স্টাফ রিপোর্টার।
মামলা-হামলা ও হয়রানি করে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যাবে না। দুর্নীতি, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশের সাংবাদিকরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
তিনি ১৭ জুন বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বগুড়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের লোকজনের দায়ের করা চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কথিত হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সত্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলে তা শুধু সাংবাদিকদের নয়, জনগণের জানার অধিকারের ওপরও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনস্বার্থে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে, সেগুলো দমন করার জন্য মামলা বা হয়রানির পথ বেছে নেওয়া গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বিডি মেসেজের সম্পাদক সাইফুল শিকদারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, তথ্যভিত্তিক ও অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা উদ্বেগজনক এবং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ সৃষ্টির শামিল।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদকে কেন্দ্র করে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকীসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমূলক মামলা-হামলার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শেষে অংশগ্রহণকারীরা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন।