মোঃ মেহেদী হাসান, কাউখালী।
২৫শে নভেম্বর, ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিবাদ দিবস।
নারীর উপর সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ১৯৮১ সালে ল্যাটিন আমেরিকার নারীদের সম্মেলনে, ২৫শে নভেম্বরকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৩ সালে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনেও এ দিবসটি স্বীকৃতি পায়।
পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৫শে নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও ১৯৯৭ সাল থেকে ২৫শে নভেম্বরে, প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এই দিবসটি পালন করে আসছে বাংলাদেশের নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।বিশ্ব জুড়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতন করাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
এরই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই,ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে, পিরোজপুরের কাউখালীতে ২৫শে নভেম্বর(মঙ্গলবার) সকাল ১০ ঘটিকার সময় উপজেলার,বেসরকারী প্রতিষ্ঠান “নাগরিক উদ্যোগ” তাদের নিজস্ব আরজে মেডিয়েশন সেন্টার কার্যালয়ে,নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সমাবেশ,মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানটির সভাপতি ৩নং সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি জাহানুর বেগম,সাংবাদিক মোঃ তরিকুল ইসলাম পান্নু জমাদ্দার,মোঃ নুরুজ্জামান খোকন,ইউপি সদস্য মোঃ সাঈদ এবং নাগরিক উদ্যোগের প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ মহসিন মিয়া,কমিউনিটি প্যারা লিগ্যাল সুমা আক্তার, হোসনেয়ারা বেগম,জীবন কৃষ্ণ দাস,কর্মসূচী সহকারী শংকর কর্মকার সহ আর.জে.এম.এফ এর সদস্যবৃন্দ।
এ সময় সংগঠনটির কর্মীগন জানান, কাউখালীতে ইতিপূর্বে এই সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা সালিশ ও মীমাংসার মাধ্যমে নিঃস্পত্তি করা হয়।
তাই সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে বেগবান করতে সদস্যদের দায়িত্বশীল এবং প্রতি ইউনিয়নে ব্যানার,ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণ জরুরী। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংগঠকদের সাথে মত বিনিময়ের কথাও উল্লেখ করেন।
তারা আরও বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রচার এবং সচেতনতা সৃষ্টির জন্য, বর্তমানে নারীর প্রতি হিংস্রতা ও নির্যাতন কমে আসছে। এ সময় পুরুষ নির্যাতনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সভাশেষে অফিস সংলগ্নে একটি মানববন্ধনেরও আয়োজন করা হয়।