মো: সবুজ হোসেন রাজা,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।
পৃথিবীতে প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে কিছু গল্প থাকে। আর সে সব গল্প থেকে মানুষ খুজে নেয় স্বপ্ন দেখার সাহস, তা অর্জনের পথ ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন প্রেরণা। “একজন সফল ও ভালো মানুষের গল্প” বলতে সাধারণত এমন মানুষের কথা বোঝায়, যারা তাদের জীবনে সততা, দয়া, সহমর্মিতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব প্রদর্শন করে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এমনই একজন মানুষ হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসা মোঃ কামরুজ্জামান।
দায়িত্বশীলতা, পরিকল্পনাগত দক্ষতা ও মানবিক আচরণের সমন্বয়ে গত দুই বছরে শাহজাদপুর উপজেলাকে উন্নয়ন ও সেবার নতুন ধারায় নিয়ে গেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামান। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বচ্ছতা, নান্দনিকতা, জনসেবা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, সব ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় সাফল্য রেখে চলেছেন।
উপজেলা পরিষদে আধুনিকায়ন ও নান্দনিক রূপায়ন :
দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: কামরুজ্জামান সর্বপ্রথম দৃষ্টি দেন উপজেলা পরিষদের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশগত সৌন্দর্যে। তাঁর উদ্যোগে,
১. উপজেলা পরিষদের পুকুরে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিপূর্ণ সংস্কার।
২. উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষ আধুনিকায়ন।
৩. পরিষদের হল রুম, বারান্দা ও কর্মকর্তাদের কক্ষে টাইলসকরণ।
৪. সেবা-প্রার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুসংগঠিত গ্যারেজ সংস্কার।
৫. দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত অফিসার্স ক্লাব সংস্কার ও আধুনিকায়ন।
এসব কাজ উপজেলার প্রশাসনিক পরিসরে এক নতুন নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
ইতিহাস সংরক্ষণে অ্যান্টিক গাড়ির পুনর্জাগরণ :
১৯৮২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত পুরোনো মিতসুবিশি জিপটি ২০০৮ সালের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ইউএনও কামরুজ্জামান ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৫ সালে গাড়িটি সংস্কার করে অ্যান্টিক রূপে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন।
গাড়িটি এখন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতি বহনকারী এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটিকে প্রদর্শনের জন্য একটি মিনি-মিউজিয়াম নির্মাণের কাজও চলমান।
পৌরসভার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ :
উপজেলা ও পৌর এলাকায় জনসেবা নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ,
১. শাহজাদপুর পৌর শিশু পার্ক নির্মাণ, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা।
২. দিলরুবা বাসস্ট্যান্ডে সুদৃশ্য স্বাগত ফলক নির্মাণ।
৩. পৌরসভার পুরো এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা।
৪. পৌরসভার রাস্তা সংস্কার ও যানজট নিরসনে দাবারিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা :
গত দুই বছরে এডিপি তহবিল ব্যবহারে তিনি শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন। এ সময়ে যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধে মাটির কাজের পরিবর্তে পাকা কাজের প্রচলন জনমনে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা :
১. নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে, প্রায় ২১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর শাস্তি।
২. ভোক্তা অধিকার আইন, মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ।
৩. বাজারে ন্যায্যতা ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামানের এই উদ্যোগ এলাকায় আইনশৃঙ্খলার স্থিতি ফিরিয়ে আনে।
শিক্ষা ও ক্রীড়া অঙ্গনে সক্রিয় তদারকি :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর বিশেষ নজর প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি,
১. স্কুল-কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন।
২. উপজেলা ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করতে নানা আয়োজন ও সহায়তা।
৩. শিক্ষা ও খেলাধুলায় তিনি এক কার্যকর প্রশাসনিক সমর্থন হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান :
১. দীর্ঘদিনের অসম্পূর্ণ শাহ মখদুম মাজার শরীফের গম্বুজ আধুনিকায়নের কাজ পুনরায় সক্রিয়।
২. শাহজাদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ সংস্কার।
৩. উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় উন্নয়ন সহায়তা প্রদান।
শাহজাদপুরের সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ, সবাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুজ্জামানের গত দুই বছরের দায়িত্বকালকে এক উন্নয়নমুখী, স্বচ্ছ ও মানবিক প্রশাসনের সফল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
তাঁর নেতৃত্বে শাহজাদপুর এখন উন্নয়ন, সৌন্দর্য ও সেবার এক নতুন ধারার পথে এগোচ্ছে। তাদের চারপাশের পরিবেশ এবং সমাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।