Category: ঢাকা বিভাগ

  • জাজিরায় বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলম টিটুকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    জাজিরায় বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলম টিটুকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি।

    শরীয়তপুরের জাজিরায় বিএনপি নেতা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম টিটুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১১ নভেম্বর বিকেলে জাজিরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুল আলম টিটু অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন নামে পরিচালিত একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

    তিনি জানান, ২০২১ সালে “নবীন নিউজ” নামে খোলা একটি পেইজের নাম ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পরিবর্তন করে “ইলিয়াস হোসেন” রাখা হয়, যা প্রকৃত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের নয়।

    বিএনপি নেতা টিটু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এসব অপপ্রচার আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্টের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।”

    তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ভুয়া আইডির পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, মাহবুবুল আলম টিটুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

  • জাকজমকপূর্নভাবে বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক ফোরামের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    জাকজমকপূর্নভাবে বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক ফোরামের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    ফারজানা শারমিন:

    বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক ফোরাম (বিটিএসএফ) এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাকজমকপূর্নভাবে আলোচনা সভা , স্মরণিকা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ১০ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় রাজধানীর পল্টনে খানা বাসমতি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    বিটিএসএফ-এর চেয়ারম্যান কায়সার হাসানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোঃ আল-আমিন শাওনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি (সাবেক সংসদ সদস্য ও উপদেষ্টা, বিটিএসএফ)।

    প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কামরুজ্জামান জিয়া (সম্পাদক, দৈনিক বঙ্গজননী)।

    উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চিত্রনায়ক যুবরাজ যুবরাজ খান খান (চেয়ারম্যান, শিল্পী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)।

    প্রধান বক্তা ছিলেন, মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী (সম্পাদক, বার্তা প্রবাহ ও উপদেষ্টা, বিটিএসএফ)।

    বিশেষ অতিথি মোঃ দেলোয়ার হোসেন শিকারী (সাবেক চেয়ারম্যান, ইদিলপুর ইউপি, শরীয়তপুর ও উপদেষ্টা, বিটিএসএফ), মোঃ শামছুল আলম (চেয়ারম্যান, আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও উপদেষ্ট, বিটিএসএফ), মোঃ কামরুজ্জামান (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্যাকেজিং মালিক কল্যাপ পরিষদ ও স্থায়ী পরিষদ সদস্য, বিটিএসএফ), হাজী মোসলেম হোসেন সরদার (স্বত্বাধিকারী, সিয়াম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও কো-চেয়ারম্যান, বিটিএসএফ), ওয়াছেপ উদ্দিন আহমেদ দীপু তালুকদার (সভাপতি, বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ ও উপদেষ্টা, বিটিএসএক), মোঃ নাসিরুল ইসলাম নাসির (সংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্যাকেজিং মালিক কল্যাণ পরিষদ), মোঃ জহিরুল ইসলাম আকন (স্থায়ী পরিষদ সদস্য, বিটিএসএফ), মোঃ হারিসুর রহমান (ভাইস চেয়ারম্যান, বিটিএসএফ)।

    বিশেষ বক্তা ছিলেন, শরীফ মোঃ আব্দুল কাদের (সভাপতি, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ফোরাম বাংলাদেশ ও কো-চেয়ারম্যান, বিটিএসএফ), মোঃ ফজলুল হক মনি (স্বত্বাধিকারী, মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ ও উপদেষ্টা, বিটিএসএফ), বি এম মোস্তাফিজ মোস্তফা (স্বত্বাধিকারী, ভেদরগঞ্জ মা প্লাজা ও স্থায়ী পরিষদ সদস্য, বিটিএসএফ), কে.এম কামরুজ্জামান মিলন (স্থায়ী পরিষদ সদস্য, বিটিএসএফ)।

    শুভেচ্ছা বক্তা ছিলেন, এম,এ, গফুর মোল্লা (সিঃ ভাইস-চেয়ারম্যান, বিটিএসএফ), মোঃ ছানাউল্লাহ (অতিরিক্ত মহাসচিব, বিটিএসএফ), হামিদুল ইসলাম (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), আতিকুর রহমান (যুগা মহাসচিব, বিটিএসএফ), মোঃ কুতুব উদ্দিন (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), মোঃ ফয়েজ আহমেদ (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), শাহজালাল ভূঁইয়া সজিব (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), আফজাল হোসেন (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), শওকত হোসেন মুকুল (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), স্বর্ণা আক্তার (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক রানা (সাংগঠনিক সম্পাদক, বিটিএসএফ) সহ বিটিএসএফ এর কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিটিএসএফ-এর ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুনির চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী সাকিব জামাল, যুগ্ম মহাসচিব এটিএম মাজহারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারজানা শারমিন ,সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ সাহিদ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান মোমেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দা রুবি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিহারেন্দু চক্রবর্তী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আক্তার হোসেন কাজী, আপ্যায়ন ও কর্মসূচী সম্পাদক মিজানুর রহমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সামসুন নাহার জেনী, গণযোগাযোগ সম্পাদক নুর আলম মুন্না, সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শোয়াইব আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপক চৌধুরী, নারী বিষয়ক সম্পাদক রুবিনা শেখ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাফিদা চৌধুরী, সদস্য সাঈদ গাফফার, সদস্য সোহেল সরদার প্রমূখ।

    সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, এ্যাড. মোঃ মনির হোসেন খান (উপদেষ্টা, বিটিএসএফ), ইসমাইল হোসেন স্বপন-ইতালী (ভাইস-চেয়ারম্যান, বিটিএসএফ), মোঃ জসীম উদ্দিন নিরব (ভাইস-চেয়ারম্যান, বিটিএসএফ), মোহাম্মদ আহসান উল্যাহ-সৌদি (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), মোঃ কবির হোসেন সরকার (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), মোঃ হেলাল উদ্দিন (যুগ্ম মহাসচিব, বিটিএসএফ), এস এম জহিরুল ইসলাম রাজু-বাহরাইন (সাংগঠনিক সম্পাদক, বিটিএসএফ), আব্দুল মোমিন-লন্ডন (সাংগঠনিক সম্পাদক, বিটিএসএফ), শরীফুল হোসাইন (কুমিল্লা বিভাগীয় সভাপতি, বিটিএসএফ) সহ বিটিএসএফ-এর সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ।

  • শরীয়তপুরে বিএনপির ৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা

    শরীয়তপুরে বিএনপির ৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা

    শাহাজাদী সুলতানা, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর জেলার তিনটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। প্রার্থী ঘোষণার পর জেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে।

    জানা গেছে, শরীয়তপুর-১ (পালং, জাজিরা ও সদর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম

    শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন, জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম কিরণ।

    শরীয়তপুর-৩ (গোসাইরহাট-ডামুড্যা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব মিয়াঁ নুরুদ্দিন আপু।

    প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দলীয় কার্যালয়গুলোতে আনন্দ মিছিল, দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন পর নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে দলের তৃণমূল পর্যায়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

    শরীয়তপুর জেলার সভাপতি শফিকুল ইসলাম কিরণ বলেন,“আমরা জনগণের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চাই। শরীয়তপুরের মানুষ বিএনপির পাশে আছে, ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।”

    অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তারা ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের সাথে যোগাযোগ এবং সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    প্রার্থী ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত এক তরুণ নেতা বলেন,

    “আমরা অনেকদিন পর আবার নতুন আশায় বুক বেঁধেছি। শরীয়তপুরে বিএনপির জয় নিশ্চিত করতে সবাই মাঠে কাজ করব।”

    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। বিএনপির সক্রিয় অংশগ্রহণে জেলায় নির্বাচনের মাঠ আরও সরব হয়ে উঠেছে।

  • ইডিপাস’ আবারও মঞ্চে আসছে

    ইডিপাস’ আবারও মঞ্চে আসছে

    বিনোদন প্রতিবেদক:

    ‎প্রাচীন গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের অমর সৃষ্টি ‘ইডিপাস’ আবারও মঞ্চে আসছে- দৃশ্যকাব্য থিয়েটারের নতুন প্রযোজনায়। মানব নিয়তি, ভাগ্য ও আত্ম-চেতনার গভীর অনুসন্ধান নিয়ে রচিত এই শাশ্বত ট্র্যাজেডি এবার সমকালীন দর্শন থেকে নতুন ব্যাখ্যায় মঞ্চে উঠতে যাচ্ছে।

    ‎নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন হাবিব মাসুদ। তিনি জানান, বোধকরি, সময় আমাদের চালিত করে। ইডিপাসকে মঞ্চে আনবার ক্ষেত্রেও বর্তমান সময়টি আমাকে ভাবিয়েছে। আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বিরাট শূন্যতা অনুভব করি। মনে হয়েছে, অনন্ত রাত্রির ঘোর অন্ধকারে আমরা নিমজ্জিত-আমাদের কি কোনো নেতৃত্ব নেই? এই নিয়তি কি অনতিক্রম্য? প্রাচীন গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিস রচিত ইডিপাস আমার কাছে মনে হয়েছে নেতৃত্বহীনতায় নিমজ্জিত এক জনপদের গল্প। নিয়তিকে অতিক্রমের আর্তনাদ ইডিপাসকে মহান করে তোলে, কিন্তু সে নিয়তিকে জয় করতে পারে না। ক্লাসিকের শক্তি সর্বকালের-সর্বমানবের-তাই মূল পাঠে পরিবর্তন না করেও চরিত্র ও কোরাসের ব্যবহারে আমরা কিছু পরীক্ষণের প্রয়াস নিয়েছি। আশা করি, দৃশ্যকাব্য এর এই প্রযোজনা দর্শককে প্রাচীন থিবি নগরীর রাজপ্রাসাদে কিছুক্ষণের জন্য হলেও নিয়ে যাবে।


    ‎নাটকটির বাংলা অনুবাদ করেছেন সৈয়দ আলী আহসান।

    ‎ইডিপাস চরিত্রে অভিনয় করছেন এইচ এম মোতালেব। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে থাকছেন ঝুমু মজুমদার, আহাদ বিন মুর্তজা, নাইমুল ইসলাম সিয়াম, মো. মুন্না মোল্লা, আশিকুল ইসলাম, রিমন সাহা, উৎপল চন্দ্র বর্মন, কান্তা কামরুন, ওমর ফারুক খান ফাহিম, পায়েল আহমেদ, আফরোজা বিথী, মো. রিয়াজুল করিম রিয়াজ, রিয়া হোসেন ও হীরালাল দাস। মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তরুণ সাংবাদিক মোঃ ইসমাইল হোসেন।

    ‎আলো, সংগীত ও মঞ্চসজ্জায় থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, যা দর্শকদের নিয়ে যাবে প্রাচীন থিবি নগরীর রহস্যময় আবহে।

    ‎দৃশ্যকাব্য এর প্রধান সম্পাদক এইচ এম মোতালেব জানান, সংস্কৃতিহীন জাতির কোনো পরিচয় নেই। নাটক শুধু বিনোদন নয়- এটি মানুষের চেতনাকে জাগিয়ে তোলে। দৃশ্যকাব্য শুরু থেকেই পেশাদার নাট্যচর্চার পথে এগিয়ে চলেছে, যদিও পথটি সহজ নয়। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের সমন্বয়ে ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় পেশাদার নাট্যচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমাদের স্লোগান- ‘আধাঁর কাটুক দৃশ্য ও উচ্চারণে’। নাটক দীর্ঘজীবী হোক।


    ‎নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হবে ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায়, এরপর ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৭টায়, রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে। পরবর্তী সময়ে নাটকটি দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রদর্শিত হবে।

    ‎মানব মনের গভীরতম দ্বন্দ্ব, সত্য অনুসন্ধানের যন্ত্রণা ও নিয়তির অনিবার্য পরিণতি- সব মিলিয়ে ‘ইডিপাস’ এবারও দর্শকদের ভাবাবে, কাঁপাবে এবং প্রশ্ন তুলবে-আমরা আসলে কতটা নিজের নিয়তির নিয়ন্ত্রক?

  • বিলাসপুরে ফের ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষে আতঙ্ক, দুই পক্ষের উত্তেজনা চরমে

    বিলাসপুরে ফের ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষে আতঙ্ক, দুই পক্ষের উত্তেজনা চরমে

    শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

    রবিবার (২ নভেম্বর) ভোরে ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারিকান্দি এলাকায় টানা বিস্ফোরণে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি ককটেলের বিস্ফোরণ শোনা গেছে।

    সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় এবং সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে কুদ্দুস বেপারী ও আবদুল জলিল মাদবর গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। চলতি বছরের ৫ এপ্রিলও এলাকায় একই ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার পর বিস্ফোরক আইনে মামলা হলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কারাগারে যান। সম্প্রতি কুদ্দুস জামিনে বের হলেও জলিল এখনও কারাগারে রয়েছেন।

    সম্প্রতি আবারও উত্তেজনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বেপারী (কুদ্দুস সমর্থক) ও তাইজুল ইসলাম ছৈয়াল (জলিল সমর্থক) দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে শনিবার সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতবোমার বিস্ফোরণ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবারের সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আট সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ হাতে লাল বালতি নিয়ে দৌড়ে ককটেল ছুড়ছে। মুহূর্তেই চারদিক কেঁপে ওঠে, ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালায় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আহতদের মধ্যে যুবদল কর্মী সালাউদ্দিন ও কামালের নাম পাওয়া গেছে। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

    জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন,“দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আবারও নাশকতা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছি।”

    তিনি জানান, ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এখনও কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

    এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন ও তাইজুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র মতে, তারা সংঘর্ষের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন।

    এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

  • বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাবাসীর নতুন বিনোদন স্পট বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক

    বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাবাসীর নতুন বিনোদন স্পট বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক

    ফারজানা শারমিন।

    আজকাল ইট বালু কংক্রিটের হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের চার দেওয়ালের ঘরে বন্দী হয়ে রয়েছে লক্ষ-লক্ষ বাংলাদেশের নগরবাসীদের জীবন ।

    শিশু থেকে যুবক-যুবতী , বৃদ্ধ বয়সী সবাই পড়াশুনা , চাকরী বা ব্যবসায়িক কাজে বাইরে বের হলেও নিদিষ্ট সময়ের পরে বাসায় ফিরে বেশিরভাগ সময়ে চার দেওয়ালের ঘরে বন্দ্বী হয়ে থাকতে হয়।

    এর ফলে বেশিরভাগ সময়ে শিশুরা, তরুন বয়সী, বৃদ্ধ সবাই ওবেসিটি , হাই কোলষ্টোরল , ফ্যাটি লিভার, হার্টের সমস্যার মত বহু রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

    শিশুরাও অবসর সময়ে খেলাধুলার সুযোগ , না পেয়ে অসামাজিক হয়ে পড়ছে, অনেক শিশুর মানসিক বিকাশ , শারিরীক বিকাশ এই কারনে ঘটছেনা । অন্যান্য জায়গার মত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শিশু কিশোর কিশোরী,বৃদ্ধ বয়সীরাও এই সমস্যাগুলোর ভুক্ত ভোগী। এসব বিষয় মাথায় রেখে রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সবুজ গাছ গাছালি ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মন্ডিত পরিবেশে শারিরীক
    চর্চা , জগিং এবং অবসর সময়ে বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য চলতি বছরে ২০২৫ সালের ১৬ ই অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়েছে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক ।

    বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে, ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান (রহ.) জামে মসজিদের পাশে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ।

    বসুন্ধরা গ্রুপ অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এই পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেছেন । প্রায় ৬ একর অথবা প্রায় ০.৯৬ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্ক ।

    এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কের মাঝখানে অবস্থিত মনোরম পরিষ্কার পানি যুক্ত একটি নজর কাড়া লেক, যে লেকটি পার্কের শুরু থেকে শেষ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত । লেকের কল কল স্বচ্ছ পানির
    ধ্বনি শুনে শিহরিত হন পার্কে আসা মানুষজন ।

    বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে বামদিকে তাকালেই প্রথমে চোথে পড়বে পার্কে আসা বিনোদনপ্রিয় মানুষের জন্য নির্মান করা হচ্ছে
    অত্যাধুনিক ক্যাফেটেরিয়া । পার্কে আসা মানুষজন এই ক্যায়েটেরিয়ায় এসে স্ন্যাকস , চা কফি সহ মুখরোচক বিভিন্ন খাবারের স্বাদ গ্রহন করতে পারবেন।এই পার্কের মাঝখানে অবস্থিত লেকের দুপাশে রয়েছে মানুষজনের , সাইক্লিং , হাটার এবং জগিং করার খোলা জায়গা । ক্লান্ত হয়ে পড়লে রয়েছে পার্কের ভেতরে জায়গায় জায়গায় বসে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য
    ইটবালু কংক্রিটের বেঞ্চ। বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে পুশ আপ সহ ব্যয়ামের জন্য রয়েছে বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী এবং আধুনিক যন্ত্র নিয়ে গঠিত শারিরীক কসরতের
    ব্যায়াম জোন ।সকাল, বিকেল অথবা রাত্রে এসে অনেক স্বাস্থ্য সচেতন নারী পুরুষ হাটাহাটি, সাইক্লিং এবং বিভিন্ন ধরনের শারিরীক ব্যায়াম করে থাকেন ।
    এছাড়া শিশু কিশোরদের বিভিন্ন শিশুকিশোরদের জন্য রয়েছে মজার রাইডার স্লিপার , দোলনা সহ আরো আকর্ষনীয় সব রাইডার এবং খেলার সামগ্রী । এসব নিয়ে
    গেমিং জোন গঠিত। স্কুল মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু কিশোররা এসব রাইডে চড়ে খুব খুশি ।

    এ প্রসঙ্গে পার্কে ঘুরতে আসা কিশোর মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী ওমর বলেন – ‘আমি এবং আমার ফ্রেন্ডরা পার্কটিতে অবসর সময়ে এসে এক্সারসাইজ করি
    গেমিং রাইডারগুলোতে চড়ি । খুব ভাল লাগে এখানে এসে অবসর সময়টা কাটাতে।’

    স্নিগ্ধ সবুজ তরুলতা, বিভিন্ন গাছগাছালি , পাখির কলকাকলিযুক্ত কিচির মিচির শব্দ , সুঘ্রানযুক্ত বিভিন্ন ফুলের সুবাসযুক্ত মায়াময় , নিরিবিলি পরিবেশ বসুন্ধরা
    কমিউনিটি পার্কের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এসব দেখে পার্কে আসা মানুষজন খুব খুশি । ইকো ফ্রেন্ডলি পরিবেশ, বিনোদনপ্রিয় মানুষকে সহজেই
    মুগ্ধ করে, আকৃষ্ট করে।।

    এ প্রসঙ্গে পার্কে ঘুরতে আসা গৃহিনী নাজমা বেগম জানান – ‘আমি চেষ্টা করি প্রতিদিন বিকেলে আমার ছেলে মেযেদের নিয়ে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কে এসে কিছু সময় কাটাতে । শহরে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। শহরে থাকা শিশু কিশোরেরা তাই খেলাধুলার সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু একটি বাচ্চার শারিরীক এবং মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ঢাকার মত মেগাসিটিতে এরকম আরো পার্ক তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা আছে।
    বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার শিশু কিশোরসহ সব বয়সীদের বিনোদনের জন্য , খেলাধুলা , ব্যায়াম করার জন্য আরো বেশি জায়গা নিয়ে বিনোদন পার্ক
    করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।’

    বর্তমানে বসুন্ধরা কমিউনিটি পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৬টা হতে রাত ১০ টা পর্যন্ত, শুধুমাত্র বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাড়ির মালিক, ফ্ল্যাটের মালিক
    এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    সপ্তাহে প্রতিদিন এ পার্কটি জনসাধারনের ভ্রমন করার জন্য উন্মুক্ত ।ভবিষ্যতে শুধু বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অধিবাসীরাই শুধু নয়, বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত রাখা হবে বলে প্রত্যাশা করছে সাধারণ দেশবাসী।

  • শিবচর পাচ্চর বাজারের বৈধ ইজারা নিয়েও অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ

    শিবচর পাচ্চর বাজারের বৈধ ইজারা নিয়েও অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ

    গোলাম আজম ইরাদ, মাদারীপুর থেকে।

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর বাজারকে ঘিরে সম্প্রতি এক কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে বাজারের বৈধ ইজারাদারদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদন ও বৈধ লিজ প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও মোঃ রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র।

    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজাসহ বাজারের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন,পাচ্চর বাজারের উন্নয়ন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়মে বৈধ লিজ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি তাদের স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমও যাচাই-বাছাই না করে কুচক্রী চক্রের প্ররোচনায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে, যা বৈধ ইজারা গ্রহীতাদের সুনাম ও ব্যক্তিগত সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বক্তারা এসব সংবাদকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্বশীলতার সাথে সত্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।

    এ সময় বাজার ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়— জনগণের স্বার্থ, বাজারের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানানো হয়। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে মামলা চলমান।

    শেষে সংবাদ সম্মেলনে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা আশা প্রকাশ করেন যে সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হবে এবং শিবচর পাচ্চর বাজারের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

  • শরীয়তপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার পথসভা ও গণসংযোগ

    শরীয়তপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার পথসভা ও গণসংযোগ

    শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব ও শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ আংশিক) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন অপুর নেতৃত্বে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দিনব্যাপী তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় এলাকাবাসী ও দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান।সুদীর্ঘ সাত বছর পর দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা যায় । ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে নাওডোবা, শরীয়তপুর সদর, বুড়িরহাট,ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা,গোসারহাট এ সকল জায়গাতে পথসভা এবং গণসংযোগ করেন। দিনব্যাপী শরীয়তপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজারে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পথসভা ও গণসংযোগ করেন মিয়া নুরুদ্দিন অপু। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    পথসভায় মিয়া নুরুদ্দিন অপু বলেন, “দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটের অধিকার ফেরাতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে মাঠে থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের দমননীতি ও জনগণের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।

    মিয়া নুরুদ্দিন অপু আরো বলেন, “জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরীয়তপুরবাসী ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন চালিয়ে যাবে।”

    পথসভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, দলীয় ঐক্য ও জনসম্পৃক্ততাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মূল শক্তি।

    স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়, যা আসন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় শরীয়তপুরে বিএনপির তৃণমূলের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে

    স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো কেন্দ্রীয় নেতার এমন সরাসরি গণসংযোগে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

  • দন্ডপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান যখন পরিষদের দায়িত্বে!

    দন্ডপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান যখন পরিষদের দায়িত্বে!

    বিশেষ প্রতিনিধি:

    শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও পুনর্বহালের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    স্থানীয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও তিনি পুনর্বহালের জন্য দাফতরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতসহ নানা ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ, যা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল জলিল মাদবর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একাংশের সমর্থনে ‘চশমা’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এবং সাবেক এমপি বি এম মোজাম্মেল হকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

    চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম। গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায়। ডিপ টিউবওয়েল বিতরণে দুর্নীতিসহ কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য বরাদ্দ সরকারি ডিপ টিউবওয়েল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণ।

    ইউনিয়নবাসীর কাছ থেকে আদায়কৃত ঘর-বাড়ি ও দোকানের ট্যাক্সের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ। দরিদ্র কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকি মূল্যের সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি করে ব্যক্তি স্বার্থে অর্থ উপার্জন। এই সব অভিযোগ মিলিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

    সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো একটি চেক জালিয়াতি মামলায় তিনি আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি পুনরায় পূর্ণবহালের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দরখাস্ত করেছেন, যা আইনের শাসনের প্রতি গুরুতর অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।

    স্থানীয় সুশীল সমাজের অনেকেই বলছেন, স্বৈরাচারের দোসর হয়ে দিব্যি আলোয় দুঃসাহসিক গল্প তৈরি করছেন এই চেয়ারম্যান।” তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আইনের শাসন কোথায়? সাজাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে আবার পুনর্বহালের আবেদন করতে পারেন?

    স্থানীয় আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্বের কারণে চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মাদবরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ধীরগতির অভিযোগও উঠেছে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী অংশের প্রতিনিধিত্ব করলেও তার প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেন অপুর অনুসারীরাও সক্রিয়। এই দ্বন্দ্বই তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো আড়াল করার সুযোগ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করছেন সচেতন মহল।

    জলিল মাদবর বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট একটি মহলের ষড়যন্ত্র মাত্র। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। ইউনিয়ন পরিষদের কোন বিষয় না।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলার ইউএনও কাবেরী রায় গণমাধ্যমকে জানান, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন “দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কেউ কীভাবে আবার দায়িত্বে ফিরলেন? এটা আমাদের বোধগম্য নয়। এমন অনিয়মে আমরা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। আইনকে তোয়াক্কা না করলে সমাজে শৃঙ্খলা থাকবে কীভাবে?”

    এলাকাবাসীর দাবি, এই দুর্নীতির অভিযোগে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

  • খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল

    খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

    খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা প্রদান ও উপজাতীয় উগ্রপন্থী কর্তৃক সরকারি খাস জমি দখলের প্রতিবাদে আজ ২৮ অক্টোবর (২০২৫) মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর স্টুডেন্টস ইউনিটের নেতা-কর্মীরা ।মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শতাধিক ছাত্র- জনতা ।

    লেঃ কর্নেল ফরিদুল আকবর অবঃ এর সভাপতিত্বে ও জালাল আহমদ এর সঞ্চালনায় এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ আরিফ বিল্লাহ,লেঃ কর্নেল ফেরদৌস আজিজ অবঃ,লেঃ কর্নেল (অব:)হাসিনুর রহমান,
    মেজর (অব:)মিজানুর রহমান,অবঃ,মেজর (অব:)রেজাউল হান্নান শাহীন, চাকরি সংস্কার আন্দোলনের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জালাল আহমদ,পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ,মঞ্চ চব্বিশের আহ্বায়ক ডিউক হুদা, মুভমেন্ট ফর প‍্যালেস্টাইন অব বাংলাদেশ এর আহবায়ক হারুনুর রশিদ খান,গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ডক্টর মো ইমরান হোসেন,ন‍্যাশনাল লেবার পার্টির মুখপাত্র শরীফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

    মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, “খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়িতে রাষ্ট্রীয় উগ্রপন্থী সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দিচ্ছে। কারণ এলাকাটি ইউপিডিএফ এর ঘাঁটি। এখান থেকেই উগ্রপন্থীরা অত্র-অঞ্চলের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এলাকাটিতে রয়েছে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের গোডাউন এবং ট্রেনিং ক্যাম্প।এখান থেকে প্রকাশ্যে দেওয়া হয় অস্ত্রের প্রশিক্ষণ এবং সশস্ত্র মহড়া। এলাকাটি দূর্গম হওয়ায় সন্ত্রাসীরা নিরাপদে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সুযোগ পেয়ে থাকে। ‎আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছি”।

    বক্তারা আরো বলেন, “এলাকাটিতে সেনাক্যাম্প স্থাপিত হলে সন্ত্রাসীরা দেশবিরোধী কার্যক্রম চালাতে পারবে না। তাই ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই জায়গায় সেনাক্যাম্প স্থাপন ঠেকাতে তারা নিরীহ পাহাড়ি, নিজেদের ঘরের মহিলা ও শিশুদের লেলিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। ‎ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা উক্ত এলাকায় সেনাক্যাম্প স্থাপন না করার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।স্মারকলিপিতে সেনাক্যাম্পের বিরুদ্ধে যে কারণগুলো দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং হাস্যকর। সেখানে বলা হয়েছে, সেনাক্যাম্প স্থাপন হলে বিহারে ভিক্ষুদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভয়ভীতি তৈরি হবে।তাদের উক্ত দাবি নিতান্তই বাস্তবতা বিবর্জিত। কেননা সন্ত্রাসী অধ্যুষিত ও দূর্গম এলাকায় সেনাক্যাম্প স্থাপন হলে নিরাপত্তা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বন্ধ হয়ে যাবে। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে বিহারে যাতায়াত করতে পারবে”।

    এ সময় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা আল ইহযায বলেন, “১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ও রাজস্ব সংগ্রহের দোহাই দিয়ে ৩টি সার্কেল সৃষ্টি করে। ১৮৯২ সালে এই আইনের আংশিক সংশোধন করে ফরেষ্ট সার্কেল নামে নতুন ১টি সার্কেলসহ মোট ৪টি সার্কেল সৃষ্টি করে। তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে রিজার্ভ ফরেষ্ট সার্কেল সৃষ্টি করা হয়েছিলো। রির্জাভ ফরেষ্ট সার্কেল ব্রিটিশ সরকারের বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। শুধু তাই নয়, ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে অপরাধ দমন, শান্তি রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ, ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় ব্রিটিশ শাসকের এখতিয়ারে ছিলো। একজন ডেপুটি কমিশনারের তত্বাবধানে শুধুমাত্র ৩টি সার্কেলের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়ে ছিলো সার্কেল চিফ কে। রাজস্ব আদায়ের জন্য নিয়োগকৃত ব্যক্তি কখনোই জমির মালিক কিংবা হস্তান্তরের পূর্ণ এখতিয়ার পেতে পারে না। এটি ১৮৮৪ সালের বিধিতেও কোনোভাবে স্বীকৃত বলে প্রমাণিত হয়না। ১৮৮৪ সালে বৃটিশ কতৃক প্রদত্ত ক্ষমতাকে অবৈধভাবে কাজে লাগিয়ে সার্কেল চিফগণ পার্বত্য ভূমি থেকে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করে হাজার হাজার একর জমি উপজাতিদের নামে বন্দোবস্ত করে নেয়। আমরা ১৮৮৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বন্দোবস্তোকৃত সকল জমির বন্দোবস্ত সমূহ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি”।

    ‎দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, “১৯২৯ সালে ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে সম্পূর্ণ শাসন বর্হিভূত অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো। এতে উপজাতিরা তাদের জাতিসত্ত্বার অস্তিত্ব রক্ষা ও পরিচয়ের সংকট পড়েছিলো। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ উপজাতিদের স্বীকৃতি প্রদান করে ।ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের আত্মপরিচয়।তারপরও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ভারতের প্ররোচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে “সেনা হঠাও, বাঙালি হঠাও” শ্লোগান তোলা হচ্ছে। ৬ টি সশস্ত্র সংগঠন মিলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও দেশের সুনাম নষ্ট করছে। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো শ্লোগান শুনতে চাইনা। পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা সমূহে সীমান্ত সড়ক তৈরির মাধ্যমে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে ড্রোনের সাহায্যে ২৪ ঘন্টা নজরদারি অব্যাহত রেখে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হোক। দেশের অখন্ডতা রক্ষা ও রাষ্ট্রদ্রোহী সশস্ত্র উগ্রপন্থী নিধনের জন্য অনতিবিলম্বে জেলা সমূহের প্রতিটি মৌজায় সর্বনিম্ন একটি করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপালের মতোই পার্বত্য অঞ্চলের সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর স্পেশালাইজ একটি ‘মাউন্টেইন ডিভিশন’ গঠন করতে হবে”।

    মোস্তফা আল ইহযায আরো বলেন,”আগামী ৭ দিনের মধ্যে বারমাছড়ি এলাকায় সন্ত্রাস দমন করে শুকনাছড়ি গ্রামে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করার আহবান জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় খাস জমি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে “উচ্ছেদ অভিযান” পরিচালনা করে রাষ্ট্রীয় সকল জমি উদ্ধার করার জোর দাবি জানাচ্ছি । অন্যথায় দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

    মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল টি রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় কয়েক শত ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন ।