শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) ভোরে ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারিকান্দি এলাকায় টানা বিস্ফোরণে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি ককটেলের বিস্ফোরণ শোনা গেছে।
সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় এবং সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে কুদ্দুস বেপারী ও আবদুল জলিল মাদবর গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। চলতি বছরের ৫ এপ্রিলও এলাকায় একই ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার পর বিস্ফোরক আইনে মামলা হলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কারাগারে যান। সম্প্রতি কুদ্দুস জামিনে বের হলেও জলিল এখনও কারাগারে রয়েছেন।
সম্প্রতি আবারও উত্তেজনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বেপারী (কুদ্দুস সমর্থক) ও তাইজুল ইসলাম ছৈয়াল (জলিল সমর্থক) দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে শনিবার সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতবোমার বিস্ফোরণ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবারের সংঘর্ষ শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আট সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ হাতে লাল বালতি নিয়ে দৌড়ে ককটেল ছুড়ছে। মুহূর্তেই চারদিক কেঁপে ওঠে, ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালায় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আহতদের মধ্যে যুবদল কর্মী সালাউদ্দিন ও কামালের নাম পাওয়া গেছে। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন,“দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আবারও নাশকতা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছি।”
তিনি জানান, ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এখনও কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন ও তাইজুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র মতে, তারা সংঘর্ষের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।