মোঃ জাকির হোসেন।
পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির সোহাগদল গ্রাম থেকে উঠে এসে আজ ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান ও উত্তরাতে সফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম।
১৯৮৯ সালের এসএসসি ব্যাচের এই মেধাবী শিক্ষার্থী আজ দেশের অন্যতম সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষাজীবন ও প্রাথমিক পরিচয় :
ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল প্রকৃতির এবং অত্যন্ত স্মার্ট ও চৌকস মোঃ রফিকুল ইসলাম তার মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পান। কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন ইংরেজি শিক্ষকতা। তবে শুধু শিক্ষক হিসেবেই নয়, তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা।
মোঃ রফিকুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত লর্ডস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আজ রাজধানীর অন্যতম পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বাংলাদেশের বাইরের শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
গুলশানে অবস্থিত লর্ডস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা একসাথে পড়াশোনা করছে। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক পরিবেশের কারণে এই শাখাটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
উত্তরায় প্রতিষ্ঠিত লর্ডসের দ্বিতীয় শাখাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এখানে বাংলাদেশের মেধাবী ও স্কলার শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। এই শাখাটি দেশের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সফলতার পাশাপাশি মোঃ রফিকুল ইসলাম নিজ এলাকার প্রতিও রয়েছে দায়বদ্ধতা। স্বরূপকাঠির সোহাগদলে তিনি নির্মাণ করেছেন একটি নান্দনিক বাড়ি, যা এলাকায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন গ্রামীণ পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থী কীভাবে রাজধানীর সফল শিক্ষা উদ্যোক্তা হয়ে উঠলেন, তা অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা। তার মেধা, পরিশ্রম, দূরদর্শিতা এবং শিক্ষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই তার এই সফলতার মূল চালিকাশক্তি।
মোঃ রফিকুল ইসলামের এই সফলতার গল্প প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য, পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। স্বরূপকাঠির এই সন্তান আজ শুধু নিজের জন্যই নয়, দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।