কাপ্তাই প্রতিনিধি।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা চা বাগানে বসবাসরত শ্রমিকদের ঘরবাড়ির ওপর বুনো হাতির আক্রমণ। বুনো হাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবার আশ্রয় নিয়েছে অন্য স্থলে।
চা শ্রমিকরা জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে সীতা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ওয়াগ্গাছড়া চা বাগান। সে চাবাগানে বিগত এক মাস ধরে অবস্থান করছেন একদল বন্যহাতি। প্রতিনিয়ত তান্ডব চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বাগানের শ্রমিকের ঘরবাড়ি এবং বাগানের ভিতরে থাকা কাঁচা সড়ক। এছাড়া হাতির তান্ডবে বাগানের আম, কাঁঠাল, নারিকেলসহ বিভিন্ন গাছপালা সাবার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাগানের ২ নং সেকশনে বসবাসকারী চা শ্রমিকরা ইতিমধ্যে তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে কর্ণফুলি নদীর উত্তর পাড়ে এসে বসবাস করছে । এই সেকশনে অনেক ঘর ইতিমধ্যে হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চা বাগানের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক রশীদ,সানাউল্লাহ্ জানান, বন্যহাতির আক্রমনে আমাদের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিগত এক মাস ধরে আমরা নদীর এপারে চলে এসেছি। চা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে।
ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরী জানান,হাতির তান্ডবে বাগানের চা শ্রমিকদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বাগানের সড়ক, গাছপালা, ফলমূল নষ্ট করেছে হাতির পাল।
ওয়াগ্গা চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আমিনুর রশীদ কাদেরী বলেন, বিগত এক সপ্তাহ যাবত ১৭টিন বুনো হাতির একটি দল ওয়াগ্গা চা বাগানে অবস্থান নিয়েছে। হাতির উপদ্রবে আমাদের চা শ্রমিকরা ভয়ে নদীর এপারে চলে এসেছে। কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে বুনো হাতির তান্ডব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান , দিন দিন হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হবার ফলে হাতি খাবারের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে এসে হানা দিচ্ছে। আমাদের উচিত হাতির আবাসস্থল ধ্বংস না করা এবং বুনো হাতিকে উত্ত্যক্ত না করে বন বিভাগকে তাৎক্ষণিক খবর দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।