কাপ্তাই প্রতিনিধি।
সু-উচ্চ পাহাড়ের ঢালুতে বল সুন্দরী ও মিস ইন্ডিয়া জাতের বড়ই চাষ করে কৃষক বাচ্চুর সফলতার হাঁসি ফুটেছে । ইতিমধ্যে বাগানের উৎপাদিত বড়ই বাজারে বিক্রয় করে সফলতা পেতে শুরু করেছে।
রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলা ৫ নংওয়াগ্গা ইউনিয়ন ১০০নং মৌজার ৯নংওয়ার্ডে বসবাসরত কৃষক এনামুল হক বাচ্চু গত তিন বছর আগে কাপ্তাই -চট্টগ্রাম মহাসড়ক এর পাশে দুই একর জায়গায় প্রায় এক থেকে দেড় হাজারফুট সুউচ্চ পাহাড়ের ঢালুতে শাড়ে পাঁচশ’ চার প্রকার বড়ই চাষ করে। যার মধ্যে বল সুন্দরী, মিস ইন্ডিয়া, নারকিলী কুল ও টককুল বড়ই নামে পরিচিত রয়েছে।
স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বহু কষ্ট করে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে বড়ই গাছ রোপণ করে থাকে। যার খরচ হয় চার লাখ টাকারও অধিক। কৃষক এনামুল হক বাচ্চু জানান, এর আগে তাঁর একটা বাগান ছিল সেই বাগান বন্যপ্রাণী হানা দিয়ে ধবংস করে দেয়।এবং অনেক টাকা দেনা ও ঋণের কবলে পড়ে। এখনো সেই ঋণ টানতে হচ্ছে। বর্তমানে তাঁর অন্য একটি বাগানে পাহাড়ে ঢালুতে বল সুন্দরী, মিস ইন্ডিয়া, নারকিলী কুল ও টককুল চাষ করে।এবং বেশ ভালো ফল হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইতিমধ্যে তাঁর বাগান হতে ২/৩ বার বড়ই তুলে বাজারে বিক্রয় করছ। তাঁর মধ্যে বল সুন্দরী ১৫০টাকা কেজি এবং মিস ইন্ডিয়া ১২০টাকা করে বিক্রয় করছে। তিনি জানান সকল খরচ বাদে আশাকরা যায় বাগানের বড়ই বিক্রয় করে আরও এক লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব হবে।
কৃষক বাচ্চু জানান,জামাল নামে একজন কৃষক ২০১৭ সালে প্রথম কাপ্তাই উপজেলায় প্রথম বল সুন্দরী চাষ করে।তাঁর দেখা দেখি আমিও চাষ করি।এবং আমার দেখাদেখি আরও অনেকেই এই জাতের বড়ই চাষে উৎসাহী হয়ে উঠে।
এনামুল হক বাচ্চু দুঃখ করে জানান, কৃষি বিভাগের নিকট গাছের ভাল মন্দ বিষয়ে ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করে না। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এবং সাধারণ ক্রেতারা কমমূল্য ক্রয় করতে পারবে। পাহাড়ের উপর পানি তুলতে কষ্ট হয়,তিনি কৃষি বিভাগের প্রতি এ বিষয়ে সহযোগিতা ও পরামর্শ চায়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে সামনে আরও সফলতা অর্জন করতে পারবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা কৃষিবিদ আহসান হাবীব জানান,বল সুন্দরী, আপেল কুল,কাস্মীরী আপেল কুল ১৬.৬৫ একর জায়গায় ২৬টি বাগানে এবার ভালো বড়ই এর চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ হতে চাষিদের বাগান পরিস্কার, পোকার আক্রমণে ও সার বিষয়ে বিভিন্ন রকমের সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়েছে বলে জানান।