মো: আল মাসুম খান,নির্বাহী সম্পাদক।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে নগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাস্টম ঘাট আমিরা বানু বেগম নগর মাতৃসদনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার শিশুদের টিকার আওতায় আনতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯–এর মতো হামও একটি সংক্রামক রোগ। তাই এ রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকাদানের বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষ করে মায়েদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন খুলনা উপপুলিশ কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৯৩ হাজার ৭৮৮ জন শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ভিত্তিক শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৮৮ এবং কমিউনিটির আওতাভুক্ত শিশু ৮০ হাজার ৪০৪ জন।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২৫৬টি টিকাদান কেন্দ্রে ১৪৪ জন টিকাদান কর্মী, ২০৬ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ৬২ জন সুপার ভাইজারের সমন্বয়ে ৮২টি টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের সব শিশুকে—আগে এমআর টিকা নেওয়া থাকলেও—এক ডোজ করে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। খুলনার সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলবে।