বরগুনার সাংবাদিক আসাদ সবুজকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তির দাবী

News 52 bangla.

বরগুনা, শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রী: দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা-ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার,নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেফতারের নামে তার সাথে সংগঠিত অমানবিক জুলুমের সুষ্ঠু তদন্ত,দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কথিত চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে হেনস্তা, অমানবিক আচরণের ঘটনায় পুলিশ সুপার ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটি আগামী ৩-৭ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবেন। এ প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একই সাথে সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানান।
এদিকে যে ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঁদাবাজি মামলার শিকার হয়েছেন সেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

শনিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হল রুমে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ ঘোষণা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক মাস্টার, বরগুনা প্রেস ক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন, বেতাগী শাখার সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার, রাসেল সিকদার, প্রেস ক্লাব সদস্য কাশেম হাওলাদার প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে গণতন্ত্রের নামে গণমাধ্যম নিধন চলছে। বিভিন্ন পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, হয়রানি করা হচ্ছে। মনে রাখা উচিত গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না। তাই দেশের বৃহৎ স্বার্থে গণমাধ্যম বাঁচাতে রাষ্ট্রকে এখনই উদ্যোগী ভূমিকা পালন করা উচিত। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সবসময়ই গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র যন্ত্র থেকে পৃথক করতে চায়। এরা দূর্ণীতিবাজ, লুটপাটকারী এরা রাষ্ট্রের মঙ্গল চায় না। এরাই গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে তার পেশাগত দায়িত্ব পালণ করতে দিতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

মামলাটি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের।
আগামীকাল রবিবার বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানি হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *