নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর:
শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভা এলাকার কবিরাজ কান্দি গ্রামে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
শনিবার (২০ জুন)-বিকেল ৩ ঘটিকার সময় ককটেল বোম বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে, খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেমায়েত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে স্থানীয় শাজাহান বেপারীর পারিবারিক কবরস্থান থেকে এক বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে, তারা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকৃত ককটেল ভর্তি বালতি জাজিরা থানায় নিয়ে যান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিস্ফোরণের আলামত ও পোড়া গন্ধ এখনও রয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি নালা ও পুকুর রয়েছে। আশপাশে কিছু বসতবাড়ি থাকলেও স্থানটি তুলনামূলক নির্জন। কবরস্থানের পাশেই একটি ঘর নির্মিত থাকলেও সেখানে কেউ বসবাস করে না। চারপাশে রয়েছে ফসলি জমি।
ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে জানতে চাইলে নিকটবর্তী বাড়ির বাসিন্দা সুরুজ বেপারীর স্ত্রী বলেন, “আমরা নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছি। অল্প কিছুদিন হলো এখানে আসা-যাওয়া করছি। সবসময় এখানে থাকি না। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে, তাদের বয়স ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। আমার স্বামী প্রবাসী । এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়েছে, চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার অভিযান চালায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ বেপারীর স্ত্রী বলেন, “আমার তিন ছেলে বাইরে থাকে, স্বামী কৃষিকাজ করেন। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানি না। তবে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি এবং চারদিকে ধোঁয়া দেখতে পেয়েছি। পরে শুনেছি কবরস্থান থেকে পুলিশ একটি বালতি উদ্ধার করেছে।”
আরেক এলাকাবাসী নূর মোহাম্মদ শেখ, পিতা আব্দুল শেখ, জানান, “বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কারা করেছে বা কেন করেছে সে বিষয়ে কিছুই জানি না।”
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমেদ বলেন, জাজিরা কবিরাজ কান্দি ককটেল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, এক বালতি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কে বা কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত। সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা জাজিরা থানা পুলিশ জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে ককটেল বোমা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এ অভিযান চলমান আছে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।