মো:সবুজ হোসেন রাজা, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর-এ তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ বৈশাখ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি অডিটোরিয়ামে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।
সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ.কে.এম. আব্দুল্লাহ খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর। এছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাহিত্যচর্চা, সমাজচিন্তা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন প্রেরণার নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি বলেন, শাহজাদপুরে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছিলেন, যা এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
প্রধান আলোচক ড. তারিক মনজুর বলেন, শাসকশ্রেণি যখনই জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখনই রবীন্দ্রনাথ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি প্রকৃতির মাঝেই ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতেন।
অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া বলেন, এবারের জন্মজয়ন্তীর প্রতিপাদ্য “শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ”। তিনি জানান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য একনেকে অর্থ বরাদ্দ হলেও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র জটিলতায় এখনো কাজ শুরু হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও অসুস্থতাবোধ করায় প্রধান অতিথি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এদিকে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কাছারিবাড়ি ও অডিটোরিয়ামজুড়ে করা হয়েছে সংস্কার, আলোকসজ্জা ও বর্ণিল সাজসজ্জা। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে সম্মিলিত সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশনা, কিশোর-কিশোরীদের নৃত্য প্রতিযোগিতা এবং রবীন্দ্র মেলা।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, একসময় শাহজাদপুর ছিল রানী ভবানীর জমিদারির অংশ। ১৮৪০ সালে কবির পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এই জমিদারি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত জমিদারি তদারকির কাজে রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত শাহজাদপুরে আসতেন। এখানেই বসে তিনি সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কল্পনা-সহ অসংখ্য সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। পাশাপাশি পোস্টমাস্টার, ছুটি, সমাপ্তি, অতিথি ও ক্ষুধিত পাষাণ-এর মতো বিখ্যাত গল্পও এখানে রচিত হয়।
রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার জানান, দর্শনার্থীদের জন্য মিউজিয়াম ও অনুষ্ঠানস্থল উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।