স্টাফ রিপোর্টার।
পবিত্র মাহে রমজান সংযম, সহমর্মিতা, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার মাস। এ মাসে সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম মানুষ অসহায়দের পাশে দাঁড়ান, রাষ্ট্রও নেয় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ। অথচ বেদনাদায়ক হলেও সত্য এই পবিত্র মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কারাবন্দী ও পলাতক সাংবাদিকদের পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অনেক পরিবারে সেহরি ও ইফতারের ন্যূনতম সামগ্রীও জুটছে না। শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে মায়েদের কান্না, বৃদ্ধ পিতামাতার দীর্ঘশ্বাস এসবই আমাদের সামাজিক বাস্তবতার এক কঠিন প্রতিচ্ছবি।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি এবং পলাতক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে শাস্তি বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবারের ওপর। আয়-উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে পরিবারগুলো মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। একজন সাংবাদিক যখন সত্য তুলে ধরেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেন, তখন তিনি মূলত জনগণের পক্ষেই কথা বলেন। কিন্তু যদি সেই দায়িত্ব পালনের ফল হয় কারাবাস, মামলা-হামলা কিংবা আত্মগোপন, তবে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত। অবাধ তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হলে গণতান্ত্রিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে।
রমজান আমাদের শেখায় সংযমের পাশাপাশি ক্ষমা ও মানবিকতার অনুশীলন। এই সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক ও মানবিক সিদ্ধান্ত যেমন কারাবন্দী সাংবাদিকদের জামিন বা মুক্তির উদ্যোগ, কিংবা পেশাগত কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর পুনর্বিবেচনা সমাজে আস্থার সঞ্চার করতে পারে। এতে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব হবে না, গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার অনুভূতি জোরদার হবে।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন, আইনি সহায়তা প্রদান এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকরা শত্রু নন; তারা রাষ্ট্র ও সমাজের অংশীদার। মতভেদ থাকতে পারে, সমালোচনা থাকতে পারে কিন্তু তা যেন কখনো দমন বা প্রতিহিংসার রূপ না নেয়।
রমজানের পবিত্র মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় ক্ষমা মহত্ত্বের পরিচায়ক, সহমর্মিতা শক্তির বহিঃপ্রকাশ। তাই এই সময়ে কারাবন্দী ও পলাতক সাংবাদিকদের পরিবারের কান্না থামাতে সংশ্লিষ্ট মহলের মানবিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবিকতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণতন্ত্র।
আহমেদ আবু জাফর
সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
ও
চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম
০১৭১২৩০৬৫০১
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।