শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
জেগে ওঠা কাপ্তাই হ্রদে সবুজের সমারোহ  শাহজাদপুরে পুলিশের অভিযান: ইয়াবাসহ তিনজন আটক কাউখালী গান্ডতা কওমী ও নুরানী মাদ্রাসায় সুধী সমাবেশে ব্রিগেডিয়ার( অব) ফরিদুজ্জামান পান্না জাজিরায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্বাধীনতা দিবসে সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন শাহজাদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন কাউখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কাপ্তাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্বাধীনতা  দিবস  উপলক্ষে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল  কাপ্তাইয়ের এএসআই  মাহাবুর হাসান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু  আখাউড়ায় ২০ মার্চ সাবেক আইনমন্ত্রীর মুক্তি চেয়ে পোস্টারিং ও প্রচারনা ২৫ মার্চ ২ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার গণহত্যা দিবসে  কাপ্তাইয়ে আলোচনা সভা 

নিউইয়র্কে সাপ্তাহিক বাঙালীর বিশেষ সম্পাদকীয় একজন অরিজিনাল ও সাহসী নেতা

  • আপডেট এর সময় মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৭ বার পঠিত হয়েছে

হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি আল মাসুম খান,
বাপসনিউজ।

এক তরুণের উত্থান, এক জাতির আশার প্রতীক জোহরান মামদানি — এক নাম, এক সাহসের প্রতীক। তার মুখের হাসি যেমন মোহনীয়, তেমনি তার কথার গভীরতায় মিশে আছে সত্য, মেধা ও দৃঢ়তা। তিনি জানেন, জনগণের সেবক হতে হলে কথার স্পষ্টতা ও কর্মের সততা অপরিহার্য। মঙ্গলবার রাতের নির্বাচনী বিজয় এবং বিজয়োত্তর বক্তৃতায় তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

২০০৮ সালে বারাক ওবামার ঐতিহাসিক জয়ের পর শিকাগোতে দেওয়া বক্তৃতা যেমন আশার আলো ছড়িয়েছিল, তেমনি জোহরান মামদানির বক্তৃতায় ফুটে উঠেছে এক বিশাল শক্তি—অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি।

সংকটের আমেরিকায় নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব:

আজকের আমেরিকা ভুগছে বহুমাত্রিক সংকটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, আর্থিক খাতে অরাজকতা—সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ট। এমন সময়ে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী মাইকি শেরিলের প্রচারণায় বারাক ওবামার মন্তব্য ছিল বাস্তবতার প্রতিধ্বনি—

“একজন মানুষ আইনের ঊর্ধ্বে চলে গেছেন, অথচ তাঁর দলের কেউই কথা বলছে না, এমনকি সুপ্রিম কোর্টও নয়।”

এই বাস্তব প্রেক্ষাপটে জোহরান মামদানির আবির্ভাব যেন এক আলোর শিখা। তিনি ন্যায়, সত্য ও মানবতার পক্ষে কথা বলেন নির্ভয়ে।

ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে একজন মানুষ:

ইমিগ্রান্ট কমিউনিটি ও কূটরাজনীতির ফাঁদে তাঁকে “মুসলমান” ও “সমাজতন্ত্রী” আখ্যায়িত করে ক্ষুদ্র করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু জোহরান কখনোই এসব বিভাজনের ফাঁদে পড়েননি।
তিনি বলেছেন—

“আমি সবার নেতা হতে চাই—ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণি নির্বিশেষে।”

এটাই তাঁকে আলাদা করেছে। তিনি সকলের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলেন, কারও প্রতি বৈষম্য নয়।

‘সোশালিস্ট’ মানে মানবিক রাজনীতি:

অনেকে তাঁকে সমাজতন্ত্রী বলে সমালোচনা করেন, কিন্তু তাঁরা বোঝেন না—বার্নি স্যান্ডার্সের ‘প্রগ্রেসিভ সোশালিস্ট’ ধারণা চীন বা সোভিয়েতের কমিউনিজম নয়।
এটি ইউরোপীয় ধাঁচের ‘সোশাল ডেমোক্রেসি’, যেখানে লক্ষ্য একটাই — দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।
আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ যেমন কর্পোরেট সহায়তা ছাড়াই গ্রাসরুট সমর্থনে সফল হয়েছেন, জোহরান মামদানিও সেই ধারার উত্তরসূরি।

সংস্কৃতিবান ও মানবিক পরিবার

জোহরান মামদানি জন্মেছেন এক সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে। তাঁর মা অস্কার-মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার (“সালাম বোম্বে”), আর বাবা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
তিনি হার্ভার্ডে শিক্ষালাভ করেছেন, বিবাহ করেছেন একজন শিল্পীকে। শৈশব থেকেই তিনি শিখেছেন দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
এসেম্বলি সদস্য হওয়ার আগেই তিনি স্বল্প আয়ের মানুষদের বাড়ি ফোরক্লোজার থেকে রক্ষা করার কাজে যুক্ত ছিলেন।

এক তরুণের সাহস, এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের এই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকেনি শহরের সীমানায়।
এর প্রতিধ্বনি পৌঁছে গেছে এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপ পর্যন্ত।
বিশ্ব দেখেছে এক ইমিগ্রান্ট তরুণের সাহস, এক নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান।

ভবিষ্যতের বার্তা:

জোহরান মামদানি হয়তো আজ একা, কিন্তু তিনি যে ন্যায়ের শপথ নিয়েছেন, তা একদিন পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে।
নতুন প্রজন্ম তার মধ্যেই খুঁজে পাবে ন্যায়, সাহস ও মানবতার অনুপ্রেরণা।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায় —
“ওরে ভীরু, তোর হাতে নাই ভূবনের ভার।”

সংবাদটি আপনার স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ