সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
কানায় কানায় পরিপূর্ণ সোহেল মনজুর সুমনের কাউখালীর নির্বাচনী জনসভা নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে বিএমএসএফের স্মারকলিপি প্রদান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল ৫ হাজার) পিস ইয়াবা সহ মাসুদ গ্রেফতার কাউখালীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে মোটরসাইকেল আটকসহ জরিমানা চিত্র সাংবাদিকদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস: নির্বাচন কমিশনের অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক সিদ্ধান্ত চন্দ্রঘোনার ১০ বছরের  সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতার কাপ্তাই উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ  শরীয়তপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সাইদ আহমেদ আসলামের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় মহিলা দলের উঠান বৈঠক কাউখালীতে মোবাইল মিল্কিং মেশিন বিতরণ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কাপ্তাইয়ে মানববন্ধন 

কাশ্মীরে শোরগোল (১ম পর্ব)—- মোহাম্মদ হাসানুর রহমান

  • আপডেট এর সময় শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯ বার পঠিত হয়েছে

কাশ্মীরে শোরগোল
—– মোহাম্মদ হাসানুর রহমান।

প্রথম পর্ব

জনশ্রুতি আছে কাশ্যপ নামক একজন তপস্বী বিশাল এক হ্রদ থেকে এ ভূখণ্ডটি পুনরুদ্ধার করেন। যেটা কাশ্যপামার এবং পরবর্তীকালে কাশ্মীর নামে পরিচিতি লাভ করে। ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরকে “কাশ্মীর উপত্যকা” নামেই অবিহিত করা হয়। বর্তমানে কাশ্মীর বলতে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা এবং লাখাদের সমন্বয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান এবং চীন নিয়ন্ত্রিত আকসাই চীন ও ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট অঞ্চলকে বোঝানো হয়। এটি উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানের ৮৬,০০০ (ছিয়াশি হাজার বর্গমাইল) এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি একটি ভূ-স্বর্গ যা জম্মু ও কাশ্মীর নামে পরিচিত।
সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে এখানে বৌদ্ধ ধর্মের সূচনা করেন। এরপর ৯ম থেকে ১২শ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিন্দু সংস্কৃতির পূণ্যভূমিতে পরিণত হয় এবং হিন্দু রাজার উত্তরসূরীরা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করে। ১৩৩৯ সালে শাহ মীর প্রথম মুসলিম শাসক হিসাবে মীর রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন। এরপর মুসলমান শাসকেরা প্রায় পাঁচশত বছর রাজত্ব করেন। যার মধ্যে মুঘল সম্রারাটগণ ১৫৮৬ সাল থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত, আফগান দূররানী সম্রারাটগণ ১৭৪৭ সাল থেকে ১৮১৯ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলটি শাসন করেন। মুসলিম সভ্যতার উত্থানে পূর্ববর্তী হিন্দু এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিলোপ না হয়ে বরং এখানে ইসলামী রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতি বহুলাংশে মিশে যায়। এসময় এখানে নতুন ভাবধারা কাশ্মীরি সুফিবাদের জন্ম হয় । তবে জম্মু ডোগ্রারাজ্য অধিভূক্ত হওয়ার পর এখানে মুসলিম শাসনের ইতি ঘটে।
মুসলিম শাসনের অবসান হলে রঞ্জিত সিংহের নেতৃত্বে ১৮১৯ সালে কাশ্মীর পাঞ্জাবের শিখরাজ্যের সূচনা হয়। ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে শিখরা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হলে এখানে বৃটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। লাহোর-অমৃতসর চুক্তি অনুসারে জম্মুর ডোগ্রা শাসক রাজা গোলাব সিংহ ব্রিটিশদের নিকট থেকে এ ভূ-খন্ডটি ক্রয় করে কাম্মীরের নতুন শাসক হন। গোলাব সিংহ ও তাঁর বংশধরগণ ব্রিটিশ রাজমুকুটের অনুগত শাসক হিসাবে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কাশ্মীর শাসন করেন।
সিন্ধু নদীর পূর্বদিকে এবং রাভি নদীর পশ্চিম দিকে বিস্তৃত অংশ হিমালয় রাজ্য এবং এ অঞ্চলটিকে আক্ষরিক অর্থে স্পষ্টভাবে সজ্ঞায়িত করা হয়নি। অনুগত রাজপরিবারের সহায়তায় ব্রিটিশরা এ রাজ্যের উত্তরদিক সিন্ধুর অগ্রভাগ এবং পরের অংশে’র সুরক্ষিত করেছিল। উনিশ শতকে অঞ্চলটির সীমানা নির্ধারণের জন্য ইংরেজ শাসন আমলে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মহারাজাদের আধিপত্য সুদূর উত্তরে কারাকরাম পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও দেশের ভৌগলিক প্রকৃতি এবং স্থায়ী জনবসতির অভাবে সে উদ্যোগ তেমনভাবে সফল হয় নি। এছাড়া মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্তান এবং জিনজিয়াং সীমান্তে বিতর্কীত অঞ্চল থাকায় এ সমস্যার বিষয়ে সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয় নি।
সীমান্ত প্রস্তুতিকরণ সম্পর্কে উত্তরের অঞ্চলটি- পূর্বদিকে আকসাই-চীন যা তিব্বতের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা সম্পৃক্ত লাখাদ অঞ্চল নামে পরিচিত। অন্যদিকে ব্রিটিশরা পশ্চিমদিকে আফগানস্থান এবং রাশিয়ার সাথে আলোচনার সময় পারিমিস অঞ্চলে সীমাবদ্ধ করে দেয় যদিও গিলগিত কাশ্মীরের অংশ হিসাবে বোঝানো হতো যা এখন মূলত পাকিস্তান ও চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
র্রিটিশরা রাজ্যটিকে ভারতীয় সাম্রাজ্য, রাশিয়া এবং চিনের মধ্যে এক জটিল রাজনৈতিক বাফার জোনের সৃষ্টি করেছিল, যদিও চীন এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ব্রিটিশরা যতদিন এখানে শাসন করে তখন কাশ্মীর সমস্যার তীব্রতা তেমন একটা ছিল না। এমনকি পরবর্তী সময়ে বিষয়টা এতটা জটিল হয়ে উঠবে তখন সেটা উপলদ্ধি করা যায়নি। তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসানের পর থেকেই এ অঞ্চলটি ভারত, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে সাংঘার্ষিক এক রক্তক্ষয়ী জটিল সমীকরণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বৃটিশরা ভারতবর্ষ ত্যাগের পর এ অঞ্চলে দখলদারিত্বের জন্য সবাই শক্তির প্রসার ঘটিয়েছে । এখানকার ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ ও বিবাদমান সমস্যার সমাধান কুটনীতির সমাধানের বদলে বন্দুকের উপর নির্ভরতা পেয়েছে। পরাশক্তিধর দেশগুলোর মধ্যকার কৌশলগত দখলদারিত্বের কারনে ১৯৪৭ এর পর থেকে কাশ্মীরের সাধারণ জনগোষ্ঠী যুদ্ধাবস্থা ছাড়া কখনও এ ভূ-স্বর্গের শান্ত রূপ দেখেনি।

সংবাদটি আপনার স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ