শাহাজাদী সুলতানা, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ নজুমদ্দিন বেপারী কান্দি গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী যুবক রমজান আলীর (মৃত) (২৮)মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর শনিবার (১৩ জুন)-বিকেলে পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত রমজান আলী দক্ষিণ নজুমদ্দিন বেপারী কান্দি গ্রামের আবদুল আলী বেপারীর ছেলে এবং মরহুম ছোবাহান বেপারীর নাতি। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করলেও কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন পদ্মা নদীতে গোসল করতে যান রমজান আলী(২৮)। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কিশোর ও যুবক নদীতে নামেন। গোসল শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলেও রমজান আলী (২৮)নদীতে ডুব দেওয়ার পর আর পানির ওপর ভেসে ওঠেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন, ডুবুরি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালান। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও স্বজনরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন। এলাকাবাসীও বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর, শুক্রবার (১৩ জুন) পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রমজান আলীর (২৮) স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে তার কাকা এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
রমজান আলীর (২৮)মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। মরদেহ উদ্ধারের আগে অনেকেই বিভিন্ন লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভিত্তিতে নানা ধারণা প্রকাশ করেছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো, পদ্মা নদীর মতো প্রবল স্রোত ও গভীর নদীতে দুর্ঘটনাজনিত ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অনেক সময় মরদেহ উদ্ধার হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে রমজান আলীর(২৮) বাবা-মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিতে ভিড় করছেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের বক্তব্য, বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল ও জলাশয়ে গোসল বা সাঁতার কাটার সময় সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একা পানিতে নামতে দেওয়া উচিত নয়। অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ সালেহ আহমদ জানান, হ্যা এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। আজ লাশ পাওয়া গেছে এবং পরিবার রমজানআলীর লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সচেতন মহল বলেন, “একটি অসাবধানতাই কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ। তাই সকল অভিভাবকের উচিত নিজেদের সন্তানদের প্রতি সর্বোচ্চ নজরদারি রাখা এবং নদী বা গভীর পানিতে নামার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা।”
রমজান আলীর (২৮)অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।