সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন

News 52 bangla.

বরগুনা, বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রী: বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির কথিত মামলায় দৈনিক কালবেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শেষে আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিকে, গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনায় জড়িত এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত টিমের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ৩ অক্টোবর বরগুনায় উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগের পর প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুধবার এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আসাদ সবুজের পক্ষে তিন দফা জামিন আবেদন করা হয়। গত রবিবার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিনের আবেদন জানালে বিচারক জামিন শুনানির দিন মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ধার্য করেন। আদালতের বিচারক বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানিতে এ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে এডভোকেট মোস্তফা কাদের ও এডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।

আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা এবং জামিন সম্পর্কে বুধবার দুপুরে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, অনেকে চেয়েছিলেন আসাদ সবুজ আজীবন কারাবন্দী থাকুক। সবুজের সততা আর প্রতিবাদী আচরণই ছিল তাদের প্রধান সমস্যা। আজ জামিন লাভের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক বিজয় অর্জন হলো। এ বিজয়ের পুরো অর্জন গোটা দেশের সাংবাদিকদের যারা সবুজের পক্ষে ছিলেন। আসাদ সবুজকে সাজানো মামলার নাটক থেকে অব্যহতির পরে চুড়ান্ত বিজয় দেখবে গোটা বাংলাদেশ। তিনি আসাদ সবুজের নি:শর্ত মুক্তি আন্দোলনের সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পুলিশ সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে যে অমানবিক নিপীড়ন চালিয়েছেন, যা গোটা দেশের সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এ ঘটনার পর সংগঠনের একটি টিম বরগুনায় যান এবং মামলার ঘটনা সম্পর্কিত জমিজমা এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলা হয়। সরেজমিনে দেখা যায় এলাকার বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এ মামলাটি সাজানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য গত ১ অক্টোবর রাতে ভূমিদস্যু সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে বরগুনার পুলিশ। এ মামলায় আরো ১৩জন আসামি রয়েছে। এতে এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ১কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন ভূমিদস্যু সুভাষ ঘোষের ভাই স্বপন কুমার ঘোষ।

 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *