বিশেষ প্রতিনিধি,শরীয়তপুর ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের “দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)” এর আওতায় শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় নিবন্ধিত জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাঈদ আহমেদ আসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জাজিরা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিদুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর, জাজিরা শরীয়তপুরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে মোট ৬০ জন নিবন্ধিত জেলের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।
নিবন্ধিত যে ৬০ জন জেলেদের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য যে বকনা বাছুর বিতরন করা হয়েছে সেখানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী একটা বকনার ওজন ৬৫ কেজি হতে হবে সেখানে দেখা গিয়েছে বকনা বাছুরের ওজন দেখে যে তালিকা করা হয়েছে সেখানে বেশির ভাগ বকনার ওজন ৬০ এর নিচে ৫০.৫১.৬১.৬২.৫৫ এবং রোগা।
এক জন নিবন্ধিত জেলে অভিযোগ করে বলেন, এ রকম রোগা বাছুর বিতরন করলেতো আমাদের অনেক টাকা খরচ হবে আমরা গরিব মানুষ টাকা কোথায় পাব।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে জেলেদের মাছ ধরার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প আয়ের পথ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণের জন্য প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার অংশ হিসেবে বকনা বাছুর বিতরণ একটি কার্যকর উদ্যোগ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যজীবী নেতৃবৃন্দ এবং উপকারভোগীরা।
বিতরনে অনিয়মের বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা (ফাতেমা তুজহুরা) যিনি অতিরিক্তের দায়িত্বে নিয়োজিত তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঢাকা প্রকল্পের আন্ডার থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে বাছুর কিনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আমি ওজন দেখেছি । হ্যা বেশির ভাগ বাছুরের ওজন ৬০ কেজির নিচে। এটার একটা তালিকা ও করা হয়েছে।
ঠিকাদার ফারুক এর সাথে কথা বললে তিনি জানান বাছুরের ওজন ঠিক আছে কোন সমস্যা নেই।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিদুল ইসলাম কে জানানো হলে তিনি বলেন, আমি দেখেছি কয়টার ওজন ঠিক আছে বাকিটা জানিনা বিতরনে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই এবং ওজনে ও কম দিতে পারবে না এ বিষয়ে লিখিত কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলেন,বাছুর বিতরনে অনিয়ম এবং সুস্থ সবল বছুর বিতরণ করা না হলে তো সরকারের টাকা ঠিকই খরচ হবে কিন্তু সরকারি কার্যক্রম সঠিক বাস্তবায়ন হবে না।
বিতরণ কার্যক্রম শেষে উপকারভোগীরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই সহায়তা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।