সিআইডি পুলিশের স্ত্রীর মামলায় ৩ সাংবাদিকের জামিন করালো বিএমএসএফের আইনজীবীরা

News 52 Bangla.

ফরিদপুরে মাদক কারবারি এবং বালু দস্যুদের হামলার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরণকারী সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা ও বিচারিক আদালত কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগে এক সিআইডি পুলিশের স্ত্রী আয়েশা আক্তার দায়ের করেছিলেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্ত তিন সাংবাদিকের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের নির্যাতিত সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলায় আহত হয়ে শারীরিক অসুস্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অপর আসামিরা হলেন রাজধানী টেলিভিশনের ফরিদপুর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম ও এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন কমিটির পক্ষে শুনানি করেন এ্যাড. আছিবুর রহমান আসিফ, এ্যাড. খায়ের উদ্দিন সিকদার, এ্যাড. নাজমা সুলতানা নীলা ও এ্যাড. মশিউর রহমান। এছাড়াও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি জাকির হোসেন সহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মামলার ১ নং আসামি সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সংবাদ প্রকাশের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মাদক কারবারি ও বালু উত্তোলনকারীদের হামলায় তাঁর হাত-পা ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কোনরূপ তদন্ত ছাড়া সম্প্রতি ঢাকার আদালতে দায়ের করা এ মামলাটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর সাংবাদিকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সংগঠনটি হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ান এবং আইনি লড়াইয়ের উদ্যোগ নেন।

মামলার বাদী একজন সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলাটিতে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হব বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হতে হবে। মামলার কোনরূপ তদন্ত ছাড়া সরাসরি ওয়ারেন্ট জারী আইনসিদ্ধ কি-না তা নিয়ে আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ মামলাটিতে হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের পক্ষে আইনী পরামর্শ এবং সহযোগিতা করা হবে।

নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনসহ অপরাপর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিরও দাবি জানান।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *