বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
এলএলপি পাম্পে বদলে যাচ্ছে শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের কৃষকের জীবন কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বিষধর শঙ্খিনী সাপ অবমুক্ত  কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দোকান হতে উদ্ধার হওয়া অজগর সাপ কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে অবমুক্ত  আশুগঞ্জ পুলিশ কর্তৃক ১৮ কেজি গাঁজা, মোবাইল ও সিএনজি সহ মাদক চোরাকারবারী গ্রেফতার কাউখালী পরিসংখ্যান অফিসে জনবল সংকট পার্বত্য মন্ত্রীকে পূঃর্ণবহালের দাবিতে কাপ্তাইয়ে মানববন্ধন  দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিমদের পাশে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ ঈদের তৃতীয় দিনেও কাপ্তাইয়ের বিনোদন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভীড় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর  রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী  উপলক্ষে কাপ্তাই ওলামা দলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

এলএলপি পাম্পে বদলে যাচ্ছে শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের কৃষকের জীবন

  • আপডেট এর সময় বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)।

যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে একসময় সেচের পানির অভাবে বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকত বহু জমি। পানির সংকটের কারণে কৃষকদের সীমিত পরিসরে চাষাবাদ করতে হতো, ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনও অর্জন করা সম্ভব ছিল না। তবে আধুনিক সেচ প্রযুক্তি লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) ব্যবহারের ফলে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নদী থেকে সহজে পানি উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা সারা বছর বিভিন্ন ফসল আবাদ করতে পারছেন। এতে কৃষি উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি কৃষকদের জীবন-জীবিকায়ও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরে শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ১১টি এলএলপি পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত ও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, এর আগে বোরো ধান, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে সেচের জন্য কৃষকদের নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। পর্যাপ্ত পানির অভাবে অনেক জমি বছরের দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। বর্তমানে এলএলপি পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে স্বল্প খরচে দ্রুত পানি উত্তোলন করে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফসলের ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের আরকান্দি চরের কৃষক বোরহান উদ্দিন বলেন, “আগে সেচের অভাবে বছরে একটি ফসলের বেশি আবাদ করা সম্ভব হতো না। এখন কৃষি অফিস থেকে পাওয়া এলএলপি পাম্পের মাধ্যমে সহজেই জমিতে সেচ দিতে পারছি। এ বছর চীনাবাদাম ক্ষেতে নিয়মিত সেচ দেওয়ার ফলে ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে প্রতি হেক্টরে যেখানে এক টনের মতো উৎপাদন হতো, এবার সেখানে প্রায় দুই টন চীনাবাদাম পেয়েছি। এতে আয় বেড়েছে, সংসারের অবস্থাও আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।”
কৃষকদের এমন অভিজ্ঞতা চরাঞ্চলে আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাবের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। সেচ সুবিধা বাড়ার ফলে এখন অনেক কৃষক একাধিক মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ করছেন, যা কৃষি উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “শাহজাদপুর একটি চরবেষ্টিত উপজেলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেচ সংকট এখানকার কৃষির অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল। বর্তমানে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা বিভিন্ন আধুনিক কৃষি সেবা পাচ্ছেন। এলএলপি পাম্প তার মধ্যে অন্যতম। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন এবং চরাঞ্চলে ফসলের নিবিড়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা গেলে চরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে। উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এলএলপি পাম্প শুধু সেচ সুবিধা নিশ্চিত করেনি, বরং চরাঞ্চলের কৃষকদের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথও তৈরি করেছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। একসময় যে কৃষকরা সেচ সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন, আজ তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আশার হাসি।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির এ সফল উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে শাহজাদপুরের চরাঞ্চল অদূর ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম উৎপাদনশীল কৃষি অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার

সংবাদটি আপনার স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ