গোলাম আজম ইরাদ।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এই দিন উপলক্ষে রাজধানীর ধোলাইপাড় পান্থনিবাস এলাকার হযরত আলী জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা সাঈদ সাহেব।
বক্তব্যে তিনি শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে সমাজের সব ধরনের বৈষম্য দূর করা সম্ভব। ন্যায়নীতি, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উভয় পক্ষের সম্পর্ক সুদৃঢ় হলে কর্মক্ষেত্রে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হবে।
খতিব সাহেব তার বক্তব্যে শিবচর পাথর এলাকার জামিয়া সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি বাদশা মিয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসলামী নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে বাদশা মিয়া তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেছেন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় তিনি তার ওস্তাদ, জামিয়া সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধান নেয়ামত উল্লাহ আল ফরিদী সাহেবের কথাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি নেয়ামত উল্লাহ আল ফরিদী সাহেব ও শিল্পপতি বাদশা মিয়ার শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন।
মাওলানা সাঈদ সাহেব বলেন, ইসলামে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায় করা মালিকের অন্যতম দায়িত্ব। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য পরিশোধ করার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকেরও কর্তব্য হলো চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা এবং মালিকের হক যথাযথভাবে আদায় করা।
তিনি কোরআন ও হাদিসের আলোকে শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্দশা, স্থানীয় ও জাতীয় নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।
সবশেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মুসল্লিদের দোয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে জুমার বয়ান শেষ করেন।