শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
উত্তরসূরিদের অনাগ্রহে শতবর্ষের ঘি ব্যবসা আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে সিরাজগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস পালিত সংবাদ জগতের পরিচিত মুখ এস এম হায়দার চৌধুরী (৪) যুগ ধরে সাংবাদিকতায় পথচলা শহীদ প্রকৌশলী এ.কে, এম শামসুদ্দীন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন কেএইচএস ওয়ারিওর্স  আখাউড়ায় ট্রেনের ইঞ্জিনে গাঁজা ও স্কফ, র‍্যাব-৯ এর অভিযানে, ট্রেন চালক শাহজাহান গ্রেফতার কাপ্তাই উপজেলায় ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাম্পেইন সভা পরিবেশ  সবুজায়নের লক্ষ্যে  কাপ্তাই জোনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান কাপ্তাই  কর্ণফুলী সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা  কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ এ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠিত কাপ্তাইয়ে ফরেস্ট রেঞ্জার, ডেপুটি রেঞ্জারদের দিনব্যাপী বন ও বন্য প্রাণী সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী প্রশিক্ষণ 

উত্তরসূরিদের অনাগ্রহে শতবর্ষের ঘি ব্যবসা আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে

  • আপডেট এর সময় শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে
Oplus_131072

(গোলাম আজম ইরাদ, মাদারীপুর)।

মাদারীপুরের কুলপুদ্দি ঘোষবাড়ির দুলাল ঘোষ (প্রায় ৮০) দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে ঘোল, মাঠা, মাখন ও ঘি বিক্রির সঙ্গে জড়িত। একসময় তাঁর বাবা অনন্ত ঘোষের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পারিবারিক ব্যবসা ছিল এলাকার সুপরিচিত ঐতিহ্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন আর উত্তরসূরিদের অনাগ্রহে সেই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

দুলাল ঘোষ জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে ব্যবসায় নামেন তিনি। সে সময় প্রতি সের মাখনের দাম ছিল মাত্র ৮ টাকা, ঘির দাম ১০ টাকা এবং তিন আনায় এক কেজি দুধ কেনা যেত। বর্তমানে সেই ঘির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি। তবে দাম বাড়লেও আগের মতো লাভ নেই। একসময় ঘোল, মাঠা ও মাখন বিক্রি করে ভালো আয় হতো এবং স্বচ্ছলভাবে সংসার চলত।

কিন্তু বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় প্রায় ২০ বছর আগে ঘোল, মাঠা ও মাখন বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হন। এখন শুধুমাত্র ঘি বিক্রির মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তিনি আরও জানান, অনন্ত ঘোষের পাঁচ সন্তানের মধ্যে একমাত্র তিনিই পৈতৃক এই ব্যবসাকে ধরে রেখেছেন। তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে একজন স্বর্ণের ব্যবসায়ী, আরেকজন সরকারি চাকরিজীবী এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে পরিবারের নতুন প্রজন্মের কেউ আর এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা চালিয়ে নিতে আগ্রহী নন।

শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয় দুলাল ঘোষের। তিনি দুইবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আবারও প্রিয় ঘি ব্যবসায় ফিরে এসেছেন। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, “মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্তও আমি এই ব্যবসা করে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, দুলাল ঘোষ শুধু একজন ব্যবসায়ী নন; তিনি একটি ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাঁর অবসানের সঙ্গে সঙ্গে কুলপুদ্দি ঘোষবাড়ির বহু বছরের ঘোষাল ব্যবসারও অবসান ঘটবে। একসময় যে ব্যবসা পরিবারটির পরিচয়ের অংশ ছিল, উত্তরসূরির অভাবে সেটি এখন ইতিহাস হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

সংবাদটি আপনার স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ