মোঃ মেহেদী হাসান, কাউখালী প্রতিনিধি।
পিরোজপুরের কাউখালীতে রবিবার(১১ ই জানুয়ারী) সকাল ১১ ঘটিকার সময়, এম. মতিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের(সাবেক জয়কুল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী এম. মতিউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি এস.এম. আহসান কবির,বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম দ্বীন মোহাম্মদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল আহসান নিক্সন, ৩নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাহামুদুর রহমান, মোঃ মেহেদী হাসান, প্রভাষক মোঃ রিয়াজ হোসেন,তাজেদুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, মরহুম এম. মতিউর রহমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও বানিজ্য সচিব ছিলেন।কাউখালী সহ দক্ষিণ বাংলার মানুষ তার অবদানের কথা চিরকাল মনে রাখবে। তিনি কাউখালীর রাস্তাঘাট,ষ্টীমারঘাট সহ ব্যাপক উন্নয়ন করে গেছেন। এই জনপদের অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকদের দল মত নির্বিশেষে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দিয়েছেন মুক্তি। ১৯২৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর কাউখালীর জয়কুল গ্রামে এই গুণী মানুষটির জন্ম হয় এবং ২০১৮ সালের ৯ই জানুয়ারী তিনি মৃত্যু বরন করেন।
একইসাথে বক্তারা প্রয়াত সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি চারন করে বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় থাকাকালীন, খালেদা জিয়ার সরকার বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য একটি শিক্ষা “উপবৃত্তি” এবং শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য খাদ্য প্রবর্তন করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছিল। তার সরকার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করে এবং শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে। শিক্ষকদের ১০০% সরকারি বেতন ভাতার ব্যবস্থা সহ ২৫% উৎসব ভাতা এবং চাকুরী শেষে গ্রাচুয়েটি দিয়ে শিক্ষক সমাজকে করেছেন অনুপ্রানিত। ১৯৪৬ সালের ১৫ই আগষ্ট দিনাজপুর জেলায়, গনতন্ত্রের আপোষহীন এই নেত্রী জন্মগ্রহণ করেন এবং গত ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
অন্যান্যোর মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র দল নেতা শারিফুল আজম সোহেল, ইউপি সদস্য আজম আলী খান, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি নার্গিজ রহমান, জয়কুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ আবুয়াল হোসেন, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তব্য শেষে প্রয়াত এই দুই গুনী মহান ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন প্রভাষক মোঃ নুরুজ্জামান খান পলাশ ও শহিদুল ইসলাম বাদল।