Category: ঢাকা বিভাগ

  • চিত্র সাংবাদিকদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস: নির্বাচন কমিশনের অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক সিদ্ধান্ত

    চিত্র সাংবাদিকদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস: নির্বাচন কমিশনের অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক সিদ্ধান্ত

    স্টাফ রিপোর্টার।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের আবেদন ফরমে চিত্র সাংবাদিক (Photojournalist/Cameraperson)দের ‘Supportive Staff’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা গভীর উদ্বেগজনক, অসম্মানজনক এবং পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, চিত্র সাংবাদিকরা কোনোভাবেই সহায়ক বা পার্শ্বচরিত্র নন। তাঁরা সরাসরি সংবাদকর্মী সংবাদের অন্যতম প্রধান বাহক। তাঁদের ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বহু ক্ষেত্রে সংবাদ ঘটনার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে।
    দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে চিত্র সাংবাদিকরা স্বতন্ত্র পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃত। তাঁদের অনেকেই অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী, প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পেশাদার। সে বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে আবেদন ফরমে তাঁদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে চিহ্নিত করা নির্বাচন কমিশনের অজ্ঞতা অথবা চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়।
    আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও যানবাহনের স্টিকার ইস্যু সংক্রান্ত সাম্প্রতিক স্মারক (নং-১৫১, তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬) এবং অনলাইন পোর্টাল (pr.ecs.gov.bd) চালু হলেও এই গুরুতর ত্রুটি এখনো সংশোধন করা হয়নি। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বৈধ ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছে—
    ১. অবিলম্বে আবেদন ফরম সংশোধন করে চিত্র সাংবাদিকদের জন্য স্বতন্ত্র ও যথাযথ ক্যাটাগরি (যেমন: চিত্র সাংবাদিক / ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ২. কোনোভাবেই চিত্র সাংবাদিকদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যাবে না। ৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে।

    বিএমএসএফ মনে করে, এটি কেবল একটি ফরমের ত্রুটি নয়, এটি গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ গণমাধ্যমের সম্মান, স্বাধীনতা ও পেশাগত স্বীকৃতির প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমরা অধিকতর সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।

    আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করবে। অন্যথায়, সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণে বিএমএসএফ বাধ্য হবে।

  • শরীয়তপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাইদ আহমেদ আসলামের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় মহিলা দলের উঠান বৈঠক

    শরীয়তপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাইদ আহমেদ আসলামের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় মহিলা দলের উঠান বৈঠক

    শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    শরীয়তপুর-১( পালং-জাজিরা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষের কাণ্ডারী সাইদ আহমেদ আসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে মহিলা দলের উদ্যোগে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) -বিকেলে জাজিরা উপজেলা মহিলা দল আয়োজিত জাজিরা উপজেলাধীন নাওডোবা হাওলাদার মার্কেট ছবদার মাদবরের কান্দি নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুরের বার বার নির্বাচিত এমপি জনাব নাসির উদ্দিন কালু ভাইয়ের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা রানী ,সাঈদ আহম্মেদ আসলাম এর সহধর্মিণী নাসরিন আহম্মেদ ও শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি আসমা উল হুসনা এবং সভাপতিত্ব করেন জাজিরা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি বেগম রুমা হামিদ। জেলার নাওডোবা ইউনিয়নের একটি বসত বাড়ির উঠানে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রী ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

    প্রধান অতিথি – রাজিয়া সুলতানা রানী, বিশেষ অতিথি – নাসরিন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি আল আসমা উল হুসনা, জাজিরা উপজেলা মহিলা দলের আহবায়ক রুমা হামিদ, সদস্য সচিব লিমা মাহমুদ, জাজিরা উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক – মোঃ রুবেল আকন, শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জাকির হোসেন, জাজিরা উপজেলা সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোহেল রানা, নাওডোবা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলমগীর সরদার,নাওডোবা ইউনিয়ন মহিলা দলের আহবায়ক ফেরদৌসী বেগম, সদস্য সচিব – সেলিনা আক্তার, যুগ্ম আহবায়ক – মরিয়ম বেগম,জাজিরা ইউনিয়নের আহ্বায়ক শাহজাদী সুলতানা সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রীবৃন্দ বিলকিস বেগম, মাহমুদা আক্তার, দিপা ফরাজি, সেলিনা, রিতা আক্তার, শাহিনা আক্তার শানু, রানী আক্তার, হালিমা আক্তার পুস্প,সাদিয়া আক্তার, রোজি ইসলাম, নাজমা আক্তার, পারুল আক্তার,

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজিয়া ইসলাম রানী বলেন,
    বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ,
    প্রিয় বোনেরা ও উপস্থিত সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আজ এই সুন্দর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।
    মহিলা সমাজ আজ আর পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। একটি শক্তিশালী সমাজ গড়তে হলে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কারণ, একজন নারী এগিয়ে গেলে একটি পরিবার এগিয়ে যায়, আর একটি পরিবার এগিয়ে গেলে এগিয়ে যায় পুরো সমাজ।
    এই মহিলা দল শুধু একটি সংগঠন নয়—এটি সাহস, ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। আপনাদের উদ্যোগ, সামাজিক কাজ ও সচেতনতা কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে নারীদের অধিকার, আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্ব গঠনে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে আমরা আরও সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব। আসুন, আমরা সবাই মিলে বৈষম্য, সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আলোকিত পথ তৈরি করি।
    সবশেষে, এই সফল আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই এবং মহিলা দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামকে ধানের শীর্ষে ভোট দিয়ে সকলে যুক্ত করে দেশ ও জাতির সেবা করার সুযোগ দিবেন। তিনি আরে বলেন,বিএনপি সরকার যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে প্রত্যেকটা পরিবারের একটা মহিলা সদস্যকে ফ্যামিলি কাড দেওয়া হবে। তাতে পঁচিশ শত টাকা বরাদ্দ থাকবে। এ সময় ধানের শীষের স্লোগানের শ্লোগানে পুরো উঠান মুখরিত হয়ে ওঠে।

    উঠান বৈঠকে বক্তারা বলেন, সাইদ আহমেদ আসলাম একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতা। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তারা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সাইদ আহমেদ আসলামকে বিজয়ী করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
    বৈঠকে মহিলা দলের নেত্রীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিও জানান তারা।
    পরিশেষে তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ধানের শীষে ভোট চেয়ে উঠান বৈঠকটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

  • দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব এবং নিজেরাও দুর্নীতিমুক্ত থাকবো — আল্লামা মামুনুল হক

    দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব এবং নিজেরাও দুর্নীতিমুক্ত থাকবো — আল্লামা মামুনুল হক

    (গোলাম আজম ইরাদ) মাদারীপুর থেকে।

    ঐইসলামী মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনই ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়তে চায় ঐক্যজোট।
    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদারীপুর শকুনি লেকপাড় মুক্তমঞ্চে মাদারীপুর–২ আসন (রাজৈর–মাদারীপুর) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    আল্লামা মামুনুল হক বলেন,“আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো এবং নিজেরাও দুর্নীতিমুক্ত থাকবো। জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান আমরা সততা, ন্যায়নীতি ও সেবার মাধ্যমে দিতে চাই।”
    তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন হবে পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন এবং ভোট ও ভাতের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তারা এবার ব্যালটে সিল মারার জন্য প্রস্তুত। তিনি মাদারীপুর–২ আসনের ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মুফতি আব্দুস সোবহানের পক্ষে রিকশা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
    আল্লামা মামুনুল হক বলেন,“ইনশাআল্লাহ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ আজ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে।”
    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটভুক্ত বিভিন্ন শরিক দলের স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এতে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী রাজৈর উপজেলা আমির আলী আহমেদ আকন্দ, মাদারীপুর সদর থানা আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির পৌর আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, আমির , খেলাফত মজলিস মাদারীপুর জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারি।
    সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ, জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুস সোবহান খান, মাদারীপুর–২ আসনের ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মুফতি আব্দুস সোবহান, মাদারীপুর–৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাদারীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোকলেছুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি এনায়েত হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
    সমাবেশে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় একাত্মতা প্রকাশ করেন।

  • গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে বিএমএসএফের গভীর উদ্বেগ

    গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে বিএমএসএফের গভীর উদ্বেগ

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

    ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রী:

    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) সরকার প্রস্তাবিত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছে। বিএমএসএফ মনে করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ সময়োপযোগী নয় এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় নির্বাচনকালীন সময় গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নতুন কোনো নিয়ন্ত্রক কমিশন বা অধ্যাদেশ জারি হলে সাংবাদিকদের মধ্যে আত্মভীতি ও আত্মসংযম (self-censorship) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অবাধ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

    বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন গণমাধ্যম সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া, যা কখনোই তড়িঘড়ি করে বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা উচিত নয়। বরং এ বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা, গণশুনানি এবং সকল সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক পরিষদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।

    প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে মতামত নিতে সেটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। মতামত দিতে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।

    বিশেষ করে মফস্বল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী পেশাগত সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক বৈষম্যের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো কাঠামো আরোপ করা হলে তা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর করবে।
    বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম মনে করে ১. জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ স্থগিত রাখা উচিত। ২. গণমাধ্যম সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। ৩. কমিশন গঠনের আগে সকল অংশীজনের সঙ্গে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ সংলাপ অপরিহার্য।

    বিএমএসএফ স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় শক্তিশালী করাই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনো সিদ্ধান্ত যেন গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।

  • জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় লোহার রডের আঘাতে নৈশপ্রহরীর মৃত্যু

    জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় লোহার রডের আঘাতে নৈশপ্রহরীর মৃত্যু

    গোলাম আজম ইরাদ ,মাদারীপুর প্রতিনিধি :

    মাদারীপুরে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে লোহার রডের আঘাতে আহত নৈশপ্রহরীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (ভোররাতে) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
    নিহত নৈশপ্রহরীর নাম জাহাঙ্গীর খাঁ। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম খাগদী এলাকার বাসিন্দা এবং ওই এলাকার মন্নান খাঁর ছেলে।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন যুবক জুয়া খেলছিল। এ সময় নৈশপ্রহরী জাহাঙ্গীর খাঁ জুয়া খেলায় বাধা দিলে তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
    এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ইউসুফ আকনের নাম জানা গেছে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মতলেব আকনের ছেলে।
    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জুয়া খেলা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। নিহতের পরিবার থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জুয়া খেলার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
    গোলাম আজম ইরাদ মাদারীপুর

  • জাজিরা উপজেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বিলাশপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

    জাজিরা উপজেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বিলাশপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

    শাহাজাদী সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:

    দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নারী অধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মহিলা দলের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বিলাসপুর ইউনিয়নের পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত কামাল মাদবরের বাড়ির উঠানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাজিরা উপজেলা মহিলা দলের আহবায়ক রুমা হামিদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাজিরা ইউনিয়নের মহিলা দলের আহ্বায়ক শাহজাদী সুলতানাসহ জেলা/উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং মহিলা দলের বিভিন্ন স্তরের নেত্রীবৃন্দ।
    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রুজি ইসলাম, সঞ্চালনায় ছিলেন হাসি আক্তার । বৈঠকে এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন, যা এক প্রাণবন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাজিরা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রুমা হামিদ বলেন,
    “আজ দেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ভোটাধিকার হরণে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিএনপি সবসময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে এবং ভবিষ্যতেও নারীদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন থাকবে।”
    তিনি আরও বলেন,
    “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ছাড়া দেশের কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
    রুমা হামিদ বলেন,দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিএনপি’র চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং সকলের কাছে তার আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেন এবং পরিশেষে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের মনোনীত ধানের শীর্ষ প্রার্থী শরীয়তপুর -১ আসনের জনাব সাঈদ আসলামের জন্য সকলের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ধানের শীর্ষে একটি ভোট দেয়া হলে সে ভোটটি দেওয়া হবে জনাব তারেক রহমানকে এবং সেই ভোটটি দেওয়া হবে মরহুম বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এবং সেই ভোটটি দেওয়া হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। আপনারা সকলে ১২ তারিখ তারেক রহমানের মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আসলামকে ধানের শীর্ষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে দেশ এবং জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবেন। তিনি বলেন,বিএনপি যদি এবার ক্ষমতায় আসতে পারেন তাহলে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করে থাকবেন।
    ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে স্লোগানে স্লোগানে পুরো বাড়ি মুখরিত হয়ে ওঠে।

    বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নারীদের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই, বরং তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।
    নারীদের প্রত্যাশা ও মতামত
    উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নারী ভোটাররা তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বহন করা দুরূহ হয়ে উঠেছে। তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান।
    বৈঠকের লক্ষ্য ও কর্মসূচি
    বৈঠক শেষে নেত্রীবৃন্দ জানান, তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতেই এই উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রামে ধারাবাহিকভাবে এমন উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
    উপস্থিত নেত্রীবৃন্দ
    উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের , রুমা হামিদ, আহবায়ক উপজেলা মহিলা দল। লিমা মাহমুদ সদস্য সচিব উপজেলা মহিলা দল।আহবায়ক শাহাজাদী সুলতানা জাজিরা ইউনিয়ন মহিলা দল

    উপস্থিত ছিলেন, বিলকিস বেগম, মাহমুদা আক্তার, শাহিনা আক্তার শানু, ফেরদৌসী ঢালী, মনজুরা বেগম, দিপা ফরাজি, মরিয়ম জমদ্দার,সাদিয়া আক্তার, লিপি আক্তার সহ অনেক নেত্রী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
    শেষে ধানের শীর্ষে শরীয়তপুর – ১ আসনের মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আসলামের জন্য ভোট চেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • মাদারীপুর আল জাবির হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    মাদারীপুর আল জাবির হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    গোলাম আজম ইরাদ।

    মাদারীপুর আল জাবির হাই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা–২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব ফরিদুল ইসলাম।

    তিনি বেলুন ও পতাকা উড়িয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ শাহাবুদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে খেদমতে খালকের সভাপতি খলিলুর রহমান হাওলাদার।
    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহীদ হোসেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, চরনাচনা সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সোবহান খান এবং মাদারীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আব্দুর রহিম মোল্লা।
    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব মিজানুর রহমান।
    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার প্রতি সম্মান বৃদ্ধি এবং উত্তম আদর্শ বাস্তব জীবনে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতের মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতি সচেতন হতে হবে।
    দিনব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।

  • তারেক রহমানের আদর্শকে লালন করে আমি মানুষের ভালোবাসার ভোটে এমপি হতে চাই- খোকন তালুকদার

    তারেক রহমানের আদর্শকে লালন করে আমি মানুষের ভালোবাসার ভোটে এমপি হতে চাই- খোকন তালুকদার

    শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি ।

    মাদারীপুর- ৩ আসনের ধানেরশীষের এমপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির সহ-গনশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন তারেক রহমান এর আদর্শকে লালন করে আমি মানুষের ভালোবাসার ভোটে এমপি হতে চাই। তিনি আরো বলেন আপনারা তারেক রহমান এর এর বক্তব্য শুনেছেন তিনি কোন প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করেনা তাই আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নই। আমরা সকলকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই।
    মাদারীপুরের কালকিনিতে সাহেবরামপুর হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অথিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকাল ৪ টায় সাবেবরামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহিম মুরাদ সরদার এর সভাপতিত্বে সাহেবরামপুর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবদল কন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুন্সি, সবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দীয় সদস্য হুমায়ুন কবির শিপন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি এমি এম মাহমুদ আলম সরদার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি কামরুজ্জান নাহিন প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন আপনারা যদি আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে ধানেরশীষে একটি ভোট দেন সেই ভোটটি দেওয়া হবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তাই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ধানেরশীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে দেশ ও জনগনের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদেরকে আহ্বান জানান।

  • মোস্তফাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালক নিহত, পরিবারে নেমে এসেছে শোক

    মোস্তফাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালক নিহত, পরিবারে নেমে এসেছে শোক

    (মাদারীপুর থেকে গোলাম ,আজম ইরাদ)।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর এলাকায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালক সাগর বেপারী (৩০) নিহত হয়েছেন।

    রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর মিল গেট এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সার্বিক পরিবহণের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় মোট ৭ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন আহত হন।
    নিহত সাগর বেপারী মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে। তিনি ঘটকচর এলাকার গুচ্ছগ্রামে স্ত্রী মাহফুজা বেগম (২২) ও দুই ছেলে আব্দুল্লাহ (৭) ও ইউসুফ (৩)কে নিয়ে বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে আগে ভ্যান চালালেও পরে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক কিনেছিলেন। তবে কিস্তির টাকা পরিশোধের আগেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। দুর্ঘটনায় ইজিবাইকটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
    নিহতের পরিবার জানায়, সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। স্বামী হারিয়ে দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মাহফুজা বেগম।
    এদিকে জেলা পুলিশের নির্দেশে সোমবার দিনব্যাপী মোস্তফাপুর হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ যানবাহন ও লাইসেন্স নবায়ন না থাকা চালকদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও যানবাহন জব্দ করে।

  • মাদারীপুরে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    মাদারীপুরে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

    গোলাম আজম ইরাদ, মাদারীপুর।

    মাদারীপুরের চরমুগুরিয়া জেটিসি মিলনায়তনে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ১০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মুফতি আব্দুস সোবহান খান–এর নির্বাচনী পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা ও ১০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী মুফতি আব্দুস সোবহান খান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন— জাগপা মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. শওকাতুজ্জামান মৃধা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাদারীপুর জেলা আমীর মাওলানা মোখলেসুর রহমান, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আব্দুস ছোবাহান খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল।
    প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মাদারীপুর–২ সংসদীয় আসনের পরিচালক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান খান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মুফতি শফীকুল ইসলাম।
    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ১০ দলীয় ঐক্য জোটের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, জনগণ অনেক সরকার দেখেছে— এবার মানুষ একটি নতুন, কল্যাণকামী সরকার দেখতে চায়। তাই সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেন তারা।
    নেতৃবৃন্দ বলেন, ভবিষ্যতের সরকার হবে জনগণের কল্যাণের সরকার, মানবতার মুক্তির সরকার। বাংলার জমিনে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন জনগণ দেখতে চায় না। এই বিজয় হবে ইসলামের বিজয়, এই বিজয় হবে জনগণের বিজয়— একই সঙ্গে এটি হবে একাত্তরের চেতনায় ও চব্বিশের গণআকাঙ্ক্ষার বিজয়।
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণমুখী নির্বাচন পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।