তদন্তে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে এবং তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান।

    উল্লেখ্য, বাদীর করা পিটিশন মামলার নথিতে ১ নম্বর আসামি মোঃ আল আমিনের বিদেশে অবস্থান এবং দেশে ফিরে আসার বিষয়ে তথ্য রয়েছে। ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে উল্লিখিত ‘বিদেশে অবস্থান’ সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি মামলার মূল নথিতে থাকা সংশ্লিষ্ট তথ্যও যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    এ অবস্থায় বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনবোধে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং কোনো ঊর্ধ্বতন বা নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির তদন্তের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বাদী। একই সঙ্গে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি, চাপ বা হয়রানির শিকার হতে না দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

    আবেদনের সঙ্গে ৮ মে ও ১৬ মে তারিখের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, ১০ মে দায়ের করা অভিযোগের অনুলিপি, ১৩ মে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া আবেদনের অনুলিপি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরগুনায় দায়ের করা পিটিশন মামলা নং-১৪২/২০২৬-এর কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • কাউখালীতে নাগরিক উদ্যোগের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    কাউখালীতে নাগরিক উদ্যোগের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    মোঃ মেহেদী হাসান,কাউখালী।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে কমিউনিটি ভিত্তিক বিরোধ,মীমাংসার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে নারী ও পুরুষ সমঅধিকার নিশ্চিতকরণে, নাগরিক সমাজের ভূমিকা ও করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ২২শে আগস্ট(শনিবার) সকাল ১১ ঘটিকার সময় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়,আরজে মেডিয়েশন সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।
    উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল আলম বাদলের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কাউখালী ব্র্যাক কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল মিঠুন দত্ত, সিনিঃ শিক্ষক মোঃ মেহেদী হাসান নয়ন, কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি রবিউল হাসান রবিন,সাংবাদিক এনামুল হক,সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম পান্নু,সাংবাদিক নুরুজ্জামান খোকন, উপজেলা নাগরিক উদ্যোগের প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ মহসিন মিয়া, উপজেলা মহিলা নেত্রী ও আরজেএমএফ সদস্য শামীমা আক্তার প্রমুখ।

    আলোচনা সভায় বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে মূলত স্থানীয় শালিস ব্যবস্থা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে জেন্ডার ন্যায্যতা নিশ্চিত করে বিচার প্রাপ্তির পথকে সহজ করা এবং
    মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এলাকায় কর্মরত সকল এনজিও কর্মী ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
    ​উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন,কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল সুমা মীর,হোসনেয়ারা খানম, জীবনকৃষ্ণ দাস,কর্মসূচি সহকারি শংকর কর্মকার,কাউখালী মহিলা পরিষদের প্রতিনিধি এবং আরজেএমএফ এর অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর সুপ্রিয় দত্ত।

  • কাপ্তাইয়ের উথোয়াইমং মারমা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য

    কাপ্তাইয়ের উথোয়াইমং মারমা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য

    কাপ্তাই (রাঙামাটি)প্রতিনিধি।

    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন কাপ্তাইয়ের চিৎমরম ইউনিয়নের বাসিন্দা উথোয়াইমং মারমা।

    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    উথোয়াইমং মারমা কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

    মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    কাপ্তাইয়ের চিৎমরম ইউনিয়নের বাসিন্দা উথোয়াইমং মারমা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উথোয়াইমং মারমা কাপ্তাইসহ পার্বত্য এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

  • কাউখালীতে নৌ পুলিশের ওপর হামলায় আটক-১

    কাউখালীতে নৌ পুলিশের ওপর হামলায় আটক-১

    মোঃ মেহেদী হাসান,কাউখালী।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নৌ পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    ১৯শে আগস্ট(বুধবার) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার ২ নং আমরাজুড়ি ইউনিয়নের কুমিয়ান এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ পন্টুন সংলগ্ন গোপাল স্টোরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
    এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পরিদর্শকসহ আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়,সন্ধ্যা নদীতে নিয়মিত টহল শেষে নৌ পুলিশের একটি দল ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ফুট পেট্রোল করছিল। এ সময় একই এলাকার মোঃ কালাম ব্যাপারীর পুত্র মোঃ শান্ত(২২), পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে থাকেন। পুলিশ সদস্যরা তার এ অশোভন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তৎক্ষনাত সে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

    খবর পেয়ে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তকে শান্ত করার চেষ্টা করলে এ সময় শান্ত ও তার সহযোগীরা বাঁশের লাঠি,ইট ও ধারালো চাকু নিয়ে নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। হামলাকারীরা কনস্টেবল মোঃ জাকির হোসেনকে চাকু ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে
    কনস্টেবল জাকিরকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান হোসেন,এসআই প্রসেনজীৎ দেবনাথ, কনস্টেবল শ্যামলেশ কুমার মন্ডল,কনস্টেবল মোঃ সাকির হোসেন ও কনস্টেবল মোঃ পারভেজ শিকদার এগিয়ে এলে তারাও হামলায় আহত হয় বলে জানা গেছে।
    এ সময় পুলিশ সদস্যদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কাউখালী থানা পুলিশ আহত নৌ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
    এ ঘটনায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান হোসেন বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা,পুলিশ সদস্যদের মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাউখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
    কাউখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি মোঃ শান্তকে আটক করে এবং বাকী আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
    কাউখালী থানার ওসি(তদন্ত) এবাদ আলী মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শান্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • বাজারে ঘোরাফেরা করায় ৬ শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর

    বাজারে ঘোরাফেরা করায় ৬ শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর

    কাউখালী(পিরোজপুর) প্রতিনিধি।

    ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান ও ঘোরাফেরা করায় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বুধবার(১৯ আগস্ট) বিদ্যালয়সংলগ্ন কেউন্দিয়া বাজারে তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
    বিদ্যালয়ের এক শুভাকাঙ্ক্ষী ও দায়িত্বশীল অভিভাবক মো. রুবেল হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ হিসেবে তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মো. রুবেল হোসেনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

    এ বিষয়ে কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক চন্দ্র হালদার বলেন, “ক্লাস চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের বাইরে বাজারে ঘোরাফেরা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান গ্রহণ করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব। অভিভাবকদেরও সন্তানের বিদ্যালয়ে যাওয়া ও ক্লাসে উপস্থিতির বিষয়টি নিয়মিত খোঁজ নিতে হবে।”
    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অকারণে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, বিদ্যালয়ের বাইরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। মাদক,ইভটিজিং,কিশোর গ্যাং, মারামারি,চুরি, অনলাইনভিত্তিক অপরাধসহ যেকোনো অপরাধ থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে। এসব বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই বয়স ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই আইন মেনে চলা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার চর্চা করতে হবে।”
    প্রধান শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীদের শাসন করার উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়,বরং তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিলে বা বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিভাবক,শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে শিক্ষার্থীদের বিপথে যাওয়া রোধ করা সম্ভব।”
    তিনি ছয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় খোলার সময় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
    এদিকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ,ম্যানেজিং কমিটি,অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মো. রুবেল হোসেনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন,শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এমন সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

  • কাউখালীতে ভাত খাওয়া নিয়ে কলহে ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

    কাউখালীতে ভাত খাওয়া নিয়ে কলহে ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

    কাউখালী(পিরোজপুর) প্রতিনিধি।

    পিরোজপুরের কাউখালীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে কাঠের ডাসা দিয়ে মাথায় আঘাত করে কানন বালা(৬৫) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে সুজন বালার(৩০)বিরুদ্ধে।
    এ ঘটনায় নিহতের ভাই প্রদীপ মিস্ত্রি বুলু বাদী হয়ে কাউখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী অনুযায়ী,গত ১৬ আগস্ট রবিবার কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালকাঠী গ্রামের একটি বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কানন বালা ওই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন বালা তাঁর ছেলে।
    এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন,পারিবারিক বিষয় নিয়ে সুজন বালার সঙ্গে তাঁর মা কানন বালার বিরোধ চলছিল। ঘটনারদিন রাতে সুজন বাহির থেকে এসে ভাত খেতে গেলে,পাতিলে কম ভাত দেখে দেখে এ নিয়ে সুজন বালা তাঁর মায়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি কাঠের ডাসা দিয়ে কানন বালার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে কানন বালা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
    অভিযোগে আরও বলা হয়, গুরুতর আহত অবস্থায় কানন বালা ঘরের ভেতরে ছিলেন। পরে সুজন ঘুম থেকে উঠে আহত মাকে পরিবারের সহযোগিতায় উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তার অবস্থার গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৯ঃ৩০ সময় তাঁর মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনায় নিহতের ভাই প্রদীপ মিস্ত্রি বুলু বাদী হয়ে ১৭আগস্ট কাউখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় সুজন বালাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    কাউখালী থানার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ঘটনাস্থল হিসেবে শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালকাঠী গ্রামের নিহত কানন বালার বসতঘরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল,তদন্তের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে।
    এটি এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর ভিত্তিতে তৈরি সংবাদ। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

    এ বিষয়ে কাউখালী থানা ওসি (তদন্ত)মোঃ এবাদ আলী মোল্লা বলেন, উক্ত বিষয়ে থানায় নিহত কানন বালার ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা করেন, আসামি সুজনকে আটক করে,আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৮ আগষ্ট মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।