বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
আখাউড়ায় ২০ মার্চ সাবেক আইনমন্ত্রীর মুক্তি চেয়ে পোস্টারিং ও প্রচারনা ২৫ মার্চ ২ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার গণহত্যা দিবসে  কাপ্তাইয়ে আলোচনা সভা  কাউখালীতে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদের পঞ্চমদিনেও কাপ্তাইয়ের বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভীড় : লেক পাহাড়ের সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটক আখাউড়া থানা পুলিশের অভিযানে দস্যুতা ও লুন্ঠিত মালামাল একটি সিএনজি গাড়ি সহ গ্রেফতার ৩ শাহজাদপুরে ঈদ উপলক্ষ্যে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ ও অর্থ বিতরণ করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আখাউড়ায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পাহাড়ে খ্রিস্টান মিশনারির তৎপরতা: পিছিয়ে পড়ছে নওমুসলিমগণ ১৫০ পরিবার পেল আঃ হান্নান সরকার স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে সবচেয়ে বড় জমজমাট মেহেদী উৎসব২০২৬

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রতিক্রিয়ার নয়, প্রয়োজন স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • আপডেট এর সময় সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২৮ বার পঠিত হয়েছে

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আবারও অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ জনস্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ২৭ জন রোগী, আর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় চলতি বছরের নয় মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭৫। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহে নতুন সংক্রমণের খবর কমেছে, তবু আতঙ্ক এখনো রয়ে গেছে গ্রামাঞ্চলে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ঘটনা যেন এক শিক্ষণীয় উদাহরণ। একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করার পর ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। এই এক ঘটনাই প্রমাণ করে যে সচেতনতার ঘাটতিই সংক্রমণ বিস্তারের প্রধান কারণ।

অ্যানথ্রাক্স কোনো নতুন রোগ নয়—এটি ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, যা মূলত আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। অথচ অনেক এলাকাতেই আজও সংক্রমিত পশু জবাই ও বিক্রির প্রচলন চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আইইডিসিআর মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, নমুনা সংগ্রহ ও সচেতনতামূলক প্রচারও চলছে। কিন্তু মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রংপুরের অভিজ্ঞতা বলছে, এসব পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট নয়। গবাদি পশুর টিকাদান কাভারেজ সীমিত, প্রাণিসম্পদ বিভাগে জনবল ঘাটতি রয়েছে, এবং গ্রামীণ পর্যায়ে নিরাপদ মাংস ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত কম।

অ্যানথ্রাক্সে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যর্থ হলে তা বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে প্রতিরোধই হতে হবে মূল কৌশল। আক্রান্ত এলাকায় অবিলম্বে গবাদি পশুর শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা, সন্দেহজনক পশু জবাই নিষিদ্ধ করা এবং স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। একইসঙ্গে তথ্যপ্রবাহ ও গণসচেতনতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য যেমন আতঙ্ক বাড়ায়, তেমনি সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্যদানের অভাবও ভীতি ছড়ায়। এ কারণেই সুন্দরগঞ্জে এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে গুজব ছড়িয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ শুধু চিকিৎসা বা পশুচিকিৎসার বিষয় নয়—এটি একযোগে স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও তথ্যপ্রবাহ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। তাই এখন সময় হলো এই রোগটিকে মৌসুমি সমস্যা হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্থায়ী অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার। জনসচেতনতা ও ভ্যাকসিনেশন—এই দুই অস্ত্রই হতে পারে অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়।

সংবাদটি আপনার স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ